মুভি রিভিউঃ ভয়ঙ্কর সুন্দর
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

বাস্তব সমস্যার অবাস্তব উপস্থাপন- যে কারনে ব্যার্থ ভয়ঙ্কর সুন্দর 

— রমিজ, ০৫-০৮-১৭

ভয়ঙ্কর সুন্দরের গল্প খুব বেশী সুন্দর না। নয়ন তারা অর্থাৎ ভাবনা ধনী পরিবারের মেয়ে। বাবার সাথে রাগ করে ঢাকা পালিয়ে আসে। সেখানে এসে তার পরিচয় হয় মুকু অর্থাৎ পরমব্রত চট্রোপাধ্যায়- এর সাথে। মুকু পিতৃ-মাতৃহীন এতিম ছেলে এবং বেশ গোবেচারা ধরনের। স্বভাবতই নায়ক-নায়িকা একজন আরেকজনকে ভালবেসে ফেলে এবং বিয়ে করে ফেলে। হঠাৎ করে তাদের জীবনে পানি সংকট নেমে আসে।

পানি সঙ্কট ঢাকার একটা অতি সাধারন চিত্র। এটা নিয়ে ছবি হলে অবশ্যই সে ছবি অসাধারন হয়ে উঠতে পারে। তবে দুর্ভাগ্যবশত অনিমেষ আইচের ছবির গল্প এবং চিত্রনাট্য একেবারেই বাস্তবতা ঘেঁষা ছিলো না। ফলে যে সমস্যার সাথে দর্শক পরিচিত সেই সমস্যাই দর্শককে টাচ করার পরিবর্তে তাদের বিরক্তির উদ্রেগ ঘটায়।

 

ভয়ঙ্কর সুন্দর ছবির প্রিভিউ দেখুন নিচের ভিডিও এ …

 

অনিমেষ আইচের ছবি ‘’জিরো ডিগ্রী’’র চিত্রনাট্যেও অবাস্তব ড্রামা ছিলো। বিশেষ করে ক্লাইম্যাক্স অতি বিরক্তিকর ছিলো। এ ছবির ক্ষেত্রে মোটামুটি পুরোটাই অবাস্তব এবং বিরক্তিকর।

যেমন ধরুন নায়িকা ঢাকা পালিয়ে এসে বস্তিতে থাকছে। তার বাবা-মা সেটা জেনেও এতো সহজে মেনে নিলো ?। আবার মেনেই যদি নিলো মেয়েকে তারা নিশ্চয়ই টাকা-পয়সা পাঠাতে চাইবে। কিন্তু তাদের দু একটা দৃশ্যে শুধু দেখা গেছে… যেভাবে দেখানো হয়েছে তা একেবারেই কনভিন্সিং না। শিক্ষিত ধনী পরিবারে ১৮ বছরের মেয়েকে এভাবে ট্রিট করার কথা না। আবার নয়নতারা আদুরে ঢঙ্গি মেয়ে। সে অতি নিম্ন মানের হোটেলে বাস করলো, বস্তিতে বাসা নিলো… কিন্তু পোষাক – আশাক পরলো হাই সোসাইটির ধনীর দুলালীর মতো। টাকা দিয়ে সে এক গাদা শপিং করলো কিন্তু থাকার জায়গা নিয়ে চিন্তা করলো না। তবে সিনেমার মধ্যে সেসবও মেনে নেয়া যায়। কিন্তু ঢাকা শহরে এখনো এমন মানবিক বিপর্যয় ঘটে নাই যে আপনি এক গ্লাস পানির জন্য ধারে ধারে ঘুরে বেড়াবেন আর সেখান থেকে গালি-গালোজ কিংবা ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসবেন। ঢাকার যে কোন এলাকার চায়ের দোকানে গিয়েও এক গ্লাস পানি খেয়ে আসা যায়। আর নয়নতারার মতো ধনীর দুলালী হলে তো অনেকে ১০ মাইল হেঁটে তার জন্য পানি নিয়ে আসতে রাজি। বস্তির ছোট কোন ছেলে-মেয়েকে ৫-১০ টাকা দিলে তারা যেভাবে হোক ৫-১০ লিটার পানি এনে দিবে যে তাতে কোন সন্দেহ্‌ নেই। আর মুকু অফিস থেকে পানি আনতে গিয়ে যে সব ঘটনা ঘটালো তা অনন্ত জলিলের ছবিতে ভাল মানায়। সে অফিস থেকে বেড়িয়ে তার কলিগ, বন্ধু; যদি তাও না থাকে তবুও যে কারো সাহায্যে যে কোন উপায়ে ২-৪ লিটার পানি নিয়েই ঘরে ফিরতে পারে। নয়নতারা একটা শিক্ষিত স্মার্ট মেয়ে হয়ে পানির অভাবে ঘরের মেঝেতে হাঁপিয়ে মরবে কিন্তু খাবার পানি জোগার করতে পারবে না এমন পানির সঙ্কট আফ্রিকার কোন কোন এলাকায় থাকতে পারে , ঢাকায় অন্তত এখনো আসেনি। শাবানার ভাত দে থেকে ইন্সপায়ার হয়ে যদি এই পানি দে বানানোর চেষ্টা করা হয় তাহলে বলতেই হয় ভাত দে আর পানি দে এক বিষয় না। দুর্ভিক্ষের সময় ভাতের অভাব আর ঢাকার বস্তিতে পানির অভাব এক বিষয় না।

ভয়ঙ্কর সুন্দরের সমস্যা যতটা না গল্পে, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশী চিত্রনাট্যে। এ ধরনের একটা ছবির চিত্রনাট্য অবশ্যই বাস্তবসম্মত হতে হয়। কেননা এ ধরনের ছবির টার্গেট অডিয়েন্স্‌ হচ্ছে ক্লাস ওডিয়েন্স। আর ক্লাস ওডিয়েন্স অবাস্তব ঘটনারও বাস্তব সম্মত উপস্থাপন চায়। সেখানে অনিমেষ আইচের ভয়ঙ্কর সুন্দর ভয়ঙ্কর অবাস্তব হয়ে উপস্থাপিত হয়েছে। এফডিসি কেন্দ্রীক নির্মাতারা তারা হুড়ো করে লো বাজেটের যে ছবি গুলো বানায় সে ছবির চেয়ে অবাস্তব ছিলো ভয়াঙ্কর সুন্দরের চিত্রনাট্য!

ভয়ঙ্কর সুন্দর রিভিউ

 

ছবির নির্মানেও অনিমেষ আইচ খুব একটা ইম্প্রেসিভ কিছু দিতে পারেনি। জিরো ডিগ্রী (খারাপ ক্লাইমেক্স এর পরেও) নির্মানের দিক থেকে ভয়ঙ্কর সুন্দরের চেয়ে ঢের ভাল ছিলো।

এ ছবির সিনেমাটোগ্রাফীও সাধারন মানের। আয়নাবাজির সিনেমাটোগ্রাফীর পাশে দাঁড় করানোর কথা তো ভাবাই অসম্ভব; যদি জিরো ডিগ্রীর সাথে কম্পেয়ার করি তাহলেও ভয়ঙ্কর সুন্দর সিনেমাটোগ্রাফীতে কোন রকম পাশ মার্ক পায়। এডিটিং টিমও ও আহামরি কিছু দেখাতে পারেনি। আর্ট ডিরেকশন, কস্টিউম সবই চলে আর কি। ডায়লগও এভারেজ।

 

তবে ছবির গানগুলো বেশ ভালো। আসবো না আর ফিরে, এই শহরের কাকটাও জেনে গেছে, আমরা দুজন দু রকম; সব গুলো গানই সিনেমা হলে শুনতে ভাল লেগেছে। যে ভয় ছিলো ‘আদৌ গান গুলো সিনেমার সাথে যায় কিনা’ সে ভয় অযাচিত ছিলো। গানগুলো ছবির টোনের সাথেও মিশে গেছে। তবে গানের চিত্রায়ন আরেকটু ভাল হতে পারতো।

 

ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভাবনা। তার লুক এবং অভিনয় নিয়ে কথা উঠেছে। তবে আমার কাছে ভাবনা চরিত্র অনুযায়ী চলনসই লেগেছে। ১৮ বছরের একটা মেয়ে একটু হেলদি, কিছুটা ন্যাকা হলে একেবারে খারাপ লাগে না। পরমব্রত ছবিতে বেশ উপভোগ্য অভিনয় করেছেন। এ ছবির ভাল দিক বলতে পরমব্রতর অভিনয় টুকুই।তার চরিত্রটাও বেশ মজার। খারাপ লাগছে এই ভেবে যে এতো ভাল একটা চরিত্র এবং সেই চরিত্রে অসাধারন এক অভিনেতা থাকার পরও ছবিটা খারাপ চিত্রনাট্যের কারনে দর্শক ধরে রাখতে  চরম ভাবে ব্যার্থ হয়েছে। সাপোর্টিং চরিত্র কিংবা অতিরিক্ত চরিত্রের সবাই খুব খুব ভাল অভিনয় করেছেন। বাড়িওয়ালী চরিত্রের অভিনেত্রী হুমায়ুন আহমেদের নানা নাটকে চমৎকার অভিনয় করতেন। এ ছবিতেও তেমনি অসাধারন। এতো ভাল অভিনেত্রী বাংলাদেশে আছে অথচ তারা ঠিক ভাবে ব্যাবহার হচ্ছে না! আফসোস !! এলেন শুভ্র ছোট্ট চরিত্রে ছিলেন। তাকে একেবারেই ব্যাবহার করা হয়নি।

 

সবমিলিয়ে, ভয়ঙ্কর সুন্দরে কিছু ভাল দিক থাকলেও অবাস্তব চিত্রনাট্য এবং ছবির বোরিং ট্রিটমেন্ট ছবিটিকে পুরোপুরি একটা ব্যার্থ ছবিতে পরিনত করে। কোন রকম প্রত্যাশা না নিয়ে গেলেও একেবারে হতাশ হতে হয় এ ছবি দেখে। নির্মাতার আগের ছবি জিরো ডিগ্রীও এ ছবির পাশে মাষ্টারপিস।

 

আমি ছবিটিকে দিচ্ছি ১* (কেবল মাত্র প্রিয় অভিনেতা <3 পরমব্রতর জন্য) … অর্থাৎ ২০% মার্কস্‌ বা গ্রেড ফেইলড্‌

 

আমার আরো কিছু রিভিউ পড়ুন নিচের লিঙ্কে গিয়ে …

রাজনীতি জমজমাট গল্পের বানিজ্যিক ছবি

মুভি রিভিউ | নবাব

মুভি রিভিউ | বস টু

http://bioscopeblog.net/ramizraza/33557

এই পোস্টটিতে ১২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. দেখার ইচ্ছে ছিল… review পড়ে স্বাদ মাটি তে মিশে গেল…….

  2. Licia Zaman says:

    দেখার ইচ্ছা মরে গেল রিভিউ পরে।

  3. Nazmul Amin says:

    এক গ্লাস পানি নিয়া সিনেমা বানায় ফেলসে!! কেমনে কী!!

  4. ভাত দে র সাথে মিলিয়ে পানি দে। লাইন টা ভাল্লাগছে। 😂😂

  5. আপনি সিনেমা na বুঝে রিভিউ লেখা শুরু করছেন, আপনি তো 0 পাবেন 10 এ।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন