শুভ জন্মদিন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

দেশী গার্ল প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ৩৫ তম জন্মদিন আজ  

২০০০ সালের কথা। ভারতকে নতুন শতাব্দীর শুরুতেই আনন্দে ভাসালো ১৮ বছরের এক মেয়ে। সে বছর মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগীতায় গিয়ে বিজয়ের মুকুট ছিনিয়ে আনলো ভারতের সুন্দরী। তার বাদামী রঙের মুখ, ঘন কালো চুল আর সব কিছু ছাপিয়ে হৃদয় কেড়ে নেয়া হাসি গোটা বিশ্বকেই সেদিন আপন করে নিয়েছিলো যেন। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া তার নাম। বংশানুক্রমে পাঞ্জাবী হলেও ভারতের যে কোন অঞ্চলের মেয়ে বলে চালিয়ে দেয়া যায়। সৌন্দর্য ও ব্যাক্তিত্যে সে সম্পূর্ন রুপে ভারতীয় মেয়ে। সকলের দেশী গার্ল।
কিন্তু সেদিন ভারতবাসী প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে স্বাগতম জানানোর সময় হয়তো ভাবেনি যে এই মেয়ে শুধু মাত্র বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট নিয়েই থেমে থাকবে না। জয় করার তার আরো বাকি রয়ে গেছে …
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া মিস ওয়ার্ল্ড টাইটেল জেতার পরই বলিউড থেকে অফার পেতে শুরু করেন। সাইন করেন আব্বাস-মাস্তানের ছবি ” হামরাজ ”। কিন্তু কোন এক কারনে সে ছবি থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়। নির্মাতা জানান আরো অনেক গুলো ছবি সাইন করায় তাকে ছবিটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। ফলে বলিউডের হামরাজ দিয়ে নয় বরং তামিল ছবি ” থামিজান ” দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন পিসি। প্রথম দিকে কোন কিছু না ভেবেই এক গাদা ছবিতে সাইন করে বসেন। একে একে মুক্তি পায় তার বলিউড প্রজেক্ট। ২০০৩ এ ”দ্যা হিরো” এবং ”আন্দাজ” নামের দুটো ছবি মুক্তি পায় যেখানে তাকে দুই নায়িকার এক নায়িকা হিসেবে গ্ল্যামারাস্‌ রোলে দেখা গেছে। আন্দাজ ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারে লারা দত্তার সাথে যৌথ ভাবে সেরা নবাগতার পুরুষ্কার জয় করলেও কেউ ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি এই মেয়ে দিয়ে অভিনয় হবে। বরং গর্জিয়াস্‌ চেহারার একজন নায়িকা পেয়েই বলিউড তুষ্ট ছিলো। কিন্তু পরের বছর অর্থাৎ ২০০৪- এ ই প্রিয়াঙ্কা চোপড়া দেখাতে শুরু করেন তার অভিনয় জাদু। সে বছর পর পর তিন ফ্লপের পর মুক্তি পায় তার দুটি সফল ছবি। সালমান খান এবং অক্ষয় কুমারের বিপরীতে ‘’মুঝছে সাদি কারোগি ‘’ ছবিতে অভিনয় করে কেড়ে নেন লাখো তরুনের ঘুম। সে ছবির লাল দোপাট্টা গান প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে। অন্যদিকে সে বছর ‘’এইতরাজ’’ ছবিতে নেগেটিভ রোলে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসার জোয়ারে ভাসেন। সমালোচকরা একজন গ্ল্যামারাস্‌ নায়িকাকে অত্যন্ত মেধাবী অভিনেত্রী হিসেবে আবিষ্কার করেন সে ছবিতে। বলিউডের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী হিসেবে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অর্জন করেন ফিল্মফেয়ারে সেরা ভিলেইনের পুরুষ্কার। এর আগে এ পুরুষ্কারটি নারী হিসেবে কেবলমাত্র কাজলের নামের পাশে ছিলো।
২০০৫-০৬ এ এক গাদা ফ্লপের পাশাপাশি হীট ছবিও দিতে থাকেন একের পর এক। ব্লাফমাষ্টার, ওয়াক্ত, ডন, ক্রিশ ছবিগুলো প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে দারুন রকম বক্স অফিস সাফল্য দেয়। সে সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই তারকা শাহ্‌ রুখ এবং ঋতিকের সাথে একই বছরে দুটো হীট দিয়ে ভিষন রকম আলোচিত হন। অক্ষয়ের সাথে একটা জুটি গড়ে উঠে এবং ব্যাক্তিগত নানা সমস্যায় সে জুটিটি ভেঙ্গেও যায়।
তবে একজন অভিনেত্রী হিসেবে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া নিজেকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যান ২০০৮ সালে। এ বছর তার সর্বাধিক ৬ টি ছবি মুক্তি পায়। প্রথম ৪ টি ছবি ভয়াবহ্‌ ফ্লপ করে। চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা ধারনা করেন তার ক্যারিয়ার বুঝি এখানেই শেষ। কিন্তু সে বছর দিওয়ালীতে মুক্তি পাওয়া মধুর ভান্ডারকারের ‘’ ফ্যাশন ‘’ সব হিসাব নিকাশ উলটে দেয়। যে সমালোচকরা কিছুদিন আগে তার ক্যারিয়ার শেষ বলে ভবিষ্যতবানী করেছিলো তারাই প্রিয়াঙ্কার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠে। ফ্যাশন প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে এনে দেয় ফিল্মফেয়ার সহ বাঘা বাঘা সব পুরুষ্কার; সাথে মাত্র ২৬ বছর বয়সে জয় করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুষ্কারও। ফ্যাশন মুক্তির কিছুদিন পরে মুক্তি পায় আরেক আইকনিক ছবি দোস্তানা। এই দুই ছবি বলিউড এক্সপার্টদের বাধ্য করে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে বলিউডের নতুন কুইন হিসেবে ঘোষণা দিতে। বলিউডে শুরু হয় প্রিয়াঙ্কা বন্দনা। ভিশাল বারদোয়াজ থেকে আশুতোষ গোয়ারিকর, ইয়াশ চোপড়া থেকে ফারহান আখতার; বলিউডের নামকরা নির্মাতারা প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে কাষ্ট করেন তাদের ছবিতে। আমীর খানের গজিনি ছবিতেও কাষ্ট করা হয় তাকে। কিন্তু পরে পারফেকশোনিষ্ট আমীর, প্রিয়াঙ্কার অতি মিডিয়া প্রীতির কারনে সে ছবি থেকে বাদ দেন। এ সময় সালমান খানের দুই ছবি ফিরিয়ে দিলে সালমানের সাথেও ভূল বোঝা বুঝি হয়। এরপর শাহ্‌ রুখের সাথে ডন ২ ছবির কাজ করতে গিয়ে প্রিয় নায়ক শাহ্‌ রুখের সাথেও ঝামেলা হয়। দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে দেখার পরই শাহ্‌ রুখের ভক্ত হয়ে উঠেন কিশোরী প্রিয়াঙ্কা। স্বপ্নের নায়ককে কাছে পেয়ে তাই একটু বেশীই আবেগী হয়ে উঠেছিলেন। শাহ্‌ রুখও বিশ্ব সুন্দরী ভক্ত পেয়ে বেশ খুশিই ছিলেন। ফলে বিভিন্ন জায়গায় প্রিয়াঙ্কার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা যায় বলিউড কিং কে। শাহ্‌ রুখ – প্রিয়াঙ্কার এই বাড়তি মাখামাখি মেনে নিতে পারেননি শাহ্‌ রুখের স্ত্রী। ফলে প্রিয়াঙ্কার শত্রু হয়ে উঠেন শাহ্‌ রুখের বন্ধু গ্রুপ কারন জোহর, জুহি চাওলারা। রিউমার আছে অক্ষয় কুমারের স্ত্রী টুইয়েঙ্কল খান্নাও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন অক্ষয়কে প্রিয়াঙ্কার সাথে আর দেখতে চান না তিনি। ফলে তাদের জুটিটি জমে উঠতে না উঠতেই ভেঙ্গে গিয়েছিলো। শাহ্‌ রুখ, আমীর, সালমান, অক্ষয়; এই চার তারকার সাথে যে নায়িকা কাজ করতে পারবেন না; বলিউডে তার টিকে থাকা কঠিন বৈকি। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা নিজেই যে এক উজ্জ্বল তারকা।
২০১২ সালে মুক্তি পায় তার ক্যারিয়ারের সম্ভবত সেরা ছবি ‘’ বারফী’’।এ ছবিতে অটেষ্টিক মেয়ে ‘’ঝিলমিল’’ চরিত্রে অভিনয় করে জিতে নেন সিনেমা প্রেমী, সমালোচকদের হৃদয়।এ ছবির জন্য তিনি কেন জাতীয় পুরুষ্কার বা ফিল্মফেয়ার পেলেন না তা নিয়ে বিভিন্ন টক শো এ আফসোস করেছেন আমীর খান, আনুশকা শর্মার মতো তারকারা।
বারফীর পরে মেরিকম, বাজিরাও মাস্তানীর মতো ছবিতে অসাধারণ প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে দেখেছেন দর্শক।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ক্যারিয়ারের অর্জনের শেষ নেই। তার অর্জন গুলো নিয়ে রীতিমত পূর্নাঙগ বই লেখা যায়।
২০১৬ সালে ভারত সরকার তাকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব ‘’ পদ্মশ্রী ‘’ দিয়ে সম্মানিত করে। আসাম সরকার তাকে আসাম টুরিজমের ব্রান্ড এম্বেসেডর করেছেন। ভারতের বাইরে গিয়েও প্রিয়াঙ্কা ভারতকে সম্মানের সাথে রিপ্রেজেন্ট করেছেন। ২০১০ থেকে ভারতে ইউনিসেফের গুড উইল এম্বেসেডর তিনি। গত বছর ইউনিসেফের আন্তর্জাতিক গুড উইল এম্বেসেডর হয়েছেন। দাওয়াত পেয়েছেন বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকা কালীন তার ডিনারেও। যে মিস ওয়ার্ল্ড্‌ টাইটেল জিতেছেন সেই ইভেন্টের জাজও হয়েছেন একবার।এমেরিকান এবিসি নেটওয়ার্কে সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করেছেন ‘’ কোয়ান্টিকো ‘’ টিভি শো এ। এই শো টি প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে হলিউডে পরিচিতি এনে দিয়েছে। শুধু প্রথম ভারতীয় নয় বরং দক্ষিন এশিয়ার প্রথম তারকা হিসেবে পর পর দুই বছর জয় করেছেন পিপল চয়েজ এওয়ার্ড। ভারতের প্রথম তারকা হিসেবে অস্কার প্রেজান্টার হয়েছেন; সম্প্রতি ভারতের আরো কয়েকজন তারকার সাথে অস্কার কমিটির মেম্বারও হয়েছেন। টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে এসেছেন বিশ্বের সেরা ১০০ ইনফ্লুয়েনশিয়াল ব্যাক্তিত্বের একজন হয়ে।কাজ করেছেন হলিউডের মুভিতেও। প্রথম ছবি বেওয়াচ মুক্তি পেয়েছে। এখন কাজ করছেন আরো দুটি ভিন্ন ধারার ছবিতে।
শুধু ভারতের পন্যই নয়; বিশ্বের নাম করা ব্রান্ডেরও আন্তর্জাতিক এম্বেসেডর হয়েছেন। নিউইওর্ক এর টাইমস্‌ স্কোয়ারে তার বিল বোর্ড দেখা যাচ্ছে; যেখানে তিনি পেন্টিন শ্যাম্পুকে প্রমোট করছেন। এর আগে প্রমোট করেছেন ইন্টার ন্যাশনাল পোষাক ব্র্যান্ড ‘’ গেস ‘’ কে।
অভিনয় এবং মডেলিং ছাড়া গানও গেয়েছেন তিনি। পিটবুলের সাথে তার এক্সোটিক গায়িকা হিসেবে তাকে সাফল্য এনে দিয়েছে। এছাড়া প্রযোজক হিসেবেও রিজিওনাল ছবি করে সাফল্য পেয়েছেন। শীঘ্রই আসছেন হিন্দী ছবি প্রযোজনায়। প্রযোজনা করবেন হলিউড টিভি শো-ও।
ভারতীয় অভিনেত্রী সানি লিওনে তার এক সাক্ষাৎকারে বলেন ‘’ প্রিয়াঙ্কা চোপড়া কোথায় নেই ? … ভারত কিংবা নিউয়র্ক; যেদিকে তাকাই প্রিয়াঙ্কাকে কোথাও না কোথাও দেখা যায়। বিল বোর্ডে, ম্যাগাজিনে, সর্বত্র!
কেবলমাত্র সানি লিওনের প্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া তা কিন্তু না … মাধুরী দিক্সিতও বার বার প্রিয়াঙ্কার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। আশা ভোসলে চান তার বায়োপিক হলে সেটা যেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া করেন …
এ প্রজন্মের তারকারা তো অনেকেই প্রিয়াঙ্কার ভক্ত। শ্রদ্ধা কাপুর থেকে দিশা পাটানী; সাকিব সেলিম থেকে ইয়াশবর্ধন কাপুর; বলিউডে প্রিয়াঙ্কার অভিনয়ের ভক্ত অনেকেই।
বলিউডে আমার সবচেয়ে প্রিয় এই অভিনেত্রী আজ ৩৫ বছরে পা দিচ্ছেন। জন্মদিনে তাকে শুধু শুভেচ্ছা জানাবো না; জানাবো হৃদয় নিংড়ানো এক বুক ভালবাসাও।
প্রিয়াঙ্কা নিজেকে ডেস্টিনি চাইল্ড বলেন… তার ডেস্টিনি সব সময় শুভ হোক … আরো আরো অনেক অর্জন যোগ হোক তার নামের পাশে … কারন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সে … যে কখনো থেমে থাকে না …
— রমিজ – ১৮-০৭-১৭

এই পোস্টটিতে ৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. বৃদ্ধা প্রিয়াঙ্কা 😀

  2. আমার খুব পছন্দের একজন।। 😊

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন