”ধ্যাততেরিকি” রোমান্স ও কমেডির মিশেলে বিনোদনে ভরপুর বানিজ্যিক ছবি
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

মুভি রিভিউঃ ধ্যাততেরিকি

–রমিজ, ১৪-০৪-১৭

গত দশকের মাঝামাঝি সময়ে ”বলিউডে” এক ধরনের ছবি খুব ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছিলো। যারা বলিউড নিয়মিত দেখেন তাদের হয়তো ছবি গুলোর কথা সব সময় মনে থাকবে। ” নো এন্ট্রি ” , শাদি নাম্বার ওয়ান, আপনা সাপনা মানি মানি, ইত্যাদী ছবি গুলোর গল্প যা ই হোক; ছবি গুলোতে ইন্টারেষ্টিং কিছু চরিত্র এবং সেই চরিত্র গুলোর মজার সব কান্ডকির্তীর সাথে মজার মজার সব ডায়লগ এবং নাচ গানে ভরপুর বিনোদন থাকতো। ধ্যাততেরিকি সেই জনরেরই একটি ছবি।

ছবির গল্প বিশ্লেষন না করে আমরা যদি চরিত্র বিশ্লেষন করি; তাহলে দেখি রাজ অর্থাৎ আরিফিন শুভ কৃপন বাবার একমাত্র ছেলে। তবে তার বাবা তার থেকেও তার পালিত কুকুর শাহেনশাহ্‌কে নিজের সন্তান হিসেবে বেশী গুরুপ্ত দেয়। শুভ কাজিনের বিয়েতে গিয়ে শান্তি  অর্থাৎ নুসরাত ফারিয়ার প্রেমে পড়ে এবং খুব দ্রুত তাদের বিয়েও হয়ে যায়।

অন্যদিকে রাজের বন্ধু সালমান, অর্থাৎ রোশান সিনেমাপাগল ছেলে। কখনো সে আম্মাজানের মান্না সাজে; তো কখনো হিরো-দ্যা সূপারস্টারের শাকিব খান। কখনো দাবাং এর চুলবুল পান্ডে সেজে ঘুরে বেড়ায়; তো কখনো ডিডিএলজির রাজ সাজে। তার সাথে পরিচয় হয় মাধুরী অর্থাৎ ফারিন এর; যে কিনা একজন সিনেমা পাগলী ধনীর দুলালী।  ফারিন রোশানকে রাজ নামে জানে এবং দুজনে সিদ্ধান্ত নেয় এক সাথে থাকার।

একদিকে বাস্তবের রাজ এবং তার স্ত্রী; অন্যদিকে নকল রাজ এবং তার গার্লফ্রেন্ড; এই দুই জুটি যখন ঘটনাক্রমে রাজ অর্থাৎ আরিফিন শুভদের বাড়িতে থাকা শুরু করে তখন দুই রাজকে নিয়ে শুরু হয় নানা গোন্ডগোল।

bangla movie review Dhatteriki

ছবির কন্সেপ্ট সম্পূর্নই ভারতীয় ছবি গুলোর মতোই। এছাড়া ছবির দৃশ্যগুলো দেখেও মনে হয় সেইম দৃশ্য এর আগে কোন না কোন ভারতীয় ছবিতে দেখেছি। এছাড়া শান্তি চরিত্রে নূসরাত ফারিয়াকে অনেকটা দিপিকা পাদুকোনের মতো করে উপস্থাপনের চেষ্টা ছিলো এবং সেটা চোখে লেগেছে। অন্যদিকে রোশান আর ফারিন তো সরাসরি বলিউডের বিভিন্ন তারকার রুপ ধারন করে পর্দায় এসেছে। তবে চরিত্রানুযায়ী তাদের বিষয়গুলো মেনে নেয়ার মতো। বাদবাকি বিষয়গুলো কিছুটা চতুরতার সাথে অনুকরন করায় ততোটা দৃষ্টিকটু লাগেনি। তারপরও এই বিষয়গুলো বাদ দিলে বানিজ্যিক ছবির কন্সেপ্ট হিসেবে এটি উপভোগ্য একটি কন্সেপ্ট।

 

অভিনয়

ছবিটি মাল্টি-স্টারার হলেও আরিফিন শুভই ছবির প্রান। আমার ধারনা ছিলো সে কেবল একশন চরিত্রে মানিয়ে যাওয়ার মতো অভিনেতা। কিন্তু আমাকে ভূল প্রমান করে এ ছবিতে রোমান্স এবং কমেডিতে তার পরিপক্ক অভিনয় আমাকে বিস্মিত করেছে। তার হেটাররা তাকে হলিউড অভিনেতা বলে কটাক্ষ করে। আমি এ ছবি দেখার পর হলফ করে বলতে চাই আরিফিন শুভর সব যোগ্যতাই আছে একজন হলিউড অভিনেতা হওয়ার (এন্ড আই এম নট জোকিং)। ছবিটি আরিফিন শুভ ভক্তদের জন্য তো মাষ্ট ওয়াচ অবশ্যই; সাথে তার হেটারদের জন্যও মাষ্ট ওয়াচ। কারন এ ছবি দেখে তার হেটাররা আরো একটু বেশী জেলাস ফিল করতে পারবে। ফলে তাকে আরো একটু বেশী হেইট করতে পারবে।

ছবিটি নিয়ে আমার ভিডিও রিভিউ দেখুন নিচের লিঙ্কে গিয়ে …

 

নূসরাত ফারিয়াকে গ্লামারাস লেগেছে। তার এক্সপ্রেশনও দারুন। তবে তার টেনে টেনে কথা বলার যে সমস্যাটা আছে সেটা এ ছবিতেও ছিলো। যদিও এ ছবিতে সে বিষয়ে তার ইম্প্রুভমেন্ট লক্ষ্য করা গেছে।

রোশান দেখতে চকলেট বয়। অভিনয়েও সে ভালই। নবাগতা ফারিনও দেখতে সুন্দর এবং তার চরিত্রে যে ন্যাকামোটা দরকার সেটি সে ভাল ভাবেই দিতে পেরেছে।

অন্যদের মধ্যে শুভর মামীর চরিত্রটি ইন্টারেস্টিং ছিলো। সে জি বাংলা সিরিয়ালের ভক্ত এবং সে সিরিয়ালের  চরিত্রদের মতো করে কথা বলে। এই চরিত্রটির বাইরে বাদ বাকি কমেডি চরিত্রগুলো গতানুগতিক ছিলো; যা আমার কাছে ভাল লাগেনি।

 

পরিচালনা 

শামীম আহমেদ রনির পরিচালনা এই প্রথম দেখলাম এবং বানিজ্যিক ছবির নির্মাতা হিসেবে সে ভালই করেছে। তার মধ্যে রোহিত শেঠী, সাজিদ খান, ফারাহ্‌ খানদের প্রভাব খুব বেশী। এই বিষয়টায় তার ইমপ্রুভমেন্ট দরকার আছে।

 

অন্যান্য দিক 

ছবির সিনেমাটোগ্রাফী এবং এডিটিং চলনসই ছিলো। তবে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ভাল লাগেনি। মনে হচ্ছিলো বিভিন্ন ছবি থেকে কেটে কেটে আনা হয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। আর দর্শকদের কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর চেষ্টাই এসেছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে।

ডায়লগও চলনসই। আরো ভাল হতে পারতো। আর গানগুলো মোটামুটি ছিলো। রঙ্গীলা রঙ্গীলা গানের ফিল্মী কনসেপ্টটা ভাল লেগেছে।

 

সবমিলিয়ে

ধ্যাততেরিকি বিনোদনে ভরপুর বানিজ্যিক ছবি। যদিও ছবিতে ভারতীয় ছবির প্রভাবটা খুব বেশী যা ছবির একটি নেগেটিভ দিক। এবং আরিফিন শুভর দৃশ্যগুলো ছাড়া অন্য দৃশ্যগুলো ততোটা উপভোগ্য না যতোটা একটা বিশুদ্ধ কমেডি ছবি দাবী করে। তারপরও কেবলমাত্র বিনোদন মূল্য বিচার করলে আমার কাছে ছবিটি উপভোগ্যই মনে হয়েছে। কেবলমাত্র বিনোদনের দিকটা বিচার করলে এ বছরে এখন পর্যন্ত আমার দেখা সেরা বিনোদনমূলক ছবি এটি।

 

আমি ছবিটিকে দিচ্ছি ৩.৫*  বা ৭০% মার্কস্‌ (গ্রেড A)

এই পোস্টটিতে ৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. (y) হাঁসতে হাঁসতে বেহুঁশ হয়ে যাবেন,,… অস্থির একটা ফানি পেইজ….✔ আমার আপন ভুবন 🙂

  2. Salman Omar says:

    Taufiq Azad Siam Sadin Ahnaf Nistobdho Prantor Fahid Hasan😊

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন