মুভি রিভিউ | সত্তা
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

শাকিব খান এবং পাওলি দাম অভিনীত সত্তা কেমন ছিলো ?                                                                                                     রমিজ, ০৮-০৪-১৭

  • গল্প ও চিত্রনাট্য                                                                                                                                                                  ছবির গল্প খুবই উইয়ার্ড। পাওলি দামের করা চরিত্র অর্থাৎ শিখা হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে। বাবা লাশ কাঁটা ঘরে কাজ করে আর মদের নেশায় ডুবে থাকে। মা নানা ঝুঁকিপূর্ন কাজ করে শিখাকে বড় করে। মায়ের একমাত্র স্বপ্ন এখন যেকোন ভাবে শিখাকে বিয়ে দেয়া। কিন্তু চোরাচালানকারী মা মেয়ের বিয়ের যৌতুকের টাকা যোগাতে বর্ডার পাড়ি দিতে গেলে গুলিবদ্ধ হয়। মায়ের মৃত্যুর পরে ভাগ্যক্রমে শিখাকে শহরে পালিয়ে যেতে হয়। সেখানে ঘটনাক্রমে তার যায়গা হয় পতিতাপল্লীতে। অন্যদিকে ধনী ঘরের ছেলে শাকিব খান বাবা-মার মৃত্যুর পর গাঞ্জার নেশায় ডুবে থাকে। আর তার মামা-মামি চেষ্টা করতে থাকে যেকোন ভাবে তার কাছ থেকে তার বাড়িটা লিখে নেয়ার। শাকিব পাওলিকে দেখে এবং তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এর পর যা যা হয় তা হযবরল ছাড়া আর কিছুই না।গল্পটা শুনতে কিন্তু বেশ ইন্টেরেষ্টিং … কারন চরিত্র দুটো সিনেমার চরিত্র হিসেবে বেশ ইন্টারেষ্টিং লাগতেই পারে…  কিন্তু সিনেমায় এই ইন্টারেষ্টিং গল্পই এতো বোরিং ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে কখন ছবি শেষ হবে সেই অপেক্ষা করতে করতেই ঘুম চলে আসে। বিশেষ করে শাকিব খানের সাথে তার মামা-মামীর যে বিষয়গুলো কিংবা পরবর্তীতে  সে যখন একজন প্রতিবাদী যুবক হয়ে উঠে তার পর যে সব কান্ড কির্তী (মাই গড) …মূলত দ্বিতীয়ার্ধে নির্মাতা শাকিব খানের চরিত্রকে যেভাবে দেখিয়েছেন তা রীতিমত বিরক্তিকর। সত্তার মতো কোন ছবিতে এসব হাস্যকর ঘটনা কাম্য ছিলো না।তাছাড়া ছবিটিতে শাকিব খান এবং পাওলি দামের মধ্যকার ছোট ছোট দৃশ্যগুলো ছাড়া বাদ বাকি কোন দৃশ্যই ভাল লাগার মতো ছিলো না।শুধুমাত্র শাকিব এবং পাওলির রোমান্সকে ফোকাস করলে ছবিটা অন্তত এতোটা বিরক্তিকর হতো না। কিন্তু তা না করে নির্মাতা কেন জগাখিচুড়ি চিত্রনাট্যের ছবি বানাতে গেলেন তিনিই ভাল জানেন … হয়তো বানিজ্যিক বিষয়টা প্রাধান্য দিতে চেয়েছিলেন … কিন্তু এভাবে জগাখিচুড়ি চিত্রনাট্য শেষ পর্যন্ত না হয়ে উঠে মানসম্মত ছবি, না পায় বানিজ্যিক সাফল্য … এ বিষয়ে আমাদের নির্মাতাদের অনেক বেশী সচেতন হওয়া উচিত … আপনি ডার্ক চরিত্র নিয়ে ছবি বানাবেন আর সে ছবিতে জোর করে বানিজ্যিক উপাদান ঢুকিয়ে দিবেন … দ্যাটস্‌ নট গন্না ওয়ার্ক ফর শিওর …bangla movie review satta shakib khan

    নির্মাতার নির্মানশৈলী                                                                                                                                                  নির্মাতা হিসেবে হাসিবুর রেজা কল্লোল ভাল করার চেষ্টা করেছেন। তার চেষ্টা এবং যত্নের ছাপ ছবিতে পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শাকিব-পাওলির দৃশ্যগুলো এবং গান গুলোতে একজন নির্মাতা হিসেবে তার শিল্পবোধ উঠে এসেছে। কিন্তু গল্প আর চিত্রনাট্য ভাল না হওয়ার তার চেষ্টা বৃথা গেছে।

     

    টেকনিক্যাল দিকসমূহ্‌                                                                                                                                               টেকনিক্যাল দিক থেকে দেখলে ছবিটি বেশ ভাল ভাবেই বানানো হয়েছে।  সিনেমাটোগ্রাফী, আর্ট ডিরেকশন এবং কালার কারেকশন ভাল হওয়ায় কিছু কিছু দৃশ্য দেখতে খুব সুন্দর লেগেছে।

    ডায়লগ মোটামুটি ছিলো। আসলে গল্পেই প্রান ছিলো না ডায়লগ দিয়ে আর কি হবে। তবে ছবির মিউজিক অর্থাৎ গান গুলো ছিলো এক কথায় দারুন। জেমস্‌ এর গানটা কিংবা মমতাজের গানটা দারুন উপভোগ্য। তবে ছবির প্রথমার্ধে এতো বেশী গান যে শ্যামলী সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ বেশীর ভাগ গান ১০-২০ সেকন্ডের বেশী দেখায় নাই। অর্থাৎ গানগুলো কেটে দেয়ায় গানের ফিলটাও পুরোপুরি পাইনি। তবে দুটো আইটেম সং ছিলো অত্যন্ত নিম্ন মানের।

     

    সত্তা ছবির ভিডিও রিভিউ দেখুন নিচের লিঙ্কে …

    অভিনয়ে কেমন ছিলেন তারা                                                                                                                                       অভিনয়ে পাওলি দাম সব সময়ের মতই ভাল। তবে যে গল্পে গভীরতা নেই সে গল্পে যত ভালই অভিনয় করুন সে অভিনয় কোন কাজে আসেনা। অনেকটা অপাত্রে দানের মতো। শাকিব খান অনেক বেশী মেলো ড্রামাটিক ছিলেন। তার চরিত্রে যে ইন্টেন্সিটি দরকার সেটি তার অভিনয়ে ছিলো না। গতানুগতিক অভিনয়টাই তিনি করেছেন। তার ভক্তদের কাছে হয়তো এ ধরনের অভিনয় ভাল লাগে। আমার কাছে ভাল লাগেনি। বাকিদের মধ্যে জয়ন্ত চট্রোপাধায় ও নাসরিন ছাড়া সবাই বিরক্তিকর ছিলো।

     

    সবমিলিয়ে, সত্তা দেখতে ঝঁকঝঁকে তকতকে হলেও ছবিতে এতোটুকু প্রান নেই। আমি ছবিটিকে খারাপ বলবো না তবে খুবই উইয়ার্ড এবং বোরিং লেগেছে আমার কাছে ছবিটি।

     

    আমি ছবিটিকে দিচ্ছি দেড় স্টার অর্থাৎ ৩০% মার্কস্‌ ( গ্রেড – ফেইলড্‌ )

এই পোস্টটিতে ৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. শাকিবের সিনেমা রমিজের কখনোই ভালো লাগে নাই। তাই নেগেটিভ রিভিউ পরে অবাক হলাম না।
    তবে একটা ব্যাপারে একমত, নিম্নমানের আইটেম সং রাখাই সিনেমাটাকে শেষ করে দিয়েছে।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন