বলিউড ২০১৪- ভালো লাগা ১০ টি ছবি

কেন যেন বলিউডের প্রতি আমার আগ্রহ্‌ এবং পক্ষপাতিত্ব অন্য সব চলচ্চিত্র ইন্ড্রাস্ট্রির চেয়ে একটু বেশী। কিশোর বয়স থেকেই বলিউডের রঙ্গীন জগত আমাকে খুব টানে।  বলিউডের ছবি আজকাল অতো বেশী দেখা হয়না যদিও, তবু বলিউডি ছবির প্রতি আবেগটা এখনো রয়েই গেছে।

গত বছর, অর্থাৎ ২০১৪ সালে বলিউডে প্রতি বছরের মত অনেক ছবি মুক্তি পেয়েছে। ছবির মান যদিও প্রত্যাশানুযায়ী বাড়েনি তারপরও মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে কিছু ছবি কোন না কোন কারনে আমার ভালো লেগেছে।

এখানে গত বছরে মুক্তি পাওয়া ছবি গুলোর মধ্যে আমার ভালো লাগা ছবিগুলো নিয়েই লিখছি …

 

bollywood 2014

ভালো লাগা ছবিগুলোর পোষ্টার

 

১০ – আগলি (Ugly)

অনুরাগ কাশ্যপের ভক্ত সংখ্যা ক্লাস অডিয়েন্সের মধ্যে খুব বেশি। কিন্তু কেন যেন আমি তার ডার্ক ছবিগুলোকে অতোটা ভালোবাসতে পারিনা। দেব ডি ছাড়া তার পরিচালনায় নির্মিত কোন ছবিই আমার মনকে ছুঁয়ে যেতে পারেনি। সোজা কথা বললে হি ইজ নট মাই টাইপ । তবে আগলি দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। একেবারে ব্রিলিয়ান্ট ছবি যাকে বলে। অত্যন্ত স্বল্প বাজেটেও যে কত অসাধারন ছবি বানানো যায় আগলি তার প্রমান। ছবির প্রতিটা দৃশ্য গায়ের রোমকে দাড়া করিয়ে দেয়। বিশেষ করে ছবির ক্লাইমেক্সটি বলিউডের সর্বকালের সবচেয়ে ভয়াবহ্‌ ক্লাইমেক্স গুলোর একটি। এই ক্লাইমেক্সটির কথা মনে হলে আমার শরীর এখনো কেঁপে উঠে। আগলি কিন্তু পরিচালকের সবচেয়ে প্রশংসিত ছবি গ্যাংস অফ অয়াস্যেপুরের মত শৈল্পিক হয়ে উঠেনি। তবে এ ছবিটির প্রভাব আমার উপরে যেভাবে পড়েছে তাতে আমি ছবিটিকে   গ্যাংস অফ অয়াস্যেপুরের উপরেই রাখবো।

 

৯- আঁখো দেখি (Ankhon Dekhi)

এ ছবিটি কবে রিলিজ হয়েছিলো আমি একেবারেই টের পায়নি। তবে বছর শেষে বলিউডের অনেক বড় বড় চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের  সেরা ছবির লিস্টে এ ছবিটি দেখে আমি ছবিটি খুঁজে বের করি এবং দেখে ফেলি। সহজ সরল জীবনের গল্প চলচ্চিত্রের পর্দায় দেখতে আমার এমনিতেই খুব ভালো লাগে তার উপর এ ছবিটির চরিত্রগুলো একটু বেশীই সরল। পুরো ছবিতে সরল চরিত্রগুলো এবং তাদের সরল জীবন যাপন দেখে এতো ভালো লেগেছে যে ছবিটা দেখে একেবারে  মন ভরে গেছে। আর ছবির এনডিংটা বুকের ভিতরটাকে  একেবারে নেড়ে দিয়ে গেছে। সাধারন সব চরিত্রে অসাধারন সব অভিনয় দেখিয়েছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। ছবি নির্মানে বাজেট কিংবা স্টার কাস্ট একেবারেই বড় বিষয় নয়, বিষয় হচ্ছে কেবলমাত্র ছবির প্রতি নির্মাতার আবেগ, ভালোবাসা; এ ছবির নির্মাতা এই পরম সত্যটিই যেন আরো একবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেলেন।

 

৮- দাওয়াত এ ইশক (Dawat-E-Ishq)

ছবিটি নিয়ে কোন প্রত্যাশা ছিলোনা। রোমান্টিক ছবি আমার বরারবরই প্রিয় কিন্তু এই ছবিটির ট্রেলার এবং গানগুলো দেখে মনে হয়েছিলো ইয়াশ রাজদের হর্তা কর্তারা বুঝি পাগলই হয়ে গেছে। তারপরও পরিনীতির জন্য দেখতে বসা। সত্যি কথা বলতে ছবিটা আহামরি কিছু না হলেও কেমন যেন পুরো ছবিতেই একধরনের মিষ্টতা আছে। যৌতুকপ্রথার মত অত্যন্ত গুরুপ্তপুর্ন একটা ইস্যুকে এমন মজাদারভাবে নিয়ে আসা হয়েছে যা দেখে মনে হচ্ছিলো এর চেয়ে ভালো ইম্প্যাক্ট বোধ হয় কোন সিরিয়াস ছবির মাধ্যমে পাওয়া যেত না। পরিনীতির অভিনয় বরাবরের মতই ভালো ছিলো তবে আদিত্য রয় কাপুর তার অভিনয় দিয়ে মন ভরে দিয়েছে। আদিত্যর সহজ সুন্দর চরিত্র এবং সে অনুযায়ী তার মনোহর অভিনয় ছবিটিকে আমার পছন্দের লিস্টে নিয়ে আসতে রীতিমত বাধ্য করেছে।

 

filmistaan-poster bd

ফিল্মীস্তান ছবির একটি পোষ্টার

 

৭- ফিল্মীস্তান (Filmistaan)

ছবিটা বানিজ্যিক ধারার কোন ছবিনা তবে বিনোদনমূল্য বিচারে এর মূল্য এ বছরের যে কোন বানিজ্যিক ছবির চেয়ে বেশী বৈ কম নয়। অত্যন্ত চমৎকার গল্পের বিনোদনমূলক মুভি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ছবিতে যে বার্তা দেয়া হয়েছে তা যে কোন সিনেমাপ্রেমীর হৃদয়ে আলোড়ন তুলবে। নিঃসন্দেহে বছরের অন্যতম সেরা ছবি।

 

৬- মেরি কম (Mary Kom)

প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পাগল ভক্ত সেই টিনেজ বয়স থেকেই। ছবিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া থাকলে আর খুব একটা কিছু দরকার পড়েনা আমার জন্য। মেরি কম প্রিয়াঙ্কার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ছবি। তবে সত্যিকথা বলতে ছবিটা যত ভালো হওয়ার কথা ছিলো ততো ভালো হয়নি। প্রত্যাশা ছিলো আকাশচুম্বী। তারপরও প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার অসাধারন অভিনয় ছবিটাকে আমার প্রিয় লিস্টে নিয়ে আসার জন্য যথেস্ট। অলওয়েজ লাভ ফর মাই পিসি।

 

৫- ফাইন্ডিং ফেনি (Finding Fanny)

সম্পুর্নই নতুন ধারার একটি ছবি। ছবিটি দেখতে এতোটাই সুন্দর যে চোখে আরাম লাগে। তার উপর ইন্টারেস্টিং কিছু ক্যারেক্টার। দীপিকা আর অর্জুনকে এতোটাই ভালো লেগেছে যে কি আর বলবো। অত্যন্ত সহজ, সুন্দর এবং ছোট দৈর্ঘ্যের ছবিটা দেখা শেষ হলে মনের অজান্তেই ঠোটের কোনে একটা হাসির রেখা ফুঁটে উঠে। আর মনে মনে বলি বাহ্‌, ভালো তো!

 

৪- হাইওয়ে (Highway)

ইমতিয়াজ আলীর মুভি বলে কথা। তবে কেন যেন আমার কাছে মুভির ক্লাইমেক্সটা ভালো লাগেনি। একটা ভিন্ন ধারার লাভ স্টোরি দেখতে গিয়ে হঠাৎ কুৎসিত একটা সামাজিক বিষয় ছবিতে আসায় ফিলটা নষ্ট হয়ে গেছে। তারপরও দুটি চমৎকার চরিত্র আর তাদের উদ্দেশ্যহীন যাত্রা দেখতে কার না ভালো লাগে। কি চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফী, এ আর রহমানের মিউজিক, আলিয়া আর রনদীপের কন্ট্রাস্টেড কেমেস্ট্রি; সবমিলিয়ে ভালো লাগার মতই ছবি বটে।

 

৩- কুইন (Queen)

অত্যন্ত ইন্টারেস্টিং একটা চরিত্র এবং তার নিজেকে আবিস্কারের গল্প। কি চমৎকার মুভি তাই না! কাংঙ্গনা রানাউত এতোটাই ভালো অভিনয় করেছেন যে বছরের সবগুলো এওয়ার্ড তাকে না দেয়া হলে অভিনয় শব্দটাকে অপমান করা হবে। আর এ ছবির এন্ডিংটা আমার দেখা এ যাবতের সবচেয়ে সুন্দর এন্ডিংয়ের একটি। এই এন্ডিংটার কারনে ছবিটাকে এতো ভালোবাসি।

 

২- পিকে (PK)

পিকে হো কেয়া ?!
হা … ম্যায় হু পিকে …

কিছু ছবি থাকে যা আমাদের বিনোদন দেয় আর কিছু ছবি ভাবনার খোরাক যোগায়। আর এমনো কিছু ছবি থাকে যা আমরা ভালোবাসি … কেন ভালোবাসি তাও জানিনা, শুধু জানি ভালোবাসি। রবীন্দ্রনাথের মত যদি বলি তাহলে বলতে হয় ” আমারো পরানো যাহা চায়… তুমি তাই… তুমি তাই গো।

পিকে হচ্ছে সেই মুভি ঠিক যা আমারো পরানো চায়। আমি পিকে কে ভালোবেসেছি, ভালোবেসেছি জাজ্ঞুকে, সারফারাজকে, ভালোবেসেছি ছবির সবকিছু। অনেকদিন পর একটা ছবি দেখে হেসেছি, কেঁদেছি এবং ছবিটিকে ভালোবেসেছি। পিকে আমীরের ক্যারিয়ারের সেরা চরিত্র গুলোর একটি এবং এই চরিত্রটিকে অপছন্দ করবে এমন দর্শক আছে বলে আমি বিশ্বাস করিনা। এই ছবির সিকুয়েল না বানালে হীরানী এবং আমীরের প্রতি আমার অভিশাপ থাকবে।

একটু বেশীই বলে ফেলেছি বোধহয়!! পিকে জো হু …

pk-2014 poster

পিকে ছবির পোষ্টারে আমীর খান এবং আনুশকা শর্মা

 

 

১- হায়দার (Haider)

নির্মানশৈলীর দিক থেকে নিঃসন্দেহে হায়দার বছরের সেরা ছবি। ভিশাল ভারদোয়াজ সম্ভবত তার সেরাটুকুই দেখিয়েছেন ছবিতে। একেবারে ফ্লোলেস যাকে বলে। সেক্সপিয়ারের হ্যামলেটকে তিনি ভারতে নিয়ে এসেছেন এবং সম্পুর্ন নতুনরুপে জন্ম দিয়েছেন। কাশ্মীর যে সত্যিই ভূস্বর্গ তা এ ছবি দেখলে যে কেউ বিশ্বাস করবে। কি সুন্দর আর পরিপাটি ভাবে ছবিটা বানিয়েছেন বিশাল। শাহীদ কাপুর তার ক্যারিয়ারের সেরা কাজ দেখিয়েছেন। টাবু, কেকে মেননরা তো সবসময়ই অসাধারন তবে শ্রদ্ধাকেও খুব ভালো লেগেছে। ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছি। এমন ভালো কাজ বার বার আসেনা।

 

ধন্যবাদ 😀

 

–রমিজ (১২ এপ্রিল, ২০১৫)

(Visited 233 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. シ ツ says:

    “কেন যেন বলিউডের প্রতি আমার আগ্রহ্‌ এবং পক্ষপাতিত্ব অন্য সব চলচ্চিত্র ইন্ড্রাস্ট্রির চেয়ে একটু বেশী। কিশোর বয়স থেকেই বলিউডের রঙ্গীন জগত আমাকে খুব টানে। বলিউডের ছবি আজকাল অতো বেশী দেখা হয়না যদিও, তবু বলিউডি ছবির প্রতি আবেগটা এখনো রয়েই গেছে।”
    লজ্জা..লজ্জা
    বাংলাদেশেও এত খাঁটি বাঙ্গালী নাই, যতোটা খাঁটি ভারতীয় আছে।

    • Ramiz Raza says:

      চলচ্চিত্রের কোন দেশ বা জাত থাকে না … আর তাছাড়া চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে কোন ভাবেই একজন মানুষের দেশপ্রেম পরিমাপ করা যায় না … আমি ব্যাক্তিগতভাবে যতটা না বাঙালী তার চেয়ে বেশী বৈশ্বিক মানুষ হিসেবেই নিজেকে দেখি … তবে ভারতীয় হিসেবে নিজেকে কখনোই ভাবিনি… কোন রকম সাম্প্রদায়িকতার বেড়াজালে নিজেকে বন্দি রাখতে চাই না, তাই কোন অঞ্চলের চলচ্চিত্রকে ভালোবাসায় আমার লজ্জা নেই … যাই হোক, ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য …

  2. পাঁজর পাঁজর says:

    ভালো লেগেছে লেখাটি। ‘হায়দার’ ছবিটা দেখা হয় নি। তবে আমার মনে হয় ‘পিকে’ অন্যগুলোর চেয়ে অনেকটা আলাদা, বিশেষত ভারতের মতো বহু ধর্মের দেশে এই ধরনের কনসেপ্ট নিয়ে ছবি করা সাহসিকতার পরিচয় বহন করে। আমির-হিরানী জুটি বলে কথা। ধন্যবাদ, একটা খুব সুন্দর পোস্টের জন্য।

    • Ramiz Raza says:

      আপনাকে ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য … আপনার মত মুক্ত চিন্তার পাঠক পাওয়া একজন লেখকের সবচেয়ে বড় অর্জন … 😀

  3. পাঁজর পাঁজর says:

    চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় কোন সাম্প্রদায়িকতা নেই। তবুও দেশের কিছু মূর্খ জনগোষ্ঠী সিনামাতেও বিভেদের দেয়াল তুলে। তাদের মনে রাখা ভাল, চলচ্চিত্র একটা শিল্প এবং তা অবশ্যই মুক্ত চিন্তার মানুষদের জন্য।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন