Vanishing Time: A Boy Who Returned (2016) সময় যেখানে স্থবির।

চলুন কল্পনাতে কল্পনার জগৎটায় একটু ঘুরে আসি। ধরুন আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে এমন একটা জগতে চলে গেছেন যেখানে সবকিছুই স্থির শুধুমাত্র আপনাদের জীবনটাই গতিশীল। সময় থেমে আছে বিশ্বব্রম্মান্ডের চারদিকের, শুধুমাত্র আপনার জীবনের সময়টাই রেলগাড়ির মতই দ্রুত চলছে। আপনি খাচ্ছেন ঘুমুচ্ছেন ঘুরাচ্ছেন। নিজের ইচ্ছেমত সবই করছেন। বাধা দেয়ার মতই অনেকেই আছেন আপনাদের চারদিকে,এমনকি আপনাদের বাবা মা সহ বন্ধুবান্ধব আত্মীয়সহ অনেকেই। কিন্তু কেউই বাধা দিচ্ছেন না। কিংবা বাধা দিতে পারছেন না। তারা জড়বস্থুর মতই স্থবির। জগৎটা ফিজিক্সের কোন সূত্রই মেনে চলছে না। যেমন আপনি একটি বল নিয়ে আপনার বন্ধুর দিকে ছুড়ে মারলেন। বলটা শূন্যেই ভেসে থাকল। পুকুরের পানিতে পা দিয়ে আঘাত করবেন। পানির সুন্দর একটি ফোয়ারা দূরে গিয়ে পড়ার বদলে পানির কনাগুলো শূন্যে ভেসে স্থির হয়ে রইল। আপাতদৃষ্টিতে ব্যপারগুলো খুব মজার কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো ! এভাবে আসলে আপনি কতটাদিন কাটাতে পারবেন ! ! !
ছবিটার নাম vanishing time: a boy who returned। একদম টাটকা একখানা মৌলিক গল্প। ছবিটা দেখার পর শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না। মনে হল অনেক দিন পর একটি অসাধারন ফ্যান্টাসী ড্রামা দেখলাম। শুধুই যে ফ্যান্টাসী ড্রামা তা না, তার সাথে আলতো করে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে খানিকটা রোমান্স। মনে হল সেটা ছবিটার টেস্ট অনেকগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে। কথা না বাড়িয়ে চলুন দেখে নেই ছবির গল্পটা।

মুভি প্লটঃ ১৪ বছরের মেয়ে su rin এর সাথে বন্ধুত্ব হয় এতিম sung min এর । দুজনই প্রায় সমবয়সী। সেজন্য তাদের বন্ধুত্ব গাড় হতেও বেশী সময় নেয় না। দুই কিশোর কিশোরী নিজেদের মত করেই বনে জঙ্গলে ঘুরতে থাকে। জঙ্গলের ভেতরে রয়েছে একটি পরিত্যাক্ত বাড়ি। এডভেঞ্চারের নেশায় প্রায়ই তারা সেখানে যায়। কিছুটা লাজুক প্রকৃতির sung min মনে মনে ভালবেসে ফেলে su rin কে। su rin সেটা বুঝতে পারে ভালভাবেই। খেলার এই যখন অবস্থা তখন sung min তার গ্যাংদের নিয়ে যায় পাহাড়ের উপরে । পাহাড়ের নিচ দিয়ে একটি টানেল তৈরি করা হচ্ছিলো।। su rin এর জেদের কারনে তাকেও সাথে করে নিতে হয়।তাদের এডভেঞ্চার যখন প্রায় শেষের দিকে তখনই পাহাড়ের গায়ে ছোট্ট একটি গুহা দেখতে পায় তারা। আবারও মাথায় চাপে এডভেঞ্চারের নেশা। সেখানে ঢুকে তারা অবাক হয়ে আবিষ্কার করে গুহার ভেতরে ছোট্ট একটি জলাশয়। অন্ধকার গুহাটাকেও আলোকিত করে রেখেছে সে জলাশয়ের নিচ থেকে উঠে আসা সোনালী আলো। আলোটা বিচ্ছুরিত হচ্ছিলো জলাশয়ের নিচে একটি ডিম থেকে । sung min সেই পানিতে ঝাপ দেয় । তুলে আনে ডিমটি। গুহা থেকে বেড়িয়ে আসে সবাই। কিন্তু su rin কে কোন এক কারনে আবার গুহার ভেতরে ঢুকতে হয়। কিন্তু যখন সে গুহা থেকে বেড়োয় তখন সেখানে কেউ নেই। তিনটি কিশোর ভুজভাজির মতই একদম গায়েব । ভয় পেয়ে যায় su rin। সে বুঝতে পারে না কি ঘটেছিল ঐ তিন কিশোরদের সাথে। এর কিছুদিন পরই তাদের একজনের লাশ পাওয়া যায়। রহস্য ক্রমেই গভীর হচ্ছিলো।সেই রহস্যকে আরো গভীর করতে একদিন sung min ফিরে আসে। কিন্তু কেউ তাকে চিনতে পারে না ! চিনবে কিভাবে ! ১৪ বছরের sung min হঠাৎ করেই ৩০ বছরের টগবগে যুবক।কেউ তাকে বিশ্বাস করে না শুধু su rin ছাড়া।কিন্তু শুধু su rin বিশ্বাস করলে তো হবে না। শহরের এই নতুন আগন্তুককে সবাই দেখছে সন্দেহের চোখে।এমনকি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সন্দেহ নিখোজ তিন ছেলের ঘটনার সাথে এই তরুনটি জড়িত। পুলিশ খুজতে শুরু করে তাকে। sung min বুঝতে পারে না কিছুই। সে এখন কি করবে। কেউ তাকে বিশ্বাস করছে না, হয়ত করবেও না। তার সাথে যা ঘটেছিল সেটা কাউকে বলে বিশ্বাস করানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে su rinকে প্রচন্ড ভালবাসে। তার সাথে সারাজীবন থাকতে চায়। কিন্তু সেটা কি আদৌ সম্ভব ! হেসাব মেলে না। কিছুতেই না।
sung min এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন dong won gang.। ফাটিয়ে দিয়েছে লোকটা। মুভির কনসেপ্টটা একদম ইউনিক । সেই সাথে গল্পটার দারুন উপস্থাপনা আপনাকে ১৩০ মিনিটের মাঝে ১ সেকেন্ডের জন্যেও বোর করবে না। ছবির একটা দিকের কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। ছবিটার ছিনেমাটোগ্রাফি। সমুদ্রের, জঙ্গলের কিছু দৃশ্য আছে যা আপনাকে মুগ্ধ করবে। এই ছবিটাকে আপনি ফ্যান্টাসি ড্রামা রোমান্টিক যাকোন জনরাতেই ফেলে দেন। মানিয়ে যাবে। অহ ! আরেকজনের কথা বলতে ভুলে গেছি। তার কথা না বললে সেটা অন্যায় হবে। shin eun su। so rin ক্যারেক্টারে এই মেয়েটি অভিনয় করেছে। দুর্দান্ত অভিনয় যাকে বলে । আর দেখতেও অসম্ভব মিষ্টি মেয়েটিকে মনে হয়েছে চরিত্রটা শুধুমাত্র তারই জন্য তৈরি করা হয়েছে। মুভিটা যাদের দেখা হয় নি দেখে নিতে পারেন। আশা করি ভাল লাগবে।

Error: No API key provided.

(Visited 901 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Sajib Warshi says:

    এইটা দেখার পরে খুব ভালো লাগছিলো । আমার চিন্তা ভাব না যে এত দূরে পৌঁছে গেছে এইটা ভেবেই খুশি লাগতে ছিলো

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন