ক্ষমতার অপব্যবহার আসলে কতটুকু ভয়াবহ হতে পারে !
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

The Experiment(2001)

ক্লাস এইটে পড়াকালীন সময়ে আমাদের স্কুলের ইংলিশ টিচার ক্লাসে একটি কথা বলেছিলেন । একজন মানুষ ভাল না খারাপ সেটা তুমি ততক্ষন বুঝতে পারবে না যতক্ষন না তার হাতে তুমি ক্ষমতা দিয়েছ। উদাহরন দিয়েছিলেন এরকম, খুবই সাধারন একজন মানুষকে তুমি অনেক টাকার সাথে একটা লোডেড পিস্তল দিয়ে দাও।দেখবে মানুষটা অনেকখানি পরিবর্তন হয়ে গেছে।সে নিজেকে তখন আর দশটা সাধারন মানুষের মত মনে করছে না। জনাবের (আমরা স্যারকে জনাব ডাকতাম) কথাটা ওই বয়সে ততটা বুঝতে পারি নি।এখন বুঝি কথাটা কতটা সত্যি।চারপাশে তাকালেই বুঝতে পারি।আমরা আসলে সুযোগের অভাবে ভাল। পরিবার বা সমাজের কারনে খারাপ কিছু স্বাধীনভাবে করতে পারছি না বলেই ভাল। এই থিওরিতে আমাদের সমাজের বেশীরভাগ মানুষই মুখোশধারী। পুলিশ থেকে শুরু করে আমাদের মন্ত্রীএমপিরা পর্যন্ত সবাই সাধারন,আমাদেরই মত । কিন্তু পার্থক্য গড়ে দিয়েছে ক্ষমতা। ক্ষমতা তাদের হাতে সেজন্যই তারা অসাধারন।এবং সেই ক্ষমতার ব্যবহারের রূপটা কেমন সেটা আমরা সবাই মুটামুটি দেখতে পারছি।।ক্ষমতা একজন মানুষকে কতটা পরিবর্তন করতে পারে সেটা আসলে চিন্তাও করা যায় না। ২০০১ সালের ছবি The Experiment । মূলত এই ক্ষমতা ব্যপারটাকে উপপাদ্য করেই ছবিটা নির্মিত। লেটস হেভ এ লুক অন দ্যা স্টোরি।

মুভি প্লটঃ They never imagined it would go this far ! এই বাক্যটি অনেক বড় অর্থ বহন করে।
মূল গল্পে চলে আসি।এক্সপেরিমেন্টটার জন্য ইনভাইট করা হয় ২০ জন লোককে।তাদেরকে বেশ ভাল পারিশ্রমিক দেয়া হয় ডেইলি বেসিসে। এক্সপেরিমেন্টটা মূলত করা হয় কয়েদী এবং প্রিজন গার্ডদের মাঝের সাইকোলজিক্যাল সম্পর্কটা বুঝার জন্য। ২০ জনের মাঝে ১২জনকে কয়েদী এবং ৮জনকে প্রিজন গার্ড হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। সিসটেম পুরো জেলখানার মতই।তাদের কার্যক্রমের দিকে লক্ষ্য রাখার জন্য থাকেন কয়েকজন সাইনটিস্ট।সিসিটিভির মাধ্যমেই তারা সবকিছু পর্যবেক্ষন করেন । প্রথম দু-একদিন স্বাভাবিকভাবে সবকিছু চললেও আস্তে আস্তে পরিবর্তিত হতে থাকে সব।কয়েদী, গার্ড এবং গার্ডদের আচরন।বিশেষ করে প্রিজন গার্ডদের আচরন এটিচিউড সব।ব্যাস আর কিছু বলার নেই।স্পয়লার হয়ে যাওয়ার ভয় আছে।

ছবিটা তৈরি হয়েছে Black Box নামের একটা উপন্যাস থেকে।কিন্তু সেই উপন্যাসটা লিখা হয়েছিল একটি ট্রু ইভেন্টকে কেন্দ্র করেই। ১৯৭১ সালে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি এই প্রজেক্টটি পরিচালনা করে।সাইকোলজিক্যাল এই এক্সপেরিমেন্টটির দায়িত্বে ছিলেন স্ট্যানফোর্ড্রের সাইকোলজির প্রফেসর Philip Zimbardo। এটার অর্থায়ন করে U.S. Office of Naval Research। United States Navy এবং United States Marine Corps এর গার্ড এবং প্রিজনারসদের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছিলো খুব।কেন হচ্ছিলো কেউ বুঝতে পারছিল না।সেটার কারন বের করতেই পরিচালনা করা হয় এই অমানবিক এক্সপেরিমেন্টটি।দু ডজন ছাত্র ছাত্রীকে নিয়ে করা এই এক্সপেরিমেন্টে তাদেরকে প্রতিদিন দেয়া হত ১৫ ডলার করে। ৬ দিন চলার পরপরই এক্সপেরিমেন্টটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এই সাইকোলজিক্যাল এক্সপেরিমেন্টটি সম্পর্কে কারও আগ্রহ থাকলে Stanford Prison Experiment লিখে ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন। অনেকগুলো ডক এবং প্রজেক্টটির কিছু ফুটেজ আছে।এবং হ্যা ছবিটা ডাউনলোড করার সময় মেক শিওর হয়ে নিবেন।কেননা একই নামের এবং একই গল্প নিয়ে ২০১০ সালের একটি আমেরিকান মুভি আছে।ওইটা অতটা ভাল হয় নাই।

The experiment ছবিটা আসলে আমাদের মাঝে অনেক বড় একটা প্রশ্ন তৈরি করে। পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে আসামীর মৃত্যু, র্যাবের হাতে ক্রসফায়ার, ছাত্রদল বা ছাত্রলীগের বড় ভাইদের হাতে ধর্ষন থেকে হত্যা এধরনের নিউজ প্রতিদিনই আমরা চোখের সামনে দেখছি। চিন্তা করে দেখুন এই অপরাধগুলোর পেছনে ক্ষমতা জিনিসটা কত বড় প্রভাব রাখছে! নিজেকে নিয়েই আমরা প্রশ্ন করতে পারি, আমাদের হাতে যদি হঠাৎ করে অনেক ক্ষমতা দেয়া হয় আমরা তখন কি করব ! নিখাদ ভাল মানুষ হলে সেই ক্ষমতার হয়ত অনেকে সঠিকভাবে ভাল কাজে ব্যাবহার করবে বাট অনেস্টলি যদি বলি আমাদের মাঝের বেশীর ভাগই এরকম করবে না। We may discover ouselves as a monster ।

ছবিটার Imdb রেটিং 7.8 । রেটিং দিয়ে কি করবেন।এধরনের ছবি দেখার জন্য রেটিং ফেটিং এর দরকার হয় না।জাস্ট দেখে ফেলুন।ছবি শেষ হওয়ার পর অনেক ধরনের চিন্তাই মাথায় ঘুরপাক খাবে। যেহেতু ছবিটা যথেষ্ট স্পিডি আপনার জীবনের দুটি ঘন্টা কোনদিকে যাবে আপনি খেয়ালই করতে পারবেন না।

Error: No API key provided.

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন