কারা এই গেইসা ! ! !
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

Memoirs of a Geisha
গেইসা শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে নর্তকি। মূলত জাপানে তাদের দেখা পাওয়া যায়। এদের প্রধান কাজ হচ্ছে পুরুষের মনোরঞ্জন করা। কিন্তু তারা বেশ্যা নয়। তারা শিল্পী। তারা নাচে,তারা গায়। আর এভাবেই বিনোদন দেয় সম্ভ্রান্তশালী পুরুষ সমাজকে। তাদেরকে তৈরি করে তোলা হয় পুরুষদের মনোরঞ্জনের জন্য। আর তৈরি করতে গিয়ে তাদের উপর চালানো হয় নানাধরনের অত্যাচার। গেইসাদের একটা আলাদা সমাজ থাকে। সেটা গোপন। রংচটা চেহারার আড়ালেই থেকে যায় তাদের রংহীন জীবন। গেইসাদের ব্যাক্তিগত জীবন বলতে কিছু থাকতে পারবে না। তারা কাউকে ভালবাসতে পারবে না। স্বাভাবিক সমাজ বা সংসার তাদের জন্য নয়। তারা শুধুই পুরুষদের মনোরঞ্জনের জন্য। আর সেটা করতে গিয়ে অনেকসময় নিজেকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে হলেও নিজেকে বিলিয়ে দিতে হয় পুরুষদের কাছে। এরকম জীবন কেউই চায় না।তারাও না। কিন্তু জীবনের একটা পর্যায়ে বেচে থাকার তাগিদে এই পথ বেছে নিতে হয় তাদের। এই গেইসাদের জীবনকাহিনীকে ভিত্তি করে আর্থার গোল্ডেন ১৯৯৭ সালে মেময়ার অফ গেইসা নামে একটি বই লিখেন। আর ২০০৫ সালে একই নামে সেটাকে চলচিত্রে রূপদান করেন রব মার্শাল।

মুভি প্লটঃ এই ছবিতে গেইসাদের জীবনকাহিনী একটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে বর্ননা করা হয়েছে। তার নাম সাইয়ুরী। এটা তার মূল নাম না। নামটা তাকে দেয়া হয়েছে। জেলে পল্লীর মেয়ে। দারিদ্রতার অভাবে বাবা তাকে নয় বছর বয়সেই গেইসাদের কাছে বিক্রি করে দেয় যেমনটা বিক্রি করে দিয়েছিল তার বড় বোনকে। জীবনের ঘাত প্রতিঘাত এখান থেকেই শুরু। মানুষের কদর্য রূপের সাথে পরিচিত হয়।এখানেই বড় হতে থাকে সে। এটাকেই নিজের সংসার হিসেবে মেনে নেয়। এর মধ্যেই সে অনিচ্ছা স্বত্তেও পুরুষের শিকারে পরিনত হয়েছে। কিন্তু সাইয়ুরির মাঝে প্রেম ছিল, ভালবাসা ছিল,ছিল ন্যায় নীতি আদর্শ। সেও কাউকে ভালবাসত। চেয়ারম্যানের প্রতি তার ভালবাসা অনেকটা গোপনই থেকে যায়। দ্বীতিয় বিশ্বযুদ্ধ গেইসাদের জীবনে বড়ধরনের পরিবর্তন টেনে আনে। এসময় তারা মঞ্চে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করতে বাধ্য হয়। আবার অনেক গেইসা নিজের স্বত্তাকে অর্থের কাছে বিক্রি করে দেয়। সাইয়ুরী তাদের ব্যাতিক্রম ছিল। নর্তকী যে বেশ্যা নয় সেটা সে সবাইকে বুঝাতে চেয়েছিল। সে এই অন্ধকার জীবন থেকে পালাতেও চেয়েছিল। চেয়েছিল চেয়ারম্যানকে একান্ত নিজের ভালবাসার মানুষ হিসেবে পেতে।

২০০৫ সালে নির্মিত ছবিটি ঐবছর তিনটি ক্যাটাগরিতে অস্কার সহ মোট ২৬টা পুরষ্কার জিতে নেয়। ছবিটার অসাধারন সিনেমাটোগ্রাফি আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যে কাউকে মুগ্ধ করবে। বিশুদ্ধ ড্রামা জনরা যাদের পছন্দ ছবিটা তাদের খুবই ভাল লাগবে।

IMDB ratting: 7.3

Error: No API key provided.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন