ইনসেনডিসঃ অ্যা ব্রুটাল ট্রুথ ওফ এ ফ্যামেলি

যুদ্ধে আক্রান্ত একটি পরিবার , তাদের ব্লাড রিলেশান , নৃশংসতা , যুদ্ধের দামামা , অমানবিকতা , মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের ব্যাকুলতা এবং ভয়ানক এক সত্যর সম্মুখিন হওয়া সামগ্রিক এই সব কিছু মিলিয়ে কানাডিয়ান পরিচালক Denis Villeneuve এর ড্রামা মুভি ইনসেনডিস ।

 

মা ( নাওয়াল মারওয়ান ) মারা যাওয়ার পর তার টুইনস দুই সন্তান সিমন এবং জেনি নোটারির কাছে এসে তাদের মায়ের অদ্ভুত শেষ ইচ্ছা সম্পর্কে জানতে পারে । তাদের মা শেষ ইচ্ছা সম্পর্কে বলে গেছেন তাকে যেনো কফিন এবং হেডস্টোন ছাড়া কবর দেওয়া হয় এবং অবশ্যয় উলঙ্গ এবং উপুড় করে যাতে তার মুখ নিচের দিকে থাকে । কারন যে তার প্রতিজ্ঞা রাখতে পারে না তার উচিত না সেই লজ্জিত মুখ কাউকে দেখানো । তার পর নোটারি তাদের হাতে মায়ের রেখে যাওয়া দুইটা ইনভেলপ দেয় । এবং তাদের বলা হয় তাদের বাবা এখনো জীবত এবং এই ইনভেলপের একটা তাদের বাবার জন্য আর একটা তাদের ভায়ের জন্য । এটা যদি তারা তাদের হাতে দিয়ে আসতে পারে তবে মায়ের প্রতিজ্ঞা সম্পূর্ন হবে এবং তারা তাদের মায়ের কবরে হেডস্টোন দিতে পারবে ।

 

19628698

 

এটা গেলো মুভির ফার্স্ট ১০ মিনিট এখনই যদি অদ্ভুত লাগে তবে নড়েচড়ে বসতে পারেন । মায়ের এমন অদ্ভুত শেষ উইলের তেমন কোন আমলে নেওয়ার ইচ্ছাই ছিলো না তার ছেলে সিমনের । কিন্তু তার মেয়ে জেনি বুঝতে পারে তাদের মায়ের ইচ্ছার মতন অদ্ভুত এক অতীত ফেলে রেখে এসেছেন এবং সেটা অবশ্যয় তাকে জানতে হবে । জেনি সিমনকে বুঝিয়ে দুইজন যায় মিডল ইস্ট এর তার মায়ের জন্মভূমিতে , মায়ের অদ্ভুত নির্মম এক অতীত এর অনুসন্ধানে ।

 

টুইন্স দুই ভাই বোন অজানা নাম পরিচয়হীন একটি মহিলার সন্তান স্বামীর অনুসন্ধানে বের হয়ে পড়ে । আস্তে আস্তে বের হয়ে আসতে থাকে তাদের মায়ের নির্মম এবং রুড় অতীত । মুভির আসলে কাহিনী মূলত এখান থেকেই , যেখান থেকে টার্ন নিবে অন্য রকম এক ঘটনায় । মুভির ফার্স্ট ফ্লাশ ব্যাকের সাথে আপনিও যেনো ওদের সাথে একটি মর্মান্তিক যুদ্ধ বিগ্রহ দেশে এসে পড়বেন । সেখানে চারিদিকে যুদ্ধের ধ্বংস স্তুপ , বোমাহামলায় আক্রান্ত সবকিছু । তার ভেতরই নাওয়াল নামক মেয়েটা একটা খ্রিষ্টান পরিবারে বড় হয়ে উঠছে কিন্তু সে ভালোবাসে একটা মুসলিম ছেলেকে । মধ্যপাচ্যের মতন সংকির্ন মানসিকতার পরিবার সেটা মেনে নেয় নি , মুসলিম ছেলেটাকে মেরে ফেলে নাওয়াল এর ভাই এবং নাওয়ালকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসে । নাওয়াল ছিলো প্রেগনেন্ট এবং বাস্তবতা ছিলো এত নির্মম ছিলো যে তারা সেই বাচ্চা হওয়ার পর না মেরে ফেলে কোন এক অরফানেজ এ পাঠিয়ে দেয় ।

 

incendies_by_yathish-d61kb9g

 

এর পর সেকেন্ড ফ্লাশ ব্যাকে নাওয়াল এর জিবনের আরও নির্মমতা ফুটে ওঠে । একে একে সিমন এবং জেনি তাদের মায়ের গ্রামে পৌছে যায় এবং জানতে থাকে তাদের মায়ের বিভীষিকাময় অতীত সম্পর্কে । কিন্তু তাদের যাত্রার আসল উদ্দেশ্য ছিলো তাদের বাবা এবং ভাই কে খুঁজে বের করা । তাদের মায়ের বিভীষিকাময় অতীত এর সাথেই জড়িয়ে ছিলো এই দুই জন । তারা কি সত্যি সফল হবে তাদের বাবা এবং ভাই এর হাতে ওই দুইটা খাম পৌছে দিতে । আর দিলেও তাদের মায়ের ওমন অদ্ভুত শেষ ইচ্ছার মানেই বা কি ছিলো । এমন অসংখ্য প্রশ্ন মাথায় জট পাকিয়ে ছিলো ওদের তেমন আপনারও মনে হলে নিজ বিবেচনায় মুভিটা দেখতে পারেন ।

 

 

টোটালি ফিকশান এবং ড্রামাটিক ইভেন্ট এর সাথে নির্মম এক যুদ্ধের পটভূমির সমন্বয়ে মুভিটা নির্মিত । মুভিটার স্ক্রিনপ্লে এর লেখক Wajdi Mouawad লেবানন থেকে এসেছে বিধায় এটা সহজেই অনুমেয় যে লেবাননের কোন এক পটভূমি থেকেই তিনি স্টোরি টা বিল্ড আপ করেছেন । টোটালি স্ট্রং স্ক্রিন প্লে এন্ড প্লট , সিনেমাগ্রাফিও অসাধারন । তবে মুভির ধাক্কালাগা ক্লাইম্যাক্স  এর কাছে সবকিছুর হয়ত হার মেনে যাবে । সকলের জন্য এই মুভি না । শক্ত মানসিকতা , চিন্তাশীলতা , ধর্মিয়গোড়ামি মুক্ত এবং চাইল্ডিশ যদি না হন তাদের জন্য মুভিটা রিকমান্ডেড ।

Incendies (2010)
Incendies poster Rating: 8.2/10 (62118 votes)
Director: Denis Villeneuve
Writer: Valérie Beaugrand-Champagne (script consultant), Wajdi Mouawad (play), Denis Villeneuve
Stars: Mustafa Kamel, Hussein Sami, Rémy Girard, Mélissa Désormeaux-Poulin
Runtime: 139 min
Rated: R
Genre: Drama, Mystery, War
Released: 12 Jan 2011
Plot: Twins journey to the Middle East to discover their family history, and fulfill their mother's last wishes.

(Visited 142 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. শান্তনু চৌধুরী শান্তনু চৌধুরী says:

    অসাধারন একটা মুভি । যতবার দেখি ততবার মুগ্ধ হয়ে যাই 🙁

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন