আইম্যাক্স থিয়েটার – পৃথিবীর সবচাইতে বড় সিনেমা স্ক্রীন!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0
বিদেশের মাটিতে প্রথম সিনেমা হলে যাই ২০০৯ সালে, ‘এ্যাভাটার’ মুভি দেখতে। এই মুভিটিকে সিনেমার ইতিহাসে বলা হয় প্লাটফর্ম ডিফাইনিং মুভি। বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা মুভি ডিরেক্টরও এটা দেখে স্রেফ তাবদা খেয়ে গিয়েছিলো। তো এই মুভিটি দেখতে গিয়েছিলাম Event Cinemas এর হার্টসভিল শাখায়। হার্টসভিল আমার বাসার পাশের এলাকা। টিকেটের দাম ছিলো মাত্র ১০ ডলার। উল্লেখ্য, ওখানে ঢোকার সময় যে থ্রিডি চশমা দেয়া হয়, সেটা আর ফেরত ৃনেয়া হয় না। (এই কারনেই বাংলাদেশের সিনেপ্লেক্সে থ্রিডি মুভি দেখে বের হবার সময় আমার কাছে থ্রিডি চশমাটা ফেরত চাইলে আমি কয়েক সেকেন্ড হা করে তাকিয়ে ছিলাম, আমার বুঝতে সময় লেগেছে যে তারা আমাকে দেয়া চশমাটি ফেরত চাইছে! -_-)
মূলতঃ এ্যাভাটার দেখার পর থেকেই আমার ঘন ঘন সিনেমা হলে যাবার শুরু। পরের বছরই দেখতে যাই নোলানের Inception. সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখার বিচারে এই মুভিটি দেখার অভিজ্ঞতা আমার জীবনে সেরা মুভি দেখার অভিজ্ঞতা। কারণ, আমি এটি দেখেছিলাম IMAX থিয়েটারে।
imax_theater_dolphins_1024_768
যারা জানেন না তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, আইম্যাক্স থিয়েটারকে বলা হয় পৃথিবীর সবচাইতে বৃহৎ সিনেমা স্ক্রিন। (এর নাম এই কারনেই IMAX, মানে Image Maximum), পৃথিবীর ৬৯ টি দেশে এই থিয়েটার আছে মাত্র এগারোশ টি। আইম্যাক্সের স্ক্রিন এমনিতেই অনেক অনেক বড়, তার উপর আইম্যাক্সের সবচাইতে বড় স্ক্রিন বানানো হয়েছে অষ্ট্রেলিয়ার Darling Harbour, Sydneyতে। আমি দেখেছিলাম ঠিক এই থিয়েটারে। বিলিভ ইট অর নট, স্ক্রিনের ডাইমেনশন ছিলো একটা পাচঁতলা বিল্ডিংয়ের সমান। (সঠিক ডাইমেনশটা বলছিঃ ১১৭ ফুট X ৯৭ ফুট। সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)
আমার মনে আছে, ইনসেপশন মুভির কিছু কিছু দৃশ্যের পুরোটা দেখার জন্য আমাকে মাথা ডানে বামে খানিকটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে হয়েছে। স্ক্রিন সাইজ এত বড় ছিলো যে, আমার চোখের রেটিনাজোড়াও সেই রেজুলেশন পুরোপুরি নিতে পারেনি। অথচ আমি ছিলাম একেবারে মাঝের সারিতে। অবশ্য কোনাকুনি এ্যাঙ্গেলেও কোন সমস্যা ছিলো না, কারন আইম্যাক্সের স্ক্রিনকে দর্শকের সবচাইতে ক্লোজ প্রক্সিমিটিতে রাখা হয়। পৃথিবীর দূর দূরান্ত থেকে অনেক মুভি বোদ্ধা আসেন সিডনী শহরে, শুধু এই থিয়েটারে মুভি দেখার অভিজ্ঞতা নেবার জন্য।
imax-screens-get-smaller_
টিকেটের মূল্য ছিলো ৫০ ডলার। (বাংলাদেশী টাকায় প্রায় তিন হাজার টাকা) কিন্তু আমি দুটো টিকেট ফ্রিতে পেয়েছিলাম; একটা অনলাইন মুভি ট্রিভায়া কনটেষ্টের প্রাইজ হিসেবে। সাথে এক বাংলাদেশী বন্ধুকে নিয়ে গিয়েছিলাম। আইম্যাক্সে সিনেমা দেখার সর্বাধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ ডুয়েল প্রজেকশন, লেজার এলাইন্ড অডিও, হাইটেন্ড রিয়ালিজম, হ্যান্ড ক্রাফটেড রি-মাষ্টারিং, ইত্যাদি। এই ধরনের প্রযুক্তিগুলো সাধারনত পৃথিবীর আর কোন সিনেমা হল ব্যবহার করে না। এর একটা প্রধান কারন হলো, এগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রযুক্তি, অন্য সিনেমা হল এগুলো পোষাতে পারে না।
ifgr-sound
আইম্যাক্স হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির এক সিনেমা-ফাইল ফরম্যাট, যেটি গতানুগতিক ৩৫ মিমি রিলের চাইতেও প্রায় তিনগুন বেশী চওড়া। অনেক সময় শুধুমাত্র আইম্যাক্স থিয়েটারে দেখানোর জন্য মুভির শুটিংয়ের সময় বিশেষভাবে আইম্যাক্সের জন্য নির্মিত ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়, যার ওজন হচ্ছে প্রায় ১১৪ কেজি! আইম্যাক্স থিয়েটারে কোন খারাপ সিট নেই, এবং প্রতিটি শো এর আগে এর সাউন্ড আর প্রজেকশন কোয়ালিটি আলাদা আলাদাভাবে ম্যানুয়ালি চেক করা হয়।
15037087_10154727988377220_1862962261798550895_n
আপনি যদি পৃথিবীর সবচাইতে সেরা ”সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা” নিতে চান, তবে আইম্যাক্স থিয়েটার ছাড়া আপনার আর কোন গত্যন্তর নেই। আর থ্রিডি সিনেমা যদি আপনি আইম্যাক্সে দেখেন, তবে সেই অভিজ্ঞতা আপনি আজীবন মনে রাখবেন! আইম্যাক্সে মুভি দেখার একটা বাজে দিক হচ্ছে, আইম্যাক্সে দেখার পর পৃথিবীর আর কোন সিনেমা হলে আপনি সিনেমা দেখে মজা পাবেন না। আমি এরপর সিডনী, অকল্যান্ড আর বাংলাদেশের সিনেপ্লেক্সে মুভি দেখেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে যেন মুভি দেখতে নয়, জোলাপাতি খেলতে আসছি। তবু পৃথিবীর সমস্ত প্রবাসী-বাংলাদেশী মুভি বোদ্ধাদের প্রতি অনুরোধ, যদি সম্ভব হয় একটাবার আইম্যাক্সে গিয়ে মুভি দেখে আসুন। আর সিডনীতে থাকলে তো কথাই নাই, আপনার জন্য মুটামুটি ফরজ! 😀
14991958_10154727973462220_4405155326217216207_n
আইম্যাক্স নিয়ে এর চাইতে বেশী জানার আগ্রহ থাকলে গুগলের কাছ থেকে জেনে নিবেন। এটা তাদের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট। ওহ, বলতে ভুলে গেছি, আইম্যাক্সের সিডনী শাখাটি অধিকতর উন্নয়ন কাজের জন্য আপাততঃ বন্ধ আছে।
14963317_10154727973052220_6643154387771380993_n
তো আইম্যাক্সে যাবার পর সিনেমা দেখার আসল মজা পেয়ে গেলাম, এবং স্বভাবতইঃ অন্য কোন সিনেমা হলে গিয়ে আর মজা পাই না। তাই ঘুরে ফিরে আইম্যাক্সেই ফিরে আসি। ইনসেপশন দেখার কয়েক মাস পরে আবার আইম্যাক্সে গেলাম, গিয়ে দেখলাম Resident Evil Afterlife, এটাও থ্রিডি, যা দেখলাম তা জীবনে কোনদিন ভুলবো না। মাথা নষ্ট করা ক্লারিটি, অভূতপূর্ব সাউন্ড প্রেসিশন, এরপর দেখলাম Mission Impossible – Ghost Protocol. নিউজি ল্যান্ডের অকল্যান্ড গিয়ে দেখেছিলাম Green Lantern, সিডনীর সিনেমা হলের চাইতে অকল্যান্ডের সিনেমা হলগুলো আমার কাছে বেশী আধুনিক আর আরামদায়ক মনে হয়েছে।

এই পোস্টটিতে ৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Watched few movies. Going under renovation the theater. Hope they will reopen soon.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন