এক আদ্যোপান্ত ’আউট অব দ্য বক্স’ সিনেমাঃ আয়নাবাজি!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0
Aynbabaji
পরশু বিকেলে সবান্ধব শ্যামলী হলে দেখে আসলাম আয়নাবাজি। টিকেটের জন্য ঝাড়া ৪৫ মিনিট লাইনে দাড়িঁয়ে ছিলাম। শ্যামলীতে দিনে চারটা শো হয়। প্রতিটি শো হাউস ফুল ছিলো। আমরা ভাগ্যক্রমে বিকেলের টিকেট পেয়েছিলাম। আমার সামনেই অনেককে দেখলাম ঐ দিনের টিকেট না পেয়ে মন খারাপ করে পরের দিনের কাটতে।
মুভি ট্রিভায়াঃ
১. মুভির কিছু পোষ্টারে চঞ্চলের চেহারার যে আয়নারূপ ছয়টি টুকরো দেখা যায়, সম্ভবত এর কারন হলো, মুভিতে সে মোট ছয়টি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই কারণেই আয়নাটি ভেঙ্গে ছয় টুকরো হয়েছে।
২. আয়নাবাজি বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা যেটা কেন্দ্রীয় কারাগারে শুটিং হয়েছে। এর আগে আমরা দেশীয় মুভিতে যে জেলখানার সিনগুলো দেখেছি, সেগুলো আদতে ছিলো শুধুমাত্র শুটিংয়ের জন্য বানানো এফডিসির সেট। সত্যিকার জেলখানার ভেতরটা এই দেশে এই প্রথম এই সিনেমাতেই দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশের জেলের ভেতরটা কেমন, সেটা দেখেও কিছুটা অবাক হয়েছি।
৩. অমিতাভ রেজা এই দেশের সেরা পরিচালকদের একজন। কিন্তু তিনি যে এত সুন্দর লিরিক লিখতে পারেন, জানা ছিলো না। এই মুভির প্রথম গানের লিরিক (এই শহর আমার) তাঁর নিজের লেখা।
qsruabbe
 ৪. আয়না চরিত্রটি খুব সম্ভবত বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সবচাইতে জটিল আর ইন্টারেষ্টিং চরিত্র। একজন মানুষ এতগুলো চরিত্রে দুই বাংলার আর কোন মুভিতে অভিনয় করেননি। চঞ্ঝল চৌধুরী যে মাত্রার অভিনয় করেছেন, সিম্পলি লা জওয়াব! আয়নাবাজি মুভির কাহিনীর সবচাইতে শক্তিশালী দিক আমি বলবো, এর চরিত্রের বিচিত্রতা এবং বৈচিত্রতা।
ভূমিকা শেষ। এবার রিভিউ শুরু করি।
শরাফত করিম আয়না। সে শুধু যে অসামান্য অভিনয় করতে পারে তা নয়, সে মানুষের জেসচার বা অঙ্গভঙ্গি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খেয়াল করতে পারে, সেগুলো মনে রাখতে পারে এবং সেগুলো হুবহু নকল করতে পারে। তার আরেকটা গুন হলো, সে যে কোন মানুষকে কথা বলে পটিয়ে ফেলতে পারে, মানে কাউকে কনভিন্স করার ক্ষমতা তার অসাধারন। তার এই গুনের পরিচয় পাওয়া যাবে মুভির ট্রেইলারে থাকা বাজারের একাধিক দৃশ্যে এবং মুভির শেষের দিকের একটা দৃশ্যে।
maxresdefault-1
’আয়না’ অত্যন্ত উদ্ভট, কৌতুহলোদ্দীপক ও ঝুকিঁপূর্ণ এক পেশায় জড়িত। চঞ্চল এখানে এতগুলো চরিত্রে অভিনয় করেছেন যে, দর্শক হয়তো খানিকটা দ্বিধায় থাকবেন, এই বুঝি এই চরিত্রেও আয়নার উপস্থিতি চলে আসলো। আমার ধারনা, আয়না তার নিজের দেয়া নাম। মানুষের চরিত্র সে অবিকল অনুকরণ করতে পারে, যেন সেই চরিত্রটি নিজেই নিজেকে আয়নায় দেখছে, এই কারণে তার নাম ’আয়না’।
মুভিতে প্রচুর পরিমানে হিউমার আছে। চঞ্ঝল আমাদের দেশে মুটামুটি কমেডি অভিনেতা হিসেবে পরিচিত, এই কারণেই হয়তো অমিভাভ রেজা চঞ্চলের চরিত্রটিতে যথেষ্ঠ পরিমান হিউমার রেখেছেন। শেষবার কবে নতুন কোন বাংলা মুভি দেখে এত হেসেছি, মনে পড়ে না। বিশেষ করে জর্জ আর চঞ্চলের সংলাপগুলো বেশী বিনোদিত করেছে। জর্জের একটা সংলাপ অনেকদিন মনে থাকবে – “সবাই তো আর স্ট্রেইট না, এই বয়সে….বোঝই তো…”! 
gallery2
আয়নাবাজি নিঃসন্দেহে একটা ব্রিলিয়ান্ট মুভি। অনেকে এই মুভির সাথে তামিল মুভি, ফারুকির মুভি ইত্যাদির মুভির সাথে মেলাচ্ছেন, দেখতে পেলাম। কিন্তু সত্যিটা হলো, ফারুকির মুভিগুলোর চাইতে আয়নাবাজির মান অনেক অনেক উপরে। ফারুকীও প্রচন্ড প্রতিভাবান নির্মাতা, তবে তার বেষ্টটা তিনি এখনও দর্শককে দিতে পারেননি। তিনি একই সাথে একজন বিতর্কিত পরিচালক, সেটা তার মুভির ডায়লোগ, ক্যারেক্টর কিংবা অন্য যে কোন কারণেই হোক না কেন। এমনকি তামিল যে মুভিটার সাথে এর মিল আছে বলে চাউর করার চেষ্টা করা হয়েছিলো, সেটার সাথেও কোন মিল পাওয়া যায়নি।
আমার এখন পর্যন্ত বদ্ধমূল ধারনা, এটা আদ্যোপান্ত মৌলিক একটা স্ক্রিপ্টের মুভি। অন্তত বাংলাদেশে এইরকম চরিত্র কিংবা এইরকম স্ক্রিপ্টে আর কখনো কোনদিন কোন ধরনের নাটক/মুভি কিছু হয়নি। নিকট ভবিৎষতেও হবে কিনা সন্দেহ আছে। ডিরেক্টর হিসেবে এই ধরনের থ্রিলার জনরার মুভির মাধ্যমে আত্নপ্রকাশ, রাজনৈতিক নাটুকেপনা, বিশেষ করে আমাদের মতো দেশে, অমিতাভের আকাশচুম্বি আত্নবিশ্বাস আর প্রখর যোগ্যতাকেই প্রমান করে। এবং, অমিতাভ তারঁ প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাৎ করে দিয়েছেন।
মুভির টুইষ্ট, দৃশ্যায়ন, গান, চরিত্রের উপস্থাপনা, আর সংলাপ – এই পাচঁটি ক্ষেত্রেই অমিতাভসহ পেছনের কলাকুশলীরা দুর্দান্ত রকমের সৃজনশীলতা, অভিজ্ঞতা আর বুদ্ধিমত্তার ছাপ রেখেছেন। বিশেষ করে, ক্রাইম রিপোর্টার পার্থকে নায়ক ’আয়না’ যেভাবে নিজের লেজ থেকে খসালো, সেটা সিম্পলি আউটস্ট্যান্ডিং! পুরো ব্যাপারটি সত্যিই ঘটছে নাকি স্রেফ অভিনয়, সেটা দর্শকদের বুঝতেও খানিকটা বেগ পেতে হবে। আর এখানেই নির্মাতার মুন্সিয়ানা।
maxresdefault
আর এর গানগুলোর কথা না বল্লেই নয়। বানিয়েছেন অর্ণব আর হাবিবের মতো দেশের বাঘাবাঘা সব মিউজিক আর্টিষ্টরা, আছে চিরকুট ব্যান্ডের গানও। গানগুলো অনেক আগেই রিলিজ দেয়া হয়েছিলো বলে সে সব নিয়ে কিছু বলবো না আর। শুধু এটুকু বলছি – মুভির শুরুতেই ছিলো অর্ণব। শহরকে নিয়ে যে গান শুনতে পাওয়া যাবে, সেটা শুনে আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিষ্টের অনেক প্রবাসী বন্ধু রীতিমতো বাচ্চাদের মতো কেদেঁছেন ঢাকা শহরের বিরহ ব্যাথায়।
hqdefault
এবার হৃদি চরিত্রের কথা বলি। মধ্যপ্রাচ্যে বেড়ে ওঠা মেয়ে মাসুমা রহমান নাবিলার চরিত্র মুভিতে এতটাই মিশে গেছে যে, আমার মনে হয়েছে, এই চরিত্রে নাবিলা ছাড়া হৃদি চরিত্রে আর কাউকে মানাতো না। পুরো মুভিটি তো বটেই, বিশেষ করে নাবিলার সাথে চঞ্চলের প্রতিটি দৃশ্য দর্শক তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করবেন। আমার তো মনে হয়েছে, হৃদি ক্যামেরার সামনে নয়, একেবারে আমার সামনে বসেই একের পর এক সিকোয়েন্স ডেলিভারী দিচ্ছে। সংলাপে কোন জড়তা নেই, এক্সপ্রেশনে নেই কোন আড়ষ্টতা, কে বলবে এই মুভিটাই এই মেয়েটার জীবনের প্রথম মুভি?
bdallnews24-19

গত বছর প্রকাশিত আয়নাবাজি সিনেমার পোষ্টার

আমি গত বছর আয়নাবাজি মুভির পোষ্টার রিলিজ হবার দিন প্রথম যখন মেয়েটিকে দেখি, তখন ওর চেহারার ভেতর খুব আনইউজুয়াল কিছু একটা দেখেছিলাম। আমার কাছে মেয়েটিকে আর দশটা গড়পড়তা ’সিনেমার নবাগত নায়িকা’ টাইপের কিছু মনে হয়নি। তার ভেতর নায়িকাসুলভ কিছু পাইনি, পুরোটা সময়ই মনে হয়েছে, She is the girl next door.
gallery3
আমাদের দেশে  একটা মেয়ে সাইকেরেরটাকা াজ
প্রতিটি কিশোরের জীবনে একটা মেয়ে থাকে, প্রমিতমান হিসেবে, ইংরেজীতে যাকে বলে ’স্ট্যান্ডার্ড’। মানে, সেই মেয়ের সাথে তুলনা করে সে তার জীবনে আসা বাকী মেয়েগুলোকে যাচাই-বাছাই করে; মূল্যায়ন করে। আমার কাছে মনে হয়েছে, নাবিলা সেই ধরনের একটা মেয়ে। অথচ এই ধরনের মেয়েরা সাধারনত কোন এভারেজ টাইপ পুরুষের জীবনে আসে না। তারা বরং সে সব পুরুষদের জীবনের আরাধ্য হয়েই আজীবন বেচেঁ থাকে।
gallery4-1
পার্থও যথারীতি অসামান্য অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে, স্ত্রীর সাথে তালাক হয়ে যাবার পর বাবা-মেয়ের সম্পর্কের রসায়নের খুব অল্প অথচ প্রচন্ড তীব্র এক দৃশ্যায়ন মুভিতে রয়েছে, যেটা দেখে দর্শকের হৃদয় আর্দ্র হতে বাধ্য। তবে তার মদ্যপ চরিত্রটি ভালো লাগেনি। ঘন ঘন মদ্যপান দৃশ্যগুলোর অবতারণা নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। আরেকটা ব্যাপারে খটকা লেগেছে, যে লোক প্রতিদিন আয়নার বাসার সামনে এসে সারাদিন দাড়িঁয়ে থাকে,  আয়নার বাসা খোজাঁর এবং বদলানোর সময়ই তাকে অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
 1461848107
মুভির বেশীরভাগ অংশের শুটিং হয়েছে পুরোন ঢাকায়। ঢাকার এই অংশটাকে আমি এমনিতেই কেন যেন অনেক বেশী ভালবাসি। পুরান ঢাকার জীবন যাপন, কালচার, এমনকি রাস্তা ঘাটের নাম পর্যন্ত বাংলাদেশের আরো কোন এলাকার সাথে মিলবে না। বিট্রিশরা এই সাবকন্টিনেন্ট থেকে চলে যাবার আগে বাংলাদেশের যে এলাকাটা সবচাইতে বেশী উন্নত করে দিয়ে গিয়েছিলো, তার নাম পুরান ঢাকা।
এইটা যে আমাদের দেশের বুকে অতি মাত্রায় ইউনিক একটা জায়গা, সেইটা অমিতাভ রেজা আর সিনেমাটোগ্রাফার (ক্যামেরাম্যান) রাশেদ জামান একদম চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন দর্শকদের। এই মুভির সিনেমাটোগ্রাফি এতটাই শক্তিশালি যে, অনেকেই তাদের চিরচেনা পুরান ঢাকাকে আবার নতুন করে চিনতে পারবেন। অসম্ভব ভালো লেগেছে ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে ধারন করা দৃশ্যগুলো। ঐ রকম বার্ড আই ভিউতে ঢাকাকে আর কখনো ঢাকাবাসী দেখেনি। হ্যাটস অফ টু ইউ অমিতাভ ভাই এন্ড রাশেদ জামান ভাই!
gallery6
কলকাতার ইন্দ্রদীপের তৈরী মুভির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো খুবই চমৎকার, কোন কোন জাগায় তো রীতিমতো নার্ভে চাপ ফেলে দিয়েছিলো। তবে মুভির শেষে যে টুইষ্টটা আছে, তার কোন তুলনা নাই। সিনেমার প্রযোজক ও স্ক্রিপ্টরাইটার গাউসুল আজম শাওন দর্শককে মুগ্ধ, বিস্মিত আর অভিভূত করে ছেড়েছেন।
untitled
 আরেকটা বিষয় হলো, ভারতের অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন পরিচালক (খুব সম্ভবত ’রাজকুমার হিরানী’) তারঁ একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, একটা মুভির এডিটিং কতটা অসম্ভব পরিমান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অথচ আমাদের দেশের মুভি রিভিউয়াররা কেন যেন মুভির এডিটিংকে, কিংবা এডিটরকে পাত্তা দিতে চান না। আমি এখন পর্যন্ত কোন বাংলা মুভি রিভিউতে এডিটরকে প্রশংসা করতে দেখিনি। এই ট্রেন্ড থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। আয়নাবাজির মুভির কালার গ্রেডিং, ভিজুয়াল এক্সিস, জাম্প কাট ইত্যাদিতে দক্ষতা ও সৃজনশীলতার পরিচয় রাখার জন্য এডিটর ইকবাল কবির যোয়েলকে আন্তরিক অভিবাদন জানাচ্ছি।
দর্শকের টিকেটের টাকা প্রথম কয়েক মিনিট দেখেই উসুল হয়ে যাবার কথা। জেল খানার ভেতর দলীয় গান বাজনার যে দৃশ্যায়ন, এবং গান ইটসেলফ, আমার টিকেটের পয়সা আর সময়ের বিনিয়োগ, সেটা দেখেই উসুল হয়ে গেছে। মুভির কাহিনী এতটাই থ্রিলিং যে, প্রথম ১০ মিনিট দেখার পর মুভি শেষ না করে দর্শক আর উঠতে পারবে না। শেষে রাজনীতিবিদের কি হয়, সেটা খেয়াল করতে পারিনি ঠিক, এই কারনে আমি আয়নাবাজি আরো একবার দেখার ইচ্ছে রাখি।
14572865_10209317967478774_716601227064877835_n

টিম আয়নাবাজি

চঞ্চল এবং মুভিটি জাতীয় পুরস্কার পেলে খুব ভালো লাগবে। এই ধরনের মুভি বেশী বেশী হোক, মানুষ হলমুখী হোক। দেশে হিন্দী সিনেমা এবং হিন্দী সংস্কৃতির আগ্রসন বন্ধ হোক। বিশেষ করে শেষোক্ত জিনিসটা হওয়া খুব বেশী দরকার, কারন ব্যাপারটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আজ খবরে পড়লাম, আমাদের ’আজ রবিবার’ নাটকটা নাকি হিন্দীতে ডাব করে ভারতীয় চ্যানেল আমাদের দেশেই প্রচার করছে। খবরটা জেনে স্রেফ হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। এ ধরনের আচরনকে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলা যায় না, এটাকে বলা যেতে পারে সাংস্কৃতিক আক্রমন
1471716753
আয়নাবাজির মতো শক্তিশালি আর আউট অব দ্য বক্স মুভিগুলোর নির্মান তাই এই সময়ে আমাদের জন্য খুব বেশী প্রয়োজন। তাছাড়া, আয়নাবাজির মাধ্যমে আবারো প্রমান হয়েছে যে, আমাদের দেশের জনগন যে হলমুখী নয়, সে ব্যর্থতার প্রায় পুরো দায়ভারই পরিচালকদের। আমরা দর্শকরা এখনো ভালো সিনেমার কাঙ্গাল। ভালো সিনেমা পেলে আমরা বেশী দাম দিয়ে টিকেট কেটে হলে গিয়ে মুভি দেখতেও দুইবার ভাবি না। 🙂
আরেকটা উল্লেখযোগ্য সংবাদ হলো, চলতি মাসেই আমেরিকায় শুরু হতে যাওয়া সিয়াটল দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিবে ‘আয়নাবাজি’। কিন্তু যে সংবাদটা আমরা এখনো অনেকেই জানি না সেটা হলো, কান ফিল্ম ফেষ্টিভ্যালে আন্তজার্তিক হল মালিকদের জন্য এই মুভির একটা বিশেষ স্ক্রিনিং প্রচারিত হয়েছিলো।
ayna-png
আয়নাবাজির ওয়েব সাইটটাও দারুন করে বানানো হয়েছে, কিন্তু আমার ধারনা এইটা খুব বেশী লোকের চোখে পড়ে নাই তাই একটা স্ক্রিনশট জুড়ে দিলাম।

ব্যাক্তিগতভাবে আমার জন্য এই রিভিউটি লেখার সার্থকতা হলো, ফেসবুকে এটি পোষ্ট করার কিছুক্ষনের ভেতর স্বয়ং অমিতাভ রেজা এটি পড়ে লাইক দেন, কমেন্টে প্রশংসা করেন, এবং আমার ফলোয়ান হন।  (এই মুভির প্রযোজক এবং গল্পকার গাউসুল আযম শাওন-ও কমেন্ট করেছেন।) আমি ব্যাপারটিতে যারপরনাই বিস্মিত ও আনন্দিত। কারন ফেসবুকে শত শত আয়নাবাজির রিভিউ প্রতিদিনই পোষ্ট করা হচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই। এর ভেতর অনেকগুলোই তার চোখে পড়েছে, কতগুলোতে নিজে কমেন্ট করে  লেখককে বাহবা দিয়েছেন, আমার জানা নেই। He is such a down to earth personality!

Amitav commetn

বিঃদ্রঃ ’আয়নাবাজি‘ সিনেমার সবগুলো গানের HD ভার্সন আমার ইউটিউব একাউন্টে আলাদা করে প্লেলিষ্ট আকারে আপলোড করলাম। এই গানগুলো ইউটিউবে বিভিন্ন একাউন্টে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, আলাদা কোন প্লেলিষ্টে ছিলো না বিধায় এই কাজটা করার দরকার অনুভব করেছিলাম। এখানে আছেঃ

১) আয়নাবাজি – লিরিক ভিডিও।
২) অর্ণবের গাওয়া – এই শহর আমার।
৩) হাবিবের – ধীরে ধীরে যাও না সময়।
৪) আলু পেয়াজেরঁ কাব্য
৫) চিরকুটের – দুনিয়া।

Error: No API key provided.

এই পোস্টটিতে ২৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. দারুন লিখেছেন, প্রলয়দা। এটা আমার পড়া আয়নাবাজির অন্যতম সেরা রিভিউ! এই কারনেই অমিভাত লাইক-কমেন্ট দিয়েছিলো আপনার পোষ্টে। এইরকম রিভিউ আরোও চাই।

  2. Jasmin Ajom says:

    Bai movieta jodi ethoi balo taile hall list etho kom keno
    R 15 -20 ta hall dia kothoi income korbe
    Is there any chance this movie will realese in more halls???

    • মনের মানুষ মুভিটি মাত্র ৬ টা হলে মুক্তি পেয়েছিলো। তারপরেও তো সেটা ব্লক বাষ্টার হয়েছে। হলের সংখ্যা দিয়ে মুভির মান বিচার করাটা চরমতম মূর্খামি। আপনার শেষের প্রশ্নের উত্তর আমি জানি না ভাই। হবার কথা। 🙂

      ১৫-২০ টা হল এই মুভির লগ্নি তুলে আনার জন্য মোন দ্যান ইনাফ। হট কেকের মতো টিকেট বিক্রি হচ্ছে, এটা যদি টানা ৪ সপ্তাহ চলে, শুধু বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্স থেকেই এই মুভির লগ্নি উঠে আসবে। আর কোন হল লাগবে না। 🙂

      আরেকটা কথা, হলসংখ্যা এখন ৩১!

    • Movie ta Really Onk valo hoice,,,,
      Ami goto kalke Jomuna Future Park a dekhlam,,,
      Amr life a joto Bangla Cinema dekheci
      Er Modde Aynabaji Movie tai Best.

    • Jasmin Ajom apnar hall list kom nia kharap lagche na movie ta sobar onk valo legeche tai apnar kharap lagche

    • Jasmin Ajom says:

      Nahid [email protected] i m a huge fan of chanchel and amitab reza
      But really shocked about our internal contraption in fdc

  3. লাগ ভেলকি, লাগ ভেলকি, আয়নাবাজির ভেলকি লাগ…টাইটেল সং এর মতই ভেলগি লাগালো ছবি আয়নাবাজি; ছবি শেষেও রেখে গেল সমান মুগ্ধতা। বাংলাদেশে কবে এমন ছবি দেখেছি মনে করতেই পারছি না। এক কথায় অসাধারন! একজন অভিনেতার সার্থকতা তার দর্শকদেরকে হিপনোটাইজ করে ফেলা। মন্ত্রমুগ্ধের মতন স্ক্রিনের পর্দায় তার মন-মস্তিস্ককে আটকে রাখা, এ জায়গায় আয়না চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী একবারেই পারফেক্ট। আয়নাবাজি ছবির সংশ্লিষ্ট কলাকুশলী সকলেই দেখিয়েছে তাদের যোগ্যতা বিশেষত একজন গুনী নির্মাতা হিসেবে অমিতাভ রেজা সাধ্যের সবটুকুই নিংড়ে দিয়েছেন আয়নাবাজিতে। হাটস অফ মি. অমিতাভ রেজা! সবাইকে বলবো আপনারা হলে গিয়ে আয়নাবাজি দেখুন। একবার দেখলে দ্বিতীয়বার দেখতে চাইবে আপনার মন- এটা জোর দিয়েই বলা যায়। না দেখলেই মিস করবেন অনেক কিছু। আয়নাবাজি দেখুন, এ রকম ছবিকে উৎসাহিত করুন।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন