দ্য হবিটঃ একটি অপ্রত্যাশিত যাত্রা…!

fb3 fb4 fb5

 

প্রথমেই দুটি কথা বলে নেই। ১. এই লেখাটি প্রথমে লিখেছিলাম মুভি লাভারজ ফেসবুকে গ্রুপে। গত বছরের ২১ জুলাই। ব্লগে দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। একটু আগে হঠাৎ মনে পড়লো।

২. এটা যতটা না রিভিউ, তার চাইতে বেশী হচ্ছে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বয়ান। আর মুভির ব্যাপারে আমার মন্তব্য। তাই এই লেখা পড়ার আগে বলে নিচ্ছি, “রিভিউ” আশা না করাটাই ভালো হবে।

মুভির ক্ষেত্রে সাধারনত আমার পছন্দের জানর (Genre) হচ্ছে ৪ টি। এ্যাকশন, এডভেঞ্চার, সাইফাই আর এনিম। মাঝে মাঝে এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড, চার্লি এন্ড দ্য চকলেট ফ্যাক্টরি বা প্রিন্সেস অব নারনিয়ার মতো ফ্যান্টাসি মুভিও পছন্দ করি, কালে ভদ্রে।

তবে খাটিঁ মিথলজিক্যাল মুভি হচ্ছে আমার বিশেষ পছন্দের ঘরানার মুভি। তাই এ ধরনের মুভিগুলো আমি খুব ধীরে সুস্থে, সময় নিয়ে, আয়োজন করে দেখি; তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করি। মিথলজিক্যাল মুভির নেশা আমাকে ধরান কিউয়ি (নিউ জিল্যান্ডীশ) পরিচালক পিটার জ্যাকসন, তার স্মরন কালের অন্যতম সেরা মুভি লর্ড অব দ্য রিংসের মাধ্যমে। অসামাম্য প্রতিভাধর এই মানুষটি মিথলজিক্যাল মুভি বানানোতে রীতিমতো সিদ্ধহস্ত। আমার খুব ইচ্ছা ছিলো মুভিটা নিয়ে একটা রিভিউ লিখবো আমার মনের মতো করে, কিন্তু এর কাহিনীর ব্যাপ্তি এতটাই বিশাল যে, দুয়েক হাজার শব্দের ভেতরও একে গুছিয়ে আটাঁনো দুরূহ বলে মনে হয়েছে।

পরশু রাতে হবিট দেখার পর মনে হলো, দুধের সাধ ঘোলে না হলেও, মাখনে মেটানোর সময় এসেছে মনেহয়! দ্য হবিট দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ছিলাম মুক্তি পাবার পর থেকেই, প্রায় মাস আটেক আগে থেকে। এবং, এবারও সেই পিটার জ্যাকসান!!
৭২০পি নামিয়েছিলাম আরো মাস তিনেক আগে। কিন্তু বিভিন্ন ব্যস্ততার দরুন, আমার মিথ জানরের মুভির দেখার নিয়ম মেনে আর মুভির লং রান টাইমের কারনে – সময় নিয়ে যে দেখবো, সে সময়টা এতদিন হচ্ছিলো না। পরশুরাতে দেখে ফেল্লাম। আজ লিখতে বসলাম। একটা কথা বলি, মুভি দেখার পর প্রচন্ডভাবে আলোড়িত অনুভব না করলে আমি রিভিউ লিখি না….আসলে চাইলেও লিখতে পারি না।

১৯৩৭ সালের ‘দ্য হবিট’ উপন্যাস অবলম্বনে, লর্ড অব দ্য রিংসেরও ৬০ বছর পূর্বের কাহিনী নিয়ে পিটার তৈরী করেছেন/করছেন তার আরেকটি মাস্টারপিস ট্রিলজি – ‘দ্য হবিট’। এই ট্রিলজির প্রথম পর্ব হচ্ছে – ”একটি অপ্রত্যাশিত যাত্রা’ (The Hobbit: An Unexpected Journey)। [যেটা ইতিমধ্যেই বক্স অফিস থেকে ১ বিলিয়ন ডলার কামাই করে নিয়ে গেছে। জিতেছে ৪ টি অস্কার।] ২য়টি বের হবে এ বছরের শেষের দিকে, ডিসেম্বর মাসে – স্মগের উৎসাদন (The Hobbit: The Desolation of Smaug) এবং ৩য় ও শেষ অংশটি দেখা যাবে ২০১৪ সালে, ‘সেখানে আবার ফিরে আসা’ (The Hobbit: There and Back Again)

fb6

কাহিনীসূত্র: বুড়ো বিলবো তার ছেলে ফ্রডোর কাছে গল্প লিখছে। তার জীবনের অপ্রত্যাশিত একটা ভ্রমনের গল্প।
অসামাধ্য পৌরুষদীপ্ত ও সুপুরুষ থরিন ওকেনশীল্ড। মধ্য-পৃথিবীর ‘এরিবর’ নামক এক রাজ্যের রাজপুত্র। সোনাদানার প্রতি থরিনের বাবার আসক্তি মাত্রাতিরিক্ত। এবং এই আসক্তিই তার এবং এরিবরের কাল হয়ে দাড়াঁয়। স্মাগ নামক ভয়ংকর, হিংস্র ও অতিকায় এক কমোডর ড্রাগন এই সোনাদানার লোভে এরিবর আক্রমন করে বসে এবং এরিবরকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেয় নিমেষেই। থরিন ছাড়া প্রায় সকলেই মারা পড়ে। যে কজনই বা বেঁচে ছিলো, তারাও মারা পড়ে, হিংস্র ও কদাকার ওর্কদের আক্রমনে। ওর্কর হাতে মারা পড়ে তার বাবা এরিবরের রাজা। থরিন তার পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেয় ওর্ক প্রধানের বাম হাত কেটে নিয়ে। থরিন এর পর থেকে জেনে এসেছে ওর্ক মারা গেছে সেই ক্ষতে। কিন্তু পরবর্তীতে তার ধারনা মিথ্যা প্রমান করে, নিজের হাত কেটে নেবার প্রতিশোধ নিতে ওর্ক সদলবলে থরিন এবং তার দল – ১৪ জন ওয়ার্ভসের পিছু নেয়। এদিকে থরিন তার দল নিয়ে শত চড়াই উৎড়াই পাড়ি দিয়ে চলে নিজের রাজ্যকে পুনরুদ্ধার করতে। মুভির কাহিনী এগিয়ে চলে শ্বাসরূদ্ধকার, অবিশ্বাস্য ও অতি প্রাকৃত সব ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে।

মুভির গান: কিছু হলিউডের মুভির টাইটেল সং বা ক্রেডিট সং এবং/অথবা মিউজিক মাঝে মাঝে আমার অত্যন্ত মনে ধরে যায়। ক্রেডিট সংয়ের প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম প্রিন্সেস অব নারনিয়ার ক্রেডিট সং শুনে। এখনও কানে ভাসে..এখনও আমাকে মাতাল করে দেয়। হবিটের ক্রেডিট সং শুনে পরশুরাতে আরেকবার মাতাল হয়েছিলাম। গানের নাম: ’নি:সঙ্গ পর্বতের গান’। অসামাণ্য এর লিরিক, অভূতপূর্ব এর বাজনা। গানটা নামিয়ে লিরিকসহ আইপডে ঢুকিয়ে এটা শুনতে অফিসে গেছি আর শুনতে শুনতে বাড়ী ফিরেছি। গানটি শোনার সময় প্রতিবারই মনে হয়েছে যেন আমিও সেই ১৪ জন্য সাহসী যোদ্ধার একজন। এর লিরিক ও এর পেছনের কিছু কাহিনী পড়তে পাওয়া যাবে এখানে:
আর কেউ খেয়াল করেছেন কিনা জানিনা, মুভির প্রথমদিকে আমরা যে থরিনকে গুনগুন করে একটা গানের সুর প্রায়ই অস্পষ্টভাবে ভাজতে দেখি, সেটা আর কিছু না, সেটা হচ্ছে এই গানেরই সুর।

ট্রিলজির প্রধান চরিত্র, বলা বাহুল্য, হবিট। এই চরিত্রে অভিনয় করেছে ড: ওয়াটসন খ্যাত বিখ্যাত বিট্রিশ অভিনেতা মার্টিন ক্রিস্টোফার ফ্রিম্যান। গ্যালাডরিয়েল চরিত্রে এক সময়ের ডাকসাইটে মার্কিন অভিনেত্রী কেট ব্লানচেটের ভূমিকা খুবই গৌন, সংক্ষিপ্ত ও অপ্রেয়োজনীয় মনে হয়েছে। তবে মুভির অভিভাবক (জাদুকর) চরিত্রে ইয়ান ম্যাককেনেলের অভিনয় খুবই পরিনত ও ভাবগম্ভীর ও যথাযথ মনে হয়েছে। ট্রিলজির এই পর্বের নায়ক ছিলেন – এরিনরের রাজপুত্র থরিন। এই লোকটা আসলেই ভীষনরকমের হ্যান্ডসাম।

মুভির শুটিং হয়েছে যথারীতি পিটার জ্যাকসনের জন্মভূমি নিউ জিল্যান্ডে।

সিডনী থেকে ২০০৯ এ শেষবার যখন এর রাজধানী ওয়েলিংটনে গিয়েছিলাম, এয়ারপোর্টে আমাদের বিমান ল্যান্ড করার মিনিট কয়েক আগে প্লেনের জানালা দিয়ে যে অপার্থিক দৃশ্য দেখেছিলাম, সেসব দৃশ্যের কিছু কিছু মুভিতে দেখতে পাওয়া যাবে। তাই পরিচিত অথচ সদা নতুন এই দৃশ্যগুলো দেখে অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। তবে মুভির মাঝখানে লর্ড অব দ্য রিংসের ’গুলাম আর তার আংটির ঘটনার’ প্রায় হুবহু পুনরাবৃত্তি করে পিটার দর্শকদের চমক দিতে চেয়েছেন কিনা জানি না, [কারন মিথ অনুসারে, লর্ড অব দ্য রিংসের ঘটনা হবিটের ঘটনারও ৬০ বছর পরের ঘটনা] মার কাছে ব্যাপারটা জুতসুই মনে হয়নি। তবে যাই হোক, মুভিটা দেখে ভীষন মজা পেয়েছি, ভীষনভাবে উপভোগ করেছি। এখন অপেক্ষা শুধু ২য় পবটার জন্য।

 

fb7 hobbit1 hobbit2

(Visited 483 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    যাক, অবশেষে ব্লগে দেয়া হলো লেখাটা। তাই তো বলি নামটা কেমন যেন চেনা চেনা লাগছিল। 🙂

  2. দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস এর পাড়ভক্ত এমন দাবী করবো কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে, এর রস আস্বাদন পুরোপুরি করতে পেরেছি এমনটা যেদিন মনে হবে সেদিন ভিন্নকথা অবশ্য ! দ্য হবিট ভালোই লেগেছে । 

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন