বাংলা নাটকের ধ্বংসের আদ্যপ্রান্ত-৪
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

বিষয়ঃঅভিনেতাকথন!

প্ত্রিকার পাতায় বাংলা নাটকে অভিনেত্রীদের দাপটে অভিনেতারা একটু ম্রিয়মান ছিলেন সবসময়ই। আমরা সিনিয়রদের মধ্যে তারিক আনাম খান,আসাদুজ্জামান নূর,হুমায়ুন ফরিদি,আফজাল খান,ফজলুর রহমান বাবু,সোহেল খান,এজাজ,আহমেদ রুবেল,রাইসুল ইসলাম আসাদ,আজিজুল হাকিম,শহিদুজ্জামান সেলিম কিংবা জুনিয়রদের মধ্যে তৌকির,জাহিদ,আজাদ আবুল কালাম,মাহফুজ,টনি, ফয়সাল,চঞ্চল,আহমেদ রুবেল, মোশাররফ,সাজু খাদেম,শিমুল এদের মতন লিজেন্ডারি\চমৎকার অভিনেতা পেয়েছি।
Image may contain: 1 person, beard

তৌকির,শিমুলরা যেমন তখনকার মেয়েদের বুকে কাপন ধরাত আর জাহিদ,মাহফুজরা অভিনয় দিয়ে মন জয় করে নিয়েছিল।
মঞ্চ থেকে উঠে আসা এসব অভিনেতাদের জন্য ছিল একেকটা চরিত্র একেকটা চ্যলেঞ্জ ছিল।কখনো ফুল হাতে দাড়িয়ে থাকা বেকুব প্রেমিক,কখনো গ্রামের অত্যাচারী স্বামী,কখনো খেটে খাওয়া একটা মজুর ,সবই পেয়েছি এদের কাছ থেকে।এরা এসব এক্সপেরিমেন্ট করতে মুখিয়ে থাকতো,এই ক্ষুধাটাই আমাদের চমৎকার সব নাটক উপহার দিয়েছে।
Image may contain: 2 people, people standing

আর তারিক আনা,ফজলুর রহমান বাবু,সেলিম,শহিদুজ্জামান সেলিম এদেরকে বাংলাদেশের ইরফান খান কিংবা নওয়াজউদ্দিন বললে অত্যুক্তি হবে না।একসময় মঞ্চ কাপিয়েছেন বা এখনো কাপাচ্ছেন।

এখন তাকাই,আমাদের জেনারেশনের দিকে >
আমাদের এখনকার অভিনেতার উৎস হল,ইউটিউব । নিউ জেনারেশন অভিনেতাদের নাম বলতে গেলে আসবে,সালমান মুক্তাদির,শামীম হাসান,তামিম,সিয়াম,সৌমিক,জোভান,তৌসিফ,আলেন শুভ্র আর ছুটকাছাটকা বাদ দিলাম।এর মধ্যে কয়জন আছেন সত্যিকারের “ভালো” অভিনেতা? দুই একজন হয়তো অভিনয় জানেন,বাকি সবগুলাই মাকাল ফল।

লাফালাফি করে,নুস্রাত ফারিয়া স্টাইলে বাংলিশ কথাবার্তা বলে,বাছবিচারহীন ওয়েস্টার্ন কালচারের আমদানি করে সালমান মুক্তাদির এখন সেলেব্রেটি “অভিনেতা”!মিষ্টি ছেলে “তৌসিফ”এর প্রতিভার যা ছিল তা সবটুকুই ব্যয় হয়েছে গার্লফ্রেন্ডের পেছনে ছুটতে ছুটতে।বাকিদের বিশ্লেষণ করে পোস্ট ভারি করতে চাই না।

এদের নাটকে একটাই কাজ,লাল-গোলাপি প্যান্ট পড়ে “গার্লফ্রেন্ড”এর পিছনে পিছনে দৌড়ানো,এদের জন্য প্রাইভেট ইউনির ছেলেপেলেদের “হাফ লেডিস” গালি শুনতে হয়।এদের কথা শুনলে মনে হয় “ইয়ো ডুড”মার্কা বাংলা ছাড়া অন্য সব বাংলা অচ্ছুৎ! মেসের মাঝে বসে বসে পি এস 3’তে গেইম খেলাই জীবনের একমাত্র লক্ষ!বাপের গাড়ি হাকিয়ে ক্যম্পাসে আসবে,”জান”,”সোনা” আর “আজকে হবে?” এই কাহিনী দিয়েই নাটক শেষ!এদের দিয়ে এই একটা ক্যরেক্টারই হয়,”লুলুঝুলু”মার্কা প্রেম কাহিনী।আরেকটা হয় অবশ্য।ফেইসবুকে লুইচ্চার ক্যরেক্টার ,আর কিছু না।এক্সপেরিমেন্ট দূরে থাক,সামান্য একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের চরিত্র দিলেও এদের জান বের হয়ে যায়।আর তৌকির,জাহিদের ভ্যারিয়েশন বাদই দিলাম!
আর মঞ্চ? কোনদিন চোখে দেখছে কিনা সন্দেহ? এদের জন্যও সেই চিরায়ত ডায়ালগ প্রযোজ্য।ইউটিউব করে যদি লাখ লাখ ভিউ পাই,তাহলে মঞ্চ করে টাইম নষ্ট করে কোন হালায়?

ডিরেক্টররা কবে বুঝবে,”ন্যতা ন্যতা প্রেম করা আর বাপের গাড়ি হাকিয়ে ক্যাম্পাসে আসা ফুলবাবুটা বাংলাদেশের পোলাপানদের রিপ্রেজেন্ট করে না,বরং দুই-তিনটা টিউশনি করে ঘাম মুছে পুরানো টি শার্ট পরে ক্লাস করতে আসা ছেলেটাই পুরা বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করে।”

যতদিন এই সত্যটা বুঝবেন না,আসল শেকড়ে ফিরবেন না,ততদিন বাংলা নাটক এইরকম ধসতেই থাকবে! 😐

পুনশ্চঃনিশো,এলেন শুভ্র আর মিশু সাব্বিরের প্রতিভা নেই আমি বলব না।সো সালমান মুক্তাদিরের মতন তৃতীয় শ্রেনীর ছেলেকে অভিনেতা বলতে পারিনি বলে আমাকে মুরুব্বী-ট্যাগ দিয়েন না।

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. JobayerRAJ100 JobayerRAJ100 says:

    তাহসান, অপুর্ব, নিশো রা দায়ী…

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন