বাংলা নাটক ধ্বংসের আদ্যপ্রান্ত~৩
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

প্রসঙ্গঃসিনিয়র শিল্পীদের হালচাল

বাংলা নাটকের অন্যতম প্রাণ ছিল বাবা আবুল হায়াতের বেকুব বেকুব ভাব কিংবা মা মুনিরা মিঠুর ত্যড়া ত্যড়া কথা।নাটকের শুরুতেই দেখা যেত বরবটির বদলে মুলা আনার কারণে বাবা পেপারখানা হাতে নিয়ে বিরসবদনে মায়ের বকুনি খাচ্ছেন । মা আর দাদীর মাঝে টুকটাক জিনিস নিয়ে ঝগড়া হচ্ছে।পড়তে বসছে না বলে কান ধরে টেবিলে নিয়ে বসাচ্ছে।আজান হচ্ছে,অবিন্যস্ত আঁচল মাথায় তুলে দিচ্ছে।খুবই সাধারন কিছু দৃশ্য,কিন্তু নাটকটাকে প্রানবন্ত করে তোলার জন্য এই সামান্য কিছু অনুষঙ্গ ছিল যথেষ্ট বেশি।
Image may contain: 1 person, standing and outdoor
আগে সিনিয়র শিল্পী ছাড়া কোন নাটক কল্পনাই করা যেত না,সেটা বাবা-মা হতে পারে,পাড়ার চৈতাপাগল, গ্রামের কুটনি বুড়ি কিংবা বিয়ে না করা আইবুড়ো মামা।একটা না একটা সিনিয়র চরিত্র থাকতোই। এমনকি রোমান্টিক নাটকগুলোতে বাবা মায়ের ভূমিকা কম,সেখানেও বাবা-মায়ের উপস্থিতি ছিল আবশ্যক।

 

আর এখন? দিন বদলে গেছে ভায়া
নায়ক আর নায়িকা আর রাস্তা থেকে ধরে আনা কয়েকটা ছেলে-মেয়েকে বান্ধবী বানিয়ে দিলেই ১ ঘন্টার নাটক শেষ।নায়ক নায়িকা বাসায় থাকে,কিন্তু তাদের বাপ-মার টিকিটির দেখাও মেলে না।অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় নায়ক-নায়িকা বড় হয়েছে অরফানেজে।আর নায়ক নায়িকা হলে থাকলে তো কেল্লা ফতে! বাপ-মা বলে কোন জিনিস দুনিয়াতে আছে বলেই মনে হয় না। আর যদিও ভুলক্রমে বাপ-মার অস্তিত্ব নাটকে থাকে তবে তাদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব হল খাওয়ার টেবিলে খেতে ডাকা কিংবা মেয়ের প্রেমে সমস্যা হচ্ছে কিনা তা দেখা।  ভাবী নামক চমৎকার চরিত্রটাও প্রায় বিলুপ্ত।

Image may contain: 3 people, people sitting

অনেকেই ডিনাই করবেন,অনেক নাটকেই আছেন তারা।হ্যা,আছেন।এরকম হাস্যকর অস্তিত্বে।কি একটা নাটক দেখছিলাম ওইদিন,যেখানে মুনিরা মিঠুকে একটা কুর্তা পড়িয়ে আর এক তাল মেকাপ নিয়ে মেয়ে মৌসুমি হামিদকে সাজেস্ট করছেন কীভাবে আরো আধুনিক হওয়া যায়।এইটুকুই তার স্ক্রিপ্ট।প্রতিভার কি নিদারুন অপচয়!মুনিরা মিঠুকে বলা যায় হুমায়ূন আহমেদের ওয়ান অফ দা বেস্ট ইনভেনশন।তার করা “চন্দ্রকথা”,”বুয়া বিলাস”,”বৃক্ষমানব” সম্ভব হলে দেখে আসুন!আইডিয়া পাবেন উনি কি জিনিস!একই কথা খাটে চিত্রলেখা গুহের ক্ষেত্রে,কলকাতার অপরাজিতা আঢ্যর অভিনয় দেখে হুহা করি।অথচ এই মহিলা স্ক্রিপ্ট পেলে অপরাজিতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারবেন।দিলারা জামান নামক বুড়িটা কোন চরিত্রে জন্য পারফেক্ট না?সাবেরী আলমের মতন হেডমিস্ট্রেস মেজাজের মহিলা সব চরিত্রে জন্য পারফেক্ট। চ্যলেঞ্জারের পরে কমেডি মামা হিসেবে কাদেরের জুড়ি নেই।আবুল হায়াতের সব্যসাচী প্রতিভার কে মূল্যায়ন করছে?

Image may contain: 1 person, eyeglasses, phone, plant, beard and outdoor

আগে এদেরকে কেন্দ্র করেই চমৎকার সব স্ক্রিপ্ট বের হত।ফানি,ফ্যামিলি কিংবা বিয়োগান্তক নাটক।কিন্তু এখনকার সব আটকে আছে ওই নায়ক-নায়িকাকেন্দ্রিক প্যচপ্যাচানিমূলক নাটকেই।আর যা হচ্ছে যতসামান্য।

পর্দাকাপানো অভিনেতারা এখন প্রায় নির্বাসনে চলে গেছেন।তার বদলে এয়ারটেল আবিষ্কৃত এক “মা”কে প্রায়ই স্ক্রিনে দেখি।নাম জানি না।যাকে দেখে মনে হয় সারাবছর অসুস্থ থাকেন।সাবেরী আলম-চিত্রলেখাগুহ-মুনিরা মিঠু-দিলারা জামান-শামিমা নাজনীন-মুনিরা ইউসুফ মেমী-প্রজ্ঞা লাবনী-ডলি জহুর-ওয়াহিদা মল্লিক জলি-রাণী হামিদ-শর্মিলি আহমেদ-আফরোজা বানু-রোজী সিদ্দিকি কিংবা আবুল হায়াত-সালেহ আহমেদ-আমিরুল ইসলাম-কাদের খান-বাচ্চু-রহমত আলী-সোহেল খান এদের কয়জনকে তার প্রাপ্য সম্মান দিয়েছি? সারা জীবন আমাদের হাসিয়ে গেছেন।এখন মধ্য বয়সে কিংবা শেষ বয়সে হয় তাদের ভুলে গেছি কিংবা বি-ক্যটাগরির অভিনেতা বানিয়ে রেখেছি। অথচ টালিউড,কলকাতা কিংবা বলিউডে এখনো পর্দা কাঁপাচ্ছেন প্রবীণেরা।কি নাটক,কি সিরিয়াল,কি মুভি!

Image may contain: 1 person, standing

কয়েকদিন আগে আবুল হায়াতের একটা সাক্ষাৎকারে দেখছিলাম,সিনিয়র আর্টিস্টদের এখন কতদূর সম্মান আর সম্মানী দেয়া হয়।আর অসুস্থ সালেহ আহমদের একটা লেখা শেয়ার দিয়েছিলাম।যিনি ধুঁকছেন,কেউ একটা খবর পর্যন্ত নেয় না।সারাজীবন আমাদের বিনোদিত করে এখন অর্থসংকটে নিজের জীবন বাচানো দায়!

আজকের অসুস্থ সালেহ আহমেদ আসলে আমাদের নাটক ইন্ডাস্ট্রির একটা প্রতিচ্ছবি,যা শুধু ধুকছে মরার অপেক্ষায়।
“সুলতান সুলেমান” নাহয় বন্ধ করতে পারবেন,এই সিনিয়র আর্টিস্টদের সম্মান বা সম্মানী না দেয়ার ছোটলোকি কি বন্ধ করতে পারবেন??


মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন