যুগে যুগে প্রেম

Fantastic-Love-3D-animation

চলচ্চিত্রের প্রধান এক প্রাণ ভালবাসা বিষয়টি। এমন কোন চলচ্চিত্র নেই যেখানে দুটো চরিত্রের ভালবাসার সম্পর্ক দেখানো না হয়। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে তা অতি নগন্য থাকে আর কোন কোন ক্ষেত্রে তাই প্রধান হয়ে উঠে আসে। সবই নির্ভর করে ছবির কাহিনীর উপর। প্রধানধারার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি আজকাল দেখা যায় এ্যানিমেশন ছবিগুলোতেও প্রেমের বিষয়টি। অনেকেই হয়তো আমার সাথে একমত হবেন যে এ্যানিমেশনের প্রেমগুলো অন্য সাধারণ ছবির চেয়ে বেশি মন কাড়ে। সেগুলো অনেক কিউট আর সুইট ও লাগে। তেমন কিছু এ্যানেমেশন প্রেমিক যুগল নিয়েই আমার আজকের পোস্টটি।

শ্রেক-ফিয়োনা

শ্রেক সিরিজের শ্রেক আর ফিয়োনাকে তো সবাই চেনেন। সাধারন এক ওগার প্রেমে পড়ে রাজকুমারী ফিয়োনার। কিন্তু ওগার হবার কারনে সে তার ভালবাসা হারাতে প্রস্তুত থাকে। কিন্তু কে জানতো ফিয়োনা নিজেও ওগার। ফলে ঘটে তাদের ভালবাসার সফল পরিণতি। তাদের সম্পর্কে দেখা যায় একে অপরের প্রতি প্রগার ভালবাসা আর কেয়ারিং। এতে হয় কিছু মিষ্টি ঝগড়া আর মধুর মিলন।

shrek-third-shrek-and-fiona-4641

কার্ল-এলি

’আপ’ মুভিটির কথা নিশ্চয় সবার মনে আছে। আর মুভিটির কথা মনে পড়লেই গাট্টুস গুট্টস রাসেলের পাশাপাশি দুজন বৃদ্ধ আর বৃদ্ধার কথাও ভুলবার নয়। কার্ল আর এলির প্রেমের কাহিনী সবার মন কেড়েছে জানা কথা। ভালবেসে ঘর বেঁধে জীবনের পুরোটা সময় একত্রে অতিবাহিত করে এই যুগল। তারপর বৃদ্ধকে একা রেখেই পরপাড়ে পাড়ি জমায় বৃদ্ধা। বর্দ্ধার স্মৃতি বিজরিত বাড়িটি আকড়ে থাকে বৃদ্ধ কার্ল। আর বৃদ্ধা এলিকে দেয়া কথামত এক সময় বাড়িটিতে বেলুন লাগিয়ে উড়িয়ে নিয়ে চলে অজানার উদ্দেশ্যে।

carl ellie

ওয়াল-ই–ইভ

মানব চরিত্রে পাশাপাশি এ্যানিমেশনে দেখা গেছে রোবটদের প্রেমও। আর তা আমরা দেখেছি ওয়াল-ই ছবিতে। ওয়াল-ই পৃথিবী ধ্বংসের পর তা থেকে সব আবর্জনা সরিয়ে ফেলার কাজে নিয়োজিত থাকে। আর সেখানেই মর্ডান ধাচের অপর এক রোবট ইভ এসে উপস্থিত হলে তাদের মধ্যে প্রেম শুরু হয়। এই রোবট চরিত্রগুলো এত সুন্দর করে একে অপরের প্রতি কেয়ার দেখায় যা নিঃসন্দেহে অসাধারণ। ইভ যখন স্ট্যান্ডবাই মোড এ চলে যায় তখন তার প্রতি ওয়াল-ইর কেয়ারিং নজর কাড়ে বেশি।

wall-e-eve

রুপেনজেল-প্রিন্স

দীর্ঘ সোনালী কেশের অপূর্ব রুপবতী রুপেনজেল। মা বাবা হারিয়ে মানুষ হয় ডাইনীর কাছে। রুপেনজেল একটু বড় হবার সাথে সাথে তাকে উচু এক টাওয়ারে বন্দী করে রাখে ডাইনি। সেখানে শুধুই ছিল একটি ঘর আর তাতে একটি জানালা। টাওয়ারে ওঠার ছিলনা কোন সিড়ি আর দরজা। ডাইনি এসে নিচ থেকে রুপেনজেলকে বললে সে তার দীর্ঘ কেশ নামিয়ে দিত তাই বেয়ে ডাইনি উপরে উঠে আসত। রুপেনজেলের মিষ্টি গানের সুরে মন হারায় এক রাজ্কুমার। গান শুনতে শুনতেই সে প্রেমে পড়ে রুপেনজেলের। তারপর তাদের সাক্ষাত হতে থাকে রোজ। রুপেনজেল তার দীর্ঘ কেশ নামিয়ে দিত রাজকুমারের জন্য আর রাজকুমার রোজ তা বেয়ে বেয়ে উঠে যেত টাওয়ারে।

rapunzel_concept_art_prince-resized-600

পুস-কিটি

পুস ইন বুটসে দেখা যায় দুই বিড়ালের প্রেমের বিষয়টি। প্রথমে মারামারি দিয়ে তাদের সাক্ষাৎ হলেও এক সময় কিটির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে পুস। কিটি তখনও শত্রু ভেবে চলে পুসকে। তবে একসময় দুজনের সম্পর্ক রোমান্টিক পর্যায়ে চলে যায়। সেখানে ঘৃনা থেকে জন্ম নেয় ভালবাসা আর কেয়ারিং। পুস বিপদে পড়লে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসে কিটি।

Puss-And-Kitty-puss-in-boots-the-movie-23119032-436-195

ম্যাভিস-জনাথন

হোটেল ট্রানসিলভানিয়াতে দেখা গেছে ড্রাকুলা আর মানুষের প্রেমে পড়ার ঘটনা। ড্রাকুলা কন্যা ম্যাভিস তার ১১৮তম জন্মদিনের দিন ঠিক করে সে আবিস্কার করবে মানবজাতির পরিবেশ। কিন্তু বাবার অনিচ্ছা আর সাজানো নাটকে মানব জাতি সম্পর্কে তার ধারনা খারাপ হয়। কিন্তু সেই ধারনা বদলে যায় হোটেলে হঠাৎ করে আসা এক যুবক জনাথনের কারনে। জনাথনের ব্যবহার আর স্বভাবে মুগ্ধ হয় ম্যাভিস। একি ব্যপার ঘটে জনাথনের ক্ষেত্রেও। ফলে শুরু হয় তাদের প্রেম। একে অপরের প্রতি ভালবাসার টান চোখে পড়ে ছবিটিতে। এই যুগলের ভালবাসার শক্তিতে হার মানে ড্রাকুলাও।

Hotel-Transylvania-Johnnystein-Mavis

ব্লু-জুয়েল

এ্যানিমেশনে ভালবাসার আরেক জুটি ব্লু আর জুয়েল। এই জুটিকে দেখা যায় রিও ছবিতে। পাখি হয়েও তাদের মনের টান আর ভালবাসা কোন অংশেই কম না মানব জাতির চেয়ে। একসাথে থাকতে থাকতে কখন যে তারা একজন আরেকজনের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে তা নিজেরাও জানেনা। চোখে চোখ রাখা, মনের সুরে গান গাওয়া সবই ঘটে। দুঃখ-বেদনা আর মিলনও হয় ব্লু-জুয়েলের জুটিতে।

Blu_and_Jewel_relationship

(Visited 107 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন