ব্যাটম্যান জেমস বন্ড মুখোমুখি একদিন
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

নিউ ইয়র্কের একটি রাস্তা, বৃষ্টিভেজা পিচ।  রাত কিছুটা গভীর বলে যান চলাচল কম। ফুটপাত ধরে একজন দুজন হেটে গেল। স্ট্রিট লাইটের আলোতে সব কিছু কেমন যেন ছায়া ছায়া। বাতাসে গাছের শুকনো পাতাগুলো রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছে। হঠাৎ এই শুনশান নিরবতা ভেদ করে দূর থেকে কেমন একটা আওয়াজ ভেসে আসল। অদ্ভুত এই আওয়াজটা ক্রমশ কাছে এগিয়ে আসছে সেই সাথে বাতাসের গতিবেগ ও বেড়ে চলেছে।  থপথপ করে হওয়া আওয়াজটা একসময় অনেকটাই কাছে চলে এসেছে।কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে কিছু একটা রাস্তায় পড়ল। ঠিক মাঝখানে একটা ছায়া। ওহ এতো অতি পরিচিত একজন। সেই পরিচিত কালো পোশাক পড়া বাদুরের পাখা আলা ব্যাটম্যান। তখনি বেজে উঠবে ব্যাটম্যানের চির পরিচিত মিউজিক।

 

অপরদিকে লন্ডনের এক পড়ন্ত বিকেল। যথারীতি ট্র‍্যাডিশনাল আবহাওয়া। মেঘগুলো আকাশে কালো রূপ ধারণ করে ভেসে চলেছে। যেকোন সময় শুরু হবে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। সামান্য বৃষ্টি তাতেও জোর নেই। মেঘের গর্জন আর বিজলির চমক কিছুই থাকবেনা যখন তখন শুরু হবে আজব এই বৃষ্টি । মেঘলা এমন এক দিনে টেমস এর ধার ঘেষে দাড়িয়ে আছে প্রকান্ড এক ভবন। কাঁচে ঘেরা ভবনটির একটি কক্ষে তখন কজন মিটিং এ বসেছেন। দূর থেকে কারো মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছেনা। সবার আচরণ এমন যে বোঝা যাচ্ছে খুব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। আলোচনা সম্ভবত শেষ হয়েছে। এতক্ষন যিনি পেছন ফিরে বসেছিল সে উঠে দাড়ালো। পেছন থেকেই বোঝা যাচ্ছে সুঠামদেহী, সু্যট পড়া। এক মূহুর্ত সবার দিকে মুখ করে দাড়িয়ে কি ভাবলো লোকটা। মাথা নাড়লো, তারপর ঘুরে জানালার কাছটায় এসে দাড়ালো। আরে এ তো পরিচিত মুখ। মুখে এমন গম্ভীর ভাব আর জগৎ জয় করার আকাংখা দু চোখে, আর কেইবা হতে পারে? বেজে উঠল বন্ড মিউজিক। কেন নয়? কারণ এই তো জেমস বন্ড দাড়িয়ে, সামনে তার নতুন কোন কেসের সমাধানের হাতছানি। তাকে ছুটে যেতে হবে নিউ ইয়র্কে। সাক্ষাত হবে অপর আরেক শক্তির সাথে।

নিউ ইয়র্কের একটি হোটেল কক্ষ। চারপাশে সুসজ্জিত আসবাব। জানালা দিয়ে বাহির দেখা যাচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে বেশ উঁচু তলায় কক্ষটির অবস্থান। তুষারপাত হচ্ছে সাদা তুলোর মত। কক্ষের ভিতর একপাশে ফায়ার প্লেসে আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। বাহিরের শীতলতা কক্ষে থাকা দুজন মানুষকে ছুতে পারছেনা। নিরবতা ভেঙে প্রথম জন বলে উঠল, “তাহলে তুমি ই সেই ব্যাটম্যান? তোমার কথা অনেক শুনেছি।”

ব্যাটম্যান:  আমাকে নামেই চেন সেজন্য ধন্যবাদ। তবে তোমাকে ঠিক চিনতে পারলাম না। আমি একটি চিঠি পেয়ে তোমার সাথে দেখা করতে এলাম।

প্রথম ব্যক্তি: বন্ড, জেমস বন্ড। নাম শুনেছ নিশ্চয়।

ব্যাটম্যান:  ও তুমি সেই জেমস বন্ড? ব্রিটিশ সিক্রেট এজেন্ট?

জেমস বন্ড: ঠিক শুনেছ। হ্যা, আমি সেই জন।

ব্যাটম্যান: তাহলে আমাদের দুজনের লক্ষ্য এক? আর সে কারণেই তোমাকেই পাঠানো হয়েছে?

জেমস বন্ড: তাই তো মনে হচ্ছে। আর সে কারণে আমাদের দুজনকেই মিলে প্ল্যান বানাতে হবে।

ব্যাটম্যান: হাহাহহাহা প্ল্যান? ব্যাটম্যানের কোন কিছুতে প্ল্যান করা লাগেনা। সে সব সময় প্রস্তুত।

জেমস বন্ড: তারপর আমাদের আরো কিছু পরিক্প্লনার প্রয়োজন। কাজটা অনেক জটিল। সে কারণেই দুই শক্তি এক হয়েছে।

ব্যাটম্যান: তোমার কিসের শক্তি? তোমার আছেটা কি? একটা পিস্তল? কিংবা সিক্রেট এজেন্সি থেকে কম্পিউটারে পাঠানো সহায়তা? হাসালে আমাকে। তোমাকে কেন যে এরা পাঠালো?

জেমস বন্ড: তুমি আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করছ? জানো আমাকে সারা দুনিয়ার মানুষ কতটা পচন্দ করে? এক নামেই চিনে? আর তোমার শক্তির বড়াই করছ? তুমি তো রাতের অন্ধকার ছাড়া বের হওনা। বাদুরের মত ঝুলে ঝুলে বেড়াও।

ব্যাটম্যান: ঝুলে ঝুলেই তো আমি দ্রুত পৌছে যাই সঠিক জায়গায় সঠিক সময়ে। তোমার মত নাকি? একজনকে তাড়া করে দিনের পর দিন দৌড়তেই থাকব?

জেমস বন্ড: দৌড়লেও কিন্তু আমার কাজ আমি ঠিক ই করে ফেলি। তোমার চেয়েও আমি অনেক বেশি পরিশ্রম করি। শত্রুকে দমন করতে ছুটে যাই দেশ থেকে দেশান্তরে।

ব্যাটম্যান: কিভাবে? সিক্রেট এজেন্ট হয়েও অসৎ উপায়ে পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া? হাহাহাহ। আমার আছে আধুনিক প্রযুক্তির সব অস্ত্র-সস্ত্র। শক্তিশালী একেকটা বাহন। তোমার কি আছে?

জেমস বন্ড: (একটু ভেবে নিয়ে) আমার আছে এস্টন মার্টিন!

ব্যাটম্যান: হাহাহাহাহহাহ! তুমি একটি পিস্তল আর এস্টন মার্টিন নিয়ে হিরো হতে এসেছ? আর ভুলে যেওনা তুমি এখন নিউ ইয়র্কে। এখানে তোমার এস্টন মার্টিন ও নেই যা দিয়ে তুমি তাড়া করে তোমার ওই পিস্তল দিয়ে ধ্বংস করবে পৃথিবী ধ্বংস করার ছক কেটেছে যে ডক্টর অক্টোপাস তাকে। তাকে ধংস করতে প্রয়োজন আমার মত এক শক্তির। আর তা বুঝতে পেরেই তোমাকে পাঠানো হয়েছে আমার সাহায্যের নেবার জন্য।

জেমস বন্ড: তুমি আমাকে অনেক অবহেলা করছ। শুধু শক্তিশালী অস্ত্র থাকলেই হয়না প্রয়োজন হয় অনেক ছল-চাতুরির। যার ক্ষমতা আমার রয়েছে।

ব্যাটম্যান: তোমার ছল-চাতুরি সব ওই মেয়েদের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতে পারো। টাংকিবাজি তুমি বেশ ভালোই করতে পার বলে আমি শুনেছি। ভুলে যাচ্ছ, ডক্টর অক্টোপাস একজন পুরুষ। আর তার রয়েছে অনেক শক্তি যার কাছে তোমার চল-চাতুরি আর ওই পিস্তল কোন ব্যপারই না।

এবার জেমসকে বেশ চিন্তিত মনে হলো। এই প্রথম কেউ একজন তার শক্তিকে এতটা অবহেলা করছে। তবে কী আসলেই বন্ডের শক্তি বলতে কিছুই নেই? তাকে হেরে যেতে হবে ব্যাটম্যানের শক্তির কাছে? এদিকে ব্যাটম্যান জেমসের চিন্তিত মুখ দেখে মনে মনে আনন্দে আত্মহারা। বন্ডকে সে দমাতে পেরেছে। নিজের শক্তির প্রতি আবারো তার গর্ববোধ হলো। তার শক্তিতেই সে পারবে ডক্টর অক্টোপাসকে দমন করতে।

 

এবার আপনারাই বলুন, এমন যদি হত সত্যি সত্যি কোন মুভিতে তাহলে কে হত জয়ী? কার শক্তি আসলে বেশি? আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না।

(উপরের সিনারিওটি সম্পূর্ণই কাল্পনিক)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন