ফান পোস্ট: যা কিছু অত্যাবশ্যক
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

আমাদের চলচ্চিত্র নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। তার বেশিরভাগই হয়েছে সমালোচনা। আর সমালোচনা কিন্তু ভালো কিছু পাওয়ার জন্যই করা হয়ে থাকে। যাতে করে নির্মাতারা সমালোচনাগুলো দেখে পরবর্তীতে সেসব বিষয়গুলোতে আলোকপাত করে সেই ভুলগুল্ল আর না করেন। তারপর ও সেই একী কাহিনী ঘুরে ফিরেই আসছে। তবে এর ফলে কিছু কিছু নাহ কিছু না অনেক ভালো চলচ্চিত্রও আমরা পাচ্ছি। তবে বাণিজ্যিক ছবিগুলোতে এখনও একি বিষয়গুলো চোখে পড়ে। মাঝে মাঝে মনে হয় ছবিতে এসব না থাকলেই যেন নয়। অত্যাবশ্যক এসব বিষয়গুলো ছাড়া সিনেমা সিনেমা হবেনা।

আসুন দেখে নেয়া যাক অত্যাবশ্যক এই বিষয়গুলো কেমন। প্রথমেই আসা যাক চরিত্রের নাম নির্বাচনে। নায়ক হলে নাম হতে হবে রোমান্টিক টাইপ খাঁটি বাংলা কিছু নাম। এক্ষেত্রে হৃদয় নামটাই বেশি মানানসই। আর নায়িকা হলে নায়কের নামের সাথে মিল খায় এমন নাম। কোনভাবেই নায়িকাকে অন্য কোন নামে জন্মানো যাবেই না। তাহলে কিন্তু সে সেই নায়কের জন্য জন্মাবেনা। আর ভিলেনের নাম হতেই হবে চৌধুরী সাহেব। এতে করে প্রয়োজনে তাকে চিৎকার করে ডাকার সুবিধা আছে আর তাতে একটা তেজ ভাবও নায়কের মাঝে আসে।

এবার আসা যাক পটভূমিতে। বেশিরভাগ নায়কের বাবাকে ছোটবেলাতেই মেরে ফেলতে হবে। সে অসুখেই হোক বা খুন করেই হোক। নায়কের বাবা বেঁচে থাকলে তো চলবে না।কারণ নায়ককে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তাকে সংসারের হাল ধরতে হবে আর তার বাবার মৃত্যু প্রতিশোধ নিতে হবেই। এছাড়া কাহিনী কিভাবে সম্ভব? আর নায়িকাকে হতে হবে ধনীর দুলালি। তার কিন্তু কোন বোন থাকা চলবেনা। বোন থাকলে তো তাকেও রুপসী হতে হবে।এখন একি পরিবারে দুই রুপসী দিয়ে আমরা কি করব? তবে মাঝে মাঝে মানে খুব কম ক্ষেত্রেই ভাই থাকা যাবে তবে তাকে অবশ্যই বড় হতে হবে। কারণ সে প্রয়োজনে ভিলেন বাবার উত্তরাধিকারী হবে নতুবা নায়কের গরীব বোনের ইজ্জত কেড়ে নিবে। তা যাক, তারপর নায়ক নায়িকার ধনি-গরীব নির্বিশেষে প্রেম শুরু হবে। এখন তো প্রেমে বাঁধা আসতেই হবে। তা সে যেমন করেই হোক। এই প্রেমে অবশ্যই বাধা দিবে নায়িকার ভিলেন বাবা বা গুন্ডা ভাই। তারপর ভিলেনের ভিলেনামি আর গুন্ডার গুন্ডামির শিকার হয়ে নায়কের মা ও চাইবেন ছেলের অবুঝ প্রেম যেন অকালেই মরে যায় তবু তার ছেলে বেঁচে থাক। কিন্তু মা রা ভুলে যান তাদের চেলেদের জন্যই তো ছবির মূল কাহিনী আর তারা তো সর্বশক্তিতে গুণাণ্বিত। পৃথিবীর তাবৎ শক্তি তাদের মাঝে চলে আসবে শুধুমাত্র প্রেমকে টিকিয়ে রাখতে। আর সেই সবের কাছে এক সময় নতি শিকার করে নিতে হবে ভিলেন বা গুন্ডা যে ই হোক না কেন। ব্যস কাহিনী খতম। লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য একটাই, প্রেমের জয়।

এবার আসা যাক গানের দৃশ্যগুলোতে। ছবির শুরুতেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অবশ্যই একটা পারিবারিক গান থাকতে হবে। কারণ সেই গানেই দেখাতে হবে সবাই কত সুখে আর আনন্দে রয়েছে যাতে পরবর্তীতে দুঃখ দেখে সবাই আহা উহি করে বলতে পারেন ‘আহা কী সুখেই না সবাই ছিল’। তারপর কোন কোন ছবিতে দেখা যেতে হবে হয় নায়ক একা বা নায়িকা একা নেচে নেচে ঘরে ঘরে তাদের স্বপ্নের রাজকুমার বা রাজকুমারীর বর্ননা দিচ্ছেন। এই গানটা না থাকলে আমরা বুঝবো কিভাবে যে তাদের একটা হৃদয় আছে, তাদের মাঝেও ভালবাসার আকাংখা থাকতে পারে? আর প্রেম হলে তো কথাই নেই। ছবির পটভূমি যদি হয় অজ পারাগাঁয়ে নায়ক-নায়িকা চোখের পলকেই চলে যেতে পারবে কোন মনোরম পরিবেশে। এক্ষেত্রে বান্দরবান বা কক্সবাজার অতিব প্রয়োজনীয় স্থান। আর যেকোন একটা গান কিন্তু বৃষ্টিতে ভিজে গাইতেই হবে। এছাড়া আর রোমান্টিকতা কিসে হলো? আর যেকোন একটা গানের একটা অংশে নায়ক-নায়িকার গেট আপ হতে হবে বর-বধু সাজের। এটা ছাড়া দর্শক বুঝবে কিভাবে যে নায়ক-নায়িকার এই প্রেম কোন ছেলেখেলা নয় বরং এতে নিহিত আছে তাদের অদূর পরিকল্পনা।

ও হ্যা আরেকটা ব্যপার তো বলায় হয়নি।আর সেতা হচ্ছে প্রপের ব্যবহার। ছবিগুলোতে অত্যাবশ্যক প্রপ হচ্ছে গাছ-গাছালি। কারন যে কোন প্রয়োজনে নায়িকাকে গাছে হেলান দিয়ে দাড়াতে হবে বা গাছ ধরে দুল খেয়ে খেয়ে গান গাইতে হবে। আর মিলন দৃশ্যের বেশিরভাগ নায়ক-নায়িকা গাছের নিচেই দেখা-সাক্ষাৎ করে থাকেন। তারপর থাকতে হবে বিছানা। কারণ রাতে বিছানায় শুয়ে নায়ক-নায়িকা একে অপরকে কল্পনা করতেই হবে। আর কোথাও গিয়ে কল্পনা করলে চলবে না। আর দুঃখ পেলে অবশ্যই বিছানায় আছার খেয়ে পরে কেঁদে বুক ভাসাতে হবে। এই সময় বালিশ বা বিছানার চাদর উপকারী কারণ নায়িকা সেগুলোকেই ভালভাবে দলাইমলাই করে তার দুঃখ, কষ্ট বোঝাবে। শুধু কান্নায় কী আর দুঃখ প্রকাশ পায়?

ছবির শেষ দৃশ্যে কিন্তু ভিলেন বা গুন্ডাদের অবশ্যই ভালো চরিত্রগুলোর কাছে মাফ চাইতে হবে। কারণ একমাত্র তখনি তারা তাদের সারা ছবিতে চালিয়া যাওয়া শয়তানি, গুন্ডামি আর কুটনামীর ভুল বুঝতে পারবে। আর সেই দৃশ্যে উপস্থিত থাকতে হবে কাহিনীর সব চরিত্রদের। তখনি গিয়ে শেষ হবে একটি ছবি।

অনেক কিছুই বলে ফেললাম।আর না ই বা বলি। আর যা যা বাদ পরলো তা হয়ত আপনারা সবাই জানেন। আর কারো কিছু মনে পড়লে নিচে মন্তব্যে তা বলতেও পারেন।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন