দ্যা ব্রেইভহার্ট ম্যান

ব্রেইভহার্টের সেই গর্জে ওঠা উইলিয়াম ওয়ালিস। মনে পড়ে ১৯৯৫ সালের ছবিটি? কিংবা লিথাল উইপন সিরিজের ডিটেকটিভ মার্টিন রিগস? কার কথা বলছি নিশ্চয় অনেকেই বুঝতে পারছেন আর যারা এখনো বুঝতে পারেননি তাদের জন্য বলছি এতক্ষণ বলছিলাম হলিউড অভিনেতা মেল গিবসনের কথা।

মেল গিবসন, পুরো নাম মেল কম-সিল জেরার্ড গিবসন। জন্ম হয়েছিল নিউ ইয়র্কে ১৯৫৬ সালের ৩রা জানুয়ারি। অভিনেতা হবার পাশাপাশি তার অন্য পরিচয় একজন স্ক্রীন লেখক, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে। নিউ ইয়র্কে জন্ম হলেও মাত্র ১২ বচর বয়সে গিবসনকে পরিবারের সাথে পাড়ি জমাতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানকার ইন্সটিটিউট অব ড্রামাটিক আর্ট এ অভিনয়ের ওপর পড়াশুনা করেন।

মেল গিবসনের অভিনয় দক্ষতা শুরু হয়েছিল মঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমে। ইন্সটিটিউটের ছাত্র হিসেবে তার মঞ্চের প্রথম কাজ ছিল রোমিও এন্ড জুলিয়েট নাটকে অভিনয়। ১৯৭৭ সালে গ্র‍্যাজুয়েশন শেষ করার পর পরই গিবসন ম্যাড ম্যাক্স এর চলচিত্রায়নে কাজ করেন তবে তিনি তার মঞ্চের কাজ চালিয়ে যান পাশাপাশি।

 

গিবসনের প্রথম পর্দায় আগমন ঘটে ১৯৭৭ সালে সামার সিটি নামক ছবিতে। তখন তাকে ছবিটির জন্য দেয়া হয়েছিল মাত্র ৪০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। এরপর ১৯৭৯ সালে গিবসন লিড চরিত্রে অভিনয় করেন ম্যাড ম্যাক্স ছবিতে যা থেকে তার আয় হয়েছিল ১৫ হাজার ডলার। তখনকার সময়ে মেল গিবসন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন টিভি সিরিজে গেস্ট রোলে অভিনয় করেন। ১৯৮২ সালে গিবসন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ছবি গ্যালিপোলিতে অভিনয়ের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেন।  আমেরিকায় গিবসনের প্রথম হিট ছবি ছিল ম্যাড ম্যাক্স ২। ১৯৮২ সালে গিবসন রোমান্টিক থ্রিলার দ্যা ইয়ার অব লিভিং ডেঞ্জারাসলি তে। ১৯৮৫ সালে মেল খ্যাতি অর্জন করেন লিথাল উইপনে অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে। আর তখন মেল অভিনয়ে শীর্ষে নিজের স্থান করে নেন হলিউডে। এরফলে ১৯৮৯ এ লিথাল উইপন ২ এ সমান পারদর্শিতা দেখান। ৯০ দশকের প্রথম অর্ধেক সময়ে গিবসন একে একে উপহার দেন ফরেভার ইয়াং, লিথাল উইপন ৩, মেভেরিক এবং ব্রেইভহার্ট। এরপর বাকি দশকে নিয়ে আসেন র‍্যানসম, কন্সপাইরেসি থিওরি, লিথাল উইপন ৪ এবং পে ব্যাক। ২০০০ সালে গিবসন অভিনয় করেন দ্যা প্যাট্রিয়ট, চিকেন রান এবং হোয়াট উইমেন ওয়ান্টস এ। ২০০২ সালের ছবি সাইনস এ অভিনয়ের পর গিবসন ঘোষনা দেন তিনি আর ছবিতে অভিনয় করবেন না যদিনা তার স্ক্রিপ্ট সত্যিকার অর্থে আহামরি কিছু হয়। সে সময়ের পর গিবসন আবারো পর্দায় আসেন ২০১০ সালে এজ অব ডার্কনেসে

২০১০ সালে গিবসন যখন এক ক্যারিয়ার ক্রিমিনালকে নিয়ে তৈরী এক ছবির কাজ করচিলেন তখন তাকে কঠোর এক সাজা খাটতে হয়েছে মেক্সিকোর এক কারাগারে। জানা গেছে তখন দ্যা হাঙ্গোভার ২ এ ছোট এক চরিত্রে গিবসনের অভিনয়ের কথা ছিল কিন্তু সেই অপরাধের সাথে যুক্ত থাকার ফলে তাকে সেই চরিত্র থেকে বাদ দেয়া হয়।

লিথাল ইউপন সিরিজের মাধ্যমে হলিউডে সফলতা অর্জন করার পর গিবসন ছবি প্রযোজনা ও পরিচালনায় হাত দেন। গিবসন পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ১৯৯৩ সালে। তার পরিচালিত ছবি ছিল দ্যা ম্যান উইদাউট এ্যা ফেইস। ২০০২ সালে গিবসন ঘোষনা দেন তিনি দ্যা প্যাশন নামে একটি ছবি পরিচালনা করবেন ল্যাটিন ও এ্যারামেক ভাষায় কিন্তু সেখানে কোন সাব টাইটেল ব্যবহার করবেন না। তার মতে সাব টাইটেল ছবির গল্পে ভাষাগত বাধা প্রদান করে। তবে ২০০৪ সালে গিবসন রিলিজ করেন তার বিতর্কিত ছবি দ্যা প্যাশন অব ক্রাইস্ট আর এতে সাব টাইটেলও যুক্ত করেন। ২০০৬ সালে গিবসন পরিচালনা করেন এ্যাকশন এ্যাডভেঞ্চার ছবি এ্যাপোকেলিপ্টো

গিবসন ১৯৯৫ সালে একাডেমী এ্যাওয়ার্ড জয় করেন ব্রেইভহার্টের সেরা ছবি ও সেরা পরিচালকের জন্য। এছাড়াও অসংখ্য ছোট বড় এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন তিনি।

ব্যাক্তিগত জীবনে মেল গিবসন ৬ পুত্র ও ২ কন্যার জনক।

#san_bio_bb

(Visited 61 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন