ক্ষণকালের তবু হাজারো হৃদয়ে যার স্থান

salman1

৮০ এর দশকের শেষ থেকে ৯০ এর শুরুর দিকে বাংলা ছবিতে কিছুটা খারাপ সময় যাওয়া শুরু হয়েছিল। তবে তখনও মানুষ হলবিমুখ  হননি। আবার খুব একটা ভালো ছবিও পাননি। কাহিনীগুলোও যেমন তেমন চলছিল। ছবিগুলোর অভিনেতা আর অভিনেত্রীও যে খারাপ তেমন নয়। পরিচিত অনেক মুখই তখন বড় পর্দায়। তবু যেন জমছিলনা কিছু। ঠিক তখনি ঘটল এক আজব কান্ড। ১৯৯৩ সালের ঘটনা। মানুষ হুড়মুর করে সিনেমা হলে যেতে শুরু করল। চারিদিকে শুধু একজনের গুণকীর্তন। হয়ত বা কেউ কেউ আন্দাজ করতে পারছেন আর কেউ কেউ ভাবছেন কার কথা বলছি। বলছি এমন একজনের কথা যিনি আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রে ঝড় বইয়ে দিয়েছিলেন। মানুষের হর্দয়ে নিজের স্থান করে নিয়েছিলেন। অথচ তার স্থায়ীত্বকাল ছিল স্বল্প সময়ের। তিনি আর কেউ নন আমাদের সবার পরিচিত সালমান শাহ।

 

বাংলা চলচ্চিত্রকে ভিন্ন আঙ্গীকে উপস্থাপন করেছিলেন সালমান শাহ। মানুষকে আবারো হলমুখী আর বাংলা চলচ্চিত্রকে ভালবাসতে শিখিয়েছিলেন। দেখিয়েছিলেন চলচ্চিত্রের নায়কদের কেমন ধরনের করে উপস্থাপন করতে হয় তার কৌশল। তরুণ প্রজন্মের কাছে হয়েছিলেন স্টাইল আইকন। মিডিয়া জগতে তার অবস্থান স্বল্প সময়ের হলেও তার কাজের পরিধি ছিল ব্যপক।

 

সালমান শাহ তার স্ক্রীন নাম হলেও তার আসল নাম ছিল শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। ১৯৭১ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর সিলেতের জাকিগঞ্জে সালমানের জন্ম। কামারুদ্দিন চৌধুরী ও নীলা চৌধুরীর দুই সন্তানের মধ্যে সালমান ছিলেন প্রথম সন্তান। সম্ভবত তখনকার সময়ে সালমানই একমাত্র নায়ক যিনি বিবাহিত অবস্থায় এসেও দারুন খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

salman

সালমান শাহ এর প্রথম কাজ ছিল ছোট পর্দায়। পাথর সময় নামক নাটকে তার প্রথম মিদিয়াতে আসা। তারপর তিনি নজরে পড়েন পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের। যিনি তাঁর ছবির জন্য খুঁজছিলেন এক নতুন মুখের। পরিচালক তখন অপর এক নতুন মুখ মডেল মৌসুমীর সাথে জুটিবদ্ধ করেন সালমান শাহ কে। মুক্তি পায় সালমান শাহ এর প্রথম বড় পর্দার ছবি কেয়ামত থেকে কেয়ামত। যদিও ছবিটি বলিউড ছবির রিমেক ছিল তথাপি সালমানের অভিনয় প্রতিভার কারনে ছবিটি দারুন প্রশংসা কুড়িয়ে নেয়। সেটি ছিল ১৯৯৩ সালের কথা। এরপর আর সালমানকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। হাজারো ভক্তের ভালবাসায় একে একে উপহার দিতে থাকেন সেরা থেকে সেরা ছবি। স্বল্প সময়ে সালমান শাহ মুভি প্রেমীদের উপহার দেন ২৭টি ছবি। শুধু এখানেই থেমে থাকেননি। সালমান তার ভক্তদের জন্য উপহার দিয়েছেন নাটক আর সাথে ছিল বিজ্ঞাপনচিত্র।

 

খ্যাতিমান এই নায়ক আমাদের জন্য বেশি কিছু রেখে যেতে পারেননি। আমরা তাকে অকালেই হারাতে বাধ্য হলাম। এটি আমাদের তথা বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য আসলেই দুর্ভাগ্যের কথা। ১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্তেম্বর সালমান শাহ কে তার বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। অনেক জল্পনা কল্পনা চললেও শেষ পর্যন্ত এটি আত্মহত্যা বলেই মেনে নেয়া হলো। সালমান শাহ এর মত এমন একটি প্রতিভা কেনইবা এই পথ বেছে নিলেন তা আজও সকলের কাছে রহস্যাবৃত।

 

সালমান শাহ অভিনিত ছবিগুলো হলো- কেয়ামত থেকে কেয়ামত, তুমি আমার, অন্তরে অন্তরে, সুজন সখি, বিক্ষোভ, স্নেহ, প্রেমযুদ্ধ, কন্যা দান, দেন মোহর, স্বপ্নের ঠিকানা, আঞ্জুমান, মহা মিলন, আশা ভালবাসা, বিচার হবে, এই ঘর এই সংসার, প্রিয়জন, তোমাকে চাই, স্বপ্নের পৃথিবী, সত্যের মৃতু্য নেই, জীবন সংসার, মায়ের অধিকার, চাওয়া থেকে পাওয়া, প্রেম পিয়াসী, স্বপ্নের নায়ক, শুধু তুমি, আনন্দ অশ্রু, বুকের ভিতর আগুন। মুক্তিপ্রাপ্ত এসব ছবি ছাড়াও সালমানের আরো অনেক অসমাপ্ত কাজ রয়ে গিয়েছিল।

 

সালমান শাহ অভিনিত টিভি নাটকগুলো হলো- পাথর সোয়, আকাশ ছোয়া, দোয়েল, সব পাখি ঘরে ফেরে, সৈকতে সারস, নয়ন।

 

তার কাজ করা বিজ্ঞাপনগুলো- মিল্ক ভিটা, জাগুয়ার, গোল্ড স্টার টি, কোকা-কোলা এবং ফানটা।

 

সালমান শাহ ক্ষণস্থায়ী ছিলেন বটে তবে তাকে আর তার কাজ আজও সকলের কাক্চে সমান সমাদৃত। আমরা হয়ত কেউই এই প্রতিভাকে ভুলতে পারবনা। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। সালমানের চির পরিচিত গানটি শুনে নিন নিচের লিঙ্ক থেকে।-

watch?v=zp-Lf_vdkeY

#san_bio_bb

(Visited 52 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন