শুক্রবারের পূর্নদৈর্ঘ্য ছায়াছবি

অপেক্ষা চলতেই থাকে কবে আসবে নতুন কোন মুভি। নতুন আসার সাথে সাথে ইন্টারনেটে চলে ছবিটির ট্রেইলার দেখা। তারপর আবারো অপেক্ষা, কখন পাওয়া যাবে ডাউনলোডের ভালো কপি। আর সিনেমা হলে মুক্তি পেলে তো কথাই নেই। দল বেঁধে সিনেমা হলে গমন। কতই না সুবিধা আজকাল। আর নানা রকম মুভি চ্যানেল তো রয়েছেই।

অথচ আগের কথা চিন্তা করে দেখলে অবাক লাগে। এমন সব দিনের কথা যখন ইন্টারনেট ছিলনা। কিংবা সব সময় মুভির ক্যাসেট ভাড়া করে আনা সম্ভব ছিলনা সবার পক্ষে। আর শুধু ইন্তারনেট কেন? তখন ছিলনা এখনকার মত এত এত ধরনের মুভি চ্যানেলও। তখন কিভাবে হত মুভি দেখা? হ্যা, ব্যবস্থা একটা তো ছিল অবশ্যই। আর তা কিভাবে?

অনেকের ই হয়তো মনে পড়বে তখন একমাত্র মাধ্যম ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন। বিটিভি মানেই শুক্রবার। আর শুক্রবার মানেই দুপুর ৩টায় প্রকারিত হওয়া পূর্নদৈর্ঘ্য ছায়াছবি। সবাই মুখিয়ে থাকত এই সময়টির জন্য। শুক্রবারে ঘুম থেকে ওঠেই সবার মাঝে তোরজোর দেখা যেত। ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের পড়াশুনা গুছিয়ে নিত সময় থাকতেই, গৃহিনীরা হাতের কাজ সমাপ্ত করে প্রস্তুত হতেন এই সময়ের জন্য। সময় হলেই ঘরে ঘরে শুরু হত ছবি দেখা। রাস্তা-ঘাঠ হয়ে পড়ত ফাঁকা। সব বাড়ি থেকেই শোনা যেত টিভির আওয়াজ। কখনও শোনা যেত ইয়া ঢিশুম-ঢিশুম শব্দ, কখনও বজ্রপাতের শব্দ, কখনও সুখকর গানের সুর আবার কখনও দুঃখের করুণ সুর। মাঝে মাঝে আবার হুঙ্কার আর গর্জনও ভেসে আসত।

এরপর বিরক্তিকর মূহুর্ত! ছবির এমন এক পর্যায়ে, যখন সবাই হয়ত কাহিনীর গভীরে ডুবে গেছেন, কি হবে কি হবে ভাব্ছেন ঠিক তখনি বিজ্ঞাপন বিরতি। বিরক্তিভাব এলেও কিছুটা স্বস্তি, কারণ? প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার অফুরন্ত সুযোগ। কিন্তু সেই বিরতি মাজ্ঝে মাজ্ঝে চড়ম বিরক্তির কারণ হত। কাহিনীতে কি হতে পারে সেই অপেক্ষায় বিজ্ঞাপন্দাতাদের গুষ্টি উদ্ধার হত।

অনেক টুইস্ট এর পর যখন আসল ভিলেইনের চাল ফাঁস হত আর প্রধান নায়ক বা নায়িকা যখন অমরণশীল হয়ে ভিলেইনের বারোটা বাজাত তখন যেন মনে হত আমাদেরই জয়। মার, শালাকে মার অথবা দে ভালো করে, এখন মজা বুঝ টাইপ কথায় ভরে উঠত টিভি রুম। আর সুখের কান্নাতে আমরাও কেঁদে বুক ভাসাতাম।

সেইসব দিন এখন আর নেই। কত সহজেই এখন মুভি দেখা যায় অথচ সেই অপেক্ষা আর অপেক্ষার মজা আজ সম্পূর্ণই অন্যরকম। কারো কী মনে পড়ে এমন সব দিনের কথা? অথবা এমন কোন স্মৃতি? শেয়ার করতে পারেন আমাদের সবার সাথে। কিছুটা হলেও অতীতে ফিরে যাওয়া যাবে। নাহয় তা রঙীন, হোক না তা সেই সাদাকালোর যুগে।            

(Visited 26 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন