হারিয়ে যাওয়া জহির রায়হান

zahir

১৯৩৫  সালের  ১৯শে  আগস্ট  পৃথিবীতে  জন্ম  হয়েছিল  বাংলাদেশের  প্রখ্যা ত  লেখক, ঔপন্যা সিক, চলচ্চিত্র নিমর্াতা  জহির  রায়হানের। তার মাধ্যমে  আমরা  পেয়েছি  স্টপ  জেনোসাইডের মত  ডকুমেন্টারি  আর  জীবন থেকে  নেয়ার  মত  চলচ্চিত্র।  কিন্তু  এই  সুপুরুষ  আমাদের  জন্য  তার আরো  মহান  সৃষ্টি  রেখে  যাওয়ার  সুযোগ  পাননি।  তার আগেই  হারিয়ে  গেছেন  অজানা  কোন  এক  জায়গায়  যার সন্ধান  জানা  যায়নি আজও ।

জহির  রায়হানের  পুরো  নাম মোহাম্মদ  জহিরুল্লাহ। তাঁর  জন্ম  হয়েছিল  ফেনী  জেলার  মজুপুর গ্রামে। ১৯৫৮  সালে  তিনি  ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়  হতে  বাংলায়  স্নাতক  ডিগ্রি  লাভ  করেন।  সাহিত্য  চর্চার  পাশাপাশি  তিনি  সাংবাদিকতা  শুরু  করেন।

১৯৫০  সালে  যু গের আলো তে সাংবাদিক  হিসেবে  তার  সাংবাদিক  জীবনের সূচনা  হয়।  এরপর তিনি  খাপছাড়া,  যান্ত্রিক  এবং  সিনেমা  নামক  পত্রিকায়  কাজ  করেন। ১৯৫৬  সালে জহির  রায়হান  প্রবাহ  নামক  পত্রিকার  সম্পাদক  হিসেবে  দায়িত্ব  পালন  করেন।  তাঁর  প্রথম  ছোট  গল্প  সংগ্রহ ছিল  সূযর্গ্রহণ যা প্রকাশিত  হয়  ১৯৫৫  সালে।

১৯৫৭  সালে  জহির  রায়হান  জাগো  হুয়া  সাবেরাতে  সহকারী  হিসেবে  কাজের মাধ্যমে  চলচ্চিত্রে  পদার্পন  করেন।  চলচ্চিত্র  নির্মাতা  এহতেশামের  আমন্ত্রণে  তিনি  কাজ  করেন এ  দেশ  তোমার  আমার  নামক  ছবিতে।  ছবিটির  সূচনা  সংগীতও  জহির  রায়হানের  লেখা ছিল।

এরপর  ১৯৬০  সালে  তিনি  পরিচালক  হিসেবে  আত্মপ্রকাশ  করেন  কখনও  আসেনি  নামক  চলচ্চিত্রের  মাধ্যমে।  ১৯৬৪  সালে  জহির  রায়হান  তৎকালীন  পাকিস্তানের  প্রথম  রঙীন  চলচ্চিত্র  নির্মান  করেন  যার  নাম  ছিল  সাঙ্গম।  এর  পরের  বছর  তিনি  সম্পন্ন  করেন  তাঁর  প্রথম  সিনেমাস্কোপ  ছবি  বাহানা

জহির  রায়হান  ১৯৫২  সালের  ভাষা  আন্দোলনের  একজন  সক্রিয়  কর্মকর্তা  ছিলেন।  ভাষা  আন্দোলনের প্রভাব তাঁর ওপর  এতটাই  পড়েছিল  যে  তিনি  তা  নিয়ে  একটি  ছবি  নির্মান  করেন  আর তা ই  ছিল  জীবন  থেকে  নেয়া  নামক  ছবিটি।  ১৯৬৯  এর গণঅ ভু্যথ্যা নে ও  তিনি সক্রিয়  ভূমিকা  পালন  করেন। এরপর  ১৯৭১  সালের  মুক্তিযুদ্ধে  জহির  রায়হান  অংশগ্রহণ  করেন।

Zohir_Raihan02

মুক্তিযুদ্ধ  চলাকালীন  সময়  রায়হান  কলকাতায়  গমন  করেন  সেখানে  তাঁর  জীবন  থেকে  নেয়া  প্রদর্শিত  হয়  যা  অত্যান্ত  প্রসংশিত  হয়  সত্যজিত  রায়,  তপন  সিহ্না  ও ঋত্যিক  ঘটকের  মত  পরিচালকদের  দ্বারা।  সেখান  থেকে  অর্জিত  সমস্ত অর্থ  জহির  রায়হান  মুক্তিযোদ্ধা  ট্রাস্টে  দান  করে দেন।

ব্যাক্তিগত  জীবনে  জহির  রায়হান  দুবার  বিবাহ  বন্ধনে  আবদ্ধ  হন।  ১৯৬১  সালে  তিনি  বিয়ে  করেন  চলচ্চিত্রাভিনেত্রী  সুমিতা  দেবীকে।  এরপর  ১৯৬৮  সালে  তিনি  বিয়ে  করেন  অপর  চলচ্চিত্রাভিনেত্রী  সুচন্দাকে।

দেশ  স্বাধীন  হবার  পর  ১৯৭২  সালের  ৩০শে  জানুয়ারি  জহির  রায়হান  তাঁর  ভাই  শহিদুল্লাহ  কায়সারকে  খুঁজতে  গিয়ে  আর কখনও  ফেরে  আসেননি।  শহিদুল্লাহ  কায়সার  পাকিস্তানি  সেনাদের  হাতে বন্দী ও  নিহত  হন।

জহির  রায়হানের  মত প্রতিভা  তাঁর  কাজের মাধ্যমে  আজও  সবার  মাঝে  বেঁচে  আছেন  আর থাকবেন।

জহির  রায়হানের  নির্মিত  চলচ্চিত্র ও  ডকুমেন্টারি ঃ

 

কখনও  আসেনি  (১৯৬১)

সোনার কাজল  ( ১৯৬২ যা  ছিল  কলিম শরাফীর  সাথে যৌথ  পরিচালনা)

কাঁচের  দেয়াল (১৯৬৩)

সাঙ্গম (১৯৬৪)

বাহানা (১৯৬৫)

বেহুলা (১৯৬৬)

আনোয়ারা (১৯৬৬)

দুই  ভাই (১৯৬৮)

জীবন  থেকে  নেয়া (১৯৬৯)

লেট  দেয়ার  বি  লাইট

স্টপ  জেনোসাইড , ডকুমেন্টারি ১৯৭১

এ্যা স্টেট  ইজ  বর্ন , ডকুমেন্টারি

লিবারেশন  ফাইটার

ইনোসেন্ট  মিলিয়ন্স

#san_bio_bb

(Visited 101 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন