মিয়ার বেটা খলিল

image_752_174999

“টাকা আমার চাই, নইলে জমি।” ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। এই ডায়ালগটাই তখন বেশ জনপ্রিয় ছিল কারন টিভিতে জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক শহিদুল্লাহ কায়সারের উপন্যস অবলম্বনে “সংশপ্তক” চলছিল। টান টান উত্তেজনায় একেকটা পর্ব ভরে থাকত। আর খলনায়ক চরিত্রে “মিয়ার বেটা” কে সবাই ভয় পেত। সেই কালজয়ী চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন তিনি হচ্ছেন খলিলুল্লাহ খলিল। সেই চরিত্র দিয়েই তাঁকে আমার চেনা। টিভির পর্দায় তার উপস্থিতি যখন ঘটত সেই নাটকে তখন প্রচন্ড জেদ কাজ করত যে এই লোকটার খারাপ কিছু হয়না কেন? সে কেন মানুষের সাথে এত খারাপ ব্যবহার করবে? তখন কি আর এত কিছু বুঝতাম? এখন মনে হয় সেটাই তো তার কৃতিত্ব। খারাপ চরিত্রে অভিনয় করে সেই চরিত্রকে একেবারে বাস্তবে রুপ দেয়া তো কঠিন কাজ। সেই কঠিন কাজটি করে তিনি সার্থক। আর সেই সার্থক মানুষটি আজ চলে গেলেন পরপারে। 

রেখে গেছেন পেছনে অসংখ্য ভক্ত, দীর্ঘ ৫ দশকের সাফল্যমন্ডিত পেশাজীবন আর স্মরণীয় অনেক অনেক কাজ। সোনালী আর রুপালি পর্দার শক্তিশালী এই অভিনেতার জন্ম হয়েছিল ২ ফেব্রুয়ারী ১৯৩৪ সালে সিলেট শহরের কুমারপাড়ায়। স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন সিলেটের এমসি কলেজ থেকে। ১৯৫১ সালে যোগদান করেন আনসার বাহিনীতে। 

Khalil

খলিলের অভিনয় জীবনে পদার্পন মঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমে। আর বড় পর্দায় প্রথম পা রাখেন জহির রায়হানের হাত ধরে। অভিনয় করেন জহির রায়হানের “সোনার কাজল” ছবিতে প্রধান চরিত্রে ১৯৫৮ সালে। তারপর একে একে অভিনয় করেন “প্রিত না জানে রীত”, “সাঙ্গম”, “ভাওয়াল সন্ন্যাসী”, “ক্যায়সে কাহু”, “জাঙ্লি ফুল”, “আগুন”, “পাগলা রাজা”, “মিন্টু আমার নাম”, “ওয়াদা”, “বিণি সুতার মালা”, “বউ কথা কও” এবং “কাজল”। 

নায়ক চরিত্রে অভিনয়ে সফলতা অর্জন করে তিনি চ্যালেঞ্জ নিলেন ভিলেন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। এতটা সফলতা অর্জন করে ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করাটা চাট্টিখানি কথা নয়। বেশ সাহসের সাথেই তিনি চ্যালেঞ্জ নিলেন। তবে আর ব্যর্থতা কী আসে? এমন একজন অভিনেতার শক্তি যে অনেক। ১৯৬৬ সালে প্রথম ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করলেন “বেগানা” চবিতে। পরিচালক ছিলেন এস এম পারভেজ। একে একে অভিনয় করেই গেলেন আর চলচ্চিত্র জগতে প্রায় ৮০০টি ছবিতে অভিনয় করে ফেললেন। 

বড় পর্দায় কাজ করেই তিনি থেমে থাকলেন না। তার প্রতিভা ছড়ালেন ছোট পর্দাতেও। বিভিন্ন নাটকে একের পর এক অভিনয় করে গেলেন। এরপর এক সময় চলচ্চিত্র প্রযোজনাতেও হাত রাখলেন। তাঁর প্রযোজনাতে নির্মিত হলো – “সিপাহী” আর “এই ঘর এই সংসার”। 

hqdefault

বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য খলিল ২০১২ সালে অর্জন করেন লাইফটাইম এচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড। 

দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, লিভারসহ নানারকম সমস্যায় ভুগছিলেন এই অভিনেতা। বেশ কয়েকবার মারাত্মক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছিলেন। আজ রবিবার ৭ই ডিসেম্বর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই শক্তিশালী অভিনেতা চির বিদায় নিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে। 

তারঁ আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি আর নিবেদন করছি অনেক অনেক শ্রদ্ধা।     

(Visited 94 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. মিজানুর রহমান মিজানুর রহমান says:

    অনেক অজানা তথ্য জানলাম ধন্যবাদ

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন