Wyatt Earp – জীবনের ছুটে চলা
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

wyatt-earp-gene-hackman-blu-ray-movie-titleপরিচালনা: Lawrence Kasdan

অভিনয়: Kevin Costner, Dennis Quaid, Joanna Going

মুক্তিকাল: ২৪শে জুন, ১৯৯৪

জনরা: অ্যাকশন/অ্যাডভেঞ্চার/বায়োগ্রাফি

 

বন্দুক যুদ্ধ তাকে খুব টানে। ধোঁয়া ওঠা বারুদের গন্ধ আর হাতে ধরা গান যেন এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন। এখনো তাকে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক হলে তবেই না লাইসেন্স পাবে বন্দুক হাতে নেয়ার আর যুদ্ধের ময়দানে লড়াই করার। কিন্তু তাই বলে কী স্বপ্ন দেখা বন্ধ হয়ে যাবে? মোটেই না। রাতের আঁধারে চলে তার প্রস্তুতি। সবাই ঘুমিয়ে গেলে নিজেদের Missouri এর ফার্ম হাউজে বন্দুক হাতে শুরু হয়ে যায় একাকী প্রস্তুতির খেলা। বাড়ির সেই প্রশস্ত বারান্দায় দাড়িয়ে বন্দুক তাক করে বহুদূরে গুলি ছোড়া, কখনো ওয়াগনের আড়ালে লুকিয়ে আবার কখনো ঘোড়ার আস্তাবলের আড়ালে থেকে। যেন শত্রুপক্ষ তাদের ফার্ম হাউজের দিকেই গুলি ছুড়ছে আর সে তাদের রোধ করতে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই কিশোর Wyatt Earp এর স্বপ্ন বুনে চলা। রক্তে তখন কেমন একটা উত্তেজনা। উৎসাহিত হয়েছে বড় ভাইদের দেখে যারা ইউনিয়ন আর্মির হয়ে যুদ্ধে লড়ছে। সেই দিনের অপেক্ষায় Earp এর দিন যায়। এর মধ্যে একবার পালাতে গিয়েও বাবার বাধার সামনে নতি স্বীকার করে ঘরে ফিরে আসতে হয়েছে।

3144447733_8e94e61727

যুদ্ধ শেষ হয়েছে এরও কিছুদিন পর Earp পরিবার দলবলে পশ্চিমে চলে গেল। পথিমধ্যেই Wyatt নিজের চোখে বন্দুক যুদ্ধের ভয়াবহতা অবলোকন করলো আর চোখের সামনে কোন জ্বলজ্যান্ত মানুষকে ধুলোয় লুটিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে যেতে দেখলো। বাস্তবতা মেনে নিতে কিশোর Wyatt এর কষ্ট হল কিন্তু পশ্চিমে এই তো জীবন।

 

এক সময় Wyatt যুবকে পরিণত হলো, জীবনকে আরো জানতে বুঝতে পারলো। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে তাকে আর তাই জীবন গুছাতে আবারো Missouri তে প্রত্যাবর্তন। সেই ছোটবেলার ভালবাসা Urilla কে বিয়ে করে পুলিশে চাকরি নিয়ে সেখানেই নিজের বসতি গড়ে তুলল। কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল অন্যদিকে। স্ত্রী Urilla টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে পরপারে চলে গেলে। জীবনের এই চরম দুঃসময় মেনে নিতে কষ্ট হলো Wyatt এর জন্য। স্ত্রীর সব স্মৃতি আগুনে পুড়িয়ে অজানার উদ্দ্যেশে পাড়ি জমালো Wyatt, সঙ্গী হলো মদের বোতল। তার একমাত্র কাজ ছিল মদের বোতলে ডুবে থেকে এক শহর থেকে আরেক শহরে যাযাবরের মত ঘুরে বেড়ানো। জীবন যেন সেখানেই থেমে গেল Wyatt এর। চুরির অপরধে যখন Arkansas এর এক জেলে তখনি বাবার দেখা পেল সে। তাকে বেল করিয়ে Arkansas ছেড়ে বহুদূরে চলে যাবার পরামর্শ দিলেন তিনি।

 

শুরু হলো Wyatt Earp এর নতুন জীবন। এক শহর থেকে আরেক শহর, এক পেশা থেকে আরেক পেশা। তার শেষ হলো Arizona এর Tombstone এ এসে। পরিবার আর ভাইদের সাথে বসবাস আর তাদের সাথেই পুলিশের চাকরি। সেখানেই হয়ত হতে পারতো জীবনের সবচেয়ে ভালো সময় আবার হতে পারতো করুণ পরিণতি। কিন্তু কে জানে কি আছে Wyatt Earp এর জীবনে?

WyattEarpFamily

বলছিলাম Lawrence Kasdan এর পরিচালনায় ওয়াস্টার্ন বায়োগ্রাফিক্যাল মুভি Wyatt Earp এর কাহিনী। সব সময় মুভি রিভিউ লিখতে বসলে কাহিনীর বেশ খানিকটাই বলে ফেলি। আজ চেষ্টা করেছি না বলার তবু প্রথম দিক না বলেই পারলাম না একেবারেই। তবে চমক রয়ে গেছে সবটাই। এ তো সবে শুরু। ওয়েস্টার্ন মুভি ভালো লাগে সব সময়। এক সময় প্রচুর বই পড়তাম এখন আর সময় করে উঠতে পারিনা তাই পড়া হয়না তবে মুভি দেখতে তো সমস্যা নেই। যারা ওয়েস্টার্ন পছন্দ করেন তাদের কাছে ভালো লাগবে। আর কাহিনী গড়ে উঠেছে সত্য ঘটনা অবলম্বনে তাই ভালো লাগা আরো বেড়ে যাবে।

 

বললাম তো কেবল কাহিনীর শুরুটা বাকি রয়ে গেছে দেখা পুরোটাই। অভিনয় কে করেছেন? তা বললে তো দেখার ইচ্ছে আরো বেড়ে যাবে। Wyatt Earp চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিখ্যাত অভিনেতা Kevin Costner। তার অভিনয় আমার খুব প্রিয় তবে এই মুভিতে তাকে আর তার অভিনয় দেখে আমি আবারো তার প্রেমে পড়ে গেলাম। হায়! কী তার দাম্ভিকতা, কী তার অভিনয়, কী সুঠামদেহী! :p যাইহোক, আমার মতে ওয়েস্টার্ন মুভির নায়কদের বেশি ভালো লাগে তাদের আউটফিটের কারনে, তাদের চাল-চলনের কারনে। এছাড়া রয়েছে সিনেমাটোগ্রাফি, ওয়েস্টার্ন ভাবের যে মুভি সেট তা দারুন লাগে। ফার্ম হাউজ, ছোট ছোট টাউন, পানশালা, পোশাক-আশাক আর মিউজিক তো দারুন। প্রধান চরিত্র ছাড়াও বাকি যারা অভিনয় করেছেন তাদের সকলের অভিনয় তুলনাহীন।

wyatt-earp-7

সব দিক ভালো হলেও একটা দিক কিছুটা খারাপ লেগেছে সেটা হলো কাহিনীর স্কিপিং। Dodge City থেকে চাকরী হারিয়ে Wyatt যখন Texas এ আসে তখন সেখান থেকে আবারো ফিরে যায় Dodge City তে সেখানকার মার্শালের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে। এই জায়গাটা কেমন যেন তাড়াহুড়ো করে দেখানো হয়েছে। আবার যখন Wyatt তার পরিবারের সাথে Tombstone এ মিলিত হয় সেটাও কেমন যেন তাড়াহুড়ো করে দেখানো হয়েছে। এত বছর পর তাদের সাথে কিভাবেই বা তার দেখা হলো আর কেমন করেই বা তারা পুলিশে চাকরি নিল পরিস্কার বুঝতে পারিনি। তার বাবা তার জীবনে একটা বড় স্থানে রয়েছেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাবার পরিণতি কি তাও বোঝানো হয়নি। হতে পারে কাহিনীর মধ্যেই কোনভাবে বোঝানো হয়েছে যা আমার চোখ এড়িয়ে গেছে বা কাহিনী সংক্ষেপ করতে এ ব্যপারগুলো এড়ানো হয়েছে।

 

এ ব্যপারগুলো বাদ দিলে আমি বলবো আমার দেখা আরেকটি ভালো ওয়েস্টার্ন মুভি এটি। ইতিহাসের এমন এক মানুষকে জানতে দেখে নিতে পারেন মুভি Wyatt Earp।

Wyatt Earp 1848-1929

Wyatt Earp 1848-1929


এই পোস্টটিতে ৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ওয়েস্টার্ন মুভি আমারও অনেক ভাল্লাগে 😀 ম্যালাদিন পর আপনার লেখা পড়লাম।

  2. শাতিল আফিন্দি says:

    আপনি তো দেখি কাজী মায়মুর হোসেনের ভাত মেরে দিবেন!

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন