The Book Thief

title

রচনা: Markus Zusak

পরিচালনা: Michael Petroni

অভিনয়: Geofrey Rush, Emily Watson, Sophie Nelisse

জেনর: Drama/War

মুক্তিকাল: ২৭শে নভেম্বর, ২০১৩

 

তুষারশুভ্র জার্মানির কোন এক শহর। তুষারের শুভ্রতা ভেদ করে ছুটে চলেছে কয়লার ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রেন। একেকটি বগিতে বিধ্বস্ত আর চিন্তিত অবস্থায় বসে আছেন একেকজন। কারো সাথে কারো কথা নেই। দেখে মনে হচ্ছে সবাই ভাগ্যের তাড়নায় ছুটে চলেছেন অনিশ্চয়তার দিকে। দৃষ্টি আটকে গেল তিনজন মানুষের ওপর। এক মা তার ছোট ছেলেকে কোলে আকড়ে ধরে বসে আছেন আর তার পাশেই তার ১১/১২ বছর বয়সের একটি মেয়ে। মেয়েটি ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে দেখল, নিথর দেহ আর নাক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। ছোট্ট প্রাণটি কখন নিথর হয়েছে কে জানে। মেয়েটি মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে কাতরে উঠল।

family

ঘটনাটি ১৯৩৯ সালের একটা সময়। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দানা বেঁধে উঠছে কেবল। ট্রেনের সেই মেয়েটির নাম লিজেল। মা তার নিজের বিপদে সন্তানদের নিরাপদ রাখতেই অন্য আরেক পরিবারে দত্তক নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে ছেলের মৃত্যু হওয়াতে শুধুমাত্র মেয়ে লিজেলকেই দত্তক পাঠাতে বাধ্য হন। সেভাবেই দত্তক পরিবারে লিজেলের আগমন। নতুন পরিবেশে বেশ নির্লিপ্তভাবেই প্রবেশ করল। আর প্রথম দিনেই বুঝে গেল দত্তক মায়ের চেয়ে দত্তক বাবা খুব আপন করে নিবেন নিমিষেই। আর মা, তিনি তো বদরাগী মহিলা একজন।

Film_Review_The_Book_Thief-0dc27

শুরু হলো লিজেলের নতুন জীবন। মা-বাবা তো পেল। সাথে লিজেল পেল প্রতিবেশী বন্ধু রুডিকে। লিজেলের সর্বক্ষণের সঙী রুডি। বেশ ভালভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল লিজেলের নতুন নতুন শেখার মধ্য দিয়ে যতদিন পর্যন্ত না বাড়িতে নতুন আরেকজনের আগমন হচ্ছিল। ধীরে ধীরে লিজেল জানতে পারল সেই মানুষটি সম্পর্কে আর আরো অনেক কিছুই।

MCDBOTH FE003

এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিল অসাধারণ এক মুভি The Book Theif এর কাহিনী। মুভিটি নির্মান করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান লেখক Markus Zusak এর উপন্যাস The Book Thief অবলম্বনে। ১৯৩৯ সাল থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময় আর তার পরবর্তী সময়ে আবর্তিত হয়েছে মুভির কাহিনী। দারুন করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এক কন্যার সাথে তার দত্তক পরিবারের বন্ধন আর নানা ঘটনার বেড়াজালকে। দেখানো হয়েছে লিজেল নামের মেয়েটির জীবনের চাকা ঘুরে যাবার কাহিনী, সম্পূর্ণ এক অপরিচিত পরিবারে কিভাবে আষ্ঠেপৃষ্ঠে বেধে যেতে পারে তার নমুনা। এছাড়াও তখনকার পরিস্থিতিতে নাৎসী বাহিনীর কাছে ইহুদীদের জীবন বিপন্ন ছিল মারাত্মকভাবে, সে অবস্থায় এক জার্মান পরিবার কিভাবে এক ইহুদীর পাশে দাড়ায় তার নমুনাও এখানে দেখানো হয়েছে চমৎকারভাবে। অপর দিকে সমবয়সী দুই কিশোর-কিশোরীর কিশোর বয়সের একে অপরের প্রতি মনের টান ছিল মুভির আরেকটি আকর্ষন। আরো ভালো লেগেছে লিজেলের শেখার প্রতি অদম্য আগ্রহ।

book-thief-movie-trailer

কাহিনী ছাড়াও লিজেল চরিত্রে Sophie এর অভিনয়ের তুলনা চলেনা। সাথে রয়েছে রুডি চরিত্রে  Nicor এর অভিনয়। আর Jeofrey Rush এর কথা তো নতুন করে বলার কিছু নেই। তার অভিনয়ে আমি মুগ্ধ The Best Offer দেখে। এখানেও তার ব্যতিক্রম ছিলনা। সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।

অনেক ভাল লাগার মধ্যে আরেকটা ভিন্ন রকম ভালা লাগা ছিল লিজেলের পড়তে সেখার ধরনটা। বাবার কথা মত নিজেদের বাড়ির সেলারে তার নিজস্ব ওয়ার্ড ব্যাংক ছিল একটা বড় সেখার মাধ্যম। যখনি লিজেল নতুন কোন শব্দ শিখেছে তখনি তা ওয়ার্ড ব্যাংকে ডিকশনারির মত করে সাজিয়ে নিয়েছে। যদিও স্কুলে পড়ানোর অভিজ্ঞতার সুবাদে পদ্ধতিটা জানা কিন্তু ভাল লেগেছে মুভিতে এমন একটা দিক দেখে।

Film Review The Book Thief

ভাল লেগেছে মুভির কনসেপ্ট, সিনামোটোগ্রাফি আর দৃশ্যায়ন। আমার ভাল লাগাটা চেয়েছি সবার সাথে শেয়ার করতে। তাই পড়ে ভাল লাগলে আর মুভিটি এখনও দেখে না থাকলে দেরি না করে দেখে ফেলুন।

 

(Visited 244 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১৬ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী says:

    ভাল লাগছে মুভির কনসেপ্টটা।
    লেখাটাও ভাল লাগছে।

  2. শাতিল আফিন্দি says:

    নাম শুনে প্রথমে কেন জানি খুব একটা উৎসাহী হইনি, কিন্তু পড়ার পর তো সাথে সাথেই লিস্টে অ্যাড করলাম। দেখতে হবে!

    • পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

      নাম শুনেও আগ্রহ হয়নি? :-/ যাই হোক, আমার লেখা পড়ে যে দেখার ইচ্ছে হয়েছে সেজন্য আমি খুশি। তাড়াতাড়ি দেখে জানাবেন কেমন লাগল।

  3. Simile says:

    এত মুভি রিলিজ পাচ্ছে অথচ দেখার সময় ই নাই!! এই মুভি টা নামানো হয়নি কেন জানি খুব একটা আগ্রহ পাইনি!! রিভিউ পড়ে এখন খুব দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে!!! 😀

    • পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

      আরে, আগ্রহী করে তুলে এমন একটা মুভি দেখা থেকে যাতে বঞ্চিত না হও সেজন্যই তো আমার পোস্ট 🙂

  4. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    দেখবো দেখবো করে মুভিটা দেখা হচ্ছে না। লেখা পড়ে এখুনি দেখতে ইচ্ছা করছে। বরাবরের মতই সুন্দর করে লিখেছেন। মুভিটা সম্ভবত এবারের অস্কারে মিউজিক বিভাগে সেরা কোন একটাতে নমিনেশন পাইছিল। 

    • পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

      তাড়াতাড়ি দেখে ফেল। মিউজিক বিভাগে কেন নমিনেশন পেয়েছে? আর কিছুর জন্য পেলনা? 

  5. ডানা মণি ডানা মণি says:

    নামটা দেখে মনে করছি অন্যরকম কিন্তু আপনার রিভিউ পড়তে এসে দেখি আরেকরকম। 

    দেখার লিস্টে যোগ করলাম।

  6. প্রথম প্যারার এটুকুই মুভিটা দেখবার ব্যাপারে আগ্রহী করবার যথেষ্ট কারণ । মুভির শুরুটাও ত এটাই, স্বাভাবিকভাবেই এ আগ্রহ চলে আসে শুরুতেই । কিন্তু তার ধারাবাহিকতায় বাস্তবিক তেমন কিছুই মুভিটা তুলে আনতে বা দেখাতে পেরেছে বলে মনে হয়নি । এ দিক থেকে এটাকে ব্যর্থ বলতেই হচ্ছে । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে এত এত মুভি হয়েছে যে নতুন আঙ্গিকে কোনোকিছু দেখানোটাই কষ্টকর ব্যাপার, তবু দায়িত্ব যখন নিয়েছিল মুভিটা সেহেতু একটা কিন্তু থেকেই যায় । এই কিন্তুর কোন সুরাহা মুভিতে নেই । 

     

    তেমন আহামরি কিছু মনে হয়নি । আমাকে আকৃষ্ট করবার মতনও কিছু পাইনি । থিমেটিক্যালি যেসব দেখাতে চেয়েছে, অর্থাৎ যুদ্ধ, যুদ্ধের ভয়াবহতা, শিশুমনে তার প্রভাব, শিশু দৃষ্টি সাপেক্ষে এ যুদ্ধ কোনোকিছুই আমাকে টানেনি । বরং পিচ্চি দুইজনের বন্ধুত্ব, চুরি করে বই পড়া, গল্প শোনানো এগুলো ভালো লেগেছে, দেখবার মতন শুধু এগুলোই মনে হয়েছে । সংক্ষেপে, খাপছাড়া কিছু দৃশ্য দিয়ে আকর্ষিত করবার ব্যর্থ চেষ্টার নাম দ্য বুক থিফ । 

    • পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

      aমার কাছে অবশ্য এখানে যুদ্ধ প্রধান তেমন মনে হয়নি। একটা মেয়ের পড়তে শেখার পর বই চুরি করে পড়ার যে অদম্য আগ্রহ আর বন্ধুত্বের যে সুন্দর দিক সেটাকেই প্রধান মনে হয়েছে। আর সে কারনেই আমার কাছে মুভিটি ভাল লেগেছে।   

    • এভাবে বললে ত একেবারেই অন্তঃসার শূন্য হয়ে যাবে মুভিটা । বই চুরি করে পড়া নিয়ে কোনো ধারাবাহিকতাই কিন্তু পরে দেখানো হয় না কিংবা বন্ধুত্বের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হিসেবেও শেষ পর্যন্ত কিছু দেখানো হয় না । যুদ্ধের পটভূমি এবং শিশু দৃষ্টিতে যুদ্ধের স্বরূপই মুখ্য এখানে, সেরকমই দেখানো হয়েছে বা দেখানোর চষ্টা করেছে আরকি । 

  7. আমার কাছে ভালো লেগেছে মুভিটা, তবে যুদ্ধের মুভি হিসেবে যদি দেখি তবে খুব উঁচুমানের কিছু নয়। তবে ড্রামা হিসেবে চিন্তা করলে ভালো লাগার যথেষ্ট কারণ আছে মুভিতে। আর রিভিউ এর কথা বলতে গেলে বিশ্লেষণধর্মী লেখাটি বেশ ভালো লাগলো। পরবর্তী লেখার প্রত্যাশায় থাকলাম।

  8. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    মুভিটি তো যুদ্ধের মুভি নয়। যদিও ওরা এটাকে ওয়ার মুভি বলেছে। যুদ্ধের সময়টাকে শুধু ব্যবহার করা হয়েছে বলেই আমার মনে হয়েছে। লেখা ভাল লাগার জন্য ধন্যবাদ। 

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন