The Pianist – জীবনযুদ্ধে এক বাদক

El-Pianista

পরিচালনা: Roman Polanski

অভিনয়: Adrien Brody, Emilia Fox

মুক্তিকাল: 28th March 2003 (USA)

জেনর: biography/drama/history

আইএমবিডি রেটিং: ৮.৫

026967_80204

১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বরের কোন একটা সময়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন্দানা বেঁধে উঠছে। পোল্যান্ডের ওয়ারসো শহরে তখন বাস করতেন এক পিয়ানো বাদক। পিয়ানো তার কাছে এক সুখ, এক টান। পিয়ানোতে হাতের ছোঁয়ায় সুর তুলে তিনি হারিয়ে যেতেন কোন এক অজানা জগতে। কাজ করতেন একটি রেস্টুরেন্টে। তাঁর সুরের মূর্ছনায় রেস্টুরেন্টের শ্রোতাদের মন মাতিয়ে রাখতেন। এই পিয়ানো বাদকের নাম ছিল Władysław Szpilman (Adrien Brody), ইহুদী আর থাকতেন তার পুরো পরিবার নিয়ে যে পরিবারে ছিলেন Szpilman এর মা-বাবা, দুই বোন আর এক ভাই। একদিন Szpilman একটি রেডিওতে পিয়ানো বাজাচ্ছিলেন আর তখনি বোমা বিস্ফোরন হলো প্রচন্ড শব্দে। চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো, একে একে আরো কটি বোমা বিস্ফোরন। জানা গেল এসব হচ্ছে নাৎসী বাহিনীর আক্রমন। Szpilman তার পরিবারের সাথে সেই সময়ের কথা ভেবে যখন বাড়ি ছেড়ে যাবার কথা ভাবছিলেন তখনি রেডিওতে শুনতে পেলেন ইংল্যান্ড আর ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষনা দিয়েছে। পরিবারে তখন আনন্দের বন্যা। তারা ভাবলেন আর যাই হোক তাদেরকে নিজেদের বাড়ই ছাড়া হতে হবেনা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। জার্মানি খুব সহজেই পোল্যান্ডকে পরাস্থ করে দেশটিতে ঢুকে পড়ে।

nazi

পোলিশ ইহুদীদের ওপর শুরু হয় অত্যাচার। নাৎসী বাহিনীর কু নজরে পড়ে ইহুদীরা, তাদেরকে বঞ্চিত হতে হয় সব রকমের সুযোদ সুবিধা থেকে, লাঞ্চিত হতে হয় পথে ঘাটে। বিনা কারণে প্রাণ হারাতে হয় পোলিশ ইহুদীদের। তারপর একটা সময় আসে ১৯৪০ সালের নভেম্বর, যখন পুরো দেশের সকল ইহুদীদের দেশতির একটি স্থানে একত্রে রাখা হয়। দেশের অন্য সব এলাকায় তাদ্র চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, তৈরী করা হয় একটি উঁচু প্রাচীর। Szpilman তার পরিবারের সাথে এমন একটি স্থানে আশ্রয়পায় যেখান থেকে তারা বের হয়ে অন্য কোথাও যেতে পারেনা। তাদেরকে পড়তে হয় অর্থকষ্টে। কোন রকমে তাদের দিন চলে যাচ্ছিল। Szpilman তখনও সেই একি রেস্টুরেন্টে পিয়ানো বাদকের কাজ করে উপার্জন করে যাচ্ছিলেন। এভাবে ২টি বছর অতিবাহিত হলো। আবারো শুরু হলো অশান্তি, সকল ইহুদীদের সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করা হলো একটি ক্যাম্পে। তাদেরকে যখন সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল তখন চারিদিকে শুরু হয় দৌড়োদৌড়ি, কে কার আগে যাবে, কে নাৎসীদের হাত থেকে রেহাই পাবে এ নিয়ে ধাক্কাধাক্কি। এই পর্যায়েও অনেককেই প্রাণ হারাতে হয়েছে। এমন অবস্থায় Szpilman প্রাণে বেঁচে যান গেটো পুলিশে থাকা এক বন্ধুর সহায়তায়।

adrien-brody-the-pianist-23

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন Szpilman এর শুরু হয় জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই। নানা সময়ে নানা স্থানে তাকে ঘুরে বেড়াতে হয়। অর্ধাহারে অনাহারে তাকে কাটাতে হয় দিনের পর দিন। কিভাবে এই পিয়ানো বাদক নাৎসীদের চোখে ফাঁকি দিয়ে ঘুরে বেড়াবেন নিজের দেশে? তার প্রিয় যে কাজ পিয়ানো বাজানো, সেই কাজ কী ছাড়তে পারবেন? কি হবে এই বাদকের জীবনের পরিণতি? জানতে হলে দেখে ফেলুন অস্কার বিজয়ী এই ছবি The Pianist

ফ্রেঞ্চ পরিচালক Roman Polanski এর এই চলচ্চিত্র মূলত একটি অটোবায়োগ্রাফিক্যাল বই The Pianist থেকে নির্মান করা হয়েছে। এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার Szpilman নামক এক পিয়ানো বাদকের জীবন কাহিনী বলা হয়েছে। পরিচালক Polanski এর সাথে ছবিটির গভীর এক সম্পর্ক রয়েছে। পরিচালক যখন ছোট ছিলেন তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার মা মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি পালিয়ে চলে আসেন আর আশ্রয় নেন পোলিশ এক কৃষকের গোলাঘরে। সেখানেই তিনি থাকেন যতদিন পর্যন্ত না যুদ্ধ শেষ হয়। তার বাবা মরতে মরতে বেঁচে আসেন। আশ্চর্যের বিষয় Polanski তার বাবার সাথে আবারো মিলিত হন যুদ্ধ শেষ হবার পরে।

smuggle

ছবিটিতে পরিচালক যেভাবে সেট নির্মান করেছেন এতে সম্পূর্ণভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালকে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি চরিত্রের পোশাক-আশাক, তাদের চালচলন, অভিনয় দারুন ছিল। নাৎসী বাহিনীর অমানবিক পৈশাচার অত্যান্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একেকটি অত্যাচারের দৃশ্য দেখে আমার ক্ষণে ক্ষণেই মনে হচ্ছিল এমন করেও মানুষ মানুষকে হত্যা করতে পারে? নাৎসী বাহিনীদের প্রতি প্রচন্দ ঘৃনা আর রাগ লাগছিল। আর এখানেই পরিচালকের কৃতিত্ব। তিনি তার ছবির মাধ্যমে দর্শকদের মনে এমন এক অন্নুভূতি সৃষ্তি করতে পেরেছেন বলে।

প্রতিটি চরিত্রের অভিনয় ছিল সাবলিল। সুন্দরভাবে সকলেই নিজেদের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে প্রধান চরিত্রে Adrien Brody প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যে তা ছিল সত্যি প্রশংসার দাবিদার।

destroy

The Pianist অভাবনীয় সমালোচনামূলক প্রশংসা অর্জন করে নিয়েছে। আর ছিনিয়ে নিয়েছে বেশ কিছু পুরস্কার। ২০০২ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে অর্জন করেছে পুরস্কার। ৭৫তম একাডেমী এ্যাওয়ার্ডে অস্কার অর্জন করে নিয়েছে শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য আর শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য। ২০০৩ সালের বাফটা এ্যাওয়ার্ডেও দুটি পুরস্কার অর্জন করে নেয় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র আর শ্রেষ্ঠ পরিচালকের।

তবে আর দেরি কেন? যারা এখনো দেখেননি অস্কার বিজয়ী এই ছবিটি তারা এখুনি দেখে নিন। আর যারা দেখে নিয়েছেন তারাও নিজেদের মতামত জানাতে ভুলবেন না।

 

(Visited 200 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৫৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. মারাত্মক পছন্দের একটা মুভি। আপনি লিখেছেন অনেক ভালো। সুন্দর করেই বলেছেন। পড়ার সময় দেখবার সময়টা মনে এসে পড়েছে। লেখাতে প্লাস।

    • পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

      আমি চাই যে আমার লেখা পড়ে সবাই সেই মুভিতে বা সেই সময়ে ফিরে যাক। বেশিরভাগ সময়েই তা পারিনা ফুটিয়ে তুলতে। তোমার ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগল। তুমি কমেন্টে এগিয়ে গেছ কেন? :p

    • আপনার লাস্ট কথা পড়ে হেব্বি মজা পাইলাম মাইরি 😛 আপনারা একেকজন যেভাবে পিফট বক্সের পিছনে লেগেছেন তাতে না পেয়ে যাবেন কই? আমাদের নিয়ে চিন্তা করবেন না… আমরা দুধভাত

    • পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

      কই আর দুধভাত? কত্ত এগিয়ে গেছ!

    • ডন মাইকেল করলিয়নে says:

      আমিও আসতেছি… তবে টাইলার ডারডেন মিয়া বহুত আগায়া গেছে 🙁 … ওরে ধরা শক্ত… 😛

  2. Rouf says:

    বুকের ভিতর হাহাকার ধরানো একটা মুভি। অসাধারণ।

  3. তানিয়া says:

    এতো ভালো একটা মুভি, অনেক আগে থেকেই আমার কাছে আছে কিন্তু কেন জানি দেখা হয়ে উঠে না 🙁 আপুর লিখা পড়লাম দেখি এইবার যদি দেখে ফেলি 😀

  4. শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

    আমার আজকের ওয়াচলিস্টে মুভিটা আছে, আর আজকেই এই মুভির পোস্ট করলেন আপনি… :p

    ইয়ে, প্লট নিয়ে কতোটুকু লিখছেন সে ব্যাপারটা মাথায় রাখবেন। পাঠকদের আগ্রহ বাড়াতে গিয়ে আবার যেনো বেশী এক্সপোজ করে ফেলেন ন যেনো। 😉

  5. সোলিটারিও says:

    বর্ণনা দারুণ হইছে আপু… 🙂

  6. আশরাফুল রাহাত says:

    আপনার লেখা পড়ে মুভিটা নামাচ্ছি। অসাধারণ লিখেছেন। 🙂 🙂 🙂

  7. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    মুভিটা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই। আপনার উপস্থাপনাও অনেক ভাল… 🙂

  8. আমারো মুভি নিয়ে কিছু বলার নাই । কারণ , মুভিটা আমি দেখি নাই :'( । রিভিউ ভাল্লাগছে । ডেখে ফেলবো

  9. আরিফ says:

    অনেক সুন্দর লেখা। ভালো লাগল। হাড্ডি তে আছে অনেকদিন ধরেই, দেখা হয়ে উঠেনি।

  10. খুব প্রিয় একটা মুভি, আর উঁচু মানের রিভিউ। ছবির দৃশ্যগুলো এখনো চোখে ভাসে…….

  11. James Bond says:

    এখনো দেখা হয় নাই মুভিটা। যদিও অনেক আগেই নামিয়ে রেখেছি। আপনার লেখা পড়ে দেখার ইচ্ছে হলো এবার…..

  12. Simile says:

    Movie tar kotha onek din thekei shunchi akhono dekha hoy ni!!! kahini ta valo laglo akhon dekhe felte hobe!!! 🙂

  13. হাসান says:

    দেখা হয়নি এখনও । দেখে ফেলব । শেয়ার করার জন্য থ্যাংকস

  14. ডন মাইকেল করলিয়নে says:

    মুভিটা আগে না দেখে ভালোই হয়েছে। এতো চমৎকার একটা রিভিউ মুভিটা দেখার আনন্দ বাড়িয়ে দেয় বহুগুনে 🙁 … রিভুতে গোলাপসহ ভালোলাগা রেখে গেলাম… 😛 🙁

  15. মুশাসি says:

    মাস্টার পিস মুভি- অসাধারন লেখনি। বাপ্রে আপু তো দেখি সেলিব্রিটি- ব্লগে কমেন্টের বন্যা ! হিংসা রেখে গেলুম

  16. রীতিমত লিয়া says:

    তবে আর দেরি কেন? যারা এখনো দেখেননি অস্কার বিজয়ী এই ছবিটি তারা এখুনি দেখে নিন। আর যারা দেখে নিয়েছেন তারাও নিজেদের মতামত জানাতে ভুলবেন না।
    ——————————-দেখি নি তবে শীঘ্রই দেখার আশা করি

  17. রীতিমত লিয়া says:

    আফসস হচ্ছে এখনো দেখিনি বলে

    • মাইকেল ফ্রান্সিস করলিয়নে says:

      এতো আফসোস কইরা কি হইব?? 😛 বইয়া পড়েন মুভিখান দেখতে … আফসোস থাকব না এই গ্যারান্টি দিলাম… 😛 🙂

    • পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

      এখনো আফসোস চল্ছে? জলদি দেখ। আর আমাদেরকে জানাও কেমন লাগল?

  18. শাতিল আফিন্দি says:

    এই মুভিটা এখনও দেখা হল না…:(

  19. অ্যান্থনি এডওয়ার্ড স্টার্ক says:

    দেখিতে হইবে চক্ষু মেলিয়া, বিছানার উপ্রে দুই পা গুটাইয়া…

    পোস্টে এক ট্রাক ধইন্যাপাতা। <3

  20. প্রফেসর মরিয়ার্টি প্রফেসর মরিয়ার্টি says:

    মুভিটা প্রথম দেখেছিলাম ইউনিভার্সিটিতে, English 1 এর স্যার প্রায় ধরে নিয়ে গিয়ে দেখিছিলেন লাইব্রেরিতে বসিয়ে। আমাকে একা না অবশ্য, সবাইকে। বাসায় এসে আবার ডাউনলোড করে দেখেছিলাম পরে।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন