The Sound of Music – সুরের মূর্ছনা

music title

পরিচালক: Robert Wise
অভিনয়: Julie Andrews, Christopher Plummer, Eleanor Parker
জেনর: Drama/Family/Biography
মুক্তিকাল: 29th March 1965
আইএমবিডি রেটিং: 7.5

রবার্ট ওয়াইজ পরিচালিত ১৯৬৫ সালের এই চলচ্চিত্রটি একটি মিউজিক্যাল ছবি। Howard Lindsay ও Russell Crouse এর একটি বই আর Richard Rodgers এর মিউজিকে চলচ্চিত্রটি নির্মান করা হয়েছে। চলচ্চিত্রের অধিকাংশ গানই পরবর্তীতে বেশ জিনপ্রিয়তা পায়। কাহিনীটির মঞ্চনাটক প্রথম প্রদর্শিত হয় ১৯৫৯ সালে। The Sound of Music চলচ্চিত্র জিতে নেয় ৫টি এ্যাকাডএমি এ্যাওয়ার্ড।

মারিয়া (Julie Andrews) অস্ট্রিয়ার এক ধর্মশালার এক্জন নান। তবে ধর্মশালার নানারকম নিয়মকানুন তার পছন্দ নয়। সে চায় ধর্মশালা থেকে মাঝে মাঝে বের হয়ে বাইরের জগৎকে উপভোগ করা। পাহাড়ের নিস্তব্ধতা, পাখিদের কলকাকলী, ঝর্নার মূর্ছনা, নীল আকাশ আর সাদা মেঘের ভেসে বেড়ানো সব কিছু তার মনে ছন্দ এনে দেয়। তার ছটফটানি আর চাঞ্চল্যতা ধর্মশালার অন্যান্য নানরা খুব একটা পছন্দ করেন না। তবে সবাই জানেন যে মারিয়ার যতই এমন চাঞ্চল্যতা থাকুক না কেন সে মানুষ হিসেবে খুবই হৃদয়বান আর সবাইকে খুশি রাখার আশ্চর্য এক ক্ষমতা তার রয়েছে। ধর্মশালার প্রধান মাদার এবিস মারিয়াকে বেশ স্নেহের চোখেই দেখেন। তার তিনি চান মারিয়া নিজের দায়িত্ব নিতে শিখুক আর নিজের এই চাঞ্চল্যতাকে ভালো কোন কাজে লাগাক।

images (2)

যেই সিদ্ধান্ত সেই কাজ। মাদার এবিস মারিয়াকে একটি বাড়িতে গভর্নস হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। মারিয়া অনেকটাই নিজের অনিচ্ছায় সেখানে যেতে রাজি হলো। কিন্তু সে যখন জানতে পারলো তাকে যেতে হবে এক বিপত্নীক নেভী ক্যাপ্টেনের বাড়িতে যার রয়েছে ৭টি সন্তান, তখন সে ঘাবড়ে গেল। কিভাবে সে পারবে এত বর একটি পরিবারের গভর্নসের দায়িত্ব পালন করতে। যে কখনও আগে এমন একটি কাজ করেনি সে কেমন করে এতগুলো বাচ্চার দেখাশোনা করবে? বুকের ভিতর ভয় আর উৎকন্ঠা নিয়ে সে রওয়ানা দিন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে যে ভয় তার মধ্যে ছিল সেখানে জায়গা করে নিল এক রকমের সাহস। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি তাকে ধীরে ধীরে সেই পথে নিয়ে যেতে লাগল। তার দৃঢ় বিশ্বাস সে সেই পরিবারে একটি ভাল জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে।

music

বাড়িতে প্রবেশ করে একে একে মারিয়া দেখা পেল কঠিন প্রকৃতির ক্যাপ্টেন ভহন ট্রেপ এর। যার সব কিছু নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস। এমনকি সন্তানদেরও তিনি গড়ে তুলেছেন নিয়মের বেড়াজ্বালে আবদ্ধ করে। মারিয়ার কাছে ব্যপারটি পছন্দ হলোনা। সে এর বিরোধীতা করলো। যদিও ফলাফল খুব একটা ভালো হলোনা। ক্যাপ্টেন তার নিয়মেই আবদ্ধ থাকতে মারিয়াকে নির্দেশ দিলেন। মারিয়া আরো জানতে পারলো সে এই বাচ্চাদের ১২তম গভর্নস। এর আগের যারা ছিলেন তারা খুব বেশিদিন টিকতে পারেনি। মারিয়া বুঝতে পারলো এরকম দস্যি বাচ্চাদের আচরন খুব একটা গ্রহনযোগ্য হবেনা। বাচ্চারা মারিয়ার ব্যবহারে প্রচন্ড খুশি হতে লাগলো। এক সময় মারিয়ার সাথে তাদের বন্ধুত্ব তৈরী হয়ে গেল। যে বাড়িতে বাচ্চাদের মায়ের মৃত্যুতে কেমন একটা গোমট ভাব আর নিরবতা নেমে এসেছিল মারিয়া সেখানে আবারো আনন্দ, খুশি আর উচ্ছলতা এনে দিল মাত্র কয়েক দিনেই। ক্যাপ্টেন ভন প্রায়ই বোরোনেস (Eleanor Parker) নামক এক রমনীর সাথে দেখা করতে চলে যেতেন কদিনের জন্য। মারিয়া জানতে পারলো এই মহিলাকেই ক্যাপ্টেন হয়ত তার সন্তান্দের নতুন মা হিসেবে নিয়ে আসবেন। মারিয়া বোরোনেসকে গ্রহন করে নেবার জন্য বাচ্চাদের তৈরী করতে লাগলো। এক সময় সে প্রতিটি বাচ্চাকে গানের তামিল দিয়ে সুন্দর একটি গানের দল তৈরী করে ফেলল। ক্যাপ্টেন যখন ফিরে এলেন বোরোনেসকে সাথে নিয়ে তখন মারিয়ার কাজে তিনি খুব একটা খুশি হলেন না। ফলে মারিয়াকে তার প্রয়োজন নেই জানিয়ে বিদায় দিলেন। কিন্তু যখন বাচ্চাদের গানের মূর্ছনায় তিনি অবাক হলেন তখন গিয়ে দেখতে পেলেন বাচ্চারা গান গেয়ে বোরোনেসকে বরন করে নিচ্ছে। ক্যাপ্টেন এতটাই আনন্দিত হলেন যে তার সিদ্ধান্ত পাল্টানেন আর মারিয়াকে তার সন্তানদের গভর্নস হিসেবে থেকে যেতে বললেন।

images (3)

এভাবেই দিন চলে যাচ্ছিল যতদিন পর্যন্ত না মারিয়া তার মনের কথা বুঝতে পারছিল। মারিয়া এক সময় অনুধাবন করতে লাগল সে ক্যাপ্টেনের প্রেমে পড়ে যাচ্ছে। সে একজন নান, তার এমন কাজটি সাজে না। এমন হওয়া উচিৎ নয়। আর তাই নিজের থেকে নিজেকে লুকাতে মারিয়া রাতের অন্ধকারে ভন ট্রেপ হাউগ ত্যাগ করে। ভন ট্রেপ পরিবারে আবারো শোকের ছায়া নেমে আসে। ক্যাপ্টেন ভন কী আনবেন তার সন্তানদের জন্য মারিয়াকে ফিরিয়ে আনতে? মারিয়া কী পারবে তার ভালবাসা ভুলে বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে ফিরে আসতে? বাচ্চারা কী পারবে বোরোনেসকে তাদের নতুন মা হিসেবে গ্রহন করতে? কী হবে এর শেষ? কেমন হবে তাদের সবার ভবিষ্যত? জানতে হলে দেখে ফেলুন The Sound of Music.

The-Captain-And-Maria-the-sound-of-music-22265839-454-605

১৯৬৫ সালের এই মিউজিক্যাল ড্রামাটি শুনলে মনে হবে অনেকটাই লা মিজারেব এর মত কিন্তু আসলে তেমনটি নয়। এর প্রধান প্রাণ হচ্ছে সংলাপ। আর মাঝে মাঝে কিছু অসাধারন গান। আমার প্রিয় গানটি ছিল ‘The Sound of Music’ আর ‘My Favourite Things’। এছাড়া প্রত্যেকের অভিনয় ছিল দারুন। ছোট ছোট চরিত্রতে পিচ্চি পিচ্চি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পারদর্শিতাও চোখে পড়ার মত। ছবির সেটের ক্ষেত্রে ব্যব্ফার করা হয়েছে অস্ট্রিয়ার সব মনোরম পরিবেশ। আর ব্যবহার করা হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়কার কিছু রাজনৈতিক দিক। সব মিলিয়ে নাচা গানে ভরপুর এই ছবিটি সবার ভালো লাগবে বলেই আশা করি।

(Visited 22 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন