সুপারম্যান উপাখ্যান : ম্যান অব স্টিল
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

man-of-steel1

অভিনয়: Henry Cavill, Amy Adams, Russell Crowe, Kevin Costner, Michael Shannon

স্ক্রিন প্লে ও স্টোরি: David S. Goyer and Christopher Nolan

মিউজিক: Hans Zimmer

জেনর: action/ adventure/ fantasy

আইএমবিডি রেটিং: 8.3

মুক্তিকাল: ১৪ই জুন, ২০১৩

12332371

 

ছোটবেলা থেকেই ক্লার্ক (Henry Cavill) তার বয়সী অন্য সকল ছেলেমেয়েদের থেকে আলাদা ছিল। মা-বাবা (Kevin Costner and Diane Lane) জানতেন তাদের ছেলে যে অন্য সবার চেয়ে ভিন্ন। তবু চাইতেন ছেলে তাদের অন্যদের সাথে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠুক। মায়ের ভালবাসা আর বাবার স্নেহের ছায়ায় ক্লার্ক বেড়ে উঠছিল। বাবা-মায়ের একটাই ভায় ছিল ছেলের যে এক ধরনের শক্তি তা যেন লোকচক্ষুর সামনে না চলে আসে। বাবা তাই সব সময় ছেলেকে বারন করতেন।

Russell-Crowe-Jor-El-Henry-Cavill-Kal-El

ক্লার্ক অনেক চেষ্টা করেও নিজের সেই শক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারত না। আর পারবেই বা কিভাবে? যেখানেই বিপদ সেখানেই সে উদ্ধারের কাজে ব্যস্ত। একদিন স্কুল বাসে করে যখন ফিরছিল তখন বাসটি দুর্ঘটনার স্বীকার হয়। বাস যখন পানিতে ডুবে যাচ্ছিল তখন বন্ধুদের বাচাঁতে এগিয়ে আসে ক্লার্ক। নিজের প্রচন্ড শক্তিতে সে তুলে আনে আস্ত সেই বাসটিকে। বন্ধুরা তা দেখে ফেলে। আর যায় কোথায়? খবরটি ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনা। বাড়িতে এসে জানতে চায় আসল কাহিনী অনেকেই। কোন রকমে বাবা মা এড়িয়ে যান ব্যপারটি। ক্লার্ক নিজেও বিব্রত নিজের এই অসাধারণ ক্ষমতায়। কেন সে এমন, কেন সে স্বাভাবিক নয় জানতে চায় বাবার কাছে। বাবা তাকে তখন শুনালেন তার আসল কাহিনী। যে মা-বাবাকে ক্লার্ক এতদিন নিজের বলে জেনে এসেছে তারা তার আসল মা-বাবা নন। কোথা থেকে সে কেমন করে এল তা জানতে অস্থির হয়ে গেল ক্লার্ক।

Man-of-Steel-Lois-Lane

তারপর এক্দিন জানতে পারল আসল কাহিনী। দেখা পেল এমন এক মানুষের যিনি তাকে সব কিছু জানালেন আর দিলেন সেই পোশাক যা তাকে পরিচিত করল অন্য এক মানুষ হিসেবে। সেই ‘S’ খচিত চির পরিচিত নীল আর লাল কাপড়ের পোশাক। কি হতে পারে সেই ‘S’ এর মানে?

ক্লার্কের মতে, “This is not a ‘S’. In our world this means hope!”

Man-of-Steel

এ কোন ওয়ার্ল্ডের কথা বলতে চাইছে ক্লার্ক? সে কোন সেই জগতের মানুষ? কেনই বা সে এলো এই পৃথিবীতে? তাহলে কী তাকে আবারো ফিরে যেতে হবে তার সেই জগতে?

 

সব কিছু জানতে হলে দেখতে হবে জ্যাক স্নাইডারের সুপারম্যান রিবুট ‘ম্যান অব স্টিল’।

man-of-steel-HD-suit-image

 

ভালো লাগা

সুপারম্যান হিসেবে ব্রিটিশ অভিনেতা হেনরি ক্যাভিলের অভিনয় ছিল চমৎকার। এমন একটি শক্তিশালী সুপার হিরোর চরিত্রে অভিনয় করা সত্যি অনেক মেধার প্রয়োজন যা হেনরি ভালোভাবেই উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। সাবলীলভাবেই এক একটি দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। আর সাথে রয়েছেন লুইস চরিত্রে এ্যামি এডামস। এ্যামির অভিনয়েও ছিল প্রাণবন্ত উপস্থাপন। কেভিন কস্টনার আর রাসেল ক্রো এর কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। এমন বড় মাপের অভিনেতাদের অভিনয় যেমন হবার তেমনি। ছোট ছোট সিনারিওতে তাদের অভিনয় ছিল দারুণ। জড চরিত্রে শ্যানন এর অভিনয় ও প্রশংসার দাবিদার।

দৃশ্যগুলো সুন্দর ভাবে ধারন করা হয়েছে অসাধারণ সাউন্ড ইফেক্টের সাথে। ছবির প্লট, স্পট ভালো লেগেছে দারুণ। মিউজিক তো এতদিনে সবাই জেনেই গেছেন কেমন। আমার কাছে স্লো আর সফ্ট মিউজিকের জায়গাগুলো অসম্ভব ভালো লেগেছে।

 

কেমন কেমন লাগা

খারাপ লাগা বলছিনা এই কারণে যে ছবিটি সুপার হিরোকে নিয়ে আর ফ্যান্টাসি তাই। অনেক কিছুই চোখে পড়েছে যা মনে হতে পারে এগুলোর কী দরকার ছিল বা এত কিছু না দেখালেই হত। কিন্তু মেনে নিলাম ফ্যান্টাসি গল্পে এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক। বাস্তবের সাথে তো মিল থাকার কথা নেই। এ্যাকশন দৃশ্যগুলো মাজ্ঝে মাঝেই এক ঘেয়েমি লেগেছে। মনে হয়েছে, একি রকম দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এত এত জায়গা থাকতে নিউ ইয়র্ক শহরটিকেই পরিচালক বেছে নিলেন শুধুমাত্র বড় বড় অট্টালিকাগুলো ধ্বংস করার জন্য। মনে হয়েছে পরিচালকের খুব একটা পছন্দ নয় এমন সব অট্টালিকা। ইচ্ছে মত ধ্বংস করতে পেরেই তিনি খুশি। সুপার হিরো উড়তে পারেন বলে তাকে ইচ্ছে মত উড়ানো হয়েছে আর দরকার মত আছড়ে ফেলা হয়েছে। এটা কোন ব্যাপার না। ক্যাভিল বেশ ভালো ভাবেই কাজটি করেছেন। সাথহে রয়েছিলেন শ্যানন। তবে যারা মারাত্মক স্পিডের কিছু পছন্দ করেন তারা নিঃসন্দেহে এই মুভমেন্টগুলো পছন্দ করবেন।

আরেকটি ব্যাপার চোখে পড়েছে তা হলো বেশ কিছু দৃশ্যে নোকিয়া লিউমিয়ার ব্যবহার। ছবির মধ্যে নোকিয়ার এডভারটাইজিং বেশ ভালো ভাবেই করা হয়েছে।

 

সারমর্ম

পুরো ছবি বেশ আনন্দ নিয়েই উপভোগ করার মত একটি ছবি। ভালো ডায়ালগ, ভালো লাগার মিউজিক আর দারুন সব এ্যাকশন দৃশ্য। যদি খতিয়ে দেখতে না চান তাহলে সব মিলিয়ে বেশ ভালোই হয়েছে ম্যান অব স্টিল। স্পয়লারের ভয়ে অনেক কিছুই লিখলাম না। লিখতে গেলে হয়তো অনেক কিছুই ফাঁস করে দিতে হত। কিন্তু এতে দেখার মজাটাই নষ্ট হয়ে যাবে। তাই যারা দেখেননি তারা অপেক্ষা করুন আর আবিষ্কার করুন সেই সব না জানা তথ্য। আর শেষ কথা বলতে লেগে বলতে ইচ্ছে করছে, শেষ দৃশ্য দেখে মনে হতে পারে হয় ম্যান অব স্টিলের একটি সুন্দর ইতি অথবা নতুন একটি গল্পের শুভ সূচনা। হয়তোবা আসতে পারে ম্যান অব স্টিল ২।

 

 

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. অনিক চৌধুরী says:

    অনেকেরই ভালো লাগে নাই। তবে আমি বলবো সুপারম্যান সিরিজকে একটু হলেও লিজেন্ডের কাতারে নিছে মুভিটা।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন