Gandhi-সত্যিকারের এক জাতির জনক

1307695

পরিচালক: Richard Attenborough

অভিনয়: Ben Kingsley, Candice Bergen, Edward Fox

মুক্তিকাল: ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩ (ইউ এস এ)

জেনর: Biography/Drama/History

আইএমবিডি রেটিং: 8.1

 

মহাত্মা গান্ধী, ভারতবর্ষের জাতির পিতা। যিনি শুরু করেছিলেন বৃটিশ প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ। কিন্তু চেয়েছিলেন একটি স্বাধীন দেশ সৃষ্টি করতে, চোখে ছিল সুন্দর, শান্তিপ্রিয় এক জাতির জন্ম। শুরুটা তো হয়েছিল সুন্দরভাবেই কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম চির স্মরণীয় থাকলেও তার কর্ম আজ শুধুই এক স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া কিছু। এমনি একজনের বায়োগ্রাফি নিয়ে নির্মিত ছবি ‘গান্ধী’।

GandhiMovie-Still1

সময়টা তখন ১৮৯৩ সাল, ২৪ বছরের গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকার একটি ট্রেনে করে যাচ্ছিলেন যখন তার পাশে বসা এক ভারতীয় পক্ষপাতমূলক এক আইনের বেড়াজালে পড়ে। তার অপরাধ সে ভারতীয় আর তার কাছে কোন টিকিট ছিলনা। এমন একটি আইন যা শুধু ভারতীয়দের জন্যই প্রযোজ্য ছিল। গান্ধী এমন পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি একটি অসহংসনীয় প্রতিবাদ অভিযান শুরু করবেন। তার সেই অভিযান কার্যকর হয়েছিল। ভারতীয়রা তাদের অধিকার আদায়ে সক্ষম হয়েছিল।

সেই জয়ের পর মহাত্মা গান্ধী ভারতে আমন্ত্রিত হলেন। সেখানে তিনি সমাদৃত হলেন জাতীয় নায়ক হিসেবে। তাকে দায়িত্ব দেয়া হলো বৃটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ভারতের মুক্তির আন্দোলন গড়ে তুলতে। গান্ধী সেই প্রস্তাবে রাজি হলেন তবে তাঁর শর্ত ছিল সেই আন্দোলন হতে হবে অসহংসনীয়।

শুরু হলো গান্ধীর অসহংসনীয় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন। বয়কট করা হলো বৃটিশ পণ্য। শুরু হলো গান্ধীর নেতৃত্বে চড়কায় সূতো কেটে নিজেদের বস্ত্র তৈরী। আর অন্যসব দ্রব্য বয়কট তো রয়েছেই। এতে হতে হয়েছে নানা বাধা বিপত্তির মুখোমুখি গান্ধী ও তার অনুসারীদের। তবে গান্ধীর মতানুযায়ী কেউ কোন প্রকার সংঘাতে লিপ্ত না হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে লাগল। বৃটিশরা নানা ছুতো খুজতে লাগলো কিভাবে তাদের দমানো যায়। কিন্তু কিভাবে? যারা কোন প্রকার সংঘাতে জড়িত নয় তাদেরকে কোন দোষে দোষী সাব্যস্ত করা যেতে পারে? নানা পন্থা অবলম্বনে ব্যর্থ হয়ে ব্রিটিশরা ভারতীয়দের মাঝে অন্তর্সংঘাত লাগিয়ে দিল ধর্ম নিয়ে। দিয়ে গেল ভারতকে মুক্তি। কিন্তু সেই ধর্ম সংঘাত ততদিনে দানা বেঁধে উঠতে লাগল।

Gandhi movie post card

মহাত্মা গান্ধীর কাছের দুজন বন্ধু, একদিকে পন্ডিত নেহেরূ আর অপর দিকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জড়িয়ে পড়লেন ধর্ম সংঘাতে। ভারতবর্ষের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে হবে এ নিয়েও শুরু হলো সংঘাত। গান্ধী এগিয়ে এলেন দেশের স্বার্থে আবারো। প্রস্তাব দিলেন দেশটি সকলের, হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই। আর তাই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হতে বললেন জিন্নাহকে। কিন্তু যে সংঘাত দানা বেঁধেছে তা কী আর এত সহজে মিটে? জিন্নাহ দেশকে বিভক্ত করার পক্ষে। একটি অংশ হবে ভারত যেখানে সব হিন্দুরা আর অপর অংশ হবে পাকিস্তান যেখানে সকল মুসলমানরা থাকবে। দেশের শান্তি আর জনগণের ভালোর জন্য দেশ তো বিভক্ত হলো ১৯৪৭ সালে। কিন্তু মাহাত্মা গান্ধী তলে তলে নিঃশেষ হয়ে যেতে লাগলেন। এ কোন দেশ তিনি চেয়েছিলেন? এমন তো কোন দেশ তিনি চাননি। হিন্দু-মুসলিম দাংগা দানা বাঁধে, শুরু হয় খুনোখুনি। রক্তের বন্যায় যখন দেশ বয়ে যাচ্ছে তখন গান্ধী কলকাতায় আসেন দাংগা থামানোর শেষ চেষ্টা করতে। ডাক দেন অনশনের। যতদিন পর্যন্ত এই দাংগা আর খুনোখুনি বন্ধ না হবে তিনি মুখে দানা-পানি কিছু তুলবেন না। শরীরের সব অংশ একে একে কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছে, সবাই এসে এসে জোর করছেন গান্ধীকে। তবু তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল। নেহেরূ মহাত্মা গান্ধীর এমন অবস্থায় অসহায় বোধ করছেন। তিনি জনগণের কাছে মিনতি করলেন গান্ধীকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে। বন্ধ হলো হত্যাযজ্ঞ, জয়ী হলেন মহাত্মা গান্ধী। কিন্তু সব পরিস্থিতির জন্য নিজেকে ক্ষমা করতে পারলেন না। সব সময় নিজেকেই দোষী ভাবতে লাগলেন। এমন এক সময় এক বিকেলে হাটতে বেরুতে গিয়ে হাজারো ভক্তের ভিড়ে একটি বুলেট এসে ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়ে গেল জাতির জনক সাহসী মহাত্মা গান্ধীকে।

gandhi

অসাধারণ এই বায়োগ্রাফীতে মহাত্মা গান্ধীর জীবন আর তার আন্দোলন ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক রিচার্ড এ্যাটেনবরা। আর গান্ধীর চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় উপস্থাপন করেছেন বেন কিংসলে। প্রথম থেকে শেষ পর্জন্ত প্রতিটি অংশ ছিল দারুণ্ভাবে উপভোগ্য। যদিও কিছুটা ধীর গতি সম্পন্ন তবুও ইতিহাস নির্ভর এই ছবিটি উপভোগ করা যায় দারুনভাবে। ডায়ালগ, দৃশ্যের উপস্থাপন সব ছিল অসাধারণ।

ইতিহাসের অনেক অজানা তথ্য আর মাহাত্মা গান্ধীর কর্ম জানতে দেখে নিতে পারেন বায়োগ্রাফিক এই ছবি ‘গান্ধী’। ৫৫তম একাডেমি এ্যাওয়ার্ডে ছবিটি ছিনিয়ে নিয়েছে সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক ও সেরা অভিনেতাসহ মোট ৮টি এ্যাওয়ার্ড।

 

 

(Visited 81 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন