পিকে’ র অসাধারণ কিছু মুভি ডায়লগ(বাংলায়)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

‘পিকে’ নামটা এখন আর কারও কাছে নতুন না; শুধু বলিউড নয় গোটা ভারতজুড়েই নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে পিকে; অতীতের সব বক্স অফিস রেকর্ড গুঁড়িয়ে পিকে এখন ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমা- আর এর অনেকগুলো কারণই থাকতে পারে; প্রথমত আমির ও হিরানীর ছবি তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসাধারণ কাহিনী আর অনবদ্য সংলাপ। আমিরের ভোজপুরী ডায়লগ নিঃসন্দেহে একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে আর সেগুলো থেকেই কয়েকটা মুভি ডায়লগ বাংলায় লিখলাম, আশা করি ভালো লাগবে :


জাগগুর কাছে বলা পিকে’র পৃথিবীতে আসার গল্প

‘তুমি ভাবছ আমার গল্পটা মিথ্যা?’
‘তাহলে আর কি?’
‘তোমার গ্রহের ভাষা বুঝি ভোজপুরী?’
‘আরে আমাদের……আমাদের ওখানে তো কোন ভাষাই নাই।আমরা মস্তিষ্ক দিয়ে যোগাযোগ করি কোন ভুল বোঝাবুঝির সুযোগই নেই।এখানে বলে এক জিনিস,মানে হয় আরেক জিনিস।একেকটা জিনিসের ৪ টা করে অর্থ-এভাবে মাথা দোলাও…..আর বলো ঠিক আছে ঠিক আছে;সবকিছুই ঠিক আছে,ভেরি গুড । চোখ বড় করে যখন বলো,তার মানে –ঠিক আছে ;অবাক হয়েছ খানিকটা,তোমার মায়ের একসিডেন্ট হয়েছে……আচ্ছা!! –  এভাবে ।তারপরে যখন কেউ রাগ করে,তখন গলার স্বর উচু হয়ে যায়
আচ্ছা!!- আমাকে শিখাচ্ছো? আচ্ছা!! আবার যখন কিছু ভাবতে থাকে , তখন বড় করে – আচ্ছাআআআ…………………………কথা বলার সাথে সাথে আবার অঙ্গভঙ্গিও দেখাতে হয়
তারপরে কথা ক্লিয়ার হয়। অনেক ঝামেলা, আমার পুরো ৬ ঘন্টা লেগেছে …. ভোজপুরী শিখতে…’
‘তারমানে ৬ ঘন্টায় তুমি পুরো ভোজপুরী শিখে গেছ?’
‘…….. আরে কেউ হাতই ধরতে দেয় না,তারপরে এক মহিলাকে পেয়েছি,যে আমাকে সাহায্য করেছে তার হাত ধরে তার সমস্ত ভাষা আমার মধ্যে ঢুকিয়ে নিয়েছি’।

Screenshot_2015-01-12-19-25-03

‘আরে !!!! তুমি তো ফালতু কথা অনবরত বলেই যাচ্ছ,এগুলোর তো একটা সীমা আছে,তোমার হাতে কি USB ক্যাবল আছে?যেভাবে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ফাইল ট্রান্সফার করে?আর তোমার জামা কাপড়? তোমার গ্রহেও কি ময়লা জিনস পরে সবাই ?’
‘না না না না ,আমাদের গ্রহে……আমাদের গ্রহে তো কোন কাপড়ই পড়ে না;আমি যখন এখানে আসি…… তারপর চিন্তা করলাম ;আমাদের লোকের চামরার সাথে এখানের লোকের চামরার অনেক পার্থক্য আছে ;কারো চামড়া উজ্জল ,ঝলমলে ।আবার কারো চামড়া কালো,কারো চামড়া রঙ্গিন,তো কারো সাদা ,কারো চামড়া টাইট… আবার কারো ঢিলেঢালা। ……তারপরে একদিন একটা গাড়ি দেখলাম-ডান্সিং গাড়ি …ওইদিনই বুঝলাম…… যে এখানের মানুষের চামড়া একেবারে আমাদের মতই।শুধু এরা নিজের শরীরের উপর ফ্যাশন নামে কি একটা লাগিয়ে রাখে। তারপরে বুঝতে পারলাম এইবার তোমাদের গ্রহের লোকজনের সাথে মিলে থাকতে পারব;কিন্তু বুঝলাম না কেন সব লোকজন আমাকে দেখে হাসতে শুরু করলো;তারপরে বুঝতে পারলাম পুরুষের পোষাক এক…… মহিলার পোষাক আরেক,দিনের এক পোষাক …তো রাতের আরেক পোষাক,খেলার পোষাক এক……তো খাবার দেয়ার পোষাক আরেক ।কাপড়ের সাথে আমি কয়েকটা ছবিও পাই-তারপরে আস্তে আস্তে বুঝলাম,যে এখানে বেঁচে থাকতে হলে এই ছবির দরকার আছে,এই ছবি দেখালে খাওয়ার জন্য রুটি পাওয়া যায়,তাই আমি এই বুড়ো লোকটার ছবি জমানো শুরু করলাম;
“কি ভাই?আরে আমাকে দিচ্ছিস কেন?আমার দোকানে বই কেন?হ্যাঁ……… এইবার ঠিক আছে…… এই নে গাজর।”
তখন ফিলিং হল যে এই ছবির মুল্য খালি এক ধরনের কাগজের উপরই আছে,বাকি ছবির উপর এর মুল্য জিরো মানে লুল। টাকা আর কাপড়ের যোগার ডান্সিং গাড়ি থেকেই হয়ে যেতো-এটাই আমার ব্যাংক ছিল..এটাই দর্জি। একবার তো কী এমন পোষাক পলাম……যে এই ছবিরই দরকার হলো না খাবার নিজেই আসতে থাকলো এইযে স্যার নেন ।এখন রিমোট পেতে আমার শিখা দরকার ছিলো এখানের ভাষা। ভাষা ছাড়া এখানের কোন কাজই সম্ভব না। এভাবেই এক লোককে বলতে চাইলাম…… যে তার ফ্যাশনে আমার একটু অসুবিধা আছে,এরপরে মনে হলো যে আমি এর ফ্যাশনটাই নস্ট করে দিয়েছি;তাই আমি আবার আগের মত করে দিতে চাইলাম। (তারপর কি হয়েছিল মানে ‘Fat barber’ এর কাহিনীটা সবারই জানা)

শিবরূপী অভিনেতাকে ঈশ্বর মনে করার পর তার সাথে পিকের মজার কথপোকথন

‘এই… তালা মারছিস কেন?’
‘আজকে যেতে দেব না!’
‘আরে ভাই দরজাটা খোল, শোতে আমার এন্ট্রি আছে ভাই’
(………………….)

Capture

‘সিকুরিটি! কে তুই?’
‘চিনতে পারছ না আমাকে?’
‘আমি … পিকে পিকে’
‘সিকুরিটি …..!! কেউ কি নাই? কোথা থেকে লোকজন মদ খেয়ে ঢুকে পড়ে…আমি কি এই টয়লেটে শো করব নাকি!……দরজা খোল!’
‘প্রথমে আমার রিমোট ফেরত দাও।‘
‘কিসের রিমোট!!?’
‘স্পেসশীপ এর…’
‘স্পেসশীপ???’
‘ভুলে গেছেন? … আরে কতবার যে বললাম আপনাকে …….’
‘আমি এই পৃথিবীর না,আমি অনেক দুর থেকে আসছি ; আরে সরান এইটা ;আপনি আমার রিমোট ফেরত দিলে আমি বাড়ি ফিরতে পারবো … বুঝতে পারছেন তো?’
‘ভাই আমাকে যেতে দে,আমার ছোট ছোট বাচ্চা আছে’
‘আমি জানি – গনেশ আর কার্তিক, এতও ছোট না ;এরা একা থাকতে পারে ঘরে,আপনি আমার রিমোট ফিরিয়ে দেন,এরপরে যান আপনার ফ্যামেলীর কাছে’
‘ভগবান বাঁচাও….!’
‘আরে!! তোমার উপরেও ভগবান আছে নাকি?’
‘কই? কোথায়?’
[পিকে’কে ধাক্কা মেরে তালা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে সে]
“এখন দেখবেন শিবের নাচ;একেবারে ভয়হীন”
‘বাঁচাও …….!!!’
[শিবের ছদ্দবেশধারী অভিনেতা পিকে’র কাছ থেকে বাঁচতে দ্রুত পালায়]

 

 

রং নাম্বার!

‘এরকম টুকুর টুকুর করে কি দেখছো?’
‘তোমাকে …..এলিয়েন তো প্রতিদিন আসে না আমার বাসায়।আচ্ছা,তোমাদের ওখানে কি সবার কানই এরকম বড় বড় ?’
‘হুমম,সেম টু সেম …’
‘আর সবাই নেংটা ঘুরে?…. আজব লাগে না?’
‘ওইযে কাকটা তো ন্যাংটা বসে আছে ……আজব লাগছে? টাই পড়ে বসে থাকলে আজব লাগতো’
‘পিকে …..আমি সারারাত ঘুমাই নি,শুধু ভাবছিলাম তপস্যজী’র কাছ থেকে তোমার রিমোট  কিভাবে ফিরিয়ে আনব’

pk

(টেলিফোন কলের আওয়াজ)

‘হ্যালো …. হ্যালো…. বলবীর সিংকে দেন,৪ নাম্বার রুম’
‘রং নাম্বার’
‘এটা ফোর্টিস হাসপাতাল না?’
‘আরে ভাই,আমি আপনাকে গতকাল থেকে বলছি…… আপনি রং নাম্বার ডায়াল করছেন’
‘রং নাম্বার কিভাবে হয়?আমি নিজে নাম্বার সেভ করছি’ (লাইন কেটে যায়)
‘আচ্ছা …… তারপর কি করবে?’

(আবার টেলিফোন কলের আওয়াজ)

‘হ্যালো,বলবীর সিংকে দিন… রুম নাম্বার….’
‘ওহহ,আপনার একটু দেরী হয়ে গেলো বলবীর সিং কিছুক্ষন আগে মারা গেছে’
‘ …… কি ???চোখের অপারেশন থেকে মরলো কিভাবে?’
‘হুম…..দুঃখের বিষয়’
‘অসুবিধা নাই …… ডেথ সার্কিফিকেটে লিখে দিবো হার্ট এটাক হয়ে গেছে  পরিবারের অসম্মান হবে না,আচ্ছা আসেন …. বডি টা নিয়ে যান’
‘হ্যাঁ,হ্যাঁ আসছি’
‘তুমি এরকম কেন বললে ?’
‘আরে মজা করলাম,দেখো, ও যখন হাসপাতালে যাবে,তখন ওর জীবিত বন্ধুকে দেখে কত খুশি হবে? আরে….. ও ফোন করে বিরক্ত করছে,তাই অল্প মজা নিলাম’
‘মজা?’
‘পিকে ……. আমি মজা করছিলাম’
‘আমি বুঝতে পেরেছি …… পুরো গেমটা বুঝতে পেরেছি; কেউ নিশ্চই মজা করছে! সাধুবাবা যখন ভগবানের কাছে টেলিফোন করে
চোখ বন্ধ করে  যখন এইভাবে মাথাটা হেলিয়ে বলে ‘প্রভু পথ প্রদর্শন কর’ তখন ওইগুলা সব রং নাম্বারে যায়
;যে ফোন ধরতেছে … সে আসলে মজা নিচ্ছে; নাইলে ভগবান আমার রিমোটকে তার ডামরুর টুকরা কি করে বলে? এর মানে হচ্ছে এই পৃথিবীতে ভগবানের সাথে সব ফোনই উল্টাপালটা কাজ করছে,সব ম্যানেজারের ফোন রং নাম্বারে যাচ্ছে।’
(…………)
পিকে ভাবছিলো সাধুবাবা খুব ভালো মানুষ
আমি ওর ভুল ভাঙ্গাই নাই
আমার মাথায় এক তুখোর বুদ্ধি আসলো
এমনি এক বুদ্ধি,যাতে পিকের রিমোট ফিরিয়ে আনা যায়।

পিকের বিদায় (ছবির প্রায় শেষের দিকে)

“এরমধ্যে কিসের রেকর্ড আছে পিকে?”
‘বললাম না, ওই পশু – পাখি – ট্রাফিক;
যখন আমাদের পৃথিবীতে রাত নেমে আসবে না ,তখন প্রতিদিন এই রেকর্ডগুলো চালাবো…..হাত নাড়বো তোমার দিকে ;ওইখান থেকে ,এভাবে জোরে জোরে ……তুমিও হাত দেখিও… মাঝে মাঝে….যদি সময় পাও’
‘এখানে এই রেকর্ডে আমার গলার শব্দ নাই তো?’
‘উমমম……..আছে তো ……তুমি যখন ওই কবিতা বলেছিলে, সেটা আছে তো’
‘শুধুই একটা কবিতা?’
‘আসলে….আমি তোমাকে খুব কম ভালোবাসি কি না তাই….পুরো সময় তো আর তোমার উপর নষ্ট না করবো না………’

‘ও একবারও পেছনে তাকায় নি; মনে হয় ওর চোখের পানি লুকাচ্ছিলো
কিছু শিখে গেলো,
কিছু শিখিয়েও গেলো
মিথ্যা বলা শিখে গেলো
আর শিখিয়ে গেলো –
ভালোবাসা শব্দের প্রকৃত অর্থ।
যেভাবে বাচ্চারা পৃথিবীতে আসে ….. নগ্ন অবস্থায়…ওভাবেই সে এসেছিল। যেভাবে বাচ্চারা অনেক প্রশ্ন করে,ওভাবেই সে অনেক প্রশ্ন করতো। তারপর একদিন ……চলে গেলো….আমাদের থেকে প্রায় ৪শ কোটি মাইল দূরে।আর যেতে যেতে আমাকে খুব সুন্দর দুইটা উপহার দিয়ে গেলো সরফরাজ …আর বাবা।
যতদিন বেঁচে থাকবো
প্রতিরাতে ওর তারার দিকে তাকিয়ে থাকবো…
হাত নাড়াবো ….
আমি নিশ্চিত,
সেও এরকমই করবে …”

 

IMG_20150107_224427

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন