“VFX” এর দুনিয়ায় স্বাগতম! (ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট)

IMG_20141217_144449
যদি প্রশ্ন করি হলিউডের কোন জিনিসটি আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়? বোধ করি সবচেয়ে বেশি উত্তর আসবে
ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের পক্ষে;কারণ অ্যাকশন,ড্রামা,থ্রিলার এগুলো সব ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রির ছবিতেই থাকে কিন্তু সবচেয়ে নিখুঁত আর বাস্তবধর্মী ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের জন্য হলিউড একটু বেশিই স্পেশাল। আসুন তাহলে দেখা যাক এই VFX প্রযুক্তি কি করে কাজ করে আর সঙ্গে থাকছে কিছু বিখ্যাত মুভি ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট!

VFX আর SFX কি?

“SFX is when things are recorded on scene but VFX are done in the computer”
SFX বলতে বোঝায় যাকে আমরা বলি স্পেশাল ইফেক্ট ;ক্যামেরায় যা ধারণ করা হয়, যেমন ধরুন: অভিনেতার মুখ থেকে বেরিয়ে আসা নকল রক্ত(কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত নয় ;হতে পারে মেক-আপ সম্পর্কিত নকল হাত পা ব্যবহারের বিষয়াদি বা অন্যান্য ),ব্ল্যাংক ফায়ার বা আরো সহজভাবে বললে- আপনি সত্যিকার কোন বিস্ফারণ ঘটালেন আর তা ক্যমেরায় ধারণ করলেন-সেটা হবে স্পেশাল ইফেক্ট। হলিউডে ১৯৮০ আর ‘৯০ এর দিকের হরর আর অ্যাকশন ফিল্মগুলোর মেক-আপ সম্পর্কিত ইফেক্ট বা গাড়ি বা স্থাপনার বিস্ফোরণ এর বিভিন্ন স্পেশাল ইফেক্টের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।

অন্যদিকে VFX হল কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ব্যপারগুলো যা মূলত পোস্ট প্রোডাকশন সম্পর্কিত; যেমন সবুজ ব্যাকগ্রাউন্ড এ ধারণ করা কোন দৃশ্যে কম্পিউটার সফটওয়্যার ব্যবহার করে ঐ ব্যাকগ্রাউন্ড এর বদলে ছবি সংশ্লিষ্ট কোন ব্যাকগ্রাউন্ড জুড়ে দেয়া অথবা সহজ কথায় নকল বিস্ফোরণ, নকল গোলাগুলি ইত্যাদি হল VFX বা CGI (যদিও CGI মূলত ত্রিমাত্রিক অবজেক্ট সম্পর্কিত। বোঝাই যাচ্ছে, স্পেশাল ইফেক্টের ব্যয় অনেক বেশি। একসময় হলিউড ছিল স্পেশাল ইফেক্ট নির্ভর, কিন্তু CGI বা VFX প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সবচেয়ে বেশ। আজকাল তো অনেকক্ষেত্রে ছবির বাজেটের অর্ধেকের বেশি অর্থ খরচ হয়ে যায় VFX এর কাজে।

কেন শুধু সবুজ বা নীল স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়?
ইন্টারনেটে আমরা এমন অনেক ছবি দেখি যার এক অংশে দেখানো হয় একটি নীল বা সবুজ স্ক্রিনের সামনে অভিনেতাকে আর অপর অংশে দেখানো হয় ঐ স্ক্রিনের বদলে অপর একটি ব্যাকগ্রাউন্ড(যেটা মুভিতে দেখি)। কিন্তু প্রশ্ন হল এই VFX এর কাজে নীল বা সবুজ স্ক্রিনই কেন ব্যবহার করতে হবে? আসলে তীব্র অন্য কোন রং যেমন লাল ব্যবহার করলে তা অভিনেতার রং এর সাথে অনেকটা মিলে যেতে পারে;ফলে এটা বাদ দেয়া হয়।

VFX কি করে কাজ করে?
এবার আসা যাক আসল কথায়;VFX প্রযুক্তি অনেক বেশি জটিল আর টেকনিকাল তবু আমি খুবই সাধারণ একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছি,আশা করি ব্যাপারটা বুঝতে অসুবিধা হবে না:
(সবুজ বা ব্লু স্ক্রিন এর ক্ষেত্রে)এসব কাজে যেসব সফটওয়ার ব্যবহার করা হয় সেগুলোতে “Key” নামক একটি ট্যুল থাকে- এটি আসলে কম্পিউটারকে নির্দেশ দেয় সকল নীল বা সবুজ রং এর পিক্সেলগুলোকে ট্রান্সপারেন্ট হিসেবে ধরতে।

যেমন নিচের ছবিটায় একটা সবুজ স্ক্রিন এর সামনে একটা আঙ্গুল দেখা যাচ্ছে আর এটি অনেকটা জুম করা হয়েছে বলে অনেকগুলো বর্গাকৃতি পিক্সেল দেখা যাচ্ছে(প্রতিটি বর্গক্ষেত্র এক পিক্সেল); এদের কতগুলো সবুজ (স্ক্রিনের অংশের), কতগুলো বাদামী(আঙুলের অংশের)।

greenscreendetail

এখন সবুজ রং এর পিক্সেলগুলোকে যদি ট্রান্সপারেন্ট ধরা হয় তবে বাদামী রং এর গুলো বাদে অর্থাৎ আঙুল বাদে পুরো পিছনের সবুজ ব্যাকগ্রাউন্ডই ট্রান্সপারেন্ট হবে আর তখন ঐ ব্যাকগ্রাউন্ড এর বদলে নতুন পছন্দমতো ব্যাকগ্রাউন্ড যোগ করা যাবে- এটিই হল ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এর একদম বেসিক ধারণা।

কিন্তু একটু ভালো করে লক্ষ করলে দেখা যায় সব সবুজ পিক্সেল এক রকম নয়; কতগুলো হালকা,কতগুলো গাঢ় রং এর আবার কতগুলো আঙুলের বাদামী রং এর সাথে অনেকটা মিশে আছে। বিশেষত যেসব পিক্সেল আঙুলের খুবই কাছাকাছি থাকে;যেগুলোর রং সবুজ আর আঙুলের রং এর মাঝামাঝি থাকে সেগুলোকে অনেকক্ষেত্রেই ট্রান্সপারেন্ট করা থেকে বাদ দেয়া হয়। তো, Keying ট্যুল একই ধরনের সবুজ পিক্সল খুঁজতে থাকে এবং ট্রান্সপারেন্ট করতে থাকে; পাশাপাশি VFX আর্টিস্টও Keying ট্যুল এর সাথে যথাসম্ভব একই ধরনের সবুজ পিক্সেল এড করতে থাকেন যাতে একসময় পুরো সবুজ অংশই ট্রান্সপারেন্ট হয়ে যায়। এরপর ট্রান্সপারেন্ট হয়ে যাওয়া অংশে প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড সেট করা হয়। এছাড়া একজন অভিজ্ঞ VFX আর্টিস্ট আরও নানা টেকনিক ব্যবহার করতে পারেন।
এই পুরো ব্যপারটিকে নিচের তিনটি ছবি দিয়ে বোঝানো হল

IMG_20141215_191134

এছাড়া আরো অনেক জটিল টেকনিক এপ্লাঈ করা হয় মুভির ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের জন্য। আসুন দেখে নেই সেই বিখ্যাত কিছু ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট! Before & After VFX

Avengers
movies-before-after-visual-effects-28

Titanic
titanic

Life of pi
201302281515331247

Alice in Wonderland
movies-before-after-visual-effects-32

The Hobbit
IMG_20141217_185947

Man of steel
wwb_img240

তথ্যসূত্র: Wikipedia, vfx for fiilm, google image

(Visited 351 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Arif Ahmed says:

    দারুণ লাগলো !!! সকল মুভিই এখন ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট নির্ভর । এতে করে ছবির গুনাগুন বেড়ে যায় অনেকাংশেই ।

  2. nazmul islam says:

    ধন্যবাদ অনেক কিছু জানতে পারলাম। অনেক দিন দরে এসব জানার খুব ইচ্ছে ছিল। আজকে বিস্তারিত সব জানতে পারলাম। 🙂

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন