হলিউড- বলিউড সুন্দরীদের ফিটনেস রহস্য… পুরাই মাখন পোস্ট ।। (কামে আসলেও আসতে পারে )

এখনো চির তরুন জয়া …

সেলিব্রেটিদের ফিটনেস আমাদের মুগ্ধ না করে পারে না। কিন্তু কিভাবে তারা এই আদর্শ দৈহিক গড়ন অর্জন করেন এবং ধরে রাখেন? ফিটনেসটাই বা কিভাবে দীর্ঘদিন অটুট থাকে? কিভাবে পঞ্চাশ বছর পার করে ফেলেও তরুনদের চোখের ঘুম কেড়ে নেন?? সবাই ভাবেন, হয়তো তারা সারাদিন এক বাটি সব্জি অথবা ফল খেয়ে বেঁচে থাকেন। আবার অনেকেই ভাবেন এতো সুন্দর স্বাস্থ্য তারকারা পান সার্জারি, ভিটামিন পিলস আর বিউটি পার্লারে দিনযাপনের মাধম্যে। কি তাদের টনিক?? আসুন জেনে নেই তাদের কাছ থেকেই…

শিল্পা শেঠিঃ

বয়স কি ৩৭ বছর !! বিশ্বাস হবে দেখলে??

বয়স ৩৭ হতে চললো। কিন্তু দেখে কে বিশ্বাস করবে?? গত ২০ বছর ধরেও যেন একই ফিগার। শরীরের ওজন ৫৭ থেকে ৬০ কেজির মধ্যেই।। কয়েকদিন আগে এক ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম ও দেন।বলিউড থেকে অবসর নেওয়ার চিন্তা করছেন, কিন্তু এখনো দেখলে তাকে ষোড়শ তরুনি বলেই ভুল করবে যে কোন তরুন।কিভাবে সম্ভব এভাবে ফিগার ধরে রাখা??

এর পেছনের রহস্য সম্পর্কে শিল্পা জানিয়েছেন, ‘জীবনে শৃঙ্খলাটা খুবই জরুরি। নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পরিমিত আহারই শরীর ফিট রাখার মূলমন্ত্র।’ শিল্পা আরো জানিয়েছেন, ‘শরীরের বাড়তি ক্যালরি পোড়ানোর জন্য প্রতিদিন ২০ মিনিট শরীরচর্চাই যথেষ্ট।’ এছাড়া যোগব্যায়াম তো রয়েছেই। প্রতিদিন নিয়ম করে যোগব্যায়াম করেন তিনি।

 

লেডি গাগাঃ

মাথা নষ্ট করা সুন্দরী…

লেডি গাগা নাম শুনলেই উন্মত্ত আচরনের ভয়ঙ্কর এক সুন্দরীর চেহারা ভেসে উঠে। কোটি কোটি তরুনের হৃদয়ে ঝড় তোলা এক নাম লেডি গাগা। লেডি গাগা জানালেন এই অবাক করা তথ্য নিজের শারীরিক সৌন্দর্য ধরে রাখার ব্যাপারে। নিজের শারীরিক সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য নিয়মিত হুইস্কি পান করেন ২৬ বছর বয়সী গাগা। এই হুইস্কি নাকি তাঁর শরীরকে সব সময় আকর্ষণীয় রাখে।
লেডি গাগা আরও বলেন, ‘বিশেষ করে আমি যখন কাজে ব্যস্ত থাকি, তখন হুইস্কি পান করতে পছন্দ করি। তা ছাড়া আমি সব সময় সৃজনশীলভাবে জীবন যাপন করতে পছন্দ করি।’

 

দিপীকা পাদুকোন

খেলোয়াড় পরিবারে জন্ম ২৬ বছর বয়সী এই বলিউডি সুন্দরীর। আর এটাকেই নিজের এতটা ফিট এবং আবেদনময়ী দেহগড়নের অধিকারী হবার অন্যতম কারন বলে মনে করেন এই সুন্দরী। আসলে ছোট কাল থেকেই ব্যাডমিন্টন কোর্টে আর ভলিবল নিয়া দৌড়াদৌড়ী করতে হতো। আর ভাবেই হয়ে গেছে সুন্দর ফিগারের অধিকারি। এমনকি এখনো প্রতিদিন সময় করে দেহকে ফিট রাখার জন্য খেলার মাঠে টাইম দেন। দিপিকার মতে, “ভলিবল হলো এমন একটি খেলা যেখানে দেহের প্রতিটি অংশই কার্যকর ভূমিকা পালন করে। যাকে বলে ফুল বডি ওয়ার্কআউট এবং এটা শরীর থেকে ৩৫০ ক্যালোরি ঝড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে ব্যাডমিন্টন একটি হাত প্রায় নিস্ক্রিয় অবস্থায় থাকলেও এটা দিনে ৩০০৯ ক্যালরি কমাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।”

 

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

বয়স কতো জানেন কি??? অনুমান করুন তো... অ্যাঞ্জোলিনা জোলির ডায়েট রহস্যটি আসলে কোনো রহস্যই না। জোলির ডায়েটের সবচেয়ে বড় দিকটি হচ্ছে তার পরিমিত খাদ্যাভাস এবং কিছু ছোটখাটো নিয়ম-কানুন। যেমন- পুরো খাবার খাওয়া অর্থাৎ খেতে বসে খাবার নষ্ট না করা, যতটুকুই খাওয়া যায় শান্তভাবে এক জায়গায় বসে খেতে হবে এবং তার খাবার ঘরটি হতে হবে উজ্জ্বল। তার খাদ্য তালিকায় ফল থেকে শুরু করে গরুর গোশত পর্যন্ত থাকে। কিন্তু সবই একটি পরিমিত পরিমাণে। অনেক বছর আগে, তার খাদ্য তালিকায় শুধু শাক-সব্জিই ছিল, কিন্তু এখন আর তা নেই। এখন তিনি বিশ্বাস করেন যে, শুধু শাক-সব্জি আর ফলমূল খেয়ে স্বাস্থ্যবান থাকা যায় না। ফিট থাকতে হলে সব ধরনের খাদ্যই গ্রহণ করতে হয়। কারণ, একেক ধরনের খাদ্যে একেক ধরনের উপাদান থাকে যা
দেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জোলির মতে, এসব থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা একদম ঠিক না। মাঝে মধ্যেই জোলি সময় পেলে বেরিয়ে যান জেট স্কি, আইস স্কেটিং আর পাইলট ক্লাস করতে।

 

বিদ্যা বালান

বেশভূষায় অতি সাধারণ বিদ্যা বালান। ঠিক তার মতোই তার ফিটনেস মন্ত্র। খুব বেশি স্লিম নন তিনি, তাই বলে খুব মোটাও বলা যায় না তাকে। এক কথায় বলতে গেলে সুন্দরী এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বিদ্যা বালান। যদিও এই সুন্দরী জন্মসূত্রে দক্ষিণ ভারতীয়। কিন্তু তার পোশাক, সাজসজ্জা, লাইফস্টাইল এবং তার দেহগড়নও একজন আদর্শ বাঙালি ললনার মতোই।
তার এই বাঙালিয়ানা ইমেজ ধরে রাখতে খুব সাধারণ উপায় অবলম্বন করেন তিনি। শুধুই হাঁটেন। বিদ্যা বলেন, “আমি আমার আই পডে গান ছাড়ি, কানে ইয়ার ফোন লাগাই এবং লম্বা পথে হাঁটা শুরু করি। এটা শুধু আমাকে ফিট এবং সুস্থই রাখে না। আমাকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখতেও সাহায্য করে।”
বিদ্যার ফিটনেস ট্রেইনার জানান, এক ঘণ্টা ধীর গতিতে হাঁটার ফলে ঝড়ে যেতে পারে ২০০ থেকে ২৫০ ক্যালোরি। এটা দেহে বিভিন্ন অংশের কার্যকারিতাকে আরো সক্রিয় করে।

 

জেনিফার লোপেজ


জেনিফার লোপেজের ফিট স্বাস্থ্যের রহস্য হলো যোগ ব্যায়াম। ৪২ বছর বয়সী এই তারকা তার ডায়েট এবং ফিটনেসের ব্যাপারে বলেন, ‘যদি আমার ডায়েটের ব্যাপারে জানতে চান তবে আমি সবসময়ের মতো এটাই বলবো যে, আমি জানি আমার স্বাস্থ্যের জন্য কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ। তবে মন যদি কিছু চায়, তাকে হতাশ করে কষ্ট দেয়াকে আমি সমর্থন করি না। যদি দেখি ওজন বাড়ছে, তখন আমি শুধু খাদ্য তালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে দিই।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি খুব বেশি স্বাস্থ্য সচেতন নই। আমি কখনোই স্বাস্থ্যের কথা বা ওজন বেড়ে যাবার ভয়ে মিষ্টি বা আমার প্রিয় খাবারগুলো খাওয়া বন্ধ করে দিই না। আমি সব কিছুই খাই, কিন্তু একটা নির্দিষ্ট এবং পরিমিত পরিমাণে। আমি অল্প অল্প করে সব কিছুতেই বিশ্বাসী।’ লোপেজ খাওয়ার ব্যাপারে খুব বেশি সচেতন না হলেও যোগব্যায়ামের বেলায় তিনি খুবই সচেতন। প্রতিদিন এর পেছনে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন।

 

জেনিফার অ্যানিস্টোন

তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে বয়স তার ৪০ হয়ে গেছে। জেনিফার অ্যানিস্টোনকে দেখলে এখনো মনে হয় ২০ এর কোঠাতেই আছেন তিনি। এই তারুণ্যকে ধরে রাখতে যে তাকে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয় তা কিন্তু না। তিনি মেঙ্কিান খাবার দারুণ পছন্দ করেন। মেঙ্কিান কিছু দেখলেই ভুলে যান সব ডায়েটের ব্যাপারে। কিন্তু চর্বি এবং ক্যালোরিযুক্ত খাবার একটু এড়িয়ে চলেন জেনি। তার ডায়েটে থাকে প্রচুর প্রোটিন। তিনি ঘন ঘন অল্প করে কিছু না কিছু সবসময়ই খান। তার মতে এটা তার বিপাক ক্রিয়াকে সবসময় সচল রাখে, এর ফলে এটা তার দেহে চর্বি বা মেদ জমতে দেয় না। জেনিফার অ্যানিস্টোনের খাদ্য তালিকায় যেসব খাবার গুলো প্রায়শ থাকে সেগুলো হলো- আলু, ওটমিল বা জইচূর্ণ, পিনাট বাটার, পনির, ফল এবং বাদাম। যোগব্যায়ামে বিশ্বাসী জেনি। প্রতিদিন ন্যূনতম ২০ মিনিটের জন্য হলেও যোগব্যায়াম তার করতেই হবে।

 

জেসিকা অ্যালবা

জেসিকার পরিবারের প্রতিটি সদস্যই অসম্ভব মোটা। কিন্তু তাকে দেখে এটা বোঝার উপায়ই নেই। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়ই চাইতাম নিজেকে ফিট রাখতে। তাই আমার বয়স যখন ১২, তখন থেকেই আমি নিজের খাবার নিজেই তৈরি করে খেতাম। এতে আমার ওয়ার্কআউটও হয়ে যেত আবার খাওয়ার রুচিও বাড়তো।’ তিনি তার খাদ্য তালিকার ব্যাপারে বলেন, ‘আমার সকালের নাস্তায় একদিন থাকে ডিমের অমলেট এবং ফল, আরেক দিন থাকে পনির এবং পিচ ফল। দুপুরে আমি সালাদ খাই। রাতে সব্জি এবং মাছ অথবা মুরগি দিয়ে চালাই। এছাড়াও দিনের বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজন মতো আমি শুকনো এবং হালকা খাবার অথবা একটু চকোলেট অথবা স্ট্রবেরি, ঠাণ্ডা দই খেয়ে থাকি। আমি খুব বেশি মিষ্টি এবং রুটি একদমই খাই না।’ অ্যালবা জানান, তিনি প্রতিদিন একঘণ্টা সময় তার নিজস্ব জিমে কাটান। সেখানে তিনি ট্রেডমিলে কিছুক্ষণ দৌড়ান, এরপর পুশ-আপ করেন, এরপর আবার ট্রেডমিল। সবশেষে নিজের কাঁধের সৌন্দযর্্যকে ধরে রাখতে কিছু বিশেষ ব্যায়াম করেন
যা তার ট্রেইনার তাকে দেখিয়ে দেন।

এমন হরেক রকমের থেরাপি, মন্ত্র সাধন করেই সুন্দরীরা ঠিক রাখছে তাদের ফিগার।  দিন শেষে সৌন্দর্যই মুখ্য।।

(Visited 476 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন