গেম অফ থ্রোন্স (Game of Thrones aka GoT) টিভি সিরিজ সম্পর্কে কিছু মজার তথ্য
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

গেম অফ থ্রোন্সের মূল ঔপন্যাসিক জর্জ আর. আর. মার্টিনকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, এই অন্তহীন যুদ্ধকে থামানোর কোন পরিকল্পনা তাঁর আছে কিনা। তিনি দুষ্টু হেসে বলেছিলেন, তাঁর পরবর্তী বই হবে কবরস্থান থেকে উড়ে আসা ছাই আর বরফের বর্ণনা নিয়ে।

যা হোক, এখনো পর্যন্ত আমরা চাই না এই বই বের হোক। যতদিন পর্যন্ত বোরিং না লাগে, চলতে থাকুক GoT। তবে যারা সিরিজটি দেখেন নি, তাদের জন্য রইলো স্পয়লার এলার্ট।

• শো প্রচারিত হওয়ার পর লেখক জর্জ মার্টিন অভিনেতা জ্যাক গ্লিসনকে (কিং জফ্রে) একটা চিঠি পাঠিয়েছিলেন, যেখানে লেখা ছিল – “Congratulations, everyone hates you!”

• কিং জোফ্রে ব্যারাথিওন চরিত্রটি তৈরি করা হয়েছে রোম সম্রাট কালিগুলির আদলে।

jofre

• নাইট’স ওয়াচের অন্ধ মায়েস্টার এইমন টার্গারিয়ান বাস্তবেও চোখে দেখতে পান না।

• “দ্যা মাউন্টেন” (রুপায়নে Hafþór Júlíus Björnsson) বাস্তবেও দৈত্যের মতোই শক্তিশালী। তিনি সম্প্রতি ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তির খেতাব পেয়েছেন। ৩০ ফুট লম্বা এবং ৬৫০ কেজি ওজন বিশিষ্ট কাঠের গুড়ি উত্তোলনের মাধ্যমে তিনি World’s Strongest Viking competition-এর ১০০০ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলেছেন।

• ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একশো ষাটেরও বেশী মেয়েশিশুর নাম নিবন্ধন করা হয়েছে “খালিসী” নামে।

• ১৩ বছর বয়সী জোজেন রীডের চরিত্রে যখন থমাস ব্রডি স্যাংস্টার অভিনয় করতে আসেন, তখন তার বয়স ছিল ২২ বছর।

• এটিই প্রথম টিভি সিরিজ যেটা আইম্যাক্স থিয়েটারে প্রদর্শিত হয়েছে।

• হাউজ ল্যানিস্টারের অফিসিয়াল বাণী কিন্তু “A Lannister always pays his debts” নয়, বরং “Hear Me Roar!”। কিন্তু প্রথম বাক্যটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার অর্থ আবার ভালো কিছু নয়; বরং ল্যানিস্টাররা নিষ্ঠুরতার জবাব নিষ্ঠুরতা দিয়েই পরিশোধ করে।

• শো শুরুর সময় যে থিম মিউজিক বাজে, সেটার বদলে প্রযোজক ডেভিড বেনিওফ চেয়েছিলেন ল্যানিস্টারদের থিম সং “The Rains of Castamere”-কে রাখতে। কিন্তু সহ প্রযোজক ডি.বি. ওয়েস তাতে অসম্মতি জানান।

• বাস্তবে খয়েরী-কালো চুলের অধিকারী খালিসী তার মোহময়ী সাদা চুল বানাতে কখনো কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করেন নি। সময়সাপেক্ষ মেকআপ এবং দীর্ঘ উইগ ব্যবহার করে তাকে এই চুল সেট করতে হয়।

khaleesi

• সিরিজের অনেক চরিত্রের ডাকনাম অসম্মান বা রসিকতা করে দেওয়া হয়েছে। যেমন – নেড, দ্যা কিংস্লেয়ার, লিটল ফিঙ্গার, দ্যা ইম্প, দ্যা হাউন্ড, দ্যা স্পাইডার, দ্যা রেড উওম্যান, দ্যা ম্যাড কিং, দ্যা ইয়ং উল্ফ, হাফহ্যান্ড, দ্যা অনিওন নাইট ইত্যাদি।

• বইয়ে ইয়ারা গ্রেজয়ের নাম হল “আশা”। কিন্তু দর্শকরা যেন “ওশা”র সাথে গুলিয়ে না ফেলেন, এজন্য সিরিজে আশাকে “ইয়ারা” নামটি দেওয়া হয়েছে।

• সিরিজের পাইলট পর্বটি এতোটাই বাজে হয়েছিল যে, HBO চ্যানেল দ্বিতীয়বার সেটা শ্যুট করে।

• এটি পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশিবার বেআইনীভাবে ডাউনলোড করা টিভি শো। গিনেস বুকেও এই রেকর্ড স্থান পেয়েছে।

 

এখনো যদি হাঁপিয়ে না থাকেন, তাহলে নীচের পয়েন্টগুলো পড়া শুরু করতে পারেন! 

 

• পাইলট পর্বে ক্যাটলীন স্টার্ক এবং খালিসী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন যথাক্রমে জেনিফার এলে এবং তামজিন মার্চেন্ট। কিন্তু সিরিজটি যখন প্রচারের জন্য নির্বাচিত হয়, তখন তাদেরকে বাদ দিয়ে মিশেল ফেয়ার্লে এবং এমিলিয়া ক্লার্ককে নেওয়া হয় (খুশী খুশী খুশী!)।

• মেলিসান্ড্রে চরিত্রে অভিনয় করা ক্যারিস হটেনকে অফার করা হয়েছিলো সের্সেই ল্যানিস্টার চরিত্রটি। কিন্তু তিনি অন্য একটি মুভিতে ব্যস্ত থাকায় চরিত্রটি হাতছাড়া হয়ে যায় (খুব্বি ভালো হয়েছে)। পরে আসে লিনা হিডেয়ের হাতে।

cercei

• জর্জ মার্টিন বলেছেন, তাঁর “এ সং অফ আইস এন্ড ফায়ার” উপন্যাস সিরিজটি “লর্ড অফ দ্যা রিংস” উপন্যাস সিরিজ দ্বারা অনুপ্রাণিত।

• তৃতীয় সিজনে দারিও নাহারিস চরিত্রে প্রথমে এড স্ক্রেইনকে দেখা গেলেও “দ্যা ট্রান্সপোর্টার রিফুয়েল্ড” মুভিতে অভিনয়ের জন্য তিনি চরিত্রটি থেকে অব্যাহতি নেন। সেখানে আসেন মাইকেল হুইসম্যান। কিন্তু এডকেই আমার কাছে দারিও চরিত্রে পারফেক্ট লেগেছিল।

• উপন্যাসে খালিসীর চোখের রঙ বেগুনী। কিন্তু কন্টাক্ট লেন্স পড়লে এমিলিয়ার অভিনয় করতে সমস্যা হয় বলে বেগুনী চোখের ব্যাপারটা বাদ দেওয়া হয়।

• প্রথম সিজনটি প্রিমিয়ার করা হয়েছিলো এডার্ড স্টার্ক ওরফে শন বীনের জন্মদিনে (১৭ এপ্রিল)।

• সুইডেনের ভাস্টেরাস নামক শহর থেকে উপন্যাসের ওয়েস্টেরস নামটা এসেছে।

• শুধুমাত্র দুটো চরিত্রকে তাদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রতিটা এপিসোডে দেখা গেছে – এডার্ড স্টার্ক এবং রবার্ট ব্যারাথিওন।

• পর্দায় নিজের প্রথম উপস্থিতির দৃশ্যে টাইউইন ল্যানিস্টার (চার্লস ড্যান্স) সত্যি সত্যি একটা পুরুষ হরিণের নাড়ীভুঁড়ি সাফ করছিলেন। দৃশ্যটির জন্য আগেরদিন তিনি একজন কসাইয়ের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন।

• নিজের ছেলে টিরিয়নের (পিটার ডিঙ্কলেজ) প্রতি লর্ড টাইউইনের নিষ্ঠুর আচরণকে চার্লস ড্যান্স বেদনাদায়ক বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন, শ্যুটিংয়ের সময় পিটারের মতো ভালো মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করাটা তাঁর জন্য সত্যিই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়!

tarwin

• হ্যালিন (Hallyne) চরিত্রে রূপদানকারী রয় ডট্রিসকে প্রথমে গ্র্যান্ড মায়েস্টার পায়সেলিন চরিত্রটি অফার করা হয়েছিলো। কিন্তু অসুস্থ থাকার কারণে তিনি সেটা করতে পারেন নি। পরে হ্যালিন চরিত্রটি করেন।

• জন স্নো চরিত্রের জন্য প্রথমে ইওয়ান রেওনকে পছন্দ করা হয়েছিলো। কিন্তু পরে তিনি র্যা।মসে স্নো চরিত্রটি করেন (এর চেয়ে সুন্দর খবর আর হয় না!)।

• ২০১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী, HBO-র ইতিহাসে এই সিরিজটিকেই সবচেয়ে বেশী দর্শক দেখেছে (চতুর্থ সিজন দেখেছে গড়ে ১৬.১ মিলিয়ন দর্শক)।

• আলফি এলেনের (থিওন গ্রেজয়) বোন লিলি এলেনকে ইয়ারা গ্রেজয়ের চরিত্রটি অফার করা হয়েছিলো। কিন্তু সিরিজে ভাইবোনের মধ্যে স্পর্শকাতর দৃশ্য থাকায় তারা প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেন।

Game of Thrones (2011–)
Game of Thrones poster Rating: 9.5/10 (722,319 votes)
Director: N/A
Writer: David Benioff, D.B. Weiss
Stars: Peter Dinklage, Lena Headey, Emilia Clarke, Maisie Williams
Runtime: 55 min
Rated: TV-MA
Genre: Adventure, Drama, Fantasy
Released: 17 Apr 2011
Plot: Several noble families fight for control of the mythical land of Westeros.

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে King Joffrey আর তার মা Cersei Lannister কেই আমার বেশি ভাল্লাগে, ঘৃণা থেকেও যে এমন অনুভুতিও তৈরি হতে পারে তা এই সিরিজ না দেখলে বুঝতাম না। সিরিজটার এক্সাইটমেন্ট তৈরিতে এই ২ জনের অবদান আমার কাছে বেশি মনে হয়। আর ৪১ বছর বয়সী এই ভদ্রমহিলাকে ১ম দেখাতেই আমি ক্রাশ খাইছিলাম, কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত খরাপি দেখতে দেখতে ক্রাশ ফিরিয়ে নিয়ে আসছি… 😀

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন