নীল প্রজাপতিঃ প্রেমটিকে সফল বলবেন নাকি ব্যর্থ?

2

রচনাঃ মেজবাহ উদ্দিন সুমন, শিহাব শাহীন
পরিচালনাঃ শিহাব শাহীন
কুশীলবঃ জাকিয়া বারী মম, অপূর্ব, নওশাবা, মুনিরা মিঠু, আলিফ, শাহেদ প্রমুখ।
প্রচারকালঃ এনটিভির ঈদ-উল-আযহা (২০১৩) অনুষ্ঠানমালায় প্রচারিত।


আমার অনুভূতিঃ এক কথায় বলতে গেলে, অসাধারণ!


শিহাব শাহীন নামটাই এখন আমার কাছে “ভিন্নরকম” কিছুর লোগো হয়ে গেছে। লোকটা জিনিয়াস তো বটেই, তাঁর সৃষ্টিতে বেশীরভাগ সময় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা মমও প্রতিভাধর জিনিস। তাই “ফারুকী কেনো খালি তিশাকেই নেয়?” প্রশ্নের মতো “শাহীন কেনো খালি মমকেই নেয়?” প্রশ্নটা আমাকে কখনো জ্বালায় নি 😉
আমার যে বন্ধুটি “মাঝেমধ্যে নাটক, সিনেমা দেখে ফেলে”, তার কথায় দেখতে বসেছিলাম টেলিফিল্মটি। “ভিন্নধর্মের মানুষদের মধ্যে প্রেম নিয়ে বেশ সুন্দর একখান টাইম পাস” – এই ছিলো তার বর্ণনা। আর এখানেই তৈরী হলো আমার কৌতূহল।
বাংলাদেশে ভিন্ন ধর্মের প্রেম কাহিনী নিয়ে কোনো নাটক, সিনেমা কিংবা টেলিফিল্ম আমার দেখা হয়ে উঠে নি। তাই ধুড়ুম ধাড়ুম ইউটিউব ঘেঁটে বসে পড়লাম দেখতে। সত্যি বলতে কি, “সময় নষ্ট করেছি” ভাবা
দূরে থাক, কেনো কাহিনী আরেকটু বড় হলো না, এটা নিয়ে আমার আফসোস হচ্ছিলো 😛

কীভাবে ভিন্ন ধর্মের দুই তরুণ তরুণী পরস্পরের সান্নিধ্যে আসে, কীভাবে তাদের ভেতর প্রেমের ফুল ফোটে এবং একসময় সেই ফুল ঝরতে ঝরতে আবার প্রস্ফুটিত হয়, আবার ঝরে…আবার ফোটে… আবার আবার… তা নিয়েই টেলিফিল্মটি। কমেডি নয়, খাঁটি ড্রামা-সাসপেন্সের মোড়কে বাস্তব জীবনের আঁকিবুঁকি।
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে প্রেম, বিয়ে ইত্যাদি খুবই নাজুক আর লাজুক বিষয়। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী তো মঙ্গল গ্রহের ব্যাপার, স্বয়ং বাবা-মাই “ঘরের শত্রু বিভীষণ” হয়ে দাঁড়ান। এতো কিছুর পরও এই প্রেম চালিয়ে নেওয়া নির্ভর করে অনেক সাহস এবং অনেক অনেক পরিমাণ ভালোবাসার উপর। অবশ্য
অনেক ক্ষেত্রে সাহস, ভালোবাসা থাকলেও তীরে এসে তরী ডুবে যায়। পরিস্থিতির শিকার হয়ে প্রেম মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু তাতে কী? শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করে যাওয়াতেই সাচ্চা প্রেমের সার্থকতা।

3

টেলিফিল্মটি দেখে মনে হলো, “নো বাড়তি ফ্যাট, স্বাদু ডায়েট”। ঠিক যতটুকু মালমশলা খেলে বদহজমের আশংকা নেই, ঠিক ততটুকুই গেলানো হয়েছে। দুর্দান্ত কাহিনী, পদে পদে বাঁক আর নির্মম বাস্তবতার চরম উপস্থাপনার জন্য মিঃ শাহীন ধন্যবাদ পেতেই পারেন। শুধু শেষদিকে একটু ক্লিশে হয়ে গেছে কাহিনী। তবুও অসম্ভব সুন্দর আর ব্যতিক্রমী এক বিনোদন উপহার দেওয়ার জন্য অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং ক্যামেরার পেছনের সবাইকে সাধুবাদ।

মমই যেনো টেনে নিয়ে গেছেন টেলিফিল্মটি। তাঁর মতো এতো সুন্দর করে চোখ, মুখ আর শারীরিক অভিব্যক্তি এখনকার কোনো অভিনেত্রী দিতে পারেন কিনা – আমি জানি না। যদিও মমর অভিনয় নিয়ে অভিযোগ করার ফাঁক-ফোঁকর ইদানীং “উধাও” হয়ে যাচ্ছে, তবুও বলবো, ঘুরে ফিরে ওই এক নম্র-ভদ্র-শান্ত-মন খারাপ করা চরিত্র না করে উনার উচিৎ “@১৮ – অল টাইম দৌড়ের উপর” এর মতো ভিন্নধর্মী চরিত্রেও অভিনয় করা। এদিকে অপূর্বকে আমার “রমিজের আয়না”তেই প্রথম এবং শেষ ভালো লেগেছিলো। উনার অভিনয় আমার অভিব্যক্তিহীন লাগে। জানি না আর কেউ একমত হবেন কিনা 🙁 । এইখানেও নায়ক হিসেবে এই লোককে আমার পছন্দ হয় নি। কিন্তু সবকিছু মিলিয়ে অপূর্বকে অতোটা খারাপ লাগার সুযোগও আসে নি 😀 । মমকে দেখতে দেখতে ঠাইম কেটেছে।

নওশাবার অভিনয় মোটামুটি লেগেছে। ঢঙ্গী দৃশ্যগুলোতে একটু বেশী অভিনয় দেখিয়ে ফেলেছে, এই যা। তবে টনি চরিত্রে যাকে আনা হয়েছে, উনাকে (কোনো রাখঢাক ছাড়াই বলছি) আমার একবিন্দুও ভালো লাগে নি। না উনার অভিনয় ভালো লেগেছে, না পোশাক জ্ঞান। সারাটা সময় গলায় একখানা ঢাম্বুশ আকৃতির ক্রস ঝোলানো দেখে খুব বিরক্তও লেগেছে। অবাক করেছেন মুনিরা মিঠু আর তাঁর স্বামী। বারবার যেনো খাপছাড়া হয়ে যাচ্ছিলো তাঁদের অভিনয়। তবে অপূর্বর বাবা খুব সুন্দর সাপোর্টিভ অভিনয় করেছেন। ছোট্ট চরিত্রে শাহেদকেও ভালো লেগেছে।

4

এক ঘণ্টা ঊনত্রিশ মিনিট একদম হাঁ করে গিলেছি। কাহিনী, দৃশ্য, ডায়ালগ, অভিনয়, আবহ সঙ্গীত – সব মিলিয়ে প্যাকেজটি এতো মিষ্টি ছিলো যে হাঁ করা মুখে বোধহয় মাছিও ঢুকে গেছে, খেয়াল করি নি 😛
শিহাবের নির্মাণগুলোতে মমর পাশাপাশি গায়ক তাহসান এবং মিনার রহমানও দু’জন নিয়মিত মুখ। এখানে মিনারের গাওয়া “ভুল শহরে” গানটি আমার তাহসানের গাওয়া বহুল আলোচিত “কতো দূর” গানটির চেয়েও বেশী ভালো লেগেছে।

অনেকক্ষণ বকবক করলেও প্রায় কিছুই বললাম না টেলিফিল্মের ভিতরের বিষয়ে। পাঠকরা, সময় করে দেখে নিবেন প্লিজ। স্লোগানটা তো জানেনই, “দেশীয় পণ্য দেখে হোন ধন্য” 😀

(Visited 131 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ধ্রুব নীল says:

    এন্ডিংটা রোমিও-জুলিয়েট মুভির মতো হয়ে গেছে…… 😀

  2. Rouf says:

    টেলিফিল্মটি দেখে মনে হলো, “নো বাড়তি ফ্যাট, স্বাদু ডায়েট”। ডায়লগটা পড়ে কতক্ষন হাসলাম, অসাম ডায়লগ দিয়েছেন 😀

  3. মাইকেল ফ্রান্সিস করলিয়নে says:

    লোভ লাগায়া দিলা আপু… এখন তো এক্ষুনি দেখতে ইচ্ছা করতেছে 🙂 … লেখায় অশেষ ধইন্না ও স্পেশাল গ্লাডিওলাস রেখে গেলাম… 😛 😛

    • নির্ঝর রুথ says:

      দেখে ফেলেন ডন সাব। কিছু কিছু ব্যাপার বাদে বেশ ভালোই লাগবে টেলিফিল্মটি। 🙂
      (গ্লাডিওলাসের চাষ ধরেছেন নি? 😛 )

  4. সামিয়া রুপন্তি says:

    দেখব নাকি? কত্তদিন নতুন নাটক দেখি না!!!!

  5. প্রফেসর মরিয়ার্টি প্রফেসর মরিয়ার্টি says:

    দেখে নেই। তারপর বলতেছি। :p

  6. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    হুম অন্য রকম একটা কাহিনি য্দিও এমন হওয়াটা নতুন কিছুনা। বাস্তবে হয় এমন তবে শোনা যায় কত আর?

    • নির্ঝর রুথ says:

      বাস্তবে অবশ্য আমি খুব একটা দেখি নি এমন কাহিনী। কয়েকটা দেখেছি। আর বিষয়টা এতো স্পর্শকাতর যে মানুষ চিন্তা করতেও ভয় পায়। সে জায়গায় টেলিফিল্ম বানিয়ে ফেলা বেশ সাহসের কাজ 😀
      এজন্যেই বেশী ভালো লেগেছে।

  7. এখনো দেখতে পারি নাই… তাই বলতে পারছি না কিছু :/ লেখা ভালো হইছে … কবে যে দেখতে পারব 🙁

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন