THE THING (1982): উপভোগ্য এক সাইফাই হরর

পরিচালকঃ জন কারপেন্টার

IMDB Rating: 8.1

রটেন টোম্যাটোঃ টপ ক্রিটিকদের কাছ থেকে ১৭% এবং সকল ক্রিটিকদের কাছ থেকে ৭৯% পজেটিভ রিভিউ

ডাউনলোড লিংকঃ http://thepiratebay.sx/torrent/6449449

অবশেষে দেখেই ফেললাম কার্ট রাসেল অভিনীত, প্রচুর নাম ডাক শোনা এই মুভিটি। আমার কাছে বেশ ভালো লাগলো। একই কাহিনীর মুভি আরও দেখেছি। কিন্তু ১৯৮২ সালের প্রেক্ষাপটে তৈরী মুভিটি আজকের একই ঘরানার মুভির তুলনায় অনেক আধুনিক।

কাহিনীর শুরুটা বেশ রহস্যময় (অন্তত আমার কাছে লেগেছে)। শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটা কুকুরকে চেস করার দৃশ্য থেকে উত্তেজনার শুরু। তখন থেকেই কু-ডাক ডাকা শুরু করে মন। এরপর প্রতি মুহূর্তেই যেনো নতুন আতঙ্ক!

এই সেই কুকুর!

এই সেই কুকুর!

মেরু অঞ্চল দেখলেই ভয় ভয় লাগে। দুনিয়ার তাবৎ ব্যাখ্যাতীত কুকামগুলো কেনো যেনো এই অঞ্চলেই ঘটে। মেরু ঝড়, নেটওয়ার্কহীনতা, মূলকেন্দ্র থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, ক্রুদের অস্বাভাবিক আচরণ – সবই এই নির্জন এলাকায় দেখা যায়। এই মুভিও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে এই জিনিস দেখতেই আমার ভালো লেগেছে কারণ এটা আজ থেকে ৩১ বছর আগেকার সৃষ্টি।

যেই নতুন আর রহস্যময় ব্যাপার ঘটে চলেছে সবার আড়ালে, যার কথা নরওয়েজিয়ান বিজ্ঞানীরা কাউকে জানান নি, সেই ব্যাপারটাই যে একসময় সারা দুনিয়ার মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়াবে, কে ভেবেছিলো? অন্তত নরওয়ের জ্ঞানীরা তো ভাবেনই নি। এজন্য কারো সাহায্য না নিয়ে একা একা মাতব্বরি করতে গিয়ে ওরা নিজেরা তো বিপদে পড়লেনই, ফেলে দিলেন আমেরিকার ঘাঁটিকেও।

কিন্তু কী সেই বিপদ? জানার জন্য পাগলপ্রায় এক নরওয়েজিয়ানের আচরণে কৌতূহলী হয়ে কার্ট রাসেল তার দল নিয়ে রওনা দেয় নরওয়ের ঘাঁটিতে।

নরওয়ের ডেরায় রাসেলের খোঁজাখুঁজি

নরওয়ের ডেরায় রাসেলের খোঁজাখুঁজি

কিন্তু সেখানে আজব সব কাণ্ড দেখে তাদের সিক্সথ সেন্স সচেতন হয়ে উঠে। অজানা বিপদের আশংকা নিয়ে সবাই ফিরে আসে নিজেদের ডেরায়। কিন্তু বিপদটা কোনদিক থেকে, কখন, কীভাবে আসবে – সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা পরিচালক আপনাকে করতে দেবেন না।

হঠাৎ একসময় দেখবেন, কাহিনী জমে ক্ষীর। কে কাকে বিশ্বাস করবে, কেনো করবে – তা নিয়েই প্যাঁচ লেগে যায়। এরপরের অংশ আপনাদের জন্য ছেড়ে দিলাম 🙂

স্পেশাল ইফেক্ট অতোটা না বুঝলেও এখানকার কারসাজি দেখে আমি মুগ্ধ! একেবারে জীবন্ত দৃশ্য, একটুও কৃত্রিম নয়।

notun pranমুভির কাহিনী, শেষে গিয়ে মনে হলো, ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখলাম এটা পরিচালকের Apocalypse Trilogy-র প্রথম পর্ব। আরও দুটো সিকুয়েল আছে এই মুভির। যথাঃ Prince of Darkness এবং In the Mouth of Madness

তবে মুভিটি দর্শক দ্বারা সমাদৃত হলেও সমালোচকদের দ্বারা বেশ কুমালোচিত একটি মুভি। এই মুভি প্রত্যাশানুযায়ী ব্যবসা না করার পেছনে ২ সপ্তাহ আগে স্টিভেন স্পিলবারগের E.T. the Extra-Terrestrial মুক্তি পাওয়াকে দায়ী করা হয়।

২০১১ সালে একই নাম দিয়ে মুভিটির প্রিকুয়েল নির্মাণ করা হয়েছে।

হয়তো বেশীরভাগ সাইফাই প্রেমীদেরই দেখা হয়ে গেছে এই মুভি। তবুও যারা এখনো দেখেন নি, দেখতে পারেন। সময় ভালোই কাটবে – আমার ধারণা। 🙂

(Visited 156 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. মাইকেল ফ্রান্সিস করলিয়নে says:

    E.T. the Extra-Terrestrial এর উপরে এই কারণে আমার একটু রাগ আছে। এই মুভিটার জন্য থিং ভালো সমাদর পায় নাই। তবে এর ২০১১ সালের রিমেকখান চখাম ছিল। লেখায় একরাশ তাজা বকুল ফুল রেখে গেলাম, মাঝে একটা গ্লাডিওলাস … 😛 🙂 🙂

  2. James Bond says:

    আপনার লেখা পড়ে তো দেখতে ইচ্ছে করছে এখন। সুন্দর করে লিখেছেন।। 🙂

  3. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    হুম থ্রিলের গন্ধ পাচ্ছি। দেখতে বসলে বেশ আগ্রহ জন্মাবে বলে মনে হচ্ছে।

  4. অ্যান্থনি এডওয়ার্ড স্টার্ক says:

    ব্লগে কম আসেন ক্যারে? ব্লগ তো আপনের জন্য খাঁ-খাঁ করে। -_- (অজয় দেবগনের ভয়েজে কইলাম)

    • নির্ঝর রুথ says:

      উফ! তরমুজের বিচি ছাড়া আর কাউর ভয়েজ ফাইলেন না নি টনি দা?
      জাউকগা, শুইনা প্রীত হইলাম। অখন বেশী বেশী আসুম 😀

  5. ভাল্লাগছে … শুধু মুভিটা না, লেখাটাও… প্রকুয়েলটাও ভালো লাগছে।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন