নীলপরী নীলাঞ্জনাঃ টেলিফিল্ম রিভিউ
ঈদের সময় টেলিভিশনে দেখা হয় নি ঠিকই কিন্তু ইউটিউব থেকে দেখে নিলাম পরিচালক শিহাব শাহীন নির্মিত টেলিফিল্ম “নীলপরী নীলাঞ্জনা”।
14
শিহাব শাহীন জড়িত আছেন, এমন যা কিছুই দেখছি, সবকিছুই ভালো লাগছে। মনসুবা জংশন কিংবা মন ফড়িংয়ের গল্প টেলিফিল্ম দুটো অসাধারণ লেগেছে। আজকে লাগলো এটা। লোকটা সত্যিই জিনিয়াস! এগুলো টেলিফিল্ম না হয়ে ফিল্ম হয় না কেনো?

এতো প্রেমময় দেড় ঘণ্টা পরিচালক আমাকে দিয়েছেন যে আমি বুঁদ হয়ে ছিলাম তাহসান আর মমর কাহিনীতে। এখানে সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়গুলো হলোঃ

১) কাহিনীঃ

৯৫% কাহিনী বাস্তবতার নিরীখে তৈরি। শেষে তাহসান বা মমর কার্যকলাপ কিছুটা অবাস্তব (আমার কাছে) মনে হলেও বাকি কাহিনীটুকুর জন্য সেটা মাথায় অতোটা গুঁতো দেয় না।
বর্তমান সময়ে ফেসবুক (বা অন্য যেকোনো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম) কীভাবে আমাদের জীবনে সম্পর্ক সৃষ্টি করে, কীভাবে সেই সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে, কীভাবে না দেখেই কাউকে ভালোবাসা যায় কিংবা এক দেখাতেই প্রেম বা দুই দেখাতে বিয়ে পর্যন্ত গড়ানো হয়, সেসব নিয়েই কাহিনীর উপস্থাপন।
সরলভাবে লিখলাম বটে, কাহিনী কিন্তু প্যাঁচালো! ভালোই প্যাঁচানো। দেখতে বসে বিরক্তি আসার কোনো কারণ নেই।

২) ডায়ালগঃ

কোনো ফালতু কথা বলা হয় নি কিংবা সস্তা সুড়সুড়ি দেয়ার চেষ্টা করা হয় নি। দুজন অজানা মানুষ ঠিক কতখানি মুক্তমনা হয়ে কথা বলতে পারবে বা কোন ভঙ্গিতে কথা বলবে থেকে শুরু করে মা-বাবার সাথে সন্তানের কথা বা স্বামী-স্ত্রীর কথাবার্তা – সব দিকে পরিচালকের দৃষ্টি ছিলো।

৩) অভিনয়ঃ

পুরো টেলিফিল্ম জুড়ে সবার অভিনয় একটুও অভিনয় মনে হয় নি। মনে হচ্ছিলো, বাস্তব কোনো ঘটনাকেই ভিডিও করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এরকম জীবন্ত অভিনয় আমি শিহাব শাহীনের তিনটা টেলিফিল্মেই পেয়েছি।

৪) ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকঃ

সবগুলো গানের সুরই শ্রুতিমধুর ছিলো, বিশেষ করে মিনার মাহমুদের গাওয়া গানটার। কিন্তু উনার উচ্চারণ পছন্দ হয় নি। র কে ড় উচ্চারণ করাটা খুব কানে বেধেছে। তাহসানের গায়কীও ভালো লাগে নি।
13
প্রসূন আজাদ মেয়েটাকে আমি এখানেই প্রথম দেখলাম এবং সে ফাটিয়ে দিয়েছে। অবাক হয়ে ভাবছিলাম, কে এই মেয়ে? এতো সুন্দর আর সাবলীল অভিনয় করছে? পরে দেখলাম সে লাক্স তারকা। তাহসানকে কেনো জানি আমার গায়কের চেয়ে নায়ক হিসেবেই পারফেক্ট লাগে সবসময়। এখানেও সে অসাধারণ। খুব বেশি অসাধারণ ছিলো জাকিয়া বারী মম। ওর অভিব্যক্তিগুলো এতোটা পারফেক্ট ছিলো যে আমি থ মেরে গিয়েছি।

মমর বাবার চরিত্রে শামসুল আলম বকুলের অভিনয় কিংবা মমর মায়ের অভিনয় এক কথায় জোস! আর সাজু খাদেমের কথা না বললেই নয়। “ভোলার ডায়েরি” থেকেই আমি লোকটার অভিনয়ের ভক্ত। এখানে উনি যে রোল প্লে করেছেন, সেটার স্থায়ীত্ব পর্দায় বেশি না হলেও আমার কাছে এই চরিত্রটাকেই সবদিক থেকে শ্রেষ্ঠ মনে হয়েছে। চরিত্রটির পরিপক্ব মনোভাব ফুটিয়ে তোলা সহজ কাজ ছিলো না। বোঝাই যায় পরিচালক অনেক যত্ন নিয়ে টেলিফিল্মটি নির্মাণ করেছেন।

খারাপ বলতে শেষের দিকের কিছু দৃশ্য অতিরঞ্জিত লেগেছে। যারা দেখেছেন, তারা একমত হবেন কী না জানি না। তবে যারা দেখেন নি, তাদের জন্য দৃশ্যগুলোর বর্ণনা দিয়ে স্পয়লার করতে চাই না। আর গানগুলো উচ্চারণ ঠিক রেখে গাওয়ালে ভালো লাগতো। বেশ কিছু ক্ষেত্রে এক মিউজিক থেকে আরেক মিউজিকে হঠাৎ করে জাম্প করা হচ্ছিলো যা দৃশ্যের আবেদনকে বেশ কমিয়ে দিয়েছিলো।

নীলপরী গ্যাং

নীলপরী গ্যাং

সবশেষে, শিহাব শাহীনের নেক্সট প্রোজেক্টের জন্য অপেক্ষা করছি। লোকটার প্রতি আস্থা বেড়ে গিয়েছে। এমন একটা অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, শাহীন মানেই অসাধারণ কিছু!

 

**** স্পয়লার এলারট****

টেলিফিল্মে পাসওয়ার্ড নিয়ে যে কেলেংকারি দেখিয়েছে, সেটা দেখে আমিও অনেকক্ষণ তাজ্জব হয়ে ছিলাম। মমর পাসওয়ার্ড কীভাবে সাজুর কাছে গেলো যে সে মমর একাউন্টে ঢুকে তাহসানকে ব্লক করে দিবে? মম অবশ্যই সাজুর এতো কাছের মানুষ ছিল না যে তাকে নিজের পাসওয়ার্ড দিয়ে দিবে :v

(Visited 105 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    ঐ একটা বিষয় পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত ছাড়া এমনিতে ভালো লেগেছে।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন