ভিন্ন স্বাদের তামিল সাসপেন্স থ্রিলার
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

IMG_20170106_232012_814

 

Naan Sigappu Manithan
Genre:- Action,Thriller
Director:- Thiru
Cast:- Vishal, Laxmi Menon, Iniya, Jagan, Saranya Ponvannan, Sunder Ramu.
Language:- Tamil.
Critical Response
Times of India:- 3/5
Reddif:- 3/5
Box Office:- 70 cr.

‘Narcolepsy’ নামক অদ্ভুত এবং বিরল রোগে আক্রান্ত ইন্দিরান। এই রোগের কারনে অতিরিক্ত ইমোশনাল হয়ে গেলে ঘুমিয়ে পড়ে ইন্দিরান যা তার সামাজিক-ব্যাক্তিগত জীবনে বাধার কারন হয়ে দাঁড়ায়। যদিও ইন্দিরান যথেষ্ট মেধাবী এবং সে ঘুমিয়ে পড়লেও ঘুমন্ত অবস্থায় সব কথায় শুনতে পারার ক্ষমতা ছিল। ইন্দিরানকে নিয়ে যখন সমাজের মানুষ ঠাট্টা, অবজ্ঞা, অবহেলা শুরু করে তখন তার পাশে তার মা এবং দুই বন্ধু সতীশ এবং কারূনা। ইন্দিরান নিজেও বুঝতে পারে সে এই সমাজের জন্য বোঝা। সে নিজের একটি ইচ্ছার তালিকা করে। আর তালিকার প্রত্যেকটি ইচ্ছাই সে স্বীয় যোগ্যতায় পূরন করতে চায়। এর মধ্যেই, তার সাথে পরিচয় হয় মীরার। তারা দুইজনেই বুঝতে পারে তাদের জন্ম একে অপরের জন্যই হয়েছে কিন্তু তাদের এই নিষ্পাপ এবং নিঃস্বার্থ ভালবাসায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় মীরার বাবা। ইন্দিরানের রোগের কারনে সে কখনোই সেক্স করতে পারবে না আর জন্মও নিভে না কোন উত্তারিধিকারীর। একজন বাবা হিসেবে তিনি নিজের মেয়ের সাথে এমনটা হতে দিতে পারেন না!!
কাহিনী যখন দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তখনই এক বৃষ্টির রাতে মীরার উপর হামলা করে চার আগন্তুক। তারা তাকে ঘুমন্ত ইন্দিরানের সামনেই গ্যাংরেপ করে। অসহায় ইন্দিরান সবকিছু শুনতে পারলেও কিছু না করার অক্ষমতা তার দুচোখ বেয়ে দু’ফোটা অশ্রুর সাথে বৃষ্টির জলের সাথে মিশে যায়। কে সেই চার আগন্তুক? কেন তারা মীরার উপর হামলা করল? কি ই বা তাদের সাথে মীরা/ইন্দিরানের শত্রুতা? ‘narcolepsy’তে আক্রান্ত ইন্দিরান কি পারবে তাদের খুঁজে বের করতে এবং প্রিয়তমার উপর পাশবিক নির্যাতনের বদলা নিতে?
সে কি পারবে লড়তে?
-এইসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে দেখতে হবে Thiru পরিচালিত ‘Naan Sigappu Manithan’ মুভিটি।

একটি সাসপেন্স থ্রিলার হিসেবে মুভিটি দেখার মত। যদিও পরিচালক আরেকটু যত্নশীল হলে ছবিটি আরও মানসম্পন্ন হতে পারত। ছবির প্রথম অংশ বিদ্যুতের বেগে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়াংশে গিয়ে কিছুটা তালগোল পাকিয়ে ফেলে। প্রথমার্ধে থিরুর যথার্থ পরিচালনার ছাপ পাওয়া যায় মেলোড্রামাতে অসাধারন কন্ট্রোল এর কারনে।
ছবির চিত্রনাট্য এক কথায় অসাধারন। আপনাকে ছবির সাথে জুড়ে রাখতে চিত্রনাট্যে কোন প্রকার কমতি রাখেন নি Richard M. Nathan. সবকিছুতেই ছিল পরিপূর্ণতা এবং পরিপক্কতার ছাপ।
গল্প সম্পর্কে বলতে গেলে, তামিল মুভি দর্শকদের জন্য একেবারে নতুন স্বাদ। ‘Nercolespy’ এর মত সাবজেক্ট নিয়ে প্রথমবারের মত এক্সপেরিমেন্ট করা হয়েছে।

IMG_20170106_231947_104
ভিশাল নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন। তার নারকোলেস্পিক এটিটুড, ম্যাগিনেটিক এপিয়ারেন্স, কমিক টাইমিং, ডায়লগ ডেলিভারি ছিল অসম্ভব ভালো। ‘Pandiya Naadu’ তে ভিশাল যে একজন ভাল মানের অভিনেতা তার প্রমান যেমন পাওয়া গেছে তেমনি এখানেও নিজের সেরাটা দিয়েছেন। লক্সমী মেনন ছিল স্বচ্ছন্দ। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে বাকিরাও বেশ ভালো করেছেন।

মুভিটির সব থেকে প্লাস পয়েন্ট হল, মিউজিক।
What an euphonious music!!
মুভিটিতে মিউজিক দিয়েছেন G.V. Prakash Kumar. অসাধারন একজন ট্যালেন্টেড মিউজিক কম্পোজার। প্রত্যেকটা গান শ্রুতিমধুর। গানের স্ক্রিনিং গুলোও ছিল ভাল।

একজন মুভিকোর হিসেবে মুভিটি আমার কাছে ভালই লেগেছে। হয়তো ফুল এক্সপেকটেশন অনুযায়ী পাবেন না কিন্তু হতাশ হওয়ার সম্ভাবনাও কম। অন্তত ভিশালের পারফরমেন্স এবং মিউজিক ভাল লাগবে।
আমার রেটিংঃ- ৬.৫/১০

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন