সর্বকাল এর সেরা ১০ বলিউড অভিনেতার তালিকা
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

maxresdefault (1)

উপমহাদেশের সব থেকে বড় চলচ্চিত্র শিল্প মুম্বাইভিত্তিক বলিউড। দাদা সাবেব ফালকের হাত ধরে যার উত্থান হয়েছে সেই শিল্পে যুগে যুগে এমন অনেক ব্যাক্তিত্ব এসেছেন যারা এই শিল্পটিকে অন্য এক অবস্থানে নিয়ে গেছেন।

১। রাজ কাপূর

images (6)

ভারতীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি বলিউডের সর্বোচ্চ প্রতিভাধর ব্যাক্তিত্ব রাজ কাপূর। একজন অভিনেতা হিসেবে যিনি পর্বতসম প্রতিভা নিয়ে জন্মেছিলেন সেই রাজ কাপূর পরিচালনায় নিজেকে বিকশিত করেছেন তার শিল্প সমৃদ্ধ ধ্যান-জ্ঞান দিয়ে। রাজ কাপূর মুভি প্রেমীদের পাশাপাশি ফিল্ম ক্রিটিক্সদের কাছেও প্রচুর প্রশংসা পেয়েছেন। সারা বিশ্বব্যাপী রাজ কাপূর তার অভিনীত/পরিচালিত সিনেমা দ্বারা যেমন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তেমনি বলিউডের ব্রান্ড হিসেবেও প্রথমবারের মত বলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্ব দরবারে পৌছে দিয়েছেন। কান চলচ্চিত্র উৎসবে ২ বার পালমে’ডি অর এর নমিনেশন তারই সাক্ষ্য দেয়। এছাড়া ‘আওয়ারা’ ছবিতে তার ঐতিহাসিক অভিনয় টাইম ম্যাগাজিনের করা সর্বকাল এর সেরা ১০ পারফরমেন্স ১টি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তাকে বলা হত, বলিউডের ক্লার্ক ক্যাবল। এর থেকে বড় বিশেষন বোধহয় হতে পারে না। তিনি সাধারণত প্রাণচঞ্চল, সৎ এবং সমাজের ভিন্ন ঘরানার মানুষের রূপ পর্দায় চিত্রায়ন করেছেন। এছাড়া তার বেশির ভাগ ছবিই দেশপ্রেমভিত্তিক। তাকে বলা হয়, ‘দ্যা গ্রেটেস্ট শো-ম্যান অব ইন্ডিয়ান সিনেমা’..
চলচ্চিত্রে তার অবদানের জন্য ভারত সরকার তাকে ৩য় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষনে সম্মানিত করে। এছাড়া তিনি ভারতীয় সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র পুরষ্কার ‘দাদাসাহেব ফালকে’ সম্মাননা পান ১৯৭১ সালে। তার সম্মানার্থে ফিল্মফেয়ারের আজীবন সম্মাননা পুরষ্কারের নাম করা হয় রাজ কাপূরের নামে।
জন্মঃ- ১৪ই ডিসেম্বর,১৯২৪
মৃত্যুঃ- ২ই জুন,১৯৮৮
জনপ্রিয় ছবিঃ- Mera Naam Joker,Shree 420, Sangam,Awaara, Bhoot Poolish,Jis Desh Mein Ganga Rehta Hain,Daram Karam,Tesri Kasam, Chori Chori,Parvarish,Ashiq,Barsaat,Tehran,Jagte Raho,Phir Sobah Hogi,Anari,Chhalia,Prem Rog,Bobby,Satyam Shivam Saundaram,Ram Teri Ganga Maili.
ফিল্মফেয়ারঃ- ১১ (ট্যাকনিকাল সহ)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ৩

২। দিলীপ কুমার

dilip-kumar-3

‘ট্র‍্যাজিডি কিং’ দিলীপ কুমারকে বলা হয় বলিডের সর্বকালের সেরা অভিনয় ব্যাক্তিত্ব। আর কিংবদন্তি সত্যজিত রায়ের মতে ‘The Ultimate Method Actor’ যিনি কিনা যেকোন চরিত্রের পাশাপাশি যেকোন পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারতেন। একজন ভার্সেটাইল অভিনেতা হিসেবে তার ক্যারিয়ারে নিজেকে নিয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রত্যেক জন্রাই তেই রয়েছে তার সুপারহিট ক্ল্যাসিক ছবি। রোমান্টিক ছবি হিসেবে ‘আন্দাজ’, ড্রামাটিক ‘দেবদাস’,কমেডি ‘আজাদ’,সামাজিক ‘গংগা যমুনা’, একশন ‘আন’ -প্রত্যেকটা ছবিই ভারতীয় চলচ্চিত্রের কাছে বিশাল সম্পদ। এছাড়া ঐতিহাসিক কাহিনী থেকে ধার নিয়ে নির্মিত ‘মুঘল-ই-আজম’ তো বলিউডের সর্বকাল এর সেরা নির্মাণ হিসেবে স্বীকৃত। সেলিম চরিত্রে দিলীপ কুমারের শ্বাসরুদ্ধকর অভিনয় এখনও চোখ আটকে দেয় কোটি মুভিপ্রেমীদের। একজন ভারতীয় অভিনেতা হিসেবে সর্বোচ্চ এওয়ার্ড পেয়ে গিনেস বুক রেকর্ডেও নাম লেখানো হয়ে গেছে তার। অভিনয়ের জায়গায় কখনো নিজের সাথে প্রতারণা করেন নি তিনি। ছয় দশকের চেয়েও বেশি সময় অভিনয়ের সাথে থেকেও মাত্র ৬০ (বেশি) এর মত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। যার বেশিরভাগ ছবিই এক হলে শিল্পসম্মত নয়তো সুপারহিট।
চলচ্চিত্রে তার অবদানের জন্য ভারত সরকার তাকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘পদ্ম বিভূষন’ দিয়ে সম্মানিত করে। এছাড়া রেকর্ড ৮ বার সেরা অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার জিতেন তিনি।১৯৯৭ সালে পাকিস্তান সরকার তাকে সর্বোচ্চ বেসমারিক সম্মান ‘Nishan-e-Imtiaz’ দিয়ে সম্মানিত করলেও ১৯৯৯ সালে তা ফিরিয়ে দেন তিনি।
জন্মঃ- ১১ই ডিসেম্বর,১৯২২
জনপ্রিয় ছবিঃ- Jugnu,Shabnam,Andaaz,Aan,Mugal-E-Azam,Shaheed,Footpath, Hulchal,Daag,Devdas,Madhumati, Naya Daur,Musafir,Paigham,Kohinoor,Ganga Jamuna,Ram aur Shyam,Aadmi,Sangarsh,Dastaan,Gopi,Kranti,Shakti,Dil Diya Dard Liya,Leader,Saudaghar, Karma.
ফিল্মফেয়ারঃ- ৮ (রেকর্ড)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ০

৩। অমিতাভ বচ্চন

E_997_6112542

বলিউডের ‘এংরি ইয়ং ম্যান’ অমিতাভ বচ্চন দীর্ঘ সময় ধরে বলিউডে রাজত্ব করছেন। নায়কজীবনে একশন ছবি দিয়ে যিনি ভারতবাসীর কাছে সুপারস্টার হয়েছিলেন সেই শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন নিজের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ইতিহাস লিখেছেন ব্যাতিক্রমী,সাহসী,পরীক্ষামূলক এবং শিল্পসম্মত ছবিতে মাস্টার ক্লাস অভিনয়গুনে। তার শারিরীক গঠন এবং রাশভারী আওয়াজ যেমন তাকে ভিন্ন করেছে অন্যদের থেকে তেমনি নিজের সাথে আপোস না করে কাহিনী পছন্দ করে নিজেকে আজও রেখেন চির নবীন হিসেবে। তার জীবনীশক্তি সত্যিই অলৌকিক! সমসাময়িক অন্যান্য অভিনেতারা যখন অবসর জীবন যাপন করছে তখন বিগ বি. তরূনদের সাথে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করছেন কিংবা খানদের সাথে বক্স অফিসে টক্কর দিচ্ছেন। ঠিক এই জায়গাটিতেই অন্যান্যদের ছেয়ে ঢের এগিয়ে আছেন মিঃ বচ্চন। তার ক্যারিয়ারে ব্যাবসা সফল ছবির সংখ্যা অগণিত। ‘জাঞ্জীর’ ছবি দিয়ে স্টারডমের যে যাত্রা তিনি শুরু করেছিলেন তা আজও বহাল তবিয়তেই আছেন। সত্তর এবং আশির দশকে তার লোকপ্রিয়তা দেখে ফরাসি কিংবদন্তি পরিচালক François Truffaut বলেছিলেন ‘ওয়ান-ম্যান ইন্ডাস্ট্রি’। অভিনেতা হিসেবে চারবার সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পেয়েছেন তিনি যা রেকর্ড। এছাড়া রেকর্ড ৪০টি মনোনয়নের পাশাপাশি ১৫ বার ফিল্মফেয়ার জিতেছেন। চলচ্চিত্রে তার অবদানস্বরূপ ভারত সরকার তাকে ‘পদ্ম বিভূষণ’ দিয়ে সম্মানিত করে।
জন্মঃ- ১১ই অক্টোবর,১৯৪২
জনপ্রিয় ছবিঃ- Anand,Namak Haran,Don,Agneepath,Hum,Amar Akbar Anthony,Aks,Black,Paa,Piku,Mohabbatein,Sholay, Chupke Chupke, Dewaar, Kabhie Kabhie, Shahenshah,Toofan,Coolie,Naseeb,Shakti,Dostana,Silsila,Mr. Natwarlal,Suhaag,Mukadar ka Sikander,Trishul,Parvarish,Babool.
ফিল্মফেয়ারঃ- ১৫ (৪টি স্পেশাল এওয়ার্ড)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ৪

৪। দেব আনন্দ

images (9)

দেব আনন্দ বলিউড ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক অভিনেতা যিনি কিনা নিজের প্যাশন, সু অভিনয়, ফিল্মি প্রতিভা দিয়ে নিজেকে অন্যতম রোল মডেলে পরিণত করেছেন। তার অসাধারন স্টাইল বলিউডে তাকে প্রথম স্টাইল আইকনে পরিণত করে। তার কথা বলার ব্যাতিক্রমী স্টাইল আর ছবির চরিত্রের সাথে মিশে যাওয়া তাকে অন্যান্য থেকে আলাদা করেছে। বলিউডের গোল্ডেন এরা যে তিন সুপারস্টার এবং অনবদ্য অভিনেতার গুনে আরও রংগীন হয়েছে সেই তিন অভিনেতার একজন দেব আনন্দ (অন্য দুইজন দিলীপ কুমার এবং রাজ কাপূর)। দেব আনন্দ অনেক দর্শকনন্দিত ছবিতে অভিনয় করার পাশাপাশি সমালোচকদেরও প্রশংসা পেয়েছেন এমন ভিন্ন ঘরানার ছবিতেও হাত পাকিয়েছেন। ১৯৫১ সালের গুরু দত্ত নির্মিত এবং দেব আনন্দ অভিনীত ‘বাজি’ মুভিটিকে বলা হয় বলিউড ইতিহাসের প্রথম নাগরিক থ্রিলার ছবি এবং এই ছবিটি এই জন্রাতে পথপ্রদর্শক এর ভূমিকা পালন করে। র‍্যাপিড ফায়ার ডায়লগ ডেলিভারি স্টাইল এবং কিছুটা ঝোকে কথা বলার ধরন দিয়ে ৫০-৭০ পর্যন্ত রুপালি পর্দায় অডিয়েন্সদের মোহিত করে রাখেন তিনি। এছাড়া ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’,’পকেটমার’,’সিআইডি’ এরর মত ক্ল্যাসিক ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। পঞ্চাশ এর দশকের তার ছবিগুলো ছিল প্রধানত মিস্ট্রি থ্রিলার তবে ট্যাজিক ড্রামা,একশন,থ্রিলার, রোমান্টিক জন্রার ছবিতে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গাইড’ মুভিটি বলিউড ইতিহাসের সর্বকাল এর অন্যতম সেরা মুভি হিসেবে মুভিপ্রেমীদের দ্বারা স্বীকৃত। ছবির অন্যান্য উপাদানের সাথে দেব আনন্দ এবং ওয়াহেদা রেহমান এর মাস্টার পারফরমেন্স ছবিটিকে একটি ক্ল্যাসিক মাস্টারপিসে রূপান্তরিত করেছে। দেব আনন্দকে বলা হত ভারতের গিওগ্রী পেক। আর এ সম্পর্কে তার মন্তব্যটা যেকোন ইন্ডাস্ট্রির যেকোন অভিনেতার জন্যই অনুকরণীয়। “When you are at an impressionable age you make idols. But when you grow out of the phase, you develop your own persona. I don’t want to be known as India’s Gregory Peck, I am Dev Anand”
চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সরকার দ্বারা পদ্মভূষণ এ সম্মানিত হওয়ার পাশাপাশি দাদাসাহেব ফালকে আজীবন সম্মাননা পান দেব আনন্দ। এছাড়া চারবার ফিল্মফেয়ার জিতেন তিনি।
জন্মঃ- ২৬শে সেপ্টেম্বর, ১৯২৩
মৃত্যুঃ- ৩ই ডিসেম্বর, ২০১১
জনপ্রিয় ছবিঃ- Baazi,Guide,Kala Pani, C.I.D,Taxi Driver, Munimji,Afsar,Insaniyat,Paying Guest,Love Marriage, House no 44,Hum Dono,Jaal,Kaala Bazar, Jab Pyar Kisi Se Hota Hai,Funtush,Pocket Mar,Ziddi,Nau Do Gyarah,Baarish,Prem Pujari(cult).
ফিল্মফেয়ারঃ- ৪
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ১

৫। রাজেশ খান্না

images (12)

বলিউডের প্রথম সুপারস্টার রাজেশ খান্না। রোমান্টিক ছবিতে যার প্রতিধন্ধি কেবল তিনি নিজেই। বলিউডে রোমান্সের দেবতা হিসেবে যাকে মানা হয় সেই রাজেশ খান্নার এক্সপ্রেশন,বডি ল্যাংগুয়েজ,ডায়লগ ডেলিভারী সব কিছুতেই আলাদা স্টাইলের প্রচলন করেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত টানা ১৫টি হিট সিনেমা দিয়ে যে রেকর্ড কাকা তৈরী করেছেন তা আজও অক্ষুন্ন আছে। ১৯৬৬ সালে ‘আখেরি খাত’ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ১৯৬৭ সালে ‘রাজ’ ছবির মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পান। সেই শুরু এরপরেটা কেবলই ইতিহাস। অমিতাভ বচ্চনের আলোতে আসার আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন ভারতের প্রথম সুপারস্টার যার মত এত জনপ্রিয়তা বলিউডের দ্বিতীয় কোন অভিনেতা আজ পর্যন্ত পান নি। তার মাঝে কি এমন যাদু ছিল তা আজ পর্যন্ত কেউই আবিষ্কার করতে পারে নি। তবে পর্দায় তার ম্যাগনেটিক উপস্থিতি, ব্যাতিক্রমী বাচনভংগী,চলনভংগী স্পেশালি রোমান্টিক ছবিতে তার অসাধারন এক্সপ্রেশন এর সাথে বাস্তবিক সাবলীল অভিনয় চলচ্চিত্রে সফলতার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। শুধু ব্যাবসাসফল ছবিতে অভিনয় করে সস্তা জনপ্রিয়তা ধরে রাখেন নি তিনি। সমালোচকদের সন্তুষ্ঠ করার পাশাপাশি অনেক ছবিতে ক্ল্যাসিক অভিনয় প্রদর্শন করে নিজেকে সু অভিনেতা হিসেবেও প্রমাণ করেছেন তিনি। ‘আনন্দ’ ছবিতে ক্যান্সারে মৃত্যুপদযাত্রী তরুন আনন্দ এর ভূমিকায় তার এপিক অভিনয় আনন্দ চরিত্রটিকে বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা চরিত্রে পরিণত করেছে। এছাড়া ‘আরাধনা’,’কতি পাতনাগ’,’অমর প্রেম’,’দাগ’, ‘ইত্তেফাক’ এর মত ছবিতে তার অসাধারন পারফরমেন্স আজও মুভিপ্রেমীদের মনে দাগ কেটে যায়। গুরু দত্ত এর ভক্ত রাজেশ খান্না নিজের সম্পর্কে ইন্টারভিউয়ে বলেন, “My inspirations include, Dilip Kumar’s dedication and intensity, Raj Kapoor’s spontaneity, Dev Anand’s style and Shammi Kapoor’s rhythm.”- আর এই সবকিছু মিলিয়ে রাজেশ খান্না পৌছেছেন সাফল্যের এভারেস্টে এবং নিজেকে নিয়ে গেছেন এই লিজেন্ডদের কাতারে।
‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে সম্মানিত রাজেশ খান্না কোন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার না পেলেও তিনবার সেরা অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার জিতেছেন তিনি। এছাড়া ভারতের চলচ্চিত্রের সব থেকে বড় পুরষ্কার দাদা সাহেব ফালকে সম্মানেও সম্মানিত হন তিনি। ১৯৭০-৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতা।
জন্মঃ- ২৯শে ডিসেম্বর, ১৯৪২
মৃত্যুঃ- ১৮ই জুলাই, ২০১২
জনপ্রিয় ছবিঃ-Raaz,Aurat,Aradhana,Ittefaaq, Do Raaste,Khamoshi,The Train,Sachcha Juta,Khati Patnag,Anand,Hathi Mere Sathi,Dushman,Amar Prem,Mere Jibansathi,Daag,Namak Haram,Ajnabee,Dhanwan,Swarg,Dard,Avataar,Andaz,Mehbooba,Bundal Baaz, Tyaag, Palkon Ki Chhaon Mein, Naukri, Chakravyuha, Bandhan.
ফিল্মফেয়ারঃ- ৫ (২টি স্পেশাল এওয়ার্ড)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ০

৬। নাসিরুদ্দিন শাহ

naseeruddin-shah-12

নাসিরুদ্দিন শাহ- ভারতীয় চলচ্চিত্রে বিকল্প ধারা/আর্ট ফিল্মের ক্ষেত্রে যিনি এক অবিস্মরণীয় এবং প্রভাবশালী নাম। ফিল্ম ইনিস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা করে ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি অভিনয়ের ক্ষেত্রে নতুন এক দ্বার খুলে দিয়েছেন তিনি নাসিরুদ্দিন। যে নাসিরুদ্দিন শাহ (এবং অমপুরী) এর ছবি দেখে গুণী অভিনেত্রী শাবানা আজমী মন্তব্য করেছিলেন ‘এমন বদসুরত চেহারা নিয়ে বলিউডে অভিনয়ের দুঃসাহস কেমনে হয়!’ সেই নাসির নিজের অভিনয়গুনে আজ বলিউডের এক ক্রান্তিকারী অভিনেতার সম্মান নিজের করে নিয়েছেন। বলিউডের পাশাপাশি থিয়েটারও করে আসছেন তিনি। আর যে থিয়েটার অভিনয় শেখার বাস্তব বিদ্যালয়, সেখানকার এক্সপেরিমেন্ট বলিউডে এসে সফল প্রতিফলন ঘটিয়ে নিজেকে অভিনয়ের বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপালে পরিণত করেছেন তিনি। ১৯৭৯ সালে নির্মিত ‘স্পর্শ’ ছবিতে তার ক্ল্যাসিক পারফরমেন্স টাইম ম্যাগাজিনের করা সেরা ২৫ ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনয়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়া ‘ইকবাল’,’মাসুম’,”স্যার’ এর মত শৈল্পিক ছবিতে তিনি অনবদ্য অভিনয় প্রদর্শন করেছেন। ‘মোহরা’ এবং ‘সারফারোশ’ ছবিতে খল চরিত্রে তার ক্ল্যাসিক অভিনয় দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হয়েছে মুভি প্রেমিকরা। বিকল্পধারার পাশাপাশি মেইনস্ট্রিম ছবিতেও সফলতার মুখ দেখেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ।
‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে সম্মানিত নাসিরুদ্দিন ৩বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার জিতেছেন পাশাপাশি ৩ বার ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড জিতেছেন। এছাড়া ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘পার’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা হয়েছেব তিনি।
জন্মঃ- ২০শে জুলাই, ১৯৫০
জনপ্রিয় ছবিঃ- Nishant, Aakrosh, Sparsh, Mirch Masala, Albert Pinto Ko Gussa Kyon Ata Hai, Trikal, Bhavni Bhavai, Junoon, Mandi, Mohan Joshi Hazir Ho!, Ardh Satya, Katha, Jaane Bhi Do Yaaro,Sparsh,Paar,Sarfarosh,Najaayez,Mohra,Masoom,Karma,Tridev,Ishqiya,The Dirty Picture,A Wednesday, Iqbal,Chakra,Sir,Krrish.
ফিল্মফেয়ারঃ- ৩ (১৮)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ৩

৭। সঞ্জীব কুমার

images (19)

মাত্র ৪৭ বছর বয়সে পরলোক গমন করা সঞ্জীব কুমারের ক্যারিয়ারের বয়স মাত্র ২৫ বছর। আর এই সময়ে নিজের অভিনয় প্রতিভা দিয়ে মানুষের মনে আজীবনের জন্য নিজের স্থান করে নিয়েছেন। আর বলিউডের আকাশের উজ্জল তারা হয়ে থাকবেন। ছিলেন না কোন সুদর্শন ব্যাক্তিত্ব যাকে দেখতে দর্শক হলে হাংগামা বাধাবে, শারিরীক ফিটনেস ছিল স্থূল। বলিউডে সফল হতে তার একমাত্র হাতিয়ার ছিল অভিনয় আর সেই অভিনয় দিয়েই নিজেকে প্রথম সারির লিজেন্ডারি অভিনেতাতে পরিণত করেছেন তিনি। বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর আর চাপা বাচনভঙ্গি নিয়ে বেশির ভাগ রোমান্টিক থ্রিলার এবং ড্রামাটিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। কিন্তু বরাবারই নিজের অভিনয়ে ভিন্নতা এনেছেন তিনি। ফিল্মি চরিত্রকে বাস্তবিক করে পর্দায় উপস্থাপন করতে পারাটা ছিল তার সব থেকে বড় গুণ। ‘দাস্তাক’,’আন্ধি’ এর মত চলচ্চিত্রে তার সু অভিনয় ছিল এপিক ক্ল্যাসিক। এছাড়া ‘শোলে’ এবং ‘ত্রিশূল’ এর মত মেইনস্ট্রিম ছবিতে তার ক্যারাক্টারিস্টিক পোট্রেট ছিল অসাধারনের থেকেও বেশি কিছু। শোলে ছবিতে তার অভিনীত ঠাকুর চরিত্রটি আজও চিরসবুজ এবং অন্যতম সেরা বলিউড চরিত্র। গব্বরের বিপরীত হিসেবে ঠাকুর চরিত্রটি তৈরী হয় আর পর্দায় গব্বরের সাথে সমপর্যায়ে পাল্লা দিয়ে অভিনেয় করে সঞ্জীব কুমার ঠাকুরকে নিয়ে গেছেব ভিন্ন উচ্চতায়। ২বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার জয়ী সঞ্জীব কুমার ১৪ বার ফিল্মফেয়ার নমিনেশন পেলেও জিতেছেন মাত্র ২ বার। একবার সেরা অভিনেতা হিসেবে এবং আরেকবার সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে।
জন্মঃ- ৯ই জুলাই,১৯৩৮
মৃত্যুঃ- ৬ই নভেম্বর,১৯৮৫
জনপ্রিয় ছবিঃ- Dastaak,Koushish,Andhi,Sholay,Arjun Pandit,Anamika,Shikhar,Khilona,Mausam,Yeh Hai Zindegi,Angoor,Devta,Trishul,Vidata,Pati Patni aur Woh,Silsila,Papi,Feraar,Naya Din Nai Raat.
ফিল্মফেয়ারঃ- ২ (রেকর্ড ১৪ নমিনেশন)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ৩

৮। নানা পাটেকার

Mumbai Nana Patekar promotes film Ab Tak Chhappan -349046

ভারতে জন্ম নেওয়া আরেক কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকার। একজন স্টার কিংবা নায়কী ম্যাটেরিয়াল না হয়েও তিনি তার অভিনয়গুনে বলিউডে সব ধরনের চরিত্রে সফলতার সাথে অভিনয় করেছেন। নায়ক,পাশ্ব নায়ক,খল নায়ক, চরিত্রাভিনেতা -যেকোন চরিত্র সাবলীলতার সাথে দুরন্ত অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। ‘ক্রান্তিবীর’ ছবিতে এক সাধারন মানুষের চরিত্রে অভিনয় করে সমাজের বাজে দিকগুলো তুলে ধরে এক ক্রান্তিকারীতে রূপান্তরিত হওয়াতে, যে অসাধারন অনবদ্য তিনি করেছেন তা বলিউড ইতিহাসের সেরা ৫টি পারফরমেন্স এর একটি। এই ছবির প্রত্যেকটা ডায়লগ মানুষের মনে আজও গেঁথে আছে। ডায়ালগ বলার ক্ষেত্রে নিজের আলাদা এক স্টাইলের শুরু করেন তিনি যা আজও ব্যাতিক্রম হয়ে আছে। সঞ্জয় লীলা বনসালীর মিউজিক্যাল রোমান্টিক ড্রামা ‘খামোশি’ তে মনীষা কৈরালার বধির বাবা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের ভার্সেটালিটির নতুন পৃষ্ঠা উন্মোচন করেন। এছাড়া তার অভিনীত ছবি ‘পারিন্দা’,’অগ্নীস্বাক্ষী’,’অন্ধ যুদ্ধ’,’অংগার’ এ তার অভিনয় ক্লাসিক হিসেবে আজও সমাদৃত হয়। বাস্তবজীবনে কিছুটা বদমেজাজি নানার অভিনয়েও এর প্রভাব পরে। অভিনেতা নানা নিজের ভার্সেটালিটির প্রমাণ করেন ২০০৭ সালে আনিস বাজমী নির্মিত কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম’তে উদয় ভাই চরিত্রে অভিনয় করে। সেই ছবিতে তার কমিক টাইমিং সমালোচক এবং সাধারন দর্শকমহলে ব্যাপক প্রশংসা পায়। বলিউডের বাইরে মারাঠি ছবিতেও অভিনয় করেন তুখোর এই অভিনেতা।
চলচ্চিত্রে অসামান্য অভিনয়ের খাতিরে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী দিয়ে সম্মানিত করে। এছাড়া তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পান। বলিউডের অস্কার খ্যাত ফিল্মফেয়ার জিতেন চারবার। তিনি একমাত্র অভিনেতা যিনি সেরা অভিনেতা,পার্শ্ব অভিনেতা এবং খল নায়ক হিসেবে আলাদাভাবে ফিল্মফেয়ার জিতেন।
জন্মঃ- ১লা জানুয়ারি,১৯৫১
জনপ্রিয় ছবিঃ- The Attacks of 26/11, Krantiveer, Ghulam-E-Mustafa, Apaharan, Welcome,Welcome Back, Taxi no 9 2 11,Rajneeti,Bhoot,Khamoshi,Thiranga,Parinda,Agni Sakshi,Andha Yudh,Angaar,Raju Ban Gaya Gentleman, Shakti: The Power man,Ab Tak Chappan,Natsamrat,Prahaar: The Final Attack,Pratighat,Mohre.
ফিল্মফেয়ারঃ- ৪(৯)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ৩

৯। ধর্মেন্দ্র

images (23)

বলিউডের ‘He-Man’ খ্যাত ধর্মেন্দ্র বলিডের হয়ে প্রথম পৃথিবীর সেরা সুদর্শন ব্যাক্তি। গোল্ডেন এরার অন্যতম বড় তারকা ধর্মেন্দ্র। একজন অভিনেতা হিসেবে অভিনয়জীবন যেমন তার সফল তেমনি সৎ মানুষ এবং অসাধারন ব্যাক্তিত্ব হিসেবে বলিউডে রয়েছে তার ব্যাপক সুনাম। শতাধিক ছবিতে অভিনয় করা ধর্মেন্দ্র বেশিরভাগ সময়ই চেয়েছেন নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে। নিজের সময়ে যা করেছেন তাই ট্রেন্ড হয়েছে দেদারসে । তার নাচের অদ্ভুত স্টাইলে এখনও মুগ্ধ হয় নতুন প্রজন্মের বলিউডপ্রেমীরা। ক্যারিয়ারে বেশির ভাগ ছবিতে একশন ঘরানার ছবিতে কাজ করার ফলে তার দর্শক সমাদৃত নাম হয় ‘একশন কিং’। তবে শুধু একই গন্ডির ভিতর আবদ্ধ থাকেন নি তিনি। অভিনয় করেছেন কমেডি,রোমান্টিক,পেট্রোয়েটিক, ড্রামা,ফোক,পোশাকি ছবিতেও। ‘অনুপমা’ ছবিতে তার পারফরমেন্স এখন ক্ল্যাসিক হয়ে আছে। এছাড়া ‘শোলে’ ছবিতে ধর্মেন্দ্র অভিনীত “ভীরু” চরিত্রটি বলিউডের অন্যতম সেরা আয়কনিক একটি চরিত্র।
ক্যারিয়ারে অনেক দুর্দান্ত ছবিতে অভিনয় করলেও কোনদিন ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতার পুরষ্কার পান নি এই লিজেন্ডারি অভিনেতা। ১৯৯৭ সালে ফিল্ময়ারে আজীবন সম্মাননা পান তিনি।এছাড়া চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ভারত সরকার তাকে ৩য় সর্বোচ্চ বেসমারিক সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ এ ভূষিত করে। একজন অভিনেতা হিসেবে পাঞ্জাবী জাঠ ধর্মেন্দ্র কতটুকু উচ্চমানের তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে কিন্তু নিজের চেষ্টায় এতটুকু ত্রুটি রাখেন নি বলিউডের একশন-কমেডি মাসালা ছবির এই সুপারস্টার।
জন্মঃ- ৮ই ডিসেম্বর,১৯৩৫
জনপ্রিয় ছবিঃ- Phool aur Paththar,Mera Desh Mera Gaon,Tum Haseen Main Jawan, Do Chor, Chupke Chupke, Dillagi, Naukar Biwi Ka, Raja Jani, Seeta Aur Geeta, Sharafat, Naya Zamana, Patthar Aur Payal, Jugnu, Dost, Charas, Maa, Chacha Bhatija, Azaad, Daram Veer, Apne, Yamla Pagla Dewana,Katilon Ke Kaatil, Ghazab, Rajput, Bhagawat, Jeene Nahi Donga,Hukumat,Dharm Aur Qanoon, Sholay.
ফিল্মফেয়ারঃ- ২
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ১ (প্রযোজক)

১০। অজয় দেবগন

d9358c451a973b7db2ca2720f7dab610

অনেক দিগ্বজ সম্মানিত অভিনেতাদের পাশে রেখে এই তালিকার শেষ ব্যাক্তি হিসেবে রাখছি নব্বইয়ের দশকে ক্যারিয়ার শুরু করে আজও বলিউডের প্রথম সারির একজন অভিনেতা এবং খ্যাতিমান তারকা হিসেবে বলিউড কাপাচ্ছেন যিনি সেই অজয় দেবগনকে। একজন রোমান্টিক অভিনেতা হিসেবে ‘ফুল অর কাটে’ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও সময়ে সময়ে বিভিন্ন ঘরানার ছবিতে অভিনয় করে নিজেকে ভেংগেছেন তিনি। এবং প্রত্যেকবারেই তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। যেকোন চরিত্রকেই স্বার্থকতার সাথে পর্দায় চিত্রায়ন করেছেন সেটা কমিক হোক, একশন হোক কিংবা নেগেটিভ হোক। নব্বইয়ের দশকে মহেশ ভাট অভিনীত ‘জখম’ ছবিতে তার অনবদ্য অভিনয় তাকে যেমন জাতীয় স্বীকৃতি এনে দিয়েছে তেমনি ভগত সিং এর বায়োপিকে তার দুর্দান্ত অভিনয় এক নতুন অজয় দেবগনকে পরিচয় করে দিয়েছে। এমনকি, ‘সিংগাম’ এর মত মাসালা এন্টারটেইনিং ছবিতেও নিজের অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখেছেন অভিনেতা অজয় দেবগণ।
চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার তাকে চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসমারিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ দিয়ে সম্মানিত করেছে। অজয়ের থেকে অনেক দক্ষতা এবং প্রতিভাসম্পন্ন অভিনেতা দের রেখে অজয়ের স্থান নিয়ে যদি কারও প্রশ্ন থাকে তাহলে আমার একমাত্র উত্তর,বলিউড যখন অভিনয়ের থেকেও ফেইকিজম,মাসালা,এন্টারটেইনমেন্ট এর দিকে বেশি ঝুকে গিয়েছে তখন অজয় একজন সুপারস্টার হয়েও অভিনয়ের জায়গায় নিজেত ক্লাস রাখার যে প্রচেষ্টা করেছেন তা আজকের জেনারেশনের জন্য উদাহরণস্বরূপ।
জন্মঃ- ২রা এপ্রিল,১৯৬৯
জনপ্রিয় ছবিঃ- Jigar, Dilwale, Suhaag, Naajayaz, Diljale, Ishq, Hum Dil De Chuke Sanam,Zakhm,Company,Bhagat Sing,Kaal,Singaam,One upon a time in Mumbai,Golmaal Series, Dewaangi, Raincoat,Rajneeti,Gangajal,Yuva,Omkara,Apaharan,Son of Sardaar,Bol Bachchan,Drishyum, Kanoon,Lajja,Lock:Kargil,Satygraha.
ফিল্মফেয়ারঃ- ৩
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ২

Honoury Mention:-

CYMERA_20161118_145511
এছাড়া বিভিন্ন সময় রাজ কুমার,গুরু দত্ত,আমজাদ খান,অমরেশ পুরী, রাজেন্দ্র কুমার,জিতেন্দ্র,শত্রুগ্ন সিনহা,মিঠুন চক্রবর্তী, মনোজ কুমার,শাম্মী কাপূর,পৃথ্বীরাজ কাপূর,অমপুরী,পরেশ রাওয়াল,শশী কাপূর,অক্ষয় কুমার,বিনোদ খান্না,সাঈফ আলী খান,অশোক কুমার,সুনীল দত্ত,অনিল কাপূর,সঞ্জয় দত্ত,সানি দেওল,জ্যাকি শ্রফ,ঋষি কাপূর,পংকজ কাপূর,ফিরোজ খান,ফারুখ শেখ,অক্ষয় খান্না,ইরফান খান,নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী,মনোজ বাজপায়ি,বোমান ইরানি, গোবিন্দা,বলরাজ শাহনী,প্রাণ,অমপ্রকাশ,কাদের খান, জনি লিভার, রাজ বাব্বর, শক্তি কাপূর,প্রেম চোপরা,হৃতিক রোশান,অলোক নাথ,অনুপম খের,খুলবশন খারব্রান্দা,অমল পালেকার,সুনীল শেট্টী,উৎপল দত্ত,শাহেদ কাপূর,রণবীর কাপূর,মেহমুদ, আস্রানি দের মত শক্তিমান অভিনেতা ও তারাকারা অসাধারন অভিনয় নৈপণ্য প্রদর্শন করে বলিউডকে একটি সমৃদ্ধ শিল্পসমৃদ্ধ চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।

Special Mention:-

24-1440391357-16-1434433811-05-aamir-khan-salman-shahrukh_b9V6Agq
বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা পাওয়া তিন খান। সালমান খান, শাহরুখ খান এবং আমির খান। আজকের বলিউডের এতটা প্রসার হওয়ার পিছনে আছে এই তিন মহাতারকার প্রতি সাধারন দর্শক দের উন্মাদনা। সেটা উপমহাদেশেই হোক কিংবা মধ্যপ্রাচ্যই হোক। তাদের ক্যারিশমার কল্যানে বলিউড এখন ইউরোপ-আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্যান্য সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, এই তিন খান এর জন্ম না হলে বোধহয় বলিউড এতটা বিস্তৃত হতে পারত না -এটা পারসোনাল অপিনিয়ন। অভিনেতা হিসেবে শাহরুখ-আমির অনেক পরিণত হলেও সালমানের আছে হলে দর্শক টেনে নেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা। শাহরুখ যেমন ‘বাজিগর’,’আঞ্জাম’,’দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েংগে’,’দিল তো পাগল হ্যায়’,’ ভীরজারা’,’কাল হু না হো’ ‘চাক দে ইন্ডিয়া’,’দেবদাস’,’মাই নেইম ইজ খান’ এর মত অসাধারন মুভিতে অসাধারন অভিনয় করেছেন তেমনি আমির ‘কেয়ামত সে কেয়ামত’,’ফানা’,’দিল চাহতা হ্যায়’,’রাং দে বাসান্তি’,’গোলাম’,’রংগিলা’,’তারে জামিন পার’,’থ্রি ইডিয়টস’,’পিকে’,’রাজা হিন্দুস্থানী’,’মান’,সারফারোশ’,’লাগান এর মত মাস্টারপিস ছবিতে পারফেক্ট অভিনয়শৈলী দেখিয়েছেন। অন্যদিকে,১০০কোটি ক্লাবের রাজা খ্যাত সালমান এর ঝুলিতে আছে ‘ম্যানে পিয়ার কিয়া’,’সাজান’,’হাম আপকে হ্যায় কৌন’,’হাম দিল দে চুকে সানাম’,’খামোশি’,’বিবি নং ১’,’হাম সাথ সাথ হ্যায়’,’জিত’,’তেরে নাম’,’দাবাং’,’বজরাংগি ভাইজান’,’সুলতান’ এর মত ব্যাবসাসফল অসাধারন ছবি।


মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন