বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ১০ অভিনেত্রী
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

১। শাবানা

Bangladeshi-ever-green-actress-Shabana

বিউটিকুইন,লাবণ্যময়ী শাবানা যে বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বকাল এর সেরা অভিনেত্রী তা সন্দেহাতীত। বাংগালী শাশ্বত নারীর চরিত্রে তিনি ছিলেন সবথেকে সাবলীল। বাংলা ছবির যেকোন চরিত্র চিত্রায়নে তিনি যে সততা,সাবলীলতা, সাহসিকতা কিংবা প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তা তাকে নিয়ে গেছে সফলতার পর্বতে এবং নিজেকে করেছেন যেকোন অভিনেত্রীর কাছে অনুকরণীয়। কখনো প্রেমিকা, কখনো স্ত্রী, কখনো বোন, কখনো মা, কখনো ধনীর দুলারী, কখনো অবেহেলিত নারী, কখনো শহুরের মর্ডান মেয়ে, কখনো গ্রামের ডানপিঠে ললনা- এমন কোন চরিত্র নেই যা তিনি স্বার্থকতার সাথে পর্দায় তুলে ধরেন নি। Simply, She is born to be Legenadary Actress.
আলমগীরের সাথে তার জুটি সব থেকে বেশি সফল হলেও পাকিস্তানি অভিনেতা নাদিম, ফারুক, খসরু, উজ্জ্বল,বুলবুল আহমেদ,সোহেল রানা,ওয়াসিম, জসিম এর বিপরীতেও সফল ছিলেন তিনি। এমনকি নায়ক রাজ রাজ্জাকের সাথেও দাপটের সাথে অভিনয় করেছেন শাবানা।
জন্মঃ- ১৫ই জুন, ১৯৫২
জনপ্রিয় ছবিঃ- নতুন সুর,চকোরী,দোস্ত দুশমন,অবুঝ মন,সান্তনা,ভাত দে,অভিমান,অপেক্ষা, গরীবের সংসার,লক্ষীর সংসার,বধূ বিদায়, চাষীর মেয়ে,রাংগাভাবী,রজনীগন্ধা,পুত্রবধূ,গৃহলক্ষী,সমাধান,জননী,মরনের পরে, সখী তুমি কার,শেষ উত্তর,নাজমা, ছুটির ঘন্টা,মহানগর,দুই পয়সার আলতা, লাল কাজল,মা ও ছেলে,রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত,সারেন্ডার,আখেরী হামলা,ভালবাসার ঘর,জয় পরাজয়,ভাই ভাই,ব্যাথার দান,ভাইজান,সত্যের মৃত্যু নাই,সত্য মিথ্যা,স্বামী কেন আসামী, অজান্তে,আক্রোশ,স্বামীর আদেশ।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ১০

২। ববিতা

images (27)

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন অভিনেত্রী ববিতা পারিবারিক সূত্রে কিংবদন্তি জহির রায়হানের শ্যালিকা এবং চিত্রনায়িকা সুচন্দার ছোট এবং চম্পার বড় বোন। ব্যাকগ্রাউন্ড চলচ্চিত্রজগতের হওয়ায় অল্পবয়সেই ক্যামেরা, অভিনয়ের সাথে তার পরিচয় এবং সখ্যতা ছিল যা তার অভিনয় জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। অভিনেত্রী হিসেবে ববিতা কেমন তা তার অভিনীত চলচ্চিত্রসমূহ দেখলেই ঠাহর করা যায়। যেকোন চরিত্রে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা দিয়ে সাধারন দর্শক এর মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। শাবানার মত এত বিশাল ক্যানভাসে অথ্যাৎ সব ধরনের চরিত্রে সাবলীল না হলেও তিনি নিজের এক আলাদা পরিচিতি দর্শকদের কাছে তুলে ধরেছেন। ববিতা একমাত্র বাংলাদেশী অভিনেত্রী যিনি কিনা কিংবদন্তি ভারতীয় পরিচালক সত্যজিত রায়ের ছবিতে কাজ করেছেন। তিনি প্রথাগত নায়িকা ইমেজেরও পথপ্রদর্শক।ববিতা-ফারুক জুটি সব থেকে বেশি দর্শকপ্রিয়তা পেলেও সোহেল রানা,জাফর ইকবাল, জসীম এবং নায়ক রাজ রাজ্জাকের নায়িকা হিসেবেও তিনি পেয়েছিলেন আকাশচুম্বী সফলতা।
জন্মঃ- ৩০শে জুলাই,১৯৫৩
জনপ্রিয় ছবিঃ- সংসার, শেষ পর্যন্ত, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী,আলোর মিছিল, বাঁদী থেকে বেগম,ডুমুরের ফুল,বসুন্ধরা,গোলাপী এখন ট্রেনে, নয়নমনি, সুন্দরী,অনন্ত প্রেম,লাঠিয়াল,এক মুঠো ভাত,আকাঙ্খা,মা,ফকির মজনু শাহ,সূর্যগ্রহণ, এখনই সময়,কসাই,জন্ম থেকে জ্বলছি,বড় বাড়ির মেয়ে,পেনশন,দহন,দিপু নাম্বার টু,অশনি সংকেত, রামের সুমতি,পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,লাইলী মজনু,মিস লংকা,টাকা আনা পাই,অশনি সংকেত,তিনকন্যা।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ৬

৩। শাবনূর

CYMERA_20161112_130205

আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা নায়িকা শাবনূর। প্রবীণ পরিচালক ইহতেশাম এর হাত ধরে চলচ্চিত্র পর্দায় তার পথচলা শুরু। বাংলা ছবিতে নায়কের পাশে নায়িকারা যখন পতুলস্বরূপ হয়ে যাচ্ছিল তখন শাবনূর নিজের অভিনয় গুনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। নব্বই এর দশক এর শুরু থেকে এই শতকের প্রথম দশক পর্যন্ত ঢালিউডের ১নাম্বার নায়িকা হিসেবে নিজেকে অধিষ্ঠিত করেছেন। বলা হয়ে থাকে,শাবানা পরবর্তী যুগে শাবনূরেই সেরা অভিনেত্রী। কেবল নায়কের প্রেমিকা চরিত্রে নয়, ছবির কাহিনীতে শাবনূরের চরিত্রটি ছবির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হত কেবল তার অভিনয়গুনে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়,অনেক দুর্দান্ত ছবিতে চোখজোড়ানো অভিনয়ের পরেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পেয়েছেন তিনি।
প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ এর সাথে তার জুটি ইতিহাসের রূপকথা হলেও তিনি কাজ করেছেন ওমর সানি,মান্না দের মত সিনিয়র অভিনেতার পাশাপাশি রিয়াজ,ফেরদৌস, শাকিল খান,শাকিব খান, সাব্বির দের সাথে সফলতার সহিত।
জন্মঃ- ১৭ই ডিসেম্বর,১৯৭৯
জনপ্রিয় ছবিঃ- চাঁদনী রাতে,সুজন সখী, চাওয়া থেকে পাওয়া,বিক্ষোভ,স্বপ্নের ঠিকানা,তোমাকে চাই,স্বপ্নের পৃথিবী,তুমি আমার,জীবন সংসার,বিচার হবে, আনন্দ অশ্রু, তুমি শুধু তুমি,মিলন হবে কবে,বিয়ের ফুল, স্বপ্নের পুরুষ,তোমার জন্য পাগল, নারীর মন, জীবনের গল্প,নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি,শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ, আমার প্রাণের স্বামী, ভালবাসা কারে কয়,ও প্রিয়া তুমি কোথায়, মন মানে না,মহামিলন,সবার অজান্তে, দুষ্ট ছেলে মিষ্টি মেয়ে,মন মানে না,পৃথিবী তোমার আমার,বিয়ের ফুল, বস্তির মেয়ে, অধিকার চাই, এবাদত,এই যে দুনিয়া,শিরি ফরহাদ।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ১

৪। কবরী

CYMERA_20161112_130324

সোনালী প্রজন্মের আরেক প্রভাবশালী অভিনেত্রী কবরী। প্রেমের ছবিতে তার প্রতিধন্ধী তিনি নিজেই। ডানপিঠে, বাধ না মানা নারীর চরিত্রে তিনি ছিলেন দেখার মত। অভিনয়ের সময় ডায়লগ না বলে কেবল মুখের এক্সপ্রেশন দিয়েই অনেক কিছু বুঝিয়ে দেওয়ার যে ক্ষমতা তার ছিল তা অন্য কোন অভিনেত্রীর এমনভাবে ছিল না। ভারতীয় পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্রে অসাধারন অভিনয় করেন কবরী। ‘উত্তম-সূচিত্রা’ যেমন বাংলা সিনেমার ইতিহাসের অংশ তেমনি বাংলাদেশী সিনেমা ইতিহাসে ‘রাজ্জাক-কবরী’। পর্দায় তাদের বুঝাপড়া এবং রসায়ন নীরব বিক্রিয়া ঘটাত লাখ তরুণ তরূনীর মনে। কেবল রাজ্জাক নয়, সমসাময়িক অন্যান্য প্রথম সারির অভিনেতা ফারুক,উজ্জ্বল,সোহেল রানা,বুলবুল আহমেদ,ওয়াসিম এর সাথেও তার জুটি ব্যাপক সফলতা পায়।
জন্মঃ- ৯ই জুলাই,১৯৫০
জনপ্রিয় ছবিঃ- সুতরাং,সারেং বউ,দেবদাস,ময়নামতি,নীল আকাশের নিচে,আবির্ভাব, বাঁশরী, দ্বীপ নেভে নাই,সুজনসখী,আগন্তুক,আঁকাবাঁকা, অধিকার,রংবাজ,বেঈমান,হীরামন,মাসুদ রানা,বিনিময়,কাচাকেটে হীরা,তিতাস একটি নদীর নাম,অরুণ বরুণ কিরনমালা,দর্পচূর্ণ, দুই জীবন, লালন ফকির, গুন্ডা,সাধারন মেয়ে, স্মৃতিটুকু থাক,বাহানা,চুরাবালি।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ২

৫। রোজী আফসারী

রোজী_আফসারী_(১৯৪৯–২০০৭)

একজন চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে রোজী আফসারি নিজেকে নিয়ে গেছেন কিংবদন্তীর তালিকায়। ষাটের দশকে অভিনয় শুরু করা রোজী তার ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ ছবিতেই বড় বোন,ভাবী, মা এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আর প্রত্যেকবারেই নিজেকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন অপূর্ব রূপের অধিকারী রোজী। সেসময় তার এমন এক পরিচিতি ছিল যে দেখামাত্রই তাকে শ্রদ্ধা করতে মন চাইত। সত্তর-নব্বই এর দশকে অনেক বাণিজ্যিক সফল ছবিতে অসাধারন অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান তিনি যদিও এর আগে তার ক্যারিয়ারে মাইলফলক হিসেবে কাজ করে জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবিটি। আনোয়ার হোসেনের সাথে তার জুটি সাধারন দর্শক এবং সমালোচকদের কাছে প্রশংসা পায়।
জন্মঃ- ২৩শে এপ্রিল,১৯৪৬
মৃত্যুঃ- ৯ই মার্চ, ২০০৭
জনপ্রিয় ছবিঃ- ভাইয়া, বন্ধুন, এতটুকু আশা, বেদের মেয়ে, জোয়ার ভাটা, নীল আকাশের নীচে, কাঁচকাটা হিরে, সূর্যগ্রহণ, মিন্টু আমার নাম, অশিক্ষিত, লাঠিয়াল, ফকির মজনু শাহ, নাগরদোলা, কলমীলতা, সূর্যসংগ্রাম, ওমর শরীফ, আনারকলি, চ্যালেঞ্জ, নাজমা, নরগ গরম, গীত, ঘৃণা, এই ঘর এই সংসার, ঠেকাও মাস্তান,আলোর মিছিল,ক্ষতিপূরন।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ১

৬। মৌসুমী

চিরসবুজ-বাংলা-সিনেমার-চিত্রনায়িকা-মৌসুমী-1

আধুনিক যুগের আরেক জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী। বাংলা চলচ্চিত্রের কালজয়ী অভিনেতা সালমান শাহ এর সাথে জুটি বেধে ১৯৯৩ সালে রূপালি পর্দায় আগমন ঘটে মৌসুমীর। নায়িকাসুলভ রূপবতী হওয়ার পাশাপাশি মৌসুমী একজন গুনী অভিনেত্রী ও পরিচালক। যেকোন চরিত্রে নিজের শতভাগ উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতা তার। মৌসুমী নিজেকে প্রমাণ করেছেন তার অভিনীত চরিত্রের জনপ্রিয়তা এবং স্বার্থক রূপায়ন দ্বারা । প্রায় আড়াই দশক যাবত তার মনোহরণকারী রুপ এবং দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে এখনও পুরোদমে মূল নায়িকা হিসেবে অভিনয় করে যাচ্ছেন। বাস্তবজীবনের স্বামী ওমর সানীর সাথে তার জুটি পুরো বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সানী ছাড়াও ফেরদৌস,ইলিয়াস কাঞ্চন,মান্না,আমিন খান,রুবেল, রিয়াজের সাথে অভিনীত ছবিগুলোও দর্শকপ্রিয়তা পায়।
জন্মঃ- ১১ই নভেম্বর,১৯৭৩
জনপ্রিয় ছবিঃ- গোলাপী এখন বিলেতে,সাহেব নামে গোলাম,বাবা আমার বাবা,বধূবরণ,শত্রু শত্রু খেলা,সাজঘর,মাতৃত্ব,আমি জেল থেকে বলছি,মেজর সাহেব,ইতিহাস,কষ্ট, মগের মুল্লুক,দেনমোহর, অন্তরে অন্তরে,স্নেহ, কেয়ামত থেকে কেয়ামত,লাট সাহেবের মেয়ে,মুক্তির সংগ্রাম,সত্য মিথ্যার লড়াই,খায়রুন সুন্দরী,বিশ্বপ্রেমিক,বিদ্রোহী বধূ,মিথ্যার অহংকার,লুটতরাজ,অন্ধ ভালবাসা,শান্তি চাই,আত্বত্যাগ,হারানো প্রেম।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ৩

৭। রোজিনা

Rojina-lg20150626210006

স্বর্নালী সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোজিনা বেশি জনপ্রিয়তা পান পোশাকী এবং ফোক-ফ্যান্টাসি ঘরানার ছবিতে অভিনয় করে। তবে শুধুমাত্র এই ধারাতেই আটকে থাকেন নি রোজিনা। অভিনয় করেছেন সামাজিক,পারিবারিক,রোমান্টিক,গ্রামীন,একশন,কমেডি ছবিতেও এবং সব ক্ষেত্রেই নিজের ভিন্নতার ছাপ রেখেছেন তিনি। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘অবিচার’ এ অভিনয় করে দুই দেশেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন রোজিনা। এমনকি ‘রাক্ষুসী’ ছবিতে তরুণ অভিনেতা ফেরদৌস এর বিপরীতে অভিনয় করে সমালোচকদের কাছে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছেন তিনি। সমসাময়িক শাবান,ববিতা,কবরী,শবনম,সুজাতার মত প্রতাপশালী অভিনেত্রীদের সময়ে অভিনয় করেও নিজের আলাদা আবেদন রেখেছেন আবেদনময়ী রোজিনা। সেই সময়ের প্রথম সারির সকল অভিনেতার বিপরীতে কাজ করলেও জসীম,ওয়াসিম,আলমগীর,নায়করাজ রাজ্জাক,ফারুক,ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে বেশি সফলতা পান।
জন্মঃ- ২৯শে জুলাই,১৯৫৫
জনপ্রিয় ছবিঃ- জানোয়ার,রাজমহল,মাটির মানুষ,অভিযান,শীর্ষনাগ,চম্পা চামেলী,মোকাবেলা,সংঘর্ষ,আনারকলি,রাজনন্দিনী,রাজকন্যা,শাহী দরবার,আলীবাবা সিন্দবাদ,সুলতানা ডাকু,যুবরাজ,রাজসিংসন,শাহীচোর,দ্বীপকন্যা,জিপ্সী সরদার,কসাই,জীবনধারা,রাক্ষুসী,দোলনা,রাজা মিস্ত্রী,ক্ষতিপূরন,ধনী গরীব,রাস্তার রাজা,মিস ললিতা,আশা নিরাশা।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ২

৮। পপি

CYMERA_20161112_130223

নব্বই এর দশকে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন যেসকল অভিনেত্রী তাদের মাঝে অন্যতম প্রতিভাবান এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন পপি। পপি কেবল বাণিজ্যিক ছবির মাসালাদার নায়িকা হিসেবেই পরিচিতি পান নি। পর্দায় তার অসাধারন অভিনয় দক্ষতা তাকে এনে দিয়েছে প্রশংসকদের কাছেও সুখ্যাতি। নায়িকাপ্রধান অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি এবং সেগুলা ব্যাপক সফলতাও পেয়েছে ব্যাবসায়িকভাবে। ‘গংগাযাত্রা’ ছবিতে নিচুস্তরের এক ঝাড়ুদারনির চরিত্রে পপি ছিলেন অনবদ্য এবং তার অভিনীত চরিত্রটি বাংলা বিকল্পধারার ছবিতে মাইলফলকের সৃষ্টি করেছে। সালমান শাহ এর অন্ধ ভক্ত পপি অনস্ক্রিনে অনেক অভিনেতার সাথে জুটিবদ্ধ হলেও শাকিল খান,মান্না,আমিন খান,ফেরদৌস,রুবেলের সাথে তার জুটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
জন্মঃ- ১০ই সেপ্টেম্বর,১৯৭৯
জনপ্রিয় ছবিঃ- কুলি,আমার ঘর আমার বেহেশত, জানের জান,গংগাযাত্রা,রাক্ষুসী,কারাগার,বিদ্রোহী পদ্মা,গার্মেন্টস কন্যা,জজের রায়ে ফাসি,বিদ্রোহ চারদিকে,হীরা চুনি পান্না,লাল বাদশা,রাণি কুটির বাকী ইতিহাস,মায়ের স্বপ্ন,কি যাদু করিলা,আমার বউ,বিশ্ব বাটপার,ওদের ধর,ক্ষমতার দাপট,সিটি টেরর,মেঘের কোলে রোদ,দাম দিয়ে প্রেম যায়না কেনা,কঠিন সীমার,দুজন দুজনার,কে আমার বাবা,মা যখন বিচারক,প্রানের প্রিয়তমা।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ৩

৯। চম্পা

CYMERA_20161112_130304

চম্পা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একজন গুণী অভিনেত্রী। প্রথাগত নায়িকাদের মত পর্দায় যেমন গ্ল্যামার যোগ করেছেন তেমনি অনেক পরীক্ষামূলক প্রজেক্টেও নিজেকে জড়িয়েছেন। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ছবিতে এক খুড়া মহিলার চরিত্রে অভিনয় করার যে সাহসিকতা তিনি দেখিয়েছেন তা সত্যিকার অর্থেই প্রশংসাযোগ্য। এবং সেই ছবিতে তার অভিনয়ও ছিল মাস্টারক্লাস। বারবার নিজেকে ভেংগে আবার নতুনভাবে গড়ে ভিন্ন অবতারে স্ক্রিনে এসেছেন চম্পা এবং বরাবারই সাধারণ দর্শক এর পাশাপাশি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অভিনয়জীবনে অনেক অভিনেতার বিপরীতে কাজ করলেও ইলিয়াস কাঞ্চন,মান্না এবং জাফর ইকবালের সাথে তার জুটি ছিল দর্শকনন্দিত।
জন্মঃ- ৫ই জানুয়ারি।
জনপ্রিয় ছবিঃ- পদ্মা নদীর মাঝি,লাল দরজা,টার্গেট,তিনকন্যা,লটারী,বিরহ ব্যাথা,নিষ্পাপ,সহযাত্রী,ভেজা চোখ,বাপ বেটা ৪২০,নীতিবান,কাশেম মালার প্রেম,প্রেম দিওয়ানা,শংখনীল কারাগার,অন্যজীবন,মনের মানুষ,আম্মা,ভাই,অবুঝ হৃদয়, শাস্তি,চন্দ্রগ্রহণ, পালাবি কোথায়,উত্তরের খেপ,আদিয়ার,অন্ধপ্রেম,যোগাযোগ,বানেছা পরী,ত্যাগ,গর্জন, বাসনা।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ৫

১০। পূর্ণিমা

purnima-7

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সব থেকে গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী পূর্ণিমা। অভিনেত্রী হিসেবে প্রথম সারির তিনি। বাণিজ্যিক ধারার সফল ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি ‘শোভা’, ‘শাস্তি’ এর মত বিকল্প ধারার ছবিতে অসাধারন অভিনয় করে সর্বশ্রেণীর দর্শকদের কাছে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। সময়ের দাবী মেটাতে পূর্ণিমা কখনো নিজের সাথে আপোস করেন নি। অভিনয় করেছেন নিজের পছন্দমত এহং যেখানে অভিনয়ের জায়গা আছে সেরকম চলচ্চিত্রে। রিয়াজের বিপরীতে তার সিলভার স্ক্রিনে অভিষেক হয় এবং রিয়াজের সাথেই তার জুটি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায়। এছাড়া ফেরদৌস,মান্না,আমিন খান,শাকিব খান এর বিপরীতেও সফলতার সাথে কাজ করেন পূর্ণিমা।
জন্মঃ- ১১ই জুলাই,১৯৮১
জনপ্রিয় ছবিঃ- নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি,স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ,ধোকা,ওরা আমাকে ভাল হতে দিল না,মনের মাঝে তুমি,হৃদয়ের কথা,মেঘের পরে মেঘ,আকাশ ছোয়া ভালবাসা,জামাই শ্বশুর,টাকা,টক ঝাল মিষ্টি, বাধা,মধু পূর্ণিমা, কে আমি,মায়ের চোখ,পরাণ যায় জ্বলিয়া রে,জজ ব্যারিষ্টার পুলিশ কমিশনার,মাস্তানের উপর মাস্তান,বাস্তব,মাটির ঠিকানা,মেঘলা আকাশ,লাল দরিয়া,মায়ের সম্মান,এ জীবন তোমার আমার।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃ- ১

এছাড়া লিজেন্ডারী অভিনেত্রী আনোয়ারা, সুমিতা দেবী, সুজাতা, সুচন্দা, শবনম, দিতি, শাবনাজ, ডলি জহুর,অঞ্জু ঘোষ, শরমিলী আহমেদ, অলিভিয়েরা,শাহনাজ,লিমা,কবিতা,অরুণা বিশ্বাস, শিল্পী,একা,অপু,মাহী রাও ভিবিন্ন সময়ে বাংলা চলচ্চিত্র মাতিয়েছেন।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন