বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের সারথি (১ম পর্ব)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

বাংলাদেশের সংগীত জগতে একটা বিশাল অংশজুড়ে আছে ব্যান্ড সংগীত ।
গুরু আজম খানের হাত ধরে ‘উচ্চারন’ ব্যান্ডের মাধ্যমে যে ধারাটির সূচনা ‘সোলস’, ‘চাইম’ এর হাত ধরে সে ধারাটি দিনে দিনে কেবল বিকশিতই হয়েছে।আজম খান, হ্যাপি আকন্দ, আশিকুজ্জামান টুলু,আয়ূব বাচ্চু,জেমস,নকীব খান, পীলু খান, তপন চৌধুরি, সঞ্জীব চৌধুরী,শাফীন আহমেদ,অবস্কিউর এর টিপু, মেসবাহ,সঞ্জয়,বাবনা,হামিন আহমেদ,নাসিম আলী খান,হাসান,ফজল,বিপ্লব, লাখী আখন্দ কিংবা সবার প্রিয় ম্যাক ভাই।

তবে ব্যান্ড সংগীত কে ৬৮ হাজার গ্রামের প্রত্যেকটা সাধারন মানুষের দ্বারে পৌছে দিয়েছেন যে কয়েকজন তাদের পথিকৃৎ বলা যেতে পারে যেই দুইজন মানুষ তাদের নিয়েই কিছু বলার উদ্দেশ্যে আমার এই লেখা।
(১ম পর্ব)

আয়ূব বাচ্চু 💜💜✋✋

চাটগাঁও এর ক্ষ্যাপা যুবক আয়ূব বাচ্চু এর পথচলা বাংলাদেশের ব্যান্ড শিল্পীদের আতুরঘর হিসেবে খ্যাত লিজেন্ডারি ব্যান্ড ‘সোলস’ এর মাধ্যমে।
সোলস এর গিটারিস্ট এবং ভোকাল হিসেবে যোগদান করেন তিনি। যদিও এর আগে ‘ফিলিংস’ এর হয়েও গান করেছেন বাচ্চু ভাই। তবে সোলস দিয়েই নিজেকে চেনান ক্ষ্যাপা বাচ্চু। সে সময় সোলস এর লাইন আপ দেখলে নিশ্চয়ই আপনার মাথা ঘুড়ে যাবে। নকীব খান, পীলু খান, নাসিম আলী খান, তপন চৌধুরী, আয়ূব বাচ্চু, কুমার বিশ্বজিৎ – নামগুলো পরবর্তী সময়ে বাংলা সংগীত জগতের প্রত্যেকটি ধারায় নিজেদের স্বকীয়তা দিয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে ফুটে উঠেছেন।

লাইভ কনসার্টে প্রিয় আয়ূব বাচ্চু

লাইভ কনসার্টে প্রিয় আয়ূব বাচ্চু

৮০ এর দশকের শেষ দিকে সোলস ত্যাগ করেন বাচ্চু। কারনটা অনেকটা যুক্তিসংগত বলা যেতে পারে। সে সময় সোলস মেলোডিয়াস এবং জীবনমুখী গান করলেও আয়ূব বাচ্চুর রক্তে ছিল ক্ষ্যাপামি! উড়াধূরা গান করতেই সোলস ছেড়ে নিজের ব্যান্ড দল করেন তিনি। “লাভ রুইন্স ব্লাইন্ড” অর্থাৎ এলআরবি দিয়েই নিজের আকাংখা পূরন করতে চাইলেও, তিনি এটা দিয়েই কোটি সংগীত প্রেমীকে মাতিয়ে দিয়েছেন স্বকীয় সুরসৃষ্টি এবং আবেগী গানের বিপুল সমাহার দিয়ে। হেভি রক ঘরানার তার গানগুলো যেমন উচ্ছল এবং উদ্যম আনন্দে ভাসিয়েছে আবালবৃদ্ধবনিতাকে তেমনি মেলোডি নির্ভর সৃষ্টিগুলো কখনো হাসিয়েছে আর কখনো কাঁদিয়েছে। সেই সাথে ঝংকার সৃষ্টি করেছে প্রেমিকমনে।
নব্বই এর দশকে যখন বাংলাদেশের সংগীত এর স্বর্ণযুগ চলে তখন আয়ূব বাচ্চুর সলো এবং মিক্সড এলবামগুলো দর্শকরা লুফে নিয়েছে প্রবল উতসাহে।

ইনি সেই আয়ূব বাচ্চু যার হিট গানের সংখ্যাই শতাধিক অথচ এমন অনেক হিট শিল্পী আছেন যারা ১০০টি গানই করতে পারেন নি। যেখানেই ছুঁয়েছেন সেখানেই সোনা ফলিয়েছেন তিনি। তার ‘কষ্ট পেতে ভালবাসি’,’তারা ভরা রাতে’,’ফেরারী মন’, ‘বেলাশেষে’, ‘ভাংগা মন’,’শেষ দেখা’,’শেষ চিটি’, ‘হাসতে দেখ’,’সেই তুমি’,’১০১টা স্বপ্ন’,”আবার দেখা’,’এখন অনেক রাত’,’চোখের জলের কোন রঙ হয় না’,’আতশী’,’কতদিন দেখিনি দুচোখ,’তুমিহীনা’,’নীলাঞ্জনা’,’মাধবী’,’নাটক’,’শুনতে কি পাও’,’ভালবাসি’,’ও মেয়ে’,’ও মে কি আমার বন্ধু হবে, ‘বেদনা’,’যেতে হবে’,’যেও না চলে বন্ধু’,’এক আকাশের তারা’,’ঢাকা কত দূর’,’রূপালি গিটার’,’কোন অভিযোগ’,’অপরিচিত’,’প্রতিদান চাই না’,’ঘুমন্ত শহরে’,’ঘুম ভাংগা শহরে’,’উড়াল দিব আকাশে’,”জানালায় বসা রুপালি’,’তখনো জানতে বাকি’,’উদাসী মনে’,’কেউ সুখী নয়’ এমন আরও কত শত গান আছে যা লিখতে গেলে অনেক কিছুই লেখা যাবে। প্রত্যেকটা গানে নিজেকে ভিন্নরুপে ভিন্ন আবেগে প্রকাশ করেছেন বাচ্চু।

তৎকালীন সময়ে কোন ব্যান্ডশিল্পী চলচ্চিত্রে গাইতে পারে তা ছিল অনেকটাই মিথ। তখন কিংবদন্তি সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, আরেক খ্যাপা অভিনেতা এবং প্রযোজক ডিপজলের অনুরোধে চলচ্চিত্রে গান গাওয়ান তাকে। কেবল মাত্র ১ টেকে আয়ূব বাচ্চু রেকর্ড করেন চলচ্চিত্র ইতিহাসের কালজয়ী ‘আম্মাজান’ গান। এই ‘আম্মাজান’ শিরোনামের গানটি যেমন বাচ্চুকে পৌছে দিয়েছে আর লাখ শ্রোতার হৃদয়ে তেমনি ব্যান্ড শিল্পীদের জন্য খুলে দিয়েছে চলচ্চিত্রের দোয়ার। এরপর সাগরিকা ছবির ‘সাগরিকা’, অনন্ত প্রেম মুভির টাইটেল ট্র‍্যাক, ব্যাচেলর মুভির ‘আমি প্রেমে পড়ি নি’ কিংবা মেঘলা আকাশ এর ‘কি দারুন দেখতে’ এর মত অসাধারন গান উপহার দিয়েছেন ।

লাইভ কনসার্টে আয়ূব বাচ্চু মানেই একটি ক্রেজ এর নাম। বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বকাল এর সেরা গিটারিস্ট বাচ্চুর গিটার এর ছয় তারের ঝংকার কনসার্ট এর মাটিকে যেমন কাঁপায় তেমনি প্রত্যেকটা অংগ নাড়াতে বাধ্য করে।

সম্প্রতি দুই দিনের খ্যাতি পাওয়া কিছু ব্যান্ড আয়ূব বাচ্চুর অবদান যতই অস্বীকার করুক তাতে আয়ূব বাচ্চুর কিছু যায় আসে বলে মনে হয় না। যেই বাচ্চুরা কঠোর পরিশ্রম আর অক্লান্ত সাধনা করে পাশ্চাত্য সংগীতকে দূরে ঠেলে বাংলা গানকে বিশ্ববাসীর কাছে পৌছে দিয়েছেন তাদের নিয়ে কঠুক্তি করে নিজেদের হাসির পাত্র বানানোর মানে হয় না।
বেইসবাবা কিংবা বাঁশবাবা সে যেই বাবাই হোক না কেন বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের বাবাদের তালিকায় শুরুতেই বাচ্চু মিয়া থাকবেন এটা অলিখিত চিরন্তিন সত্য।

আয়ূব বাচ্চুরা কতটা কালজয়ী তার উদাহরন দেই,
বছর কয়েক আগে একটা গান খুব পপুলার হয়েছিল। শিরোনাম ছিল ‘এক জীবন’ টাইপের কিছু একটা। সেসময় প্রায় প্রত্যেকটা মানুষের সংগ্রহে ছিল সেই গান।
কিন্তু আজ বছর খানেক পরে এসে সেই গানের কোন ছিটেফোঁটা খুজে পাচ্ছি না। এত পপুলার একটা গান যেটা কিনা বছর দুই নিজেকে মানুষের কাছে রাখতে পারল না। সেই রকম কত গান
আমরা পেয়েছি কিন্তু কালজয়ী গান খুব কমই পেয়েছি। আর কালজয়ী গানের একটা ইনস্টিটিউশান বলা যেতে পারে আয়ূব বাচ্চুকে।
যার গান শুনলে এখনো ভাবুক হয়ে উঠে মন। নিজের অজান্তেই চোখে আসে পানি আর মন হয়ে যায় ফেরারী। তারা ভরা রাতগুলোতে নীল বেদনাময় হয়ে উঠে ভালবাসা।


এই পোস্টটিতে ৯ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. শেষের কথা গুলো পছন্দ হয় নি, এটা যে লিখেছে সে বাচ্চু ফ্যান আর সুমন হেটার, আপনার সনে রাখা উচিৎ ছিলো তালি কখনো এক হাতে বাজে না উনি ও কিছু কমেন্ট করেছে যার জন্য ঝামেলা হয়েছে,সুমন কি বাবা সে টা সবাই ভালো ভাবে জানে, আর আপনি আপনার টপিকস থেকে অনেক দূরের কথা লিখেছেন।

  2. Nahid Hasan Hridoy Nahid Hasan Hridoy says:

    বাংলা ব্যান্ডের গান শুনছি এই শতাব্দীর শুরু থেকে। বাচ্চু ব্যান্ড সংগীতকে সাধারন মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার অন্যতম প্রতিকৃৎ। বেসবাবাও একজন ভাল বেজিস্ট এন্ড গায়ক। কিন্তু বাচ্চুর সাথে তার তুলনা হয় না। অমিতাভ বচ্চনের সাথে যেমন রনবীর কাপূরের তুলনা চলে না -এটাও ঠিক তেমন।

    এক হাতে তালি বাজে না সত্য কিন্তু এর শুরুটা করেছেন সুমন নিজেই। তাও আবার এটা ১২ বছর পুরনো। এতদিন চুপ থাকার পর হঠাৎ করে আবার শুরু করাটা ন্যাক্কারজনকই বটে।
    একজন আয়ূব বাচ্চু হতে সুমনকে আরও পাঁঁচবার জন্ম নিতে হবে।

    ব্যান্ড সংগীতে দুই প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর মাঝে এমন কিছু হোক তা কাম্য নয়। বাচ্চুর সাথে ইচ্ছে করে লাগার বদৌলতে ক্যান্সারের নিশিকাব্য এলবামে সুমনের লিরিস্ট বস্তাপচা হয়েছে। অন্যের খারাপ চিন্তা করতে গিয়ে প্রিয় সুমন ভাই নিজের ক্যারিয়ারেও বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছেন। যারা সত্যিকারের অর্থহহীন ফ্যান তার এইই বিষয়টি স্বীকার করেছে। যে ‘চাইতে পারো ১-২’ সকলের মন জিতেছে সেখানে ৩ নাম্বার ভার্সন বস্তাপচা সস্তা লিরিকসে ভর্তি।

    এটা ইতিহাস নিয়ে লেখা একটা সিরিজ। এবং ব্যাক্তিগতভাবে আমি চাই নিরপেক্ষ থাকতে এবং এর জন্য যারপরনাই চেষ্টা করব।

  3. ariful420bd ariful420bd says:

    ব্যান্ড মিউজিকের জাষ্ট এটুকুই জানেন??? হাসালেন

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন