এ জার্নি অব মেগাস্টার:- “প্রেম” টু “প্রেম”

শিরোনাম দেখেই আপনারা বুঝে ফেলেছেন,কার কথা বলতে চলেছি….
তার সম্পর্কে ধোঁয়াশা রেখে আপনাদের বোকা বানাতে গিয়ে নিজ মহাবোকা হতে চাই না…..
ইনি
বলিউডের সব থেকে জনপ্রিয় সুপারস্টার কাম এন্টারটেইনার
আব্দুল রশিদ সালিম খান!!!!
যাকে পুরো বিশ্ব সালমান খান নামেই জানে, চিনে এবং ভালবাসে।

ইনিই বোধহয় বলিউডের একমাত্র সুপারস্টার যার মুভি হিট হতে কোন স্টোরি লাগে না,কোন মুনঃপূত ডিরেকশন লাগে না, চোখ জুড়ানো কোন চিত্রনাট্য লাগে না বা মন জুড়ানো সংগীত লাগে না কেবল যেটা লাগে সেটা হল উপিস্থিতি!
সালমান খান নামটার উপস্থিতি (২০১০ এর পরে থেকে তার রিলিজকৃত মুভিগুলো এ কথায় বলে)

সাল ১৯৬৫,২৭ ডিসেম্বর
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্ম হয় এক ছেলের।বাবা সেলিম খানের পূর্ব পুরুষ ছিল আফগান আর মা সুশিলা চারাক(সালমা খান) মহারাষ্ট্রিয়ান। আবার এই ছেলেটির মাতামহ এসেছিলেন জম্মু-কাশ্মীর থেকে। বহুজাতিক বংশ পরম্পরায় জন্ম নেয়া এই ছেলের বাবা মুসলমান এবং মা হিন্দু।

পরবর্তীতে ইন্দোর থেকে মুম্বাই এর বান্দ্রায় স্থায়ী হয় সেলিম খান ও তার পরিবার। সেলিম খান ছিলেন প্রখ্যাত কাহিনীকার। তার লেখা ডন,জাঞ্জীর,দিওয়ার,আন্দাজ,ত্রিশোল, মিঃ ইন্ডিয়া বলিউড ইতিহাসের সেরা ছবিগুলোর মাঝে অন্যতম। সেলিম খানের লেখা আর রমেশ সিপ্পির পরিচালনায় নির্মিত “শোলে” আজও বলিউড ইতিহাসের সব থেকে হিট ক্ল্যাসিক মুভি।
সেই সেলিম খানের তিন সন্তানের মাঝে সব থেকে বড় সন্তানকে নিয়েই আমার লেখা………..

স্যান্ট স্ত্যানিস্লস হাই স্কুল থেকে বিদ্যালয়ের পাঠ চুকান। তারপর গোয়ালিওরের সিন্দিয়া কলেজে কিছুদিন পড়াশোনা করেন। এরপর এল্ফিনিস্টোন কলেজে দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। আর এখান থেকেই শুরু তার অভিনয় জীবনের প্রথম ইনিংস……

পিতা বলিউডের প্রভাবশালী ব্যাক্তিত্ব হলেও অনেকটা নিজ পরিশ্রম আর যোগ্যতা দিয়েই ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের শুরুটা করেন সালমান খান। ১৯৮৮ সালে রেখা অভিনীত ‘বিবি হু তো অ্যাসি’ ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তারপরই তার অভিনয় জীবনে এসে আলো ছড়ায় রাজশ্রী প্রডাকশন এবং সুরাজ বারযাতিয়া। ১৯৮৯ সালে রিলিজ হয় “ম্যানে প্যায়ার কিয়া”…..
এরপর বাকিটা ইতিহাস,,,,,,,,
সুরাযের পরিচালনায় নির্মিত এই মুভিটি বিশ শতকের অন্যতম সেরা রোমান্টিক ক্ল্যাসিক। এটি সে বছরের হায়েস্ট গ্রোসিং মুভির তকমাও পায়। ছবিতে প্রেমরুপী সালমান খান আর ভাগ্যশ্রীর রোমান্স আজও রোমাঞ্চিত করে শত কোটি তরুন তরুনীর। মুভিটি এতোই দর্শক নন্দিত হয় যে যার ফলস্বরুপ এটি স্প্যানিশ(Te amo),ইংরেজী(When Love Calls)এবং তেলেগু(Preema Paavuralu) ভাষায় ডাবিং করা হয়। এই মুভিটির স্প্যানিশ ভার্সনটি পেরুর রাজধানী লিমাতে টানা ১০ সপ্তাহ চলে রেকর্ড সৃষ্টি করে।এই মুভির জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতার নমিনেশন পান সালমান। আর শ্রেষ্ট নতুন অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ারও পান।

এরপর ১৯৯০ সালে ‘বাগিঃএ রেভেল ফর লাভ’ বক্স অফিসে সাফল্য লাভ করে। ১৯৯১ সালে টানা রিলিজকৃত তিনটি ছবি বক্স অফিসে সুপারহিটের তকমা পায়। একই বছর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সাজান’ সমালোচকদের পাশাপাশি বক্সঅফিসে হিটও করে। এই মুভিতে সালমান খানের পাশাপাশি সঞ্জয় দত্ত এবং মাধুরী দিক্ষিত অভিনয় করেন।
১৯৯২-৯৩ সালে মুদ্রার অপর পিঠটাও দেখে ফেলেন সাল্লু মিয়া। প্রথম তিন বছর সাফল্যর জোয়াড়ে ভাসতে থাকা সালমানের কোন মুভিই এই দুই বছর হিট করে নি। এ সময় মুক্তিপ্রাপ্ত মুভিগুলোর মাঝে ছিল ‘লাভ’,’ সুরিয়াভান্সী’, ‘চন্দ্রমুখী’, ‘দিল তেরা আশিক’ প্রভৃতি। তবে সব থেকে হতাশ করে, বচ্চন-গোবিন্দা রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে খান রাজত্বের আভাস দেওয়া তিন খান এর আমির-সালমান অভিনীত ‘আন্দাজ আপনা আপনা’ এর মত ক্ল্যাসিক কমেডি মুভির ডাহা ফ্লপ হওয়া(যদিও পুনরায় রিলিজে সুপারহিট হয় মুভিটি)

তবে সালমান খানের ক্যারিয়ারে আবারও ভোরের সূর্য হয়ে আসেন সুরায এবং তার রাজশ্রী প্রডাকশন। তারা আবারও রুপালী পর্দায় নিয়ে আসে ‘প্রেম’ কে। এবার তাদের যুগলবন্দীতে নির্মিত হয় বলিউড ইতিহাসের সব থেকে বড় হিট ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন”। পারিবারিক এই ছবিটি সেই সময়ে আগের সব রেকর্ড ভেংগে দেয়। মুভিটি সারাবিশ্বে ১.৩৫ বিলিয়ন রুপি আয় করে। এই মুভিটিকে বক্স অফিস ইন্ডিয়া ‘বিগেস্ট ব্লকবাস্টারস এভার ইন ইন্ডিয়া’ তালিকাভুক্ত করে। সে বছর মুভিটি বেস্ট পপুলার মুভি ক্যাটাগরিতে জাতীয় পুরস্কার পায়। তবে এ কথা বলতে দ্বিধা হবে না হয়তো,এ মুভি যত টা না সালমান খানের তার চেয়েও বেশি মাধুরী এবং সুরায বারযাতিয়ার!!!!!!

১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় রাকেশ রোশান পরিচালিত ‘কারান-অর্জুন’। এই প্রজন্মের ড্রিম-কাস্ট সালমান-শাহরুখ অভিনীত মুভিটি ব্যাবসা সফল হয়। এবং কারান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সালমান খান সমালোচকদের প্রশংসা পান। সেই সাথে ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতার মনোনয়ন পান।
১৯৯৬ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালীর প্রথম ছবি ‘খামোশীঃদ্যা মিউজিকাল’ এ অভিনয় করেন। বক্স অফিস মাতাতে না পারলেও রাজ চরিত্রের পাগলামি গুলো সমালোচকদের বেশ আকৃষ্ট করে।
একই বছর মুক্তি পায় সানি দেওল এর সাথে একশন মুভি ‘জিত’। এই মুভির জন্য আবারও ফিল্মফেয়ারে পার্শ্ব চরিত্রের জন্য মনোনীত হন তিনি।
১৯৯৭ সালে ডেভিড ধাওয়ানের ‘জড়ুয়া’ এবং ভাই সোহেল খানের ‘আওজার’ মুক্তি পায়। দুটিই বক্স অফিসে সেমি হিটের তকমা পায়।

১৯৯৮ সালে সালমান খান ৫ টি ছবিতে অভিনয় করেন। এর মাঝে সোহেল খান নির্মিত ‘প্যায়ার কিয়া তো ডারনা কিয়া’ বছরের দ্বিতীয় সেরা ব্লকবাস্টার ছিল। এটিই কাজলের সাথে সালমান খানের একমাত্র সোলো মুভি ছিল। এই মুভির জন্যও ফিল্মফেয়ার মনোনয়ন পান। একই বছর মুক্তি পায় টুংকল খান্নার সাথে ‘যাব কিসিসে প্যায়ার হোতা হ্যায়’ যেটি ক্রিটকালি সফল হয়। এছাড়া কারান জোহারের ক্ল্যাসিক রোমান্টিক ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’তে ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেন। আর এর জন্য ফিল্মফেয়ারে পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান।
১৯৯৯ সাল ছিল সালমানময় আরেকটি বছর। রাজশ্রীর ব্যানারে নির্মিত ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছিল সুরায-সালমান যুগলবন্দীর ৩য় ছবি। পারিবারিক আবহে নির্মিত এ ছবির স্ক্রিপ্ট লেখা হয়েছিল তিন বিগেস্ট খানকে মাথায় রেখে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সালমান খানই একমাত্র অভিনয় করেন। ছবিটি সে বছরের হায়েস্ট গ্রোসিং মুভি ছিল। এছাড়া কমেডি-ড্রামা ‘বিবি নং ১’ বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার হয়। এই মুভির জন্য সালমান কমিক রোলে ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড মনোনয়ন পান।
তবে সে বছরের সব থেকে দর্শক নন্দিত মুভি ছিল সঞ্জয় লীলা বানসালীর ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’। অজয় দেবগন,ঐশ্বরিয়া রাই এবং সালমান খান পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেন এই ছবিতে। সালমান-ঐশ্বরিয়া জুটির রসায়ন ছিল চোখে পরার মত। আর সেই ক্যান্ডেল জ্বালানোর দৃশ্যটি তো বলিউডের এভারগ্রীন রোমান্টিক সিনগুলোর একটি।
প্রথম দিকের চঞ্চল-কেয়ারলেস প্রমিক সামীর আর শেষদিকে প্রেমিকাকে পেয়েও হারানোর যন্ত্রনায় আবেগক্রান্ত সামীরের বৈপরিত্যতে প্রকাশ পায় সালমান খানের অভিনয় প্রতিভা। আর শেষ দৃশ্যে সালমান খানের করুন অভিব্যাক্তি আবেগাক্রান্ত করেছে কোটি দর্শককে। আর এই মুভির জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতার মনোনয়ন পান সালমান। কিন্তু এবারও জিততে না পারাটা বেশ হতাশাজনকই বটে…..

এরপর ২০০০ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত সালমান খানের ক্যারিয়ারের অন্ধকার যুগ। এই সময় অধিকাংশ ছবিই ফ্লপ হয় তার। তবে সালমান-রানী-প্রীতি ত্রয়ীর ‘হার দিল জো প্যায়ার কারেগা’ এবং ‘চোরি চোরি চুপকে চুপকে’ মুভি দুইটি ক্রিটিক্যালি প্রশংসা পায়। এখানে সিরিয়াস কোন চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান সালমান।
এছাড়া ২০০৩ সালে তামিল ‘সেতু’ মুভির হিন্দি রিমেক ‘তেরে নাম’এ অভিনয় করে আবারও বক্স অফিস মাতান সাল্লু ভাই ও তার রাধে মোহান। ব্লকবাস্টার হওয়ার পাশাপাশি সমালোচকদেরও প্রচুর প্রশংসা পায়। আর এই ছবিতে তার লুক সে সময় ক্রেজ সৃষ্টি করেছিল।
এছাড়া এ সময় তার ‘মুঝসে শাদি কারোগি’, ‘নো এন্ট্রি’, ‘পার্টনার’, ‘গড তুসি গ্রেট হু’ মুভিগুলো ব্যাবসাসফল হয়।

একুশ শতকের প্রথম দশকে বাছ বিচার না করে নিজের ক্যারিয়ারের বারোটা বাজিয়ে দেন সাল্লু ভাই। বন্ধুদের তদবির আর কাউকে ফিরিয়ে দেওয়ার অক্ষমতাই তাকে এ সময়ে কোন ভাল মুভিতে অভিনয় করতে পারেন নি তিনি।
একের পর এক ফ্লপ দিয়ে যখন বক্স অফিস থেকে মিলিয়ে যেতে শুরু করলেন সালমান খান তখন আবারো পর্দায় রাধে এবং তার পিছিনে প্রভু দেবা।
তেলেগু সুপারস্টার মাহেশ বাবু অভিনীত ‘পক্কিরি’ ছবির অফিসিয়াল রিমেক “ওয়ান্টেড” ২০০৯ এর ঈদে রিলিজ করে বক্স অফিসের অনেক রেকর্ড ছাটাই করে। আর এই মুভি দিয়ে আবারও নিজের কক্ষপথে ফিরে আসেন।
এরপর অজয় দেবগনের সাথে ‘লন্ডন ড্রিমস’ এবং অনিল শরমার ‘ভীর’ ফ্লপ হয়।আর সেই শেষ,,,, …………,

২০১০ এ থিয়েটারে আসে “চুলবুল পান্ডে”……..
সেই সাথে শুরু হয় সালমান খানের দ্বিতীয় ইনিংস,.,,,,,
অভিনব ক্যাশাপ পরিচালিত একশন এপিক ‘দাবাং’ সালমানকে বক্স অফিস রাজায় পরিণত করে। সালমান খানকে একশন হিরো হিসেবে প্রতিষ্টিত করে এই মুভি।
১৯৮৯ সালে রোমান্টিক হিরো হিসেবে যে লোকটি বলিউডে পদার্পণ করেছিলেন সেই ব্যাক্তিই ২০১০ সালে একজন একশন হিরো হিসেবে পুনরুজ্জীবিত হয়।দাবাং- ছবিতে তার আয়রনিক
এপিয়ারেন্স বলিউডের আমদর্শক দের কাছে তাকে মেগাস্টার করে তুলে। একজন অসৎ পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করে সাধারন দর্শক তো বটেই সমালোচকদেরও প্রশংসা পান সালমান ‘ব্লকবাস্টার’ খান। এ ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতার মনোনয়ন পান তিনি।
দাবাং সালমান খানের প্রথম ছবি হিসেবে ১০০ কোটির ক্লাবে পদার্পণ করে। এটি সারাবিশ্ব ব্যাপী ২৩৫ কোটি রূপি আয় করে।

২০১১ সালে মুক্তি পায় সালমান খানের দুটি মুভি। একটি ছিল আনিস বাজমী পরিচালিত ‘রেডি’ এবং অন্যটি সিদ্দিক পরিচালিত ‘বডিগার্ড’। দুটি মুভিই ছিল রিমেক। ছবি দুটি কেবল সালমান খানের নামের উপর ব্লকবাস্টার হয়। ‘বডিগার্ড’ ২০১১ সালের সব থেকে বেশি আয় করা মুভি ছিল।এটি বিশ্বব্যাপী ২৫৩ কোটি রূপি আয় করে। এটি সবচেয়ে কম সময়ে ১০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করে রেকর্ড গড়ে। এছাড়া ‘রেডি’ ১৮৪ কোটি রূপি আয় করে।

২০১২ সালে সাবেক প্রেমিকা ক্যাটরিনা কাইফের সাথে জুটি বেধে রিলিজ করে ‘এক থা টাইগার’।মুভিতে রো এর এজেন্টের ভূমিকায়
অভিনয় করেন সালমান।কবীর খান পরিচালিত মুভিটি সালমানের আগের সব রেকর্ড ভেংগে দেয়। মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও বক্স অফিসে সফল হয়। এটি বিশ্বব্যাপী ৩২০ কোটি রুপি আয় করে যার ২৬৩ কোটি রুপিই আসে ডমেস্টিক মার্কেট থেকে।
একই বছর রিলিজ পায় একশন-এপিক ‘দাবাং’ এর দ্বিতীয় পর্ব। এটি প্রথম ছবির মত সমালোচকদের প্রশংসা না পেলেও দর্শক প্রিয়তা পায়। সালমান খান এবং কারিনা কাপুরের আইটেম সং ‘ফেবিকল’ এর বদৌলতে আবারও বক্স অফিস মাত করে আরবাজ খান পরিচালিত ‘দাবাং-২’। এটি বিশ্বব্যাপী ২৬৫ কোটি রুপি আয় করে……..

২০১০-১২ এই তিন বছরে ৫ টি ব্লকবাস্টার ফিল্ম উপহার দেন তিনি যার সব কয়টায় ১০০ কোটির উপরে আয় করে রেকর্ড গড়েন।
২০১৩ সালে তার আর কোন মুভি রিলিজ না করলেও ২০১৪ এর শুরুতেই রিলিজ করে সোহেল খান পরিচালিত ‘জয় হো’। তেলেগু ব্লকবাস্টার ‘স্ট্যালিন’ এর অনুকরনে নির্মিত সামাজিক ঘরানার এই মুভিটি সালমান খান টাইপের ব্লকবাস্টার হতে পারে নি। একটি অসাধারন গল্প নিয়ে তৈরী হলেও নির্মাণ শৈলী তেমন না হওয়ায় এটি বক্স অফিসে এভারেজ ব্যাবসা করে। সারাবিশ্বব্যাপী মাত্র ১৮৩ কোটি রূপি (!!!!) আয় করে।
২০১৪ এর ঈদে মুক্তি পায় প্রখ্যাত প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা পরিচালিত ‘কিক’। সালমান খান,জ্যাকুলিন ফারনান্দেজ, রনদীপ হুদা এবং নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দীকি অভিনীত মুভিটি মুক্তি পেয়েই বক্স অফিসে নতুন সব রেকর্ড সৃষ্টি করে।
এটি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ৩৮৫ কোটি রুপি আয় করে।

এতদিন রিমেক এবং একশন ঘরানার মুভিতে তার উজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও ২০১৫ সালে এসে নিজের কাজের গন্ডি একটু বাড়িয়ে নেন। এ সময় কবীর খান পরিচালিত হৃদয়স্পর্শী এক গল্প নিয়ে নির্মিত ‘বাজরাংগী ভাইজান’ মুভিতে অভিনয় করেন মেগাস্টার সালমান খান। পাকিস্তান থেকে ভারতে এসে হারিয়ে যাওয়া এক বোবা মেয়ে এবং পবন সিং চতুর্বেদী নামক এক বাজরাংগীবালীর ভক্তের ঐ মেয়েকে পাকিস্থানে তার পরিবারের কাছে পৌছে দেওয়া নিয়েই আবর্তিত হয়েছে ‘বাজরাংগী ভাইজান’ মুভির গল্প।
এই মুভিতে পবন সিং চতুর্বেদী চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে ছাড়িয়ে যান সালমান খান। সত্যবাদী পবনের প্রেমিকা চরিত্রে অভিনয় করেন কারিনা কাপূর খান এবং পাকিস্তানি এক সাংবাদিক চান্দ নওয়াবের চরিত্রে অভিনয় করেন তুখোর অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী। এটি সালমান-নওয়াজ জুটির দ্বিতীয় ছবি। মুভির শিশু চরিত্র অভিনয় করে হারশালী মালহোত্রা। এই মুভি বিশ্বব্যাপি ৬২৬ কোটি রূপি আয় করে। যা বলিউড ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করা মুভি।(সবার উপরে ‘পিকে’)

২০১৫ এর দিওয়ালিতে রিলিজ করে রাজশ্রী প্রডাকশনের ছবি ‘প্রেম রাতান ধান পায়ো’। সুরাজ ও সালমান যুগলবন্দীর ৪র্থ মুভি এটি। এর আগে সুরায বারযাতিয়া পরিচালিত সবশেষ দুটি মুভি ফ্লপ হয়। আর রাজশ্রীর সোনালী অতিত যখন মিয়ম্রান তখন আবারো হাত ধরলেন সালমান খান। এছাড়া বক্স অফিসে এখনও হিটের মুখ না দেখা নীল নিতেন মুকেশ এবং আরমান কোহলীও এই মুভিতে অভিনয় করেন। এছাড়া সালমানের বিপরীতে অভিনয় করেন অর্ধেক বয়সী অনিল কাপূর কন্যা সোনাম কাপূর।
রাজশ্রীর আগের আবেদন এখন আর তেমন ভাবে কাজ না করলেও সালমান খান নামক এক মনস্টারের কল্যানে ব্লকবাস্টার ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’।
এখন অবধি মুভিটি ৩৮২ কোটি^^ আয় করেছে।

'একক থা টাইগার' মুভিতে সালমান-ক্যাটরিনা

‘একক থা টাইগার’ মুভিতে সালমান-ক্যাটরিনা

এছাড়া তার হাতে এখন আছে ইয়াশ রাজ ফিল্মস এর ‘সুলতান’। যেখানে একজন কুস্তিগির এর চরিত্রে অভিনয় করবেন ভাইজান

……………এ তো বললাম সালমান খানের ফিল্ম ক্যারিয়ার নিয়ে কিন্তু টিভিতেও সবার উপরে সালমান খান। অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান,আমীর খান, অক্ষয় কুমারদের মত তারকাদের পিছনে ফেলে তার টিভি শো ‘বিগ বস’ সব থেকে বেশি টিভিআর অর্জন করা রিয়্যালিটি শো। এছাড়া তার অভিনীত মুভি ‘বাজরাংগী ভাইজান’ টিভিতে সব থেকে বেশি টিআরপি অর্জন করা চলচ্চিত্র। এছাড়া তিনি সনি টিভিতে গেইম শো ‘দশ কা দাম’ এর দুইটি সিজন উপস্থাপনা করেন। আর সে সময় এটিই ছিল টেলিভিশনের সব থেকে বেশি টিভি আর অর্জন করা টিভি-শো। এই শো এর এভারেজ টিভি আর ছিল ২.৮১ এবং পেক রেটিং ৪.৫।
বিগ বসের প্রতিটি এপিসোডের জন্য তিনি ৮-১০ কোটি রুপি সম্মানী নেন।

বলিউডে জনপ্রিয়তায় তার চেয়ে বড় সুপারস্টার আর নেই বললেই চলে। ২০১২ সালে টাইমস অব ইন্ডিয়ার সেলেব্রেটি জরিপ টাইম সেলেবেক্স চালু হয়। এটিই ভারতের সব থেকে গ্রহণযোগ্য সেলেব্রিটি রেটিং সিস্টেম। এখন পর্যন্ত ৩৬ মাসের র‍্যাংকিং প্রকাশ করেছে এই সাইটটি। যার মাঝে ১৬ মাসেই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করেন সালমান খান। এছাড়া ৬ মাস শাহরুখ খান এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করেন। ২০১২/১৩/১৪ এই তিন বছরেই টাইম সেলেবেক্স এর জরিপে শীর্ষ অভিনেতা হন সালমান খান। এছাড়া ২০০৪ সালে পিপল ম্যাগাজিনের জরিপে বিশ্বের সপ্তম এবং ভারতের প্রথম “বেস্ট লুকিং পারসন” হন। ২০১২ সালে মাদাম তুসো জাদুঘরে তার মোমের মূর্তি স্থাপন করা হয়।
এছাড়া টাইমস অব ইন্ডিয়ার জরিপে ২০১৩ সালে মোস্ট সার্চড ইন্ডিয়ান হন তিনি। ২০১৪ সালে ফোর্বস এর জরিপে ইন্ডিয়ার সব থেকে জনপ্রিয় ব্যাক্তিত্ব এবং আয়কারী তারকায় পরিণত হন তিনি। এছাড়া ২০১৫ সালে ফোর্বস এর হান্ড্রেড টপ পেইড এন্টারটেইনার এর মাঝে ৭১ তম স্থান অর্জন করে যা ভারতীয়দের মাঝে সর্বোচচ (৩৩.৫ মিলিয়ন)

ব্যাক্তিগত জীবনে অনেক কাজের জন্যই খবরের শিরোনাম হয়েছেন সালমান খান। “বিয়িং হিউম্যান” চ্যারিটির মাধ্যমে যেমন সেবাও করেছেন তেমনি গাড়ি দুর্ঘটনার মামলায় আসামী হয়ে সাজাও পেয়েছেন। এছাড়া ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ এর মুভির শুটিং এর সময় দুর্লভ প্রজাতির হরিন শিকার করায় মামলা হয় তার নামে। তাছাড়া মুম্বাই আক্রমন নিয়ে মন্তব্য করেও নিজের ইমেজ সংকটে পড়েন সালমান। এছাড়া সম্প্রতি টাইগারের মেননের ফাসিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরুপ মন্তব্য করে অনেকের চক্ষুশূলে পরিণত হন।
ব্যাক্তিগত অনেক সম্পর্কে অনেক অভিনেত্রীর সাথেই তার নাম শোনা যায়। ভাগ্যশ্রী,সংগীতা বিজলানী,সোমি আলী থেকে শুরু করে ঐশ্বরিয়া রাই হয়ে ক্যাটরিনা কাইফ পর্যন্ত।
তবে ঐশ্বরিয়ার সাথে তার সম্পর্ক শেষ হয় তিক্ত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে।
ঐশ্বরিয়ার পিতা সালমান খানের নামে থানায় ডায়েরীও করেন।

যাইহোক স্টার হিসেবে সালমান খান যেমন ছিলেন তেমনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন নতুনদের দিকে। হালের ক্রেজ হৃতিক রোশানের ফিটনেস ট্রেনার ছিলেন সালমান খান। এছাড়া অর্জন কাপুরেরও ফিটনেস ট্রেইনার ছিলেন সালমান খান।
এছাড়া সালমান অনেক পরিচালকের ছবিতে বিনা পয়সায় কাজ করেছেন। এছাড়া সালমান খান মিউজিক ডিরেক্টর হিমেশ রেশমিয়া, সাজিদ-ওয়াজিদ কে সুপারিশ করেন। মহিশ বেল কে ম্যানে প্যায়ার কিয়া ছবিতে তিনিই সাজেস্ট করেন।
গোবিন্দার পড়তি ক্যারিয়ারের সময় ‘পার্টনার’ মুভিতে কাজ করে তার ক্যারিয়ার চাংগাও করে দিয়েছেন তিনি। তাছাড়া সঞ্জয় লিলা বানসালী,ঐশ্বরিয়া রাই,ক্যাটরিনা কাইফ,স্নেহা উল্লাল,আয়েশা টাকিয়া,জ্যাকুলিন ফারনান্দেজ,জারিন খান,ডেইজি শাহ, এলি আভ্রামদের পায়ের নিচে মাঠি এনে দিতে ভূমিকা সালমান খানই রেখেছেন। এছাড়া তিনি আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরাজ পাঞ্চোলিকে এবং সুনীল শেঠীর মেয়ে আথিয়াকে নিজ প্রডাকশনের মাধ্যমে লঞ্চ করেন। এছাড়া আরমান কোহলি,নীল নিতিন মুকেশ,আদিত্য কাপূর,বরুন ধাওয়ান দের বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করেছেন।
এখনও তিনি নতুন কয়েকজন এর মেন্টর হিসেবে কাজ করছেন। এদের মাঝে তার বডিগার্ড শেরার সন্তানও রয়েছে।

আরেক সুপারস্টার ‘কিং খান’ শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারেও ভাইয়ের কমবেশি কিছুটা অবদান আছে।
সালমান খানের ছেড়ে দেওয়া আব্বাস-মাস্তানের ‘বাজিগর’ মুভিতে অভিনয় করেন শাহরুখ। আর এটিই শাহরুখের প্রথম হিট।শাহরুখ খান বলেছেন,
“সালমান খানের ছেড়ে দেওয়া মুভিতে অভিনয় করে আমি স্টার হয়েছি তাই তার অবদান নিশ্চয়ই কম নয়”
(সম্প্রতি শাহরুখ খান এক ইন্টারভিউতে এ কথা বলেছেন। আমার কাছে লিংক নেই। আমি কমেডি নাইটস উইথ কপিলের সালমান খান পর্বে শুনেছি। সালমান বাজরাংগী ভাইজান মুভির প্রমোশনে এসেছিলেন)

একজন অভিনেতা হিসেবে সালমান খান কেমন তা নিয়ে সংশয় কিংবা বিতর্ক থাকতে পারে কিন্তু স্টার পাওয়ার নিয়ে কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। অন্তত সর্বশেষ ছয় বছরের বক্স অফিস রিপোর্ট তাই বলে। ১০০ কোটির ক্লাবে সর্বোচ্চ ৯টি মুভিই তার অভিনীত…,,,,,…….,,,,,,,.

(Visited 325 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন