25th hour-কল্পিত এক সময়ের আকাঙ্ক্ষা
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

“Can you change your whole life in a day?” – হ্যা পারি, চাই কি চাই না সেইটা না বুঝেই অনেক সময় চেঞ্জ করে ফেলি । চাওয়া না চাওয়ার এই বিষয়টা হয়ত আসলে কখনো ঠিকমত বুঝেই উঠা যায় না, বুঝতে বুঝতেই হয়ত এক সময় শেষের দিন গণনা শুরু হয়ে যায়।

যাই হোক, প্রিয় একটা মুভি। একটা ছোট সময়কে, সেই সময়ের ঘটনাগুলাকে এত চমৎকারভাবে আর কোন মুভি ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে কিনা জানি না। হয়ত পেরেছে, কিন্তু এই মুভির ঘটনাগুলার সাথে নিজের জীবনের একটা সময়ের ঘটনাগুলোর এত মিল পাই, হয়ত এই কারনেই বার বার এই মুভির কথা ভাবি; মন্টির (এডওয়ার্ড নর্টন) কথা ভাবি, তার বন্ধুদের কথা ভাবি। মুভিতে নর্টনের অভিনয়ের ভিতরে যে লুকানো অনূভূতি গুলো ছিল সেগুলো যেন আমারই অনূভূতি, যে ভয়গুলো ছিল সেগুলো যেন আমার নিজের ভয়গুলোই। নিজের অনূভূতির সাথে এত অদ্ভূত মিল খুব কম মূভিতেই পেয়েছি!

মুভির মূল কাহিনী হচ্ছে মাত্র একদিনের, আর একদিন পরেই নর্টনকে চলে যেতে হবে জেলে, ৭ বছরের জন্য। সেই একটা দিন সে কাটাচ্ছে তার বন্ধু, প্রিয় প্রেমিকা, আর বাবার সাথে দেখা করে। রাতে বন্ধুদের সাথে শেষ দেখা করার সময় তার মধ্যে দেখা দেয় প্রচন্ড হতাশা, আফসোস আর ভয়। ভয় এই সময়কে হারিয়ে ফেলার কিংবা হয়ত তার চেয়েও বেশি ভয় এই সময়ের এই জীবনকে হারিয়ে ফেলার! ৭ বছর পরে সে যখন আবার ফিরে আসবে তখন কি থাকবে এই বন্ধুত্বগুলো? ততদিনে কি তার এতদিনের অতি পরিচিত দুনিয়াটা খুব অচেনা হয়ে যাবে না? সে কি পারবে এই সময়ের বন্ধু প্রেমিকার সাথে কাটানো সময়গুলোর মত করে আবার সময় কাটাতে? নর্টন বুঝতে পারে কিছুই হয়ত এইরকম থাকবে না, সবাই ব্যস্ত হয়ে যাবে নিজেদের জীবন নিয়ে, শুধু তার কাছেই ৭ বছর পরের সময়গুলাও আটকে থাকবে এই সময়ে। বুঝতে পারে, ৭ বছর পরে সে যখন আবার ফেরত আসবে তখন এই সময়ের এই জীবনে শুধু সেই পড়ে থাকবে, বাকিরা চলে যাবে ৭ বছর দূরে!

বন্ধু ফ্র্যাংক স্বান্তনা দেয়, কোন কিছুই চেঞ্জ হবে না, আবার তারা একসাথে হবে, আবার তারা আগের মত আড্ডা দিয়ে বেড়াবে, নর্টন ফিরলেই তারা একসাথে নতুন ব্যবসা শুরু করবে। নর্টন বুঝতে পারে আসলে এইরকম কিছুই হবে না, তার এখনকার জীবনটা এখানেই শেষ হতে যাচ্ছে।

এই রিভিউটা গত বছর যখন লিখেছিলাম তখন বাইরে আসার ৪ বছর চলছিল, এর মধ্যে আরও ১ বছর চলে গেল। ৫ বছর আগে ঠিক এইরকম কিছু অনূভূতি নিয়ে আমিও দেশ ছেড়েছিলাম, ৭ হাজার মাইলের দূরত্বটাকে তখন আমার কাছে জেলখানার মতই মনে হয়েছিল; দুরত্বের জেলখানা। কিন্তু নর্টনের মত এতদিনে আমিও বুঝে গেছি, আসলে এইরকম কিছুই হবে না। পার্থক্য একটা আছে অবশ্য, নর্টন ওই রাতেই বুঝে গিয়েছিল, আর আমার বুঝতে বেশ সময় লেগেছে! যতই দিন যাচ্ছে নিজের প্রিয় সেই জীবনের সব কিছু থেকেই যেন দূরত্ব  বেড়ে চলেছে।  মাঝে মাঝে নিজের জীবনটাকেই কেমন অচেনা মনে হয়। এ যেন আমার জীবন নয়, মনে হয়  অন্য কোন দেশে অন্য কারও জীবন।

মুভিতে নর্টনের অসাধারণ ডায়ালগটা মনে হয় দুনিয়ার প্রতি বিরক্ত তাবৎ মানুষের ডায়ালগ, “Fuck *you*, Fuck you and this whole city and everyone in it. Fuck the panhandlers, grubbing for money, and smiling at me behind my back……….”

যাই হোক, মুভির নাম 25th Hour কেন ? বিষয়টা বুঝা যাবে মুভির শেষ পর্যন্ত দেখলে…………

Norton dreamed of an hour which like 25th hour does not exist in reality, only in dreams :3

Error: No API key provided.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন