Frequencies (2013) – অদ্ভূৎ এক জগতের গল্প!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

“I love you, but only because you have told me to.”

অসাধারণ, মাইন্ড ব্লোয়িং, পারফেক্ট একটা মুভি! বলতেই হয় অরিজিনাল আইডিয়ার দিক দিয়ে অনেক বছরের মধ্যে আমার দেখা সেরা সাই ফাই এটা। সাই-ফাই, কিন্তু এটা রোবটদের নিয়ে না, অতি বুদ্ধিমান এআই কিংবা এলিয়েনদের নিয়েও না, ভিন কোন গ্রহ কিংবা ভিন্ন মাত্রার কোন জগত নিয়েও না, স্পেসশিপ কিংবা মহাকাশ ভ্রমণ নিয়েও না, এমনকি টাইম ট্রাভেল, টাইম লুপ নিয়েও না, একেবারেই নতুন ধরনের এক জগৎ নিয়ে মুভি। একেবারেই নতুন ধরনের জগৎ হলেও পরিচালক সিনেমার এই অল্প পরিসরেই একেবারে খুটিনাটি সহ সেই জগৎটাকে তুলে ধরতে পেরেছেন। কিন্তু এই জন্য তাকে তেমন কোন ভিজুয়াল ইফেক্টেরও সাহায্য নিতে হয় নি। ছোটছোট সিন এবং ডায়ালগের মাধ্যমেই একেবারে পূর্ণাংগরূপে ফুটিয়ে তুলেছেন সেই জগতের প্রকৃতি।

frequencies-movie-explained-4

মুভির এই জগৎ হচ্ছে ফ্রিকুয়েন্সির জগৎ। এখানে সবকিছুই ফ্রিকুয়েন্সি নির্ভর। প্রতিটা মানুষের একটা আলাদা আলাদা ফ্রিকুয়েন্সি থাকে। যার ফ্রিকুয়েন্সি যত বেশি তার সাথে প্রকৃতি বা পরিবেশের সিংক হয় তত ভালো। শুধু প্রাকৃতিক ঘটনাই না, প্রাত্যহিক সব ঘটনার সাথেই তার সিংক হয় খুব ভালো, এমনকি সময়ের সাথেও।এই কারণে তাকে মনে হয় খুব ভাগ্যবান। তার সব কিছুই খাপে মিলে যায় প্রাকৃতিক ঘটনার সাথে। তার কখনও ট্রেন মিস হয় না, গাড়ি তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার একেবারে আগ মুহূর্তে সে রাস্তা পার হয়ে যায় কোনদিকে না তাকিয়েই, তার কাছে টাকা না থাকলেও কারও একজনের পকেট থেকে পড়ে যাওয়া টাকা তার সামনে এসেই হাজির হয় ইত্যাদি। আবার যার ফ্রিকুয়েন্সি বেশি তার বুদ্ধিমত্তাও হয় বেশি।

তো ম্যারি এবং জ্যাক হচ্ছে এই জগতের দুই বাসিন্দা। ম্যারির ফ্রিকুয়েন্সি হচ্ছে অস্বাভাবিক রকমের বেশি, কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে জ্যাকের ফ্রিকুয়েন্সি হচ্ছে অস্বাভাবিক রকমের কম, একেবারে নেগেটিভ। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই জ্যাক ম্যারি কে ভালোবাসে। তবে সমস্যা হচ্ছে তাদের ফ্রিকুয়েন্সি একেবারে বিপরীত প্রান্তে হওয়ায় তারা একসাথে ১ মিনিটের বেশি কাছাকাছি থাকতে পারেনা, কিছু একটা গোলমাল লেগে যায় প্রকৃতিতে কিংবা পরিবেশে। আবার ম্যারি হচ্ছে খুব বেশি বুদ্ধিমান, ছোটবেলা থেকেই সে পুরোপুরি সাইন্টিফিক মেথডে সব কিছুর বিচার করে, সব কিছু নিয়েই সে পরীক্ষা করে, সব কিছুর মধ্যেই যুক্তি বা কারণ খুঁজে, আবেগ জিনিসটা তার মধ্যে একেবারেই নাই। জ্যাক তার কাছে আসে ভালোবাসার টানে, কিন্তু ম্যারির কাছে পুরোটাই বৈজ্ঞানীক পরীক্ষা, তার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের কাছাকাছি আসলে কি ইফেক্ট হয় তার তথ্য সংগ্রহ করা। তবে দর্শক যা ভাবছেন তা না, আপাতত এটাকে রোমান্টিক মুভি মনে হলেও আসলে আরও অনেক গভীর জলের মুভি।

tumblr_static_filename_640_v2

(আপাতত এইটুকু জেনেই মুভি দেখুন। পরের অংশে স্পয়লার আছে।)





তো জ্যাক এই ফ্রিকুয়েন্সির ব্যাপারটা মানতে চায় না, তার জ্ঞ্যানের মাধ্যমেই সে তার সমস্যা দূর করতে চায়। পিএইচডি গবেষণায় তার বন্ধু থিওর সাথে মিলে তারা একটা সমাধানও তৈরীও করে ফেলে। একটা ডিভাইস বানায় যেটা কিছু শব্দ সাজেস্ট করে যা উচ্চারণ করে ফ্রিকুয়েন্সির তারতম্য দূর করা যায়। এর পরেই জ্যাক ম্যারির মধ্যে আবেগ তৈরী করতে সক্ষম হয়, ম্যারিও জ্যাককে ভালোবাসে একসময়।

এখন এরকম একজন যে প্রথমবারের মত জীবনে আবেগের সাথে পরিচিত হয়, তাও আবার ভালোবাসার মত চরমতম আবেগের সাথে তার আচরণ কেমন হতে পারে? না দর্শক, তারপরেও ম্যারির বৈজ্ঞানিক সত্তা বিলীন হয়ে যায় না, সবকিছুর পিছনের কারণ এবং প্রমাণ খোজার অভ্যাস তখনও তার থাকে, এমনকি ভালোবাসা কিভাবে কাজ করে এটারও পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ চায় সে। এই করতে করতেই সে বুঝতে পারে যে তার ভালোবাসা আসলে তার স্বাধীন ইচ্ছায় হচ্ছে না। হচ্ছে, কারণ সে জ্যাক এর কমান্ড অমান্য করতে পারছে না। সে আসলে জ্যাককে ভালোবাসতে বাধ্য!!!

ওইদিকে আবার জ্যাক এই ডিভাইসটার প্যাটেন্ট করতে যাওয়ার সময় বুঝতে পারে অনেক কিছুই সে আসলে জানে না, জানে তার বন্ধু থিও। যারা তার এই ডিভাইস পরীক্ষা করে সেই সাইন্টিস্টরাও তখন তার আবিষ্কার নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে (এইরকমই হয়, সায়েন্টিফিক ওয়ার্ল্ডে সব কিছুই খুব স্পষ্টভাবে জানতে হয় ) । যাই হোক, একসময় দেখা যায়, এই ডিভাইসটার আবিষ্কার এর কাহিনী অনেক পুরোনো। কিন্তু মারাত্মক কিছু ইফেক্ট এর কথা চিন্তা করে সরকারী মহল থেকে এই ডিভাইস ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে পাবলিক ডোমেইন থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

tumblr_n7qq5dOJ0T1rflt9ho1_500

শেষ দিকে এই মুভি হাত দিয়েছে ডিটারমিনিজম, ম্যাটেরিয়ালিজম, এবং ফ্রি উইল এর দিকে। মানে যে সব ঘটনা ঘটছে ম্যারি এবং জ্যাক এর জীবনে সেটা আসলে তাদের স্বাধীন ইচ্ছায় (ফ্রি উইল) হচ্ছে, নাকি তারা আসলে বাধ্য হচ্ছে (ডিটারমিনিজম)? সিনেমার শেষটা দারুণ।

মুভিটা দেখেই মনে হয়েছিল এই মুভির স্ক্রিপ্ট লেখক নিশ্চিত কোন প্রফেসর কিংবা রিসার্চ এর সাথে জড়িত কেউ হবে। মনে হওয়ার কারণ ম্যারির কিছু আচরণ এবং সিনেমার কিছু ডায়ালগ। সার্চ দিয়ে দেখি লেখক (Darren Paul Fisher) বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার একটা ভার্সিটির পিএইচডি স্টুডেন্ট। তিনি শুধু লেখকই না, তিনি নিজেই পরিচালক, নিজেই প্রযোজক, গ্রেট একজন auteur হবেন ভবিষ্যতে আশা করা যায়।

মুভিটা খুবই কন্সাইজ, যতটুকু দরকার ততটুকুই আছে মুভিতে, আবার তেমন কোন অস্পষ্টতাও নেই । মুভির প্রতিটা ডায়ালগ, প্রতিটা সিন খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে, একাধিকবারও দেখতে হতে পারে। আরেকটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে, মুভির চরিত্রগুলোর নাম সব বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের নামে। জ্যাক হচ্ছে আইজ্যাক নিউটন, ম্যারি হচ্ছে ম্যারি কুরি। ভালো লাগার মত আরেকটা  ব্যাপার হচ্ছে ব্রিটিশ উচ্চারণ। ব্রিটিশ উচ্চারণ আমার বরাবরই বেশ পছন্দের, কেমন জানি কবিতার মত টেনে টেনে উচ্চারণ করে মনে হয়, শুনতে বেশ ভালো লাগে।

যাই হোক, Westworld এর দর্শকদের জন্য অবশ্য দেখ্য

Error: No API key provided.

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন