সেকালের জিৎ একালের জিৎ “শেষ থেকে শুরু” মুভি রিভিউ

Related image

★ সিনেমা : শেষ থেকে শুরু
★ অভিনয় : জিৎ, কোয়েল মল্লিক, ঋতাভারী চক্রবর্তী , তৃধা, জয় ভৌমিক, সৌরভ, সায়ন্তিকা সহ অনেকে
★ প্রযোজিত : গ্রাসরুট এন্টারটেইনমে……
★ পরিচালক : রাজ চক্রবর্তী
★ ইন্ডাস্ট্রি : টলিউড (টালিগঞ্জ)
★ মুক্তিসাল : ৫জুন, ২০১৯
___________________________________________💚
তো, শেষ থেকে শুরু সিনেমা ছিলো জিৎ এর জন্য স্পেশাল, কারন তার ক্যারিয়ারের অর্ধশতক সিনেমা এটি। শুরু থেকে সেভাবেই প্রচারনা হয়েছিলো এবং শেষ পর্যন্ত সিনেমা কেমন ছিলো সেটা বলার আগে – যেহেতু এই সিনেমা জিতের ক্যারিয়ারে একটি ইনিংস হয়েছে, সেহেতু তাকে নিয়ে শুরু থেকে এই শেষ পর্যন্ত ছোট করে কিছু বলা যাক। রিমেক সিনেমা ‘সাথী’ দিয়েই মূলত টলি পাড়ায় ঝড় তোলে জিৎ এবং কলকাতার কমার্শিয়াল সিনেমার অন্যতম ভরসা যোগ্য নায়ক হয়ে উঠে অল্প সময়ে। এখন রিমেক নিয়ে সমস্যা থাকলেও সেসময় অধিকাংশ সিনেমা হিট হতো। জিতের মাঝে অতিরিক্ত হিরোইজম না থাকায় ফ্যামিলি ড্রামা সিনেমাগুলোতে বেশি মানিয়ে যেত, উল্লেখযোগ্য সঙ্গী, বন্ধন, হিরো, চ্যাম্পিয়ন, শুভদৃষ্টি, ক্রান্তি, সাত পাকে বাধা, হান্ড্রেড পার্সেন্ট লাভ। এরপর আওয়ারা, দিওয়ানা থেকে জিৎ শুধু লুকে পরিবর্তন এনেছে, ক্যারিয়ারে কমার্শিয়াল সিনেমা ছাড়া নিজেকে এক্সপেরিমেন্ট করেনি বললেই চলে।
মাঝে শুধু ‘বস’ সিনেমাটি ছিলো ভালো একটি রিমেক, সর্বশেষ ‘সুলতান’ ছিলো জিতের এ যাবৎ কালের সেরা সমালোচিত পার্ফমেন্স। যাই হোক, মাঝের মারকাটারি জিৎ ক্যারিয়ারের এই জায়গায় এসে যখন এমন একটি সাবলীল চরিত্রে অভিনয় করেছে, যেখানে দর্শক জিতকে পেয়েছে পুরানো , তখন পঞ্চাশতম স্পেশাল সিনেমা হিসেবে এটা স্বার্থক।
‘শেষ থেকে শুরু’ সিনেমার (নো স্পয়লার) গল্পটা হলো – জিৎ আর কোয়েল এর মাঝে প্রথম দেখা হয় । প্রথম দেখাতেই নায়ক প্রেমে পড়ে এবং পরে আলাপ, বন্ধুত্ব ও প্রেম। যেটা বাংলা সিনেমায় সচারাচর দেখতে পাই আমরা। সিনেমায় একটি সংলাপ আছে এমন ‘যেখানে শেষ হয়, সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন গল্প’, ঠিক তেমনি প্রথম হাফের শুরুতে জিৎ-কোয়েল এর সম্পর্ক শেষ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায় এবং শুরু হয় আরেক নতুন গল্প আবার সেই গল্প থেকে আরেকটা গল্প। শেষ পর্যন্ত দেখতে চাইলে অবশ্যই তৃধা চৌধুরীকে ফলো করতে হবে ! তৃধা হলো সিনেমার চরিত্র, যিনি একটি বই পড়ছিলো আর গল্পটা আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম।
এখানে স্টোরি টেলিং এর প্রশংসার করতে হয় কারন যে কোনো গল্প পার্ট করে প্রেজেন্ট করলে তুলনামূলক ইন্টারেস্ট বেশি থাকে আর এই গল্পটার ক্ষেত্রেও এমন হয়েছে। বিশেষ করে সেকেন্ড হাফে যখন গল্পের মোড় নেয় তখন স্ক্রিনে বইয়ের পাতার সাথে পাঠক-ও রিয়েক্ট করছে আর সেই সাথে আপনি ভাববেন যে পরের পাতায় ঠিক কি হবে, পাঠক খুশি থাকবে নাকি আরো ইমোশনাল হবে। সুতরাং, সিনেমার এই দিক দর্শকদের বোরিং হওয়া থেকে কিছুটা হলেও রোধ করেছে।

Image result for Sesh theke shuru

সিনেমার আরো দুই দিকে প্রশংসা পাবে, সিনেমাগ্রাফি আর ক্যারেক্টার প্লে। বলা হয়নি যে গল্পটা তুর্কি সিনেমা যেটার ‘ওয়াটার এন্ড ফায়ার’ এর হুবহ অনুকরন কিন্তু আপনি অরিজিনাল সিনেমাটি দেখার পর এই রিমেকে ক্যামেরার কাজ খুব একটা পার্থক্য পাবেন না। লন্ডনে যে সিকোয়েন্সগুলো হয়েছে, বাংলা সিনেমায় এমন চমৎকার উপাস্থপন খুবই কম দেখা গেছে, ঢাকার মুসলিম পরিবারের যে স্টাইল- ডিজাইন ছিলো সেটাও দারুন। পারিবারিক গল্প হওয়ায় সিনেমার পার্শ্ব চরিত্রগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব ছিলো, সাধারনত জিৎ গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়, আর এখানে গল্প জিতকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।
জিৎ যখন এগিয়ে যাচ্ছিলো তার অভিনয় কেমন ছিলো সেটা শুরুতেই প্রশংসা করে নিয়েছি। সিনেমায় তার পার্সোনালিটি ও এক্সপ্রেশন এক কথায় চমৎকার, অতিরিক্ত কিছুই মনে হয়নি। রাগের মূহুর্তে কিংবা ইমোশনাল টাইমে সংলাপ কম, ফেস দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছে। ক্যারিয়ারে সেরা পার্ফমেন্স এর তালিকা করলে এটা উল্লেখ হবে।

Image result for Sesh theke shuru

নায়িকা চরিত্রে কোয়েল যে শুধু জিতের সাথেই কেমেস্ট্রি করছে এমন নয়, তার আলাদা জায়গা ছিলো, যেখানে অভিনয় আহামরি না হলেও ভালো বলা যায়। এখানে জিৎ-কোয়েল জুটি দীর্ঘ বছর পর ব্যাক করলে তাদের নিয়ে যাদের খুব বেশি প্রত্যাশা ছিলো, তাদের হয়তো পূরণ হয়নি। রোমাঞ্চকর বেশ কিছু জায়গায় অতি নাটকীয় ভাব দুজনের। পার্শ্ব চরিত্র ঋতুভারীর অভিনয়ের কথা আলাদা করে বলতে হয়, পর্দায় তার গ্ল্যামার নজড় কাড়ে। সৌরভ সহ বাকি চরিত্র ঠিকঠাক, তবে সায়ন্তিকার ক্যামিও তথা তার আইটেম গানের পার্ফমেন্স এক প্রকার বিরক্তি ছিলো। বাকী দুটো গান তেমন শ্রুতিমধুর নয়, সুন্দর একটি সিনেমায় ভালো অ্যালবাম না হওয়াটা দুঃখজনক, কারন কলকাতায় ফালতু সিনেমায়-ও শ্রুতিমধুর গান থাকে। এটা টিপিক্যাল কমার্শিয়াল সিনেমা না হলেও পরিমিত অ্যাকশন, সিনেমার মান বজায় রেখেছে। আর এসব পরিচালনা করেছে রাজ চক্রবর্তী, রিমেক করে যদি এমন ভালো সিনেমা উপহার দেয়, তাহলে সেটাই ভালো। (ভালো বলার কারন সিনেমাটি দেখলে বুঝতে পারবেন) যদিও সে এখন অরিজিনাল স্ক্রিপ্টে কাজ করছে। এর আগে জিৎকে নিয়ে ‘দুই পৃথিবী’ ভালো একটি রিমেক উপহার দিয়েছিলো আর সর্বশেষ ‘শেষ থেকে শুরু’ – সামনে ভালো কাজ আর হোক 🙂

Error: No API key provided.

(Visited 77 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Mirza Abdur Rabbi says:

    এই মুভিটা কোথায় পাব ভাই?

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন