ক্ষ দিয়ে যেমন ক্ষমতা তেমনি ক্ষণস্থায়ী
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

 

পাবলো স্কবার তখন প্রতিষ্ঠিত। কলম্বিয়ার ড্রাগস কিং আর ওয়ার্ল্ড মোষ্ট ওয়ান্টেড ভিলেইন। পাবলো স্কবারের মেক্সিকান পার্টনার ছিলো মিগুয়েল । মেক্সিকোর জালিসিকো রাজ্যে গুদালাজেরা শহরে কিছু কার্টেল ঐ এলাকায় ড্রাগ বিজনেস কন্ট্রল করতো। আর এই কার্টেলদের বস হচ্ছে মিগুয়েল। আর মিগুয়েলের ডান হাত যে কিনা তার হয়ে সব কাজ করতো। সে হলো গাযম্যান এল চাপো।

যুবক ছেলে। কিন্তু চাপো নিজের একটা অবস্থান চায় কিন্তু তার বস মিগুয়েল সেটা দিয়ে চায় না। চাপো সিদ্ধান্ত নিলো পাবলো স্কবারের সাথে দেখা করার। আর দেখা করতে গেলো। আর দেখা হলো পাবলো স্কবারের সাথে।

চাপো হাত বাড়ালো হ্যান্ডসেকের জন্য কিন্তু পাবলো স্কবার হাতা না মিলিয়ে বললো তোর সাথে কথা বলার সময় নেই বল কি চাস। আমাকে পাচ দিন পর মাল ডেলিভারি দিতে হবে। চাপো বললো, আপনার সাথে কাজ করতে চাই, আমি আপনার মাল আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি দিবো। কিন্তু এটা ছিলো অসম্ভব ব্যাপার। পাবলো রাজি হলো। কলম্বিয়া থেকে ম্যাক্সিকো ঘুরে আমেরিকায় পাঠতে হবে। না করতে পারলে নিশ্চিত মৃত্যু । আর করতে পারলে তার ড্রাগস লর্ড হওয়ার পথ সহজ হবে যেটা তার ইচ্ছা।
রওনা হলো চাপো। দুইটা প্লেনে করে যাচ্ছে মাল গুলো ম্যাক্সিকোতে। ম্যাক্সিকোর সেই জয়গায় ল্যান্ড করলো চাপো। তারপর মালগুলো নামালো। কিন্তু আরেক সন্ত্রাসী গ্রুপ এসে মালো গুলো নিয়ে যায়। ২৮ ঘন্টা চলে গেছে অলরেডি। হাতে ২০ ঘন্টা সেই মাল গুলো আবার কৌশলে উদ্ধার করলো। কিন্তু তার বস মিগুয়েলের লোকজন তাকে ধরে নিয়ে গেলো সেখান থেকে বুদ্ধি করে ছাড়া পেলো ।

হাতে সতেরো ঘন্টা। গাড়ীতে মাল নিয়ে চাপো আবার রওনা হলো কিন্তু সরকারী সংস্থা ডিইএ এর লোকজন তাড়া করে। ব্যাপক গোলাগুলি হয়। চাপো আবার ধরা পরে। কিন্তু চাপো দশ মিলিয়ন ইউরো বিনিময়ে ছাড়া পায় সাথে সাথে। শহরে গেলো। মাটির নিচ তার সুরঙ্গ করা ছিলো। সেখান থেকে আরেক জায়গায়। আবার যাত্রা শুরু হাতে কয়েক ঘন্টা। লস এঞ্জেলস এ পৌছালো চাপো। ঘড়িতে দেখে আটচল্লিশ ঘন্টা হতে আরো দশ মিনিট। স্বস্তির নিশ্বাষ ফেললো সবাই। পাবলো স্কবার এবার হাত মিলালো। চাপো ফিরে এলো নিজ দেশে। শুরু হলো চাপোর নতুন যাত্রা । এর মধ্যে মিগুয়েলকে আর্মিরা ধরে নিয়ে যায় । অন্য কার্টেলদের মেরে ফেলে চাপো। ময়দান ফাকা শুরু হলো নতুন ড্রাগস সাম্রাজ্যে।

একদিন হটাত চাপো আর তার শত্রুদের মধ্যে শহরে ব্যাপক গুলাগুলি সংঘর্স হয় । পুলিস -আর্মি -ইন্টারপোল চাপোকে খুজছে আরেক দিকে তার শত্রু রামন কার্টেল চাপোকে মারতে চায়…কি করবে চাপো ?? চাপো পালিয়ে গুয়াতেমালায়। এই খানেও পুলিশ আর্মি খুজেছে চাপকে । লুকিয়ে দেখা করতে আসছে গুয়াতেমালায় এক ডাগ লর্ডের সাথে কিন্তু কেন ???…………।। তারপর…………………।। মেক্সিকোর জেলখানা থেকে তো পালাতে পারবে চাপো ??
ঘুঘু দেখেছো , ঘুঘুর ফাঁদ দেখোনি কিন্তু ঘুঘুর ফাঁদ কাটা টাও দেখতে হবে………।।
সিজন ২ আর ৩ নিয়ে পরে আবার আসছি …।।

## সিজন ২ তে মুলত কার্টেলদের সাথে কার্টেলদের সংঘর্স পুরো মেক্সিকোতে ছড়িয়ে যায়। নতুন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসে। কিন্তু চাপোর ব্যাপারে একটা উদাসীনতা দেখা যায়। সমস্ত ড্রাগ কার্টেলদের সাথে যুদ্ধ ঘোষনা করা হয়। অনেক কার্টেল মারাও যায়। কার্টেল সাথে কার্টেল আর আর্মি পুলিশ একটা ত্রিমাত্রিক সংঘর্স ছড়িয়ে যায়। কেউ ভাবতেই পারেনি যে চাপো এক সময় পাবলো স্কোবারের মত ড্রাগস কিং হয়ে যাবে।

মেক্সিকোর টপ ধনী ব্যাক্তি ও ক্ষমতাধরদের তালিকায়ও তার নাম ছিলো। সাহস আর বুদ্ধির জোরেই তা সম্ভব হয়েছে। খুব সুন্দর একটা বায়োপিক সাথে ক্রাআইম ড্রামা। চাপো যখন জেলে থাকে তখন কি রকম জামাই আদর পায় তা দেখলে বুঝতে পারবেন। তবে জেল থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। জেল থেকে বের হয়ে এসেই দুই কার্টেলকে মেরে ফেলা হয়। যারা তার শত্রু ছিলো। এভাবে তার শত্রুদের সরিয়ে ফেলা হয়। সরকারের উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে খুশি করা হয়। বিশাল এক সাপোর্ট চাপোর জন্য। চেন্তে ও কানো এই শক্তিশালী কার্টেলরা মুলত চাপোর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। চাপোর সাথে শান্তি চুক্তি হলেও সেটা টিকেনি।

আর শহরে ব্যাপক সংঘর্স ছড়িয়ে পরে। চাপোর ছোট ছেলেটা মারা যায়। শুধু তাই না অনেক মেয়ে ছেলে কিডন্যাপ হয়। অনেকে স্টুডেন্ট ছেলেদের জোর করে খারাপ পথে নেওয়া হয়। শহরে সেনা আর পুলিশ নামে কানো পালিয়ে যায় আর চেন্তেকে আর্মিরা নিয়ে যায়। তাদের সাথীরা মারা যায়। শক্তিশালী অপরাধের সাম্রাজ্য কিভাবে করলো তা সিজন ২ তে দেখা যাবে। সেই সরকারী উচ্চপদস্ত ব্যাক্তি কোনরাদোই সব নাটের মুল।

চাপোর খুব কাছের। কিন্তু চাপোকে এতো সাহায্য করেছে যাতে সে প্রেসিডেন্ট হতে পারে কিন্তু আসলেই কি চাপোর সাপোর্ট পাবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য ?? চাপোর প্রথমবার জেল থেকে পালানোটা ডন ২ এর ডন এর সাথে অনেকটাই মিলে যায়। এই জিনিষটাই একটু খারাপ লাগছে।
## সিজন ৩ এ চাপো তার সাম্রাজ্য আরো বৃদ্ধি করতে থাকে। মেক্সিকো থেকে আমেরিকা, চিলি, উরুগুয়ে আর এশিয়ার মালয়শিয়া, চীন এ ছড়িয়ে যায় চাপোর বিশাল ড্রাগস ব্যাবসায়। ফোর্বস ম্যাগাজিনে চলে আসে মেক্সিকোর একমাত্র ড্রাগস কিং বিলিয়নার।

চাপো এখন লর্ডদের লর্ড। সাত আট বছর ভালই চলে যায়। চাপোকে ধরার জন্য আমেরিকা থেকেও চাপ আসতে থাকে। এশিয়াতে চাপোর ব্যবাসায় অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়। চাপোর ভাতিজাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ডিইএ, আর্মি ,পুলিশ চাপোর পিছনে লেগে যায়। প্রায়ই বিভিন্ন শহরে সংঘর্স ছড়িয়ে যায়। চাপোকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হয় সব সময়। চাপো ধরাও খায় আবার পরে পালিয়েও যায়। হ্যা এইবার সুন্দর করেই পালিয়েছে।

চাপো নিজের চেহারার মত করে দুই তিনটা লোকও রাখে। কিন্ত সেই ডুব্লিকেট চাপো মারা যায়। আবারও চলতে থাকে চাপোকে ধরার। প্রায়ই অনেক বার আর্মি পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু শেষ বারের মত আবারো পাকরাও হয়ে যায় পৃথিবীর অন্যতম ক্ষমতাধর ড্রাগস কিং চাপো। তার মৃত্যদ্বন্ড দিতে পারেনি। আজীবন কারাদ্বন্ড হয় তিন হাজার মানুষ হত্যা আর ড্রাগস ডিল এর জন্য।

এক কথায় অসাধারন। বুঝতে হবে মেক্সসিকান টিভি সিরিজ এইটা। নার্কোসের মতনই অসাধারণ লেগেছে। পাবলো স্কোবার এর পর আমি বলবো চাপো ইজ বেষ্ট। তবে কিছু মারামারি সিনস ওভারেটেড হয়ে গেছে। আমি ড্রামাটাই বেশ এনজয় করেছি। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকটাও ভালো ছিলো যেটা ড্রাগস লর্ডের সাথে মানায়। মনে রাখা উচিত  ক্ষ দিয়ে যেমন ক্ষমতা হয় তেমনি ক্ষ দিয়ে ক্ষণস্থায়ী ও হয়।
৮/১০..

El Chapo (2017…) Country : Mexico & USA

Season 3 episode 35

 

 

Error: No API key provided.

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন