সিনেমা সেন্সর্ড কিন্তু বাস্তব জীবন আনসেন্সর্ড
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

দেখার মতন একটা ড্রামা টিভি সিরিজ। শ্বশুরের দেওয়া ব্রাজিলের একটা সেন্সর বোর্ড অফিসে কাজ করে ভিসেন্তে । সিনেমার সেন্সর সার্টিফিকেট ভিসেন্তে দিয়ে থাকে। সিনেমার অতিরিক্ত সেক্স আর ভায়োলেন্স সিন্স গুলো সাধারনত কাটছাট করে থাকে। এই সমস্ত কাজ করতে করতে খুব বোরিং হয়ে পরে । সংসারেও তার ভালো লাগেনা। সবাই তো সুখী হতে চায় কিন্তু সুখী  কি সবাই হয়।

এদিকে তার স্ত্রীর প্যারা অন্যদিকে তার শ্বশুরের গালমন্দ শুনতেই হয়।  তার মধ্যে তার স্ত্রীর ছোট বোন শারীরিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে ভিসেন্তেকে বিরক্ত করতো । সেই স্মৃতিও তাকে নাড়া দেয়।  ম্যাগ্নিফিসিয়া কোম্পানির একটি ছবি ‘’এ দাভেস্তা দা স্টুডেন্টি’’ ছবিটি সেন্সর করতে গিয়ে নায়িকার ফুটন্ত যৌবনের প্রেমে পরে যায়। কিন্তু কিছু ডায়লগে সমস্যা থাকায় সিনেমাটি ব্যান সিল মেরে দেয়। ম্যাগ্নিফিসিয়া কোম্পানির প্রোডিউসার মোনলো আর নায়িকা ডোরা অফিসে এসে কথা বলে যায়। নায়িকা ডোরাকে কাঁদতে দেখে খুব আফসোস হয়। খুব বিষন্নতায় ভুগতে থাকে ভিসেন্তে। নায়িকা  ডোরার কাপর খোলার দৃশ্য তারা মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে।

ভিসেন্তে সেই প্রোডিউসার আর নায়িকা ডোরা কে দুই নাম্বারি করে সাহায্য করে।  যাতে সিনেমাটি রিলিজ পায়। কিন্তু কিছু দৃশ্য আবার করতে হবে। সেই দৃশ্য করার জন্য ডিরেক্টর থাকে না। প্রডিউসার তাকেই বলে ডিরেক্ট করতে। এই প্রথম ক্যামেরা হাতে নিলো। শুট করলো। রিলিজ পেলো । হিট হলো। শুরু হলো তার আনসেন্সর লাইফ।

নিজের আনসেন্সর্ড জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়েই ভিসেন্তে মুভি বানাতে চায় সাথে তার ক্রাস নায়িকা  ডোরা কে নিয়ে। ম্যাগ্নিফিসিয়া কোম্পানির প্রোডিউসারদের সাথে  ভিসেন্তের কাজের চুক্তি হলো। নিজের বাস্তব জীবন নিয়েই মুভির স্ক্রিপ্ট তৈরী করলো। আর ভিসেন্তেকেই ডিরেক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পারবে ভিসেন্তে লুকিয়ে লুকিয়ে ছবির কাজ চালিয়ে নিতে ??? ত্রিভুজের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভিসেন্তে। একদিকে তার ডোরা  আরেকদিকে তার অফিসের বস আরেকদিকে তার স্ত্রী। মনের ভিতর চাপা কষ্ট, অশান্তি  বসের,  শ্বশুরের আর স্ত্রীর গালমন্দ চলতেই থাকে।

যা বুঝলাম ,সিনেমায় অনেক কিছু কাটছাট করে সেন্সর্ড করা যায় কিন্তু মানুষের জীবনে চাইলেও সবকিছু কাটছাট করা যায় না। চাইলেও নতুন কোন সুখ ঢুকানো যায় না , চাইলেও কিছু কষ্ট কে মুছে ফেলা যায় না। বাস্তব জীবন আসলেই আনসেন্সর্ড। রুপালী পর্দায় সেক্সী  বা খোলামেলা নায়িকাদের দেখে  যতটা সুখী মনে হয় না কেন আসলে তারা সুখী না। দিন শেষে আড়ালে তাদের লুকিয়ে চোখের পানি মুছতে হয়। সুখী সবাই হতে চায় কেউ হয় কেউ হয় না।

এইচবিও এর আরেকটি অসাধারণ টিভি সিরিজ। ব্রাজিলিয়ান্রাও খুব সুন্দর ড্রামা সিরিজ বানাতে পারে তা দেখেই বুঝলাম।

Magnífica 70 (2015….), Country : Brazil
Season 1 Episode 13

 

 

 

 

Error: No API key provided.

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন