চায়নার আধিপত্য,হংকং এর অধপতন
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

হংকং এর জনপ্রিয় তারকা জ্যাকি চ্যান,স্টিফেন চাও,ডনি ইয়েন,চাও ইয়ুন-ফাট এদের সবাই এখন ৫০ এর ঘড়ে আছে,জ্যাকি চ্যান তো ষাটের ঘড়ে। কিন্তু এখনো হংকং তারকা বলতে এদের কেই চেনা হয়। এখন দেখা যাক এদের জনপ্রিয়তা widely কিভাবে বেড়েছে। জ্যাকি চ্যান তার ক্রিয়েটিভ অ্যাকশান এর জন্য জনপ্রিয় Rush Hour franchise এর পর তার জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে। স্টিফেন চাও জনপ্রিয় Kungfu Hustle,Shaolin Soccer মুভির জন্য। ডনি ইয়েন জনপ্রিয়তা পেয়েছে Ip Man দিয়ে এবং চাও ইয়ুন-ফাট জনপ্রিয়তা পেয়েছে অ্যাকেডেমি অ্যায়ার্ডসে ৩ টি পুরষ্কার-জয়ী Crouching Tiger,Hidden Dragon অথবা তার Bloodshed Heroic মুভির জন্য।

Crouching Tiger, Hidden Dragon মুভিতে চাও ইয়ুন ফাট

এদের সবাই হংকং এ মুভি করে আমেরিকান মুভিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে,এবং আমেরিকাতে মুভি করে পুর বিশ্বে জনপ্রিয়তা পেয়েছে (অবশ্য স্টিফেন চাও আমেরিকাতে কাজ করেনি,তবে অফার পেয়েছে)। অনেক এ-লিস্টার যেমন টনি লিউং চিউ-ওয়াই,লেজলি চিউং,অ্যানথনি ওয়াং,লুইস কু,অ্যারন কক দের আমেরিকান হাই প্রোফাইল না থাকায় তারা পুরো বিশ্বে ততটা জনপ্রিয়তা পায়নি,কিন্তু তাদের ফিল্মোগ্রাফি ঘাটলে দেখা যাবে কত মাস্টারপিস আছে তাদের বইয়ে।

২০০০ সালে Cannes Film Festival এর সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন টনি,জিতেছেন সর্বোচ্চ ৫ বার হংকং ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস এর সেরা অভিনেতার পুরষ্কার

২০০০ সালে Cannes Film Festival এর সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন টনি,জিতেছেন সর্বোচ্চ ৫ বার হংকং ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস এর সেরা অভিনেতার পুরষ্কার

 

অনেক তো বললাম হংকং সিনেমার সুদিনের কথা,এখন আসি বর্তমান প্রেক্ষাপটে,এখনের সময়ে হংকং এর জনপ্রিয় তারকা কে? আমি হংকং এর সিনেমা অনেক গভীর ভাবে ফলো করার পরও জানি না সর্বশেষ বড় ধরনের তারকা কবে পেয়েছিল হংকং। শুরুটা ১৯৯৭ সালে,যখন হংকং এর উপর চায়নার সকল নিয়ন্ত্রন চলে আসে। আসলে এগুলা পলিটিকাল বিষয়,আমার ধারনা একদম শুন্য। কিন্তু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি টা যে কতটা ক্ষতি হয়েছে তা বুঝতে হলে অতটা পলিটিকাল বিষয়ে যাওয়া লাগে না। বর্তমান সময়ে হলিউডের পর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফিল্ম মার্কেট চায়না,তাই হংকংইয়ীজ দের আর আমেরিকাতে ঐভাবে কাজ করা হচ্ছে না,এতে করে কেউই widely attention পাচ্ছে না। আচ্ছা widely attention না পাক,কিন্তু কথা হচ্ছে মুভি কেমন হচ্ছে?

চায়নায় মুভি বানানো হলে (এক্সেপশনাল কয়েকটা বাদে) প্রোডিউসার,ডিরেক্টর রা শুধুমাত্র চাইনিজ দর্শকদের টেস্ট টার্গেট করেই মুভি বানায়,যেধরনের মুভি হিট হবে,সেইধরনের মুভি বানানো হয় ভালো মুভিতে কমই মনযোগ দেয়া হয়,যদিও ঝ্যাং ইমু,চেন কেইজদের মত পরিচালকরা বিশ্ব কাপানো আর্ট মুভি বের করেছে,তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের মুভি আন্তর্জাতিক ভাবে সফলতা পাওয়ার মত আমার মনে হয় না। হংকং এ বিষয়টা একটু অন্যরকম ছিল,অনেক ভালো মানের আর্ট ফিল্ম হয়েছে,থ্রীলার ফিল্ম হয়েছে,কমেডি ফিল্ম হয়েছে আর অ্যাকশানে তো তাদের ধারের কাছে কেউই নাই।

নিজস্ব পরিচালিত এবং অভিনীত Police Story (1985) মুভিতে এক ভয়ানক স্টান্ট ক্রছেন জ্যাকি চ্যান। যার রেজাল্ট হিসেবে তার হাতের কিছু অংশ জ্বলে যায়।

নিজস্ব পরিচালিত এবং অভিনীত Police Story (1985) মুভিতে এক ভয়ানক স্টান্ট ক্রছেন জ্যাকি চ্যান। যার রেজাল্ট হিসেবে তার হাতের কিছু অংশ জ্বলে যায়।

 

জ্যাকি চ্যানের আপকামিং মুভি Railroad Tigers,টনি লিউং চিউ-ওয়াইর The Ferryman,স্টিফেন চাওর Journey to the West 2 ইত্যাদি ইত্যাদি সব গুলো মুভিই চাইনিজ,আর তারচেয়েও দুঃখের বিষয় যখন তারা হংকং এ ফিল্ম করছেন,সেটা নামেই হংকং এর,চায়নার জয়েন্ট প্রোডাকশন থাকে,ম্যান্দারিন ভাষায় শ্যুট করা হয়,চায়নাতেই শ্যুটিং হয়,এমনকি মুভির ক্যাস্টিং এও চাইনিজ দের আধিপত্য থাকে। যেমন স্টিফেন চাওর সর্বশেষ ফিল্ম The Mermaid (হংকং-চাইনিজ) মুভিটি চাইনিজ মেইনল্যান্ড দর্শকদের টার্গেট করে বানানো হয়,যেকারনে মুভির প্রধান ২ অভিনেতার চরিত্রে চায়নার বর্তমান সময়ের হট ফেভারিট ডেং চাও এবং শাও লো কে নেয়া হয়,এবং তার আপকামিং ফিল্ম Journey to the West 2 তেও একই স্ট্র্যাটেজি ফলো করছে,মুভিতে ক্যাস্ট করা হয়েছে চায়নার এই সময়ের জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা ক্রিস ইউ কে। এই স্ট্র্যাটেজি ফলো করবেনই না কেন,এই স্ট্র্যাটেজিতেই তো তারা সফলতা পাচ্ছে,The Mermaid এই বছরের সবচেয়ে বেশি টাকা ইনকাম করার মুভি গুলার মাঝে পঞ্ছম অবস্থানে আছে।

The Mermaid মুভির সেটে স্টিফেন চাও,ডেং চাও এবং ক্রিস ইউ

The Mermaid মুভির সেটে স্টিফেন চাও,ডেং চাও এবং ক্রিস ইউ

 

এখন অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে হংকং মুভি আর চাইনিজ মুভিতে পার্থক্য কি? কারন আমি অনেক কেই দেখেছি যারা মনে করে মেইনল্যান্ড চায়না এবং হংকং একই ইন্ডাস্ট্রি। মেইনল্যান্ডে মুভি করা হয় ম্যান্দারিন ভাষায়,আর হংকং এ মুভি করা হয় ক্যান্টোনিজ ভাষায়,২ ইন্ডাস্ট্রির ই নিজস্ব স্টাইল আছে মুভি বানানোর,একেক মুভির একেক স্বাধ,আর চায়নার আধিপত্যে ক্ষতি হচ্ছে হংকং এর স্টাইল,শেষ ৫-১০ বছরে হংকং থেকে খুব,খুব কম মাস্টারপিসের দেখা মিলেছে,কারন তাদের স্টাইলে ফিল্ম হচ্ছে না,সবাই চাইনিজ মার্কেট ফলো করছে।

শেষ ২০১৫ তে আমি কয়েকটা হংকং এর একক প্রোডাকশনের মুভি দেখেছি যার মধ্যে Little Big Master এবং Port of Call আমার কাছে ভালো মানের মনে হয়েছে,মাস্টারপিস না হলেও worth watching। এখনো যদি হংকং এর তারকা হংকং এ মুভি করে,তাদের নিজস্ব স্টাইলে,চাইনিজ মুভিতে কাজ করুক সমস্যা নাই,কিন্তু হংকং এও যদি সমান মনযোগ টা দেয় তাহলে এখনো হংকং থেকে মাস্টারপিস আসাটা সম্ভব,কিন্তু এমন টা হবে কি না,সেটা সময় বলে দিবে,সম্ভাবনা নাই বললেই চলে।

 

হংকং চায়নার এই কথার মাঝে একটি কথা মনে পড়লো,সেটি হচ্ছে Hong Kong Film Awards ,এক সময়ের অস্কারের পর সবচেয়ে আকর্ষনীয় অ্যাওয়ার্ড শো। সেটার ও আর আগের মত আকর্ষন নেই,কারন সবাই যে চায়না তে,এক সময় টনি লিউং চিউ-ওয়াই,জ্যাকি চ্যান,সামো হাং,চাও ইয়ুন ফাট,লেজলি চিউং,টনি লিউং কা-ফাই দের মত তারকা রা সেরা অভিনেতার জন্য কম্পিট করতো,এটার মান কত ভালো তা এটার ইতিহাস ঘাটলেই বুঝা যায়,জ্যাকি চ্যানের মত তারকা ১ বার ও পুরষ্কার জিততে পারেনি,হ্যা সে অ্যাকশান স্টার কিন্তু তার অভিনয় নিয়ে তো প্রশ্ন নেই। চাও ইয়ুন-ফাট ছাড়া আর কেউই ব্যাক-টু-ব্যাক সেরা অভিনেতার পুরষ্কার জিততে পারেনি।

Hong Kong Film Awards এর শেষ বছরের একটি ঘটনা দিয়ে লেখা শেষ করি। 35th Hong Kong Film Awards কাভারেজ করার কথা ছিল মেইনল্যান্ড চায়নাতে,শো টা শুরু হবে,ঠিক তখন ঐ জায়গায় একটি রান্নার অনুষ্ঠান দেখানো হয়,পরেরদিন খবরে ‘সেরা অভিনেতা,সেরা পরিচালক,সেরা অভিনেত্রীর’ নাম উল্লেখ্য করা হলেও ‘সেরা ফিল্ম’ এর নাম আর উল্লেখ্য করা হয়না। কারন কি? মুভিটি হচ্ছে Ten Years (2016) আর ১০ বছর পর মেইনল্যান্ডের ক্ষমতায় কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে হংকং এইরকম এক টপিকে মুভিটা বানানো হয়েছে।

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Nahid Hasan Hridoy Nahid Hasan Hridoy says:

    ভাল কথা। আমিও চায়না মুভি ফলো করি। স্টিফেন চো এর প্রত্যেক্টা মুভি মাস্টার পিস। কিন্তু ইদানিং সেই মান পাচ্ছি না। চাইনিজ ফিল্মের মান হং কং এর আশেপাশেই নেই। হলিউডের পরেই চাইনিজরা কিন্তু এভাবে চললে কতদিন ঠিকবে তা বলতে পারছি না

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন