২০১৭ সালের আমার কাছে সেরা হলিউডের ০৮ টি মুভি
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

হলিউডের জন্য ২০১৭ সালটা ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতার। বড় বাজেটের অনেক সিনেমাই যেমন অসফল হয়েছে তেমনি সুপারহিরো সিনেমার হল্লা হয়েছে পুরো বছরজুড়েই। নেটফ্লিক্সের মতো অন ডিমান্ড স্ট্রিমিং জায়ান্ট সিনেমার দর্শক কেড়ে নিচ্ছে হল থেকে অনেকটাই। তবুও ইভেন্ট ফিল্মের আবেদন আলাদাই রয়ে গেছে। ‘স্টার ওয়ারস- দ্য লাস্ট জেডাই’, ‘বিউটি এন্ড দ্য বিস্ট’, ‘দ্য ফেইট অফ দ্য ফিউরিয়াস’ অথবা ‘ইট’ যেমন সে আবেদন কেড়েছে। এ বছরের সেরা ১০ ইংরেজি ভাষাভাষী সিনেমা বাছাই করা খুব কঠিন হয়নি, কঠিন হয়েছে র‍্যাঙ্কিং করাটা। যদিও এ বছরের অনেকগুলো সিনেমা এখনো দেখা বাকি যেমন- দ্য গ্রেটেস্ট শোম্যান, স্টার ওয়ার্স, দ্য ডিজ্যাস্টার আর্টিস্ট ইত্যাদি; তবুও অধিকাংশই যেহেতু দেখা শেষ সুতরাং একটা তালিকা করা যেতেই পারে। চলুন দেখে নেই আমার মতে এ বছরের সেরা ১০ টি ইংরেজি সিনেমা-

১) লোগান– ডার্ক নাইটের পর কোন মুভিকে বছরের সেরা মুভি হিসেবে ঘোষণা করতে যে আমার কী পরিমাণ আনন্দ হচ্ছে বলে বোঝানো সম্ভব না। উলভারিন প্রিয় চরিত্র ছিল হিউ জ্যাকম্যানের ক্যারিশমার জন্যই সবসময়, উলভারিনের স্ট্যান্ড এলোন মুভির সেখানে কোন ভূমিকা নেই। কিন্তু লোগানে যখন উলভারিনের পরিণতি হবে জানতে পারলাম তখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রত্যাশার পারদ উঁচুতে চলে গিয়েছিল। জেমস ম্যানগোল্ড সে পারদের সীমা ভেঙ্গে আরও অনেক উঁচুতে নিয়ে গিয়েছেন লোগান দিয়ে। এই লোগানই আমরা ডিজার্ভ করতাম। এই ভঙ্গুর লোগানকেই। এই মানবিক লোগান আমাদের খুব কাছের, খুব আপন। টপাটপ বুলেট বের করে ফেলা, ক্ষত সারিয়ে ফেলা লোগান আমাদের মুগ্ধ করতো কিন্তু এই রক্তাক্ত লোগান, আহত লোগান আমাদের চোখে জল আনে।

খাপখোলা তলোয়ারের মতো বের হওয়া এডামেন্টিয়ামের নখর আমাদের শিহরণ জাগাতো ঠিকই কিন্তু টেনে টেনে মাংস কেটে বের করা একেকটি নখ এখানে আমাদের দুর্বল করে দেয়। জিনকে হারিয়ে উন্মত্ত উলভারিন আর চার্লসকে হারিয়ে ভঙ্গুর লোগান পার্থক্য এঁকে দেয় আমাদের চোখে। এই লোগান আমাদের অনেক প্রিয়, এই লোগান আমাদের অনেক কাছের। এই লোগান মৃত্যুকে ভালোবাসে, এই লোগান হয়তো জীবনকেও ভালবেসেছিল।

মুভিটি দেখতে এই লিংক এ ক্লিক করুন

২) ডানকার্ক– নোলান ইজ ব্যাক এন্ড হাউ! ওয়ার মুভি আর নোলানকে ঠিক মেলাতে পারছিলাম না ট্রেইলার দেখে। কিন্তু অস্বস্তিকর বদ্ধতায় হলে বসে এই সিনেমা দেখার পর সবকিছুই যেন পাল্টে গেল। গল্প নিয়ে খেলা করা নোলান এখানে খেলা করলেন গল্পবয়ন নিয়ে। ৩ টি ভিন্ন টাইমলাইন নিয়ে একই গল্পকে বয়ন করলেন ৩ টি ভিন্ন ট্রিটমেন্টে, জল-আকাশ-স্থল ৩ টি অনুষঙ্গই যেন মিশে গেল যুদ্ধবাস্তবতায়।

সাদামাটা একটা গল্পকে অনন্য ন্যারেশন আর ভিজুয়ালে সাজিয়ে উপহার দিলেন আরেকটি মাস্টারপিস- ডানকার্ক। এ মাস্টারপিস অফ দ্য ন্যারেশন, বাই দ্য ন্যারেশন, ফর দ্য ন্যারেশন!

মুভিটি দেখতে এই লিংক এ ক্লিক করুন

 

৩) ব্লেড রানার ২০৪৯– ব্লেড রানারের প্রথম সিনেমাটি সাইন্স ফিকশনকে একটি সিনেমা জনরা হিসেবে স্ট্যাবলিশ করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল বলে ধারণা করা হয়। রিডলি স্কটের সেই মাস্টারপিসের সিকুয়েল করার সিদ্ধান্তে তাই অনেকেই চমকে গিয়েছিলেন। কারণ আজতক অনেক ক্লাসিক রুইন হয়েছে সিকুয়েল করতে গিয়ে। কিন্তু রিডলি স্কট প্রোডাকশন থেকে যখন ঘোষণা আসলো যে ডিরেক্টর হিসেবে এই সিনেমার দায়িত্বে থাকবেন দেনি ভিলেন্যু তখন যেন আরও এক্সাইটমেন্ট এসে যুক্ত হল ব্লেড রানারের সাথে। দেনি ভিলেন্যুর সাইন্স ফিকশন ফিল্ম ‘এরাইভাল’ গত বছরের আমার অন্যতম প্রিয় এমনকি আমার দেখা সেরা সাইন্স ফিকশন সিনেমার মাঝে অন্যতম ছিল।

সেই দেনি ভিলেন্যু ব্লেড রানারে এসেও একটু হতাশ করেন নি। রজার ডিকিন্সের ক্লাসিক ডিসাইটোপিয়ান ভিজ্যুয়ালস যেন ব্লেড রানারকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই সিনেমার জন্য যদি রজার অস্কার না পান তাহলে আফসোস থেকে যাবে অনেক বেশি। ফিউচারিস্টিক ওয়ার্ল্ডে হিউম্যান আর রেপ্লিক্যান্টদের এই দ্বন্দ্বযুদ্ধ নিয়ে আরও একটি সিনেমার অপেক্ষায় রইলাম।

মুভিটি দেখতে এই লিংক এ ক্লিক করুন

 

৪) মাদার– একজন ক্রিয়েটর সবসময়ই চায় তার ক্রিয়েশন তাকে গ্লোরিফাই করুক। আর ক্রিয়েটরের ক্রিয়েশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে ইন্সপিরেশন। যা তাকে তাগিদ দেবে ক্রিয়েশনের জন্য। এখন এই ক্রিয়েটর ও ক্রিয়েশনকে একদম ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত সংজ্ঞায়িত করা যায় সেইম প্যাটার্নে ফেলে। প্রাথমিক ধারণা থেকে শুরু করলে ক্রিয়েটর মানুষ ক্রিয়েট করেছেন তাকে গ্লোরিফাই করার জন্য। এক্ষেত্রে তার ইন্সপিরেশন হচ্ছে পৃথিবী। ক্রিয়েটরকে ফাদার ফিগার ধরলে পৃথিবীকে ধরা যায় মাদার ফিগার। ক্রিয়েটরের ক্রিয়েশনকে যে তার গর্ভে স্থান দেয়, নারচার করে, জীবনের স্বাদ প্রদান করে। যে ক্রিয়েশনের জন্য মা এতো কিছু করলো তার স্থান জীবনশেষে হয় নাকি সেই ক্রিয়েটরের কাছে গিয়ে।

যার কাছ থেকে ইন্সপিরেশন নেয়া হয় তাকে বারবার একই জীবন যাপন করতে হয়। ছিনিয়ে নেয়ার দুঃখের ভার সইতে গিয়ে বারবার নিজেকেও আত্মাহুতি দিতে হয়। তবুও সে দাবী করতে পারে না যে এই ক্রিয়েশনে তারও ভূমিকা ছিল, ক্রিয়েশনকে নিজের নামে নাম দিতে পারে না। এই পুরো ব্যাপারটিকে যদি এক দম্পতির গল্পের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তবে কেমন হতো? এরকম একটা কমপ্লেক্স সাবজেক্ট নিয়ে প্রপার এক্সিকিউশনই ড্যারেন অ্যারেনফস্কির ‘মাদার’কে কাল্টে পরিণত করবে। আই ডোন্ট থিঙ্ক জেনিফার লরেন্সের চেয়ে কেউ বেটার এই রোল প্লে করতে পারতো। শি মেইড দিস ফিল্ম হ্যাপেন। এন্ড দ্যাটস হোয়াই ‘ মাদার ইজ ডিস্টার্বিংলি বিউটিফুল’।

মুভিটি দেখতে এই লিংক এ ক্লিক করুন

 

৫) ওকজা– মানুষের খাবারে পারফেকশন নিয়ে আসার জন্য প্রকৃতি ও প্রকৃতিতে থাকা জীবজন্তু যখন খেলো হয়ে যায় তখন ওকজার মতো একটা গল্প সৃষ্টি হয়। ওকজা ওয়ান অফ এ কাইন্ড সিনেমা। বিশালকায় এক পিগলেট সসেজ হয়ে টেবিলে সার্ভ হয় নাকি নিঃসঙ্গ এক কিশোরীর বন্ধু হয়ে বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ায় সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এক সিনেমা।

আমাদের শরৎচন্দ্রের গফুর-মহেশ বাস্তবতার কাছে হার মেনে ক্ষান্ত দিয়েছিল জীবনযুদ্ধে, ওকজা-মিজা তারও নব্বই বছর পরে এসে ক্ষান্ত দেয় কিনা সেটাই দেখার বিষয়! দেশ বদলায়, সমাজ বদলায়, সংস্কার আর রুচি বদলায়, শুধু বদলায় না ধূসর বাস্তবতা- যার কাছে চিরকাল মার খেয়ে আসছে সবুজ ভালোবাসা।

মুভিটি দেখতে এই লিংক এ ক্লিক করুন

 

৬) ওয়ার অফ দ্য প্ল্যানেট অফ দ্য এপস– অলটাইম ক্লাসিক সিরিজ ‘প্ল্যানেট অফ দ্য এপস’কে রিবুট করার চেষ্টায় যে সফল হওয়া যাবে সেটা নিয়েই সন্দিহান ছিল সবাই একটা সময়। কিন্তু এই সিরিজ রিবুট হল, একসময় পোষা হয়ে থাকা অসামান্য বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সিজার দায়িত্ব নিলো মানুষের হাত থেকে এপদের বাঁচানোর। সেই পালিয়ে বাঁচা, যুদ্ধ ও মানবিকতার পরাজয়ের গল্প বর্ণিত হল এই সিরিজের ৩ পর্বজুড়ে।

সেই তৃতীয় মুভি হিসেবেই ‘ওয়ার অফ দ্য প্ল্যানেট অফ দ্য এপস’ এই রিবুট সিরিজের সমাপ্তিরেখা টানলো। এই প্রথম হয়তো কোন ট্রিলজি কোন ক্লাসিকের মান রাখলো কিংবা আরও উঁচুতে নিয়ে গেল।

মুভিটি দেখতে এই লিংক এ ক্লিক করুন

 

৭) স্ট্রঙ্গার– বোস্টন ম্যারাথনে পা হারিয়ে বিখ্যাত হয়ে যাওয়া জেফ বাউম্যানকে নিয়েই এই সিনেমার গল্প। পা হারানোর পর তার জীবনের পট পরিবর্তন, ব্রেক আপ হওয়া গার্লফ্রেন্ডকে আবার কাছে পাওয়া, নিজেকে হেল্পলেস অনুভব করা ও খ্যাতির বিড়ম্বনা এসব নিয়েই স্ট্রঙ্গার। জেফের চরিত্রে জেক ইয়েলেনহ্যাল অনবদ্য অভিনয় করেছেন। ‘স্ট্রঙ্গার’ সিনেমা দেখে অশেষ মুগ্ধতা রবে না, এই সিনেমা দেখে নতুন কিছু শেখা হবে না। কেবল এক নীরব বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকবে মন। যে বিষণ্ণতা হতাশাকে ঝেটিয়ে বিদায় করার জন্য মনকে আদতে ‘স্ট্রঙ্গার’ করে…

মুভিটি দেখতে এই লিংক এ ক্লিক করুন

 

৮) উইন্ড রিভার– মেলানকোলিক এক ক্রাইম থ্রিলারের আড়ালে বরফকুচির শীতলতা, জেরেমি রেনারের মুগ্ধ করা অভিনয় আর এলিজাবেথ ওলসেনের যথাযথ সঙ্গ। একটি টিনেজ মেয়ের রেইপ এন্ড মার্ডার মিস্ট্রির গল্প। আমি টেইলর শেরিড্যানের স্ক্রিনপ্লের প্রেমে পড়ে গেছি। মুভি দেখার আগে জানতামও না যে এই স্ক্রিনপ্লে তার, তবুও হেল অর হাই ওয়াটারের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল বারবার। মুভি শেষে চেক করতে গিয়ে অবাকই হলাম, কারণ দুটো স্ক্রিনপ্লেই তার।

হেল এন্ড হাই ওয়াটারে অভিনেতা বেন ফস্টারকে যেমন করে নতুনভাবে পেয়েছি, তেমনি উইন্ড রিভারে পেলাম জেরেমি রেনারকে। আই এম ইন লাভ উইথ দ্য ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর অলসো। এরকম শীতল তীক্ষ্ণ নীরবতা খুব উপভোগ করি..

মুভিটি দেখতে এই লিংক এ ক্লিক করুন

 

এই গেল আমার সেরা ০৮ এর তালিকা। অনারেবল মেনশনে আরও থাকবে- জন উইক ২, বেবি ড্রাইভার, ইট, শট কলার, প্যাট্রিওটস ডে, স্প্লিট, দ্য লস্ট সিটি অফ জেড, লাইফ, ইত্যাদি। এই বছর সুপারহিরো মুভির মাঝে ওয়ান্ডার ওম্যান, গার্ডিয়ানস অফ দ্য গ্যালাক্সি ২ ও স্পাইডারম্যান হোমকামিং ভালো করেছে। তবে জাস্টিস লীগ হতাশ করেছে খুবই বাজেভাবে। আগামী বছর ব্ল্যাক প্যান্থার ও এভেঞ্জারস ইনফিনিটি ওয়ার নিয়ে এক্সাইটেড থাকবো। এছাড়া এনিমেশনের মাঝে কোকো ও লাভিং ভিনসেন্ট খুব ভালো করেছে শুনেছি, এর মাঝেই অস্কার দৌড় থাকবে মনে হচ্ছে। টম হ্যাঙ্কস ও ড্যানিয়েল ডে লুইস তাদের সিনেমা নিয়ে এসেছেন একদম রিসেন্টলি। তাদের সিনেমাগুলো কেমন হলো, জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। শেষমেশ হলিউড ও ইংরেজি সিনেমার জন্য এই বছরটি ভালোই গিয়েছে তবে ব্যবসাসফলতার দিক দিয়ে আগামী বছর হয়তো ছাড়িয়ে যাবে এ বছরকেও। মানের দিক দিয়েও যেন আগামী বছর এ বছরকে ছাড়িয়ে যায় সে চাওয়াও থাকবে সাথে সকল সিনেমাপ্রেমীদের।

এই পোস্টটিতে ৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Mahfuj Noman says:

    Hollywood er unnotir choriye lab ache, tomader nijer ta kemne chorano jay seta reacharge koro.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন