কেমন হলো টাইগার জিন্দা হ্যায়ের প্রত্যাবর্তন (Review)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

 

সালমান খানের সিনেমায় যখন হিরোইজম ছাপিয়ে গল্পকে প্রাধান্য দেয়া হয়, সেই সিনেমা নিয়ে আশাবাদী হওয়াই যায়। আর সেটা করার জন্যে পরিচালককে হতে হয় সাহসী। কবীর খানের পর সেই সাহসটা আরেকবার দেখালেন আলী আব্বাস জাফর, তার ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ সিনেমাতে ‘নায়কের চেয়ে গল্প বড়’ এই ধারণাতেই এগিয়েছেন পরিচালক। আর সালমানের পারফরম্যান্সও জানিয়ে দিয়েছে, কেন তাকে ‘ব্লকবাস্টার খান’ নামে ডাকা হয়! ভারতে ৪৬০০ আর ভারতের বাইরে ১০০০ স্ক্রীনে মুক্তি পেয়েছে সালমানের নতুন সিনেমা ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’, কেমন হলো সেটা? চলুন জেনে নেয়া যাক!

বাসভর্তি নার্সদের অপহরণ করেছে ইরাকী জঙ্গী সংগঠন আইএসসি। যেভাবেই হোক, যে কোন মূল্যে ওদের জীবিত উদ্ধার করতে হবে। ভারতের নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্তাদের মাথায় তখন একটাই নাম- টাইগার। কোন টাইগার? ‘র’ ছেড়ে এক পাকিস্তানী এজেন্টের সঙ্গে ঘর বাঁধতে যে পালিয়ে গিয়েছিল, সেই টাইগার? ওরা বেঁচে আছে? এসপিওনাজ থ্রিলার ঘরানার এই সিনেমায় টাইগারের প্রত্যাবর্তনের এই গল্পটা আরেকটু যত্ন করে সাজানো যেতো, এখানে খানিকটা প্লটহোল চোখে পড়েছে।

মুভিটি দেখতে চাইলে এই লিংক এ ক্লিক করুন

আল্পস পর্বতমালার কোন এক অংশে জোয়া আর জুনিয়র টাইগারকে নিয়ে নিজের মতো করে জীবন কাটাচ্ছিল টাইগার, তখনই তার কাছে খবর আসে, দেশের ডাকে ছুটতে হবে তাকে। কাগজে কলমে আপাত অসম্ভব একটা মিশনকে সম্ভব করে তুলতেই টাইগারের যাত্রা শুরু হলো এবার। নিজের একটা টিম বানালো সে, যেখানে আছে একজন স্নাইপার, একজন টেকি, আর একজন বম্ব ডিফিউজার। এখান থেকেই মিশনের শুরু। টাইগার কি পারবে, জঙ্গীদের আস্তানা থেকে সেই জিম্মি নার্সদের নিরাপদে বের করে আনতে?

গল্পটা আকর্ষণীয় তাতে কোন সন্দেহ নেই, আলী আব্বাস জাফর যত্ন নিয়েই বানিয়েছেন সিনেমাটা। হয়তো দুয়েকটা জায়গা চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল তার, নইলে কোন প্রশ্নই মনে উদয় হতো না পুরোটা সময়ে। আর যে লুপহোলগুলোর কথা বলা হলো, সিনেমা হল বা থিয়েটারে বসে সেগুলোকে বিশাল কোন ইস্যু বলে মনেও হবে না দর্শকের কাছে। সবচেয়ে বড় ব্যপার, ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ কে শুধু সালমান খানের সিনেমা হিসেবে আবদ্ধ রাখেননি পরিচালক, বৃহৎ একটা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রাজনৈতিক কিছু প্রেক্ষাপট আর জঙ্গীবাদকে নিজের ভাষায় ব্যখ্যাও করেছেন তিনি। প্রথমার্ধের চেয়ে দ্বিতীয় অর্ধ অনেক বেশী জমজমাট, গল্প কোথাও ঝুলে যায়নি, বোরিং মনে হবে না কখনও। ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ পারফেক্ট কোন ফিল্ম নয়, তবে বলিউডের স্ট্যান্ডার্ড বিবেচনা করলে এটাকে দুর্দান্ত বলা যায় নির্দ্বিধায়। তবে মেকিঙে আরেকটু চিন্তাভাবনা যোগ করলে বা এডিটিঙের সময় গল্পের প্লটহোলগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা থাকলে হলিউডি লেভেলের কাছাকাছি কিছু একটা উপহার দিতে পারতেন নির্মাতারা।

সালমান খানের সিনেমায় হিরোইজম থাকবে না, ভিলেন আকাশে উড়বে না- এমনটা আশাই করা যায় না। অ্যাকশান আছে এখানে, ধুন্ধুমার অ্যাকশান; কিন্ত হাত পায়ের ঢিশুমের চেয়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা গেছে বেশী। নায়ককে সুপারম্যান বানাননি পরিচালক, বাস্তবতার জমিনেই রেখেছেন সবকিছু। বজরঙ্গী ভাইজান আর সুলতানের পরে সালমানের স্বাভাবিক অভিনয় নজর কেড়েছে আরো একবার, যদিও এই টাইপের থ্রিলার মুভিতে সালমান বরাবরই ভালো করেন, বিল্ট ইন একটা এক্সপ্রেশান তার মধ্যে তৈরী হয়ে যায় এসব চরিত্রে। আর পরিচালকের কাছে নিজেকে সমর্পন করেছিলেন সালমান, পরিচালকই তার ভেতর থেকে সেরাটা বের করে এনেছেন বলে মনে হয়েছে পুরো সিনেমায়।

তবে বিস্ময় উপহার দিয়েছেন ক্যাটরিনা কাইফ। অভিনয় কিংবা হিন্দি উচ্চারণের জন্য কম সমালোচনা সইতে হয়নি তাকে, অনেক ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করা হতো তাকে নিয়ে। ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’-তে সেগুলোতে প্রলেপ দেয়ার খানিকটা চেষ্টা করেছেন এই সুন্দরী। আগের ক্যাটরিনার তুলনায় এই ক্যাটরিনার অভিনয় তাই খানিকটা বিস্ময় হয়েই এসেছে দর্শকের কাছে। নির্ভীকভাবে তাকে স্ট্যান্ট করতে দেখা গেছে এই সিনেমায়, বাস্তবেও নাকি অ্যাকশন স্ট্যান্টগুলো নিজেই করেছিলেন ক্যাটরিনা। পার্শ্বচরিত্রে যারা ছিলেন তারাও ভালো করেছেন, অঙ্গদ বেদী বা কুমুদ মিশ্রের মতো যারা ছোটখাটো চরিত্রে ছিলেন, নিজেদের স্বাভাবিক অভিনয়টাই দিয়েছেন পর্দায়। পরেশ রাওয়াল নিজের জাত চিনিয়েছেন আরো একবার, থমথমে পরিস্থিতেও দর্শককে হাসতে বাধ্য করবেন এই মানুষটা।

সবশেষে অবশ্যই পরিচালকের অনেকখানি কৃতিত্ব প্রাপ্য। সালমান খানের মতো স্টারকে নিয়ে সিনেমা বানাচ্ছেন আপনি, পেছনে আছে যশরাজ ফিল্মজের মতো প্রভাবশালী প্রযোজক, একটা ব্লকবাস্টার ফ্র‍্যাঞ্চাইজির নতুন কিস্তির ভার আপনার কাঁধে, সিনেমায় ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ব্যপারটা দেখাতে হবে আপনাকে- এতখানি প্রত্যাশার পাহাড়সম চাপ মাথায় নিয়ে আলী আব্বাস জাফর মোটেও ভেঙে পড়েননি, বরং এই চাপের খোলসে আবদ্ধ থেকেই যেন বের করে এনেছেন নিজের সেরাটা! আবারও বলছি, দুয়েকটা জায়গায় প্রশ্নের উদ্রেক হওয়া ছাড়া পুরো গল্পটাই দুর্দান্ত, সেই গল্পটাকেই সিনেমার হিরো বানিয়েছেন আলী আব্বাস জাফর। আর তার দারুণ নির্মাণে সেসব প্রশ্ন তোলার বা খুঁত ধরার অবকাশ দর্শক খুব একটা পাবেন বলেও মনে হয় না। সিনেমার ব্যকগ্রাউন্ড স্কোর কিংবা গান- দুটোই ভালো, তবে আহামরি কিছু নয়।

ডার্টি পিকচারে বিদ্যা বালান বলেছিলেন, সিনেমা চলে তিনটে জিনিসের কারণে- এন্টারটেইনমেন্ট, এন্টারটেইনমেন্ট, আর এন্টারটেইনমেন্ট! বলিউডের সেই এন্টারটেইনমেন্ট তো সালমান খানই। বড়দিনের আগে সান্তা ক্লজ হয়ে ভাইজান আর আলী আব্বাস জাফর নিয়ে এসেছেন এ বছরের সবচেয়ে বড় এন্টারটেইনমেন্টগুলোর একটি, সেই জ্বরেই তো এখন কাঁপছে ভারতের সিনেমা পাড়া!

 

Error: No API key provided.

এই পোস্টটিতে ৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Take off, malayam movie dekhen , ai golper story aro clear hoben.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন