সম্ভাব্য অস্কার ওয়াচঃ Blue is the Warmest Color – ভালোবাসা যেখানে সিমাহীন।

La vie d’Adèle (অরিজিনাল নাম)
মূল চরিত্রেঃ Adèle Exarchopoulos [আদেলি এক্সার(খ)হোপোলোস] Léa Seydoux [লিয়া সেডু]
ডিরেক্টরঃ Abdellatif Kechiche [আব্দেরাতিফ কিসিস] (ফ্রেঞ্চ উচ্চারন গুলো বড়ই পীড়াদায়ক)
রানটাইমঃ ১৭৯ মিনিট,
পিজি রেটিং: NC-17 [প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য]

যৌনতা এখানে উন্মুক্ত কিন্তু আকাশ-ছোয়া ভালোবাসার আবেগ চূড়ান্তরূপে প্রকাশিত।
তিউনিশিয়ার পরিচালক Abdellatif Kechiche ২০১৩ এর Cannes ফিল্ম ফেস্টিভাল এ Palme d’Or পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তার এই কামিং-অব-এইজ লেসবিয়ান-রোমান্স মুভির জন্য। আর আজকেই ঘোষিত Golden Globe Awards নমিনেশন লিস্টে ফরিন ক্যাটাগরিতে অন্যতম হিট ”Blue is the Warmest Color”। ১৯ বছর বয়সী Adèle Exarchopoulos এবং ২৮ বছর বয়সী Léa Seydoux ফ্রেঞ্চ অভিনেত্রীদ্বয় ‘পাম সাইটেশন’ এক অভিনব উপায়ে ভাগ করে নেন তাদের “নো-হোল্ডস-বার(র)ড” [সাহসী] অ্যাক্টিং এর জন্য।
এরকম সম্মান এ মুভির জন্য সত্যি প্রাপ্য, ‘Blue is the Warmest Color’ বছরের অন্যতম সেরা মুভি।

মুভিটা প্রচলিত কিছু জিনিসের প্রতি গঠনে আর উপাদানে একধরনের বিদ্রুপ বলা চলে, যেমনঃ লেসবিয়ান প্রেম কাহিনী, সেক্স খুবই স্পষ্ট/সোজাসাপ্টা [যদিও সবি অভিনয় :p ], রানিং টাইম বিরতিহীন ৩ ঘন্টার মত প্রায়।
আর এ গুলো মিলেই যেন “Blue” কে একটা সহজ-সরল প্রেমের কাহিনী করে গড়ে তুলেছে। একটা অবসন্ন শুরু থেকে সুন্দর একটা প্রশান্ত শেষ, আর চমৎকার কিছু পারফর্মারদের অসাধারন অভিনয় মুভিটাকে সুন্দর করে তুলেছে। নিউকামার Exarchopoulos আর বেশ সুপরিচিত Seydoux … এই দুজন কে নিয়ে অস্কারেও প্রতিযোগিতা টা [সেরা অভিনেত্রি আর সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রি] বেশ হতে পারে বলে অনেকেই ধারনা করছেন।
ফ্রেঞ্চ অথর Julie Maroh এর একই নামের ২০১০ সালে প্রকাশিত গ্রাফিক উপন্যাস থেকে এই মুভির অ্যাডাপশন করা হয়েছে। Ghalia Lacroix আর Abdellatif Kechiche দুজনে মিলে অ্যাডাপসন, সিনারিও আর ডায়ালগ রাইটিং এর কাজ করেছেন। এ মুভিতে কোন নৈতিক শিক্ষা নেই, কোন প্রকট রাজনৈতিক বার্তা নেই, নেই কোন সেক্সুয়াল এজেন্ডা .. প্রকৃতপক্ষে গল্পের নাটকীয়তায় তীব্রতায় দর্শক এক পর্যায়ে ইরোটিক ইন্টারল্যুডস ভুলে গিয়ে ঘটনায় হারিয়ে যাবেন।

স্যোসাল-রিয়েলিস্ট Kechiche অবশ্যই শ্রমজীবী প্রটাগনিস্ট Adèle (Exarchopoulos) আর তার প্রেমিকা উচ্চ শ্রেনীর Emma (Seydoux) এর শ্রেনী বিভেদ নিয়ে উৎসাহী ছিলেন কিন্তু এই দুই লিড ক্যারেক্টারের মধ্যকার পারস্পারিক জোরালো আকর্ষন তার পর্যবেক্ষনে মুল প্লটের বাইরে আরেকটা দুর্দান্ত সাব-প্লট বলা যায়।
টিনেজ Adèle নর্দান ফ্রান্সের হাইস্কুল স্টুডেন্ট। মনে সুপ্ত বাসনা শিক্ষক হবার। পরিচয়ে সে স্ট্রেইট কিন্তু তার পূর্ববর্তী বয়ফ্রেন্ড Thomas (Jérémie Laheurte) এর সাথে কখনোই সে স্বস্তি পাচ্ছিল না।
Adèle এর জন্য জীবন টা বেশ বিরক্তিকরই হয়ে উঠেছিল। সিনেম্যাটোগ্রাফার Sofian El Fani একটানা ক্লোজ-আপ শটে তাকে চিত্রায়িত করেছেন… তার লেন্স যেন সেই অসুখী মেয়েটিকেই খুজে ফিরেছে; যেহেতু আমরা দর্শকেরা এমনটাই দেখতে চাইব। তারপর একদিন Adèle সেই নীল-চুল মহিলাটিকে দেখে যার ফিরে তাকানো দৃষ্টিটি ছিল প্রতিজ্ঞায় পরিপূর্ন। Adèle মহিলাটিকে নিয়ে ভাবতে শুরু করে আর নিজের সেক্সুয়ালিটি নিয়ে সন্দেহ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তার মনে।
তাই এক বন্ধুকে সে বলেছিলঃ “আই ফিল লাইক আই’ম ফেকিং এভ্রিথিং।
একদিন স্কুলে অন্য আরেকটি মেয়েকে চুম্বনের মাধ্যমে সে অনুভব করে/নিশ্চিত হয় তার দেহজ অনুভূতি গুলো জেগে উঠতে চায় কিন্তু সেখানে এক চরম মাপের অপমান হতে হয় তাকে। তারপর আরেকদিন সেই নীল-চুল মহিলাটির সাথে চোখা-চোখি হয় আর দৃষ্টির রেখা ধরে পরিচয় পর্বটি সম্পন্ন হয়। নীল-চুলের সেই মহিলাটি ছিল Emma, পুরোদস্তুর আর আত্মবিশ্বাসী একজন আর্টিস্ট। Emma ও নিজেকে Adèle এর প্রতি আকর্ষিত অনুভব করে ঠিক যেমনটি Adèle এর পাশ থেকে এসেছে।

ভালোবাসার সংজ্ঞা কি কেউ দিতে পারে ? এমনকি Adèle আর Emma’র সেই বন্য আদিমতা ও সেই প্রেমের সংজ্ঞা দিতে পারে ?
কেন অসংযত Adèle, তার সর্দিযুক্ত নাক :p আর spaghetti-slurping[এক রকম পাস্তা দেখে খাইতে মুঞ্চায়] এর টেবিল এ সেই ব্যবহার , ভদ্র আর শান্তশিস্ট Emma কে এতটা আকর্ষন করেছিল? কেন স্কুল ইয়ার্ডে একটা উপহাসমূলক দৃশ্য আর একরাতের সেই ডিনার এর সাক্ষাৎ তাদের ভেতরকার গড়ে ওঠা ‘রোমিও জুলিয়েট’ সম্পর্ক ফুটিয়ে তোলে ??

Kechiche এই প্রশ্ন গুলোর কোন উত্তর রাখার উদ্দ্যোগ নেন নি। ব্যাখ্যা করেন নি তাদের ভেতরকার সেই কামনাতৃপ্তি/আবেগের তীব্রতা যা তাদের এতটা কাছে এনেছিল তাও রঙ শুকিয়ে মলিন হয়ে গেল কেন ?? Kechiche এমন ডিরেক্টর যিনি কখনোই তার মুভিতে হলিউডি সমাপ্তি দেখাবেন না, এটাই হয়ত বিশেষত্ব। তারপরেও “Blue” অদ্ভুতভাবে আশাবাদী মুভি যেটা প্রেমের প্রগাড়ত্বে বিশ্বাস করে আর আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে তা এটার ভেতরে ছিলো।

মুভির প্রথম দিকে Adèle এর লিটারেচার টিচার পড়ায় “ট্রাজেডি ইজ আনঅ্যাভয়েডঅ্যাবল, ইটস সামথিং উই কান্ট এস্কেইপ’ । প্রেম অনিবার্য । “Blue is the Warmest Color” আপনাকে পর্দার সামনে প্রেম প্রগাঢ়তার ফ্লাসপয়েন্টে আপনাকে নিয়ে যাবে ।

সতর্কীকরনঃ দেখতে বসার পূর্বে আপনার মানসিক প্রস্তুতি যদি এমন হয় যে আপনি মুভি না কোন ইরোটিকা দেখতে বসছেন, বা আপনার মানসিকতা যদি মুভির থীমের সম্পূর্ন বিরুদ্ধে অবস্থান করে তাহলে এই মুভি আপনার জন্য না।

Personal rating 4.5/5

Blue Is the Warmest Color (2013)
www.imdb.com/title/tt2278871/
Rating: 8.1/10 – ‎8,846 votes
———
www.metacritic.com
Rating: 88% – ‎41 reviews
—————-
http://www.rottentomatoes.com/m/blue_is_the_warmest_color/
Rating: 90% Audience: 87%
——
Blue Is The Warmest Color Official Trailer #1 (2013)
www.youtube.com/watch?v=Y2OLRrocn3s

(Visited 125 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১৬ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Diya Dutta says:

    অপূর্ব লিখেছেন, সত্যি আপনার হাতে জাদু আছে। আর আনেক আনেক লেখুন plz.

  2. James Bond says:

    লেখা চমৎকার হয়েছে।। অসাধারণ

  3. তাইন... তাইন... says:

    হাতে পাবো কবে!! এত্ত সুন্দর লেখা পরে বসে থাকা দুস্কর 🙁

  4. প্রফেসর মরিয়ার্টি প্রফেসর মরিয়ার্টি says:

    লেখা চমৎকার হয়েছে 🙂 ভালো লাগলো পড়ে

  5. সি.এম. তানভীর উল ইসলাম says:

    লেখা ভালো লেগেছে 🙂 কিন্তু মুভিটা ভালো লাগে নাই। লেসবিয়ান-গে মুভি আমি এভয়েড করি।

  6. আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী says:

    অপেক্ষায় ছিলাম মুভিটার জন্য। ডাউনলোড দিলাম

  7. অনিক চৌধুরী says:

    অন্যরকম আমেজের মুভি মনে হচ্ছে। লেখায় কথা হবে না। :thumbup

  8. মেগামাইন্ড says:

    চমৎকার লিখসেন

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন