ঢাকা এট্যাক (২০১৭) – বাংলাদেশী পুলিশ একশন থ্রিলার – অবশ্যই উপভোগ করুন…!!!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0
“ঢাকা এট্যাক (২০১৭) – বাংলাদেশের ১ম পুলিশ একশন থ্রিলার”
.
নাম শুনেই বোঝা যায় ঢাকা শহরে কোন সন্ত্রাসী আক্রমণই মূল উপজীব্য হবে। বোঝাটা একেবারেই অমূলক নয়। ঢাকাই সিনেমায় বাংলাদেশের চিরচেনা পুলিশ বাহিনীর রূপ বদলিয়ে দেয়া এক পুলিশি থ্রিলার মুভি ঢাকা এট্যাক। ঢাকাই সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া আমার মত বহু দর্শককে কালেভদ্রে কিছু কিছু সিনেমা যেগুলো সিনেমা হলে কিংবা যেখানেই হোক দেখার জন্য টানে, সেরকমই এক মুভি হচ্ছে ঢাকা এট্যাক।
 
ঢাকা শহরের এক কেমিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি থেকে ডাকাতি হয় কিছু সস্তা কেমিক্যালস। এরপর বিভিন্ন জায়গায় একে একে খুন হতে থাকে বেশ কয়েকজন। পাওয়া যায় লাশের গায়ে লেখা কিছু অক্ষর আর বুক পকেটে হাসি। ক্লুগুলো ডিকোড করতে ব্যর্থ পুলিশ বাহিনীর চৌকশ কর্মকর্তারা। ফলাফল বোম ব্লাস্টে হারাতে হয় বহু প্রাণ। কে আছে এর পিছনে? কি তার উদ্দেশ্য? পুলিশ বাহিনী কি পারবে এর সমাধান করতে? নাকি লেখা হবে আরেকটি ব্যর্থতার গল্প?
 
এরকমই একটি প্লটের উপর বেজ করে সানী সানোয়ারের রচনায় পরিচালক Dipankar Dipon ভাই আমাদের উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম পুলিশি থ্রিলার মুভি ঢাকা এট্যাক। পুলিশ নিয়ে মুভি আগেও ছিল এদেশে, কিন্তু সেগুলোতে আমরা শুধুই দেখেছি হয় কোন দুর্নীতিবাজ পুলিশকে নতুবা কোন ভিলেনকে মেরে তক্তা বানানো সৎ নায়করুপী পুলিশকে। দিন বদলেছে, সবকিছুতেই এসেছে আধুনিকতা। কিন্তু আমরা কেন যেন ঢাকাই সিনেমায় পুলিশের ব্যাপারে সেই মান্ধাতার আমলেই রয়ে গেছি। গেছি বললে ভুল হবে, এখন বলবো গেছিলাম। কারন, দীপন ভাই ঢাকা এট্যাকের মাধ্যমে পুলিশের মাঝে যে আধুনিকতার ছোঁয়া এনে দেখিয়ে দিয়েছেন তা আসলেই প্রশংসার যোগ্য। আশাকরবো এখন থেকে অন্য নির্মাতারাও এ দিকটা ভেবে দেখবে। পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, SWAT ইউনিট গুলোকে খুব দারুণভাবে দেখিয়েছেন তিনি।
 
থ্রিলার মুভি, তাই মুভির কাহিনী যদি শেষ পর্যন্ত থ্রিলিং ভাবটা ধরে না রাখতে পারে তাহলে আর মজা থাকেনা। এই ক্ষেত্রে ঢাকা এট্যাক চেষ্টা করে গেছে থ্রিল ভাবটা ধরে রাখার। যদিও থ্রিলিং ভাবটা আপ টু দ্যা মার্ক হয়নি। আমরা যারা মালয়ালাম কিংবা কোরিয়ান থ্রিলার দেখে অভ্যস্ত তাদের কাছে ঢাকা এট্যাক মুভির শুরুতে যে থ্রিল ভাবটা ছিল তা সময়ের সাথে সাথে কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে প্রথমবার হিসেবে দারুণ কাজ ছিল।
 
মুভির চিত্রায়ন অনেক ভাল ছিল। বিশেষকরে ড্রোন শটগুলো জাস্ট ওয়াও। আমাদের পার্বত্য এলাকায় এত সুন্দর লোকেশন আছে যেগুলো একটু চেষ্টা করলেই ক্যামেরায় দারুণভাবে দেখানো সম্ভব। আর সেই কাজটিই করে দেখিয়েছে ঢাকা এট্যাক টিম। সোয়াত টিমের একশন দৃশ্যগুলোর চিত্রায়নে ক্যামেরার কাজ দেখে মনে হচ্ছিলো কোন বিদেশী মুভি দেখছি। তবে হ্যা, এডিটিং টিমকে আরো কাজ করতে হত। এই জায়গাটায় আমরা বরাবরই মার খেয়ে যাচ্ছি। একটা মুভি দর্শকের কাছে দারুণভাবে উপস্থাপনের জন্য সেই মুভির সম্পাদনা খুব ভাল হওয়া প্রয়োজন, গ্রাফিক্সের কাজগুলো ভাল হওয়া প্রয়োজন। বাজেট বাড়াতে হবে। সোয়াত বাহিনীর অপারেশনে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহারটা না দেখালেই ভাল হত।
 
অভিনয়েঃ আরিফিন শুভ, মাহিয়া মাহি, এবিএম সুমন, শতাব্দী ওয়াদুদ, কাজী নওসাবা আহমেদ, তাসকিন রহমান, আলমগীর, আফজাল হোসাইন, হাসান ইমাম, শিপন মিত্র।
 
অভিনয়ের ক্ষেত্রে আরিফিন শুভর যথেষ্ট উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক্সপ্রেশনগুলো ঠিকঠাকই ছিল বলা যায়। ন্যাকামো ভাবটা তেমন একটা ছিলনা। তবে ডায়লগ ডেলিভারী আরো সাবলীল হওয়া প্রয়োজন। ক্যারেক্টারে ঢুকে সাবলীল ডায়লগ ডেলিভারী পেয়েছি শতাব্দী ওয়াদুদের কাছে। এবিএম সুমন দায়িত্ববান স্বামী কিংবা সোয়াত লিডার হিসেবে দারুণ ছিল। রুপে লাবণ্যে অপূর্ব মাহিয়া মাহী ন্যাকামো ভাবটা না দেখালে ভাল লাগতো। তার গেটাপটাও ক্রাইম জার্নালিস্ট স্বরূপ হয়নি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তার ডাউস আকৃতির সানগ্লাস পড়ে ওরকম সাক্ষাৎকার আমার কাছে দৃষ্টিকটু লাগছে। আর শেষদিকে তার টিপিক্যাল বাংলা সিনেমার নায়িকার মত ডায়লগগুলো না থাকলেই মনে হয় ভাল হত। “কথা দাও সেইফ থাকবে” কিংবা “আমার জন্য হলেও তুমি ফিরে আসবে?” টাইপ ন্যাকামো মার্কা ডায়লগ ঐ মুহুর্তে মানায় না একজন ক্রাইম জার্নালিস্টের কাছ থেকে। ওইরকম সিরিয়াস মুহূর্তে তার এহেন কর্ম রীতিমত পেইনফুল লাগছে। তবে হ্যা, কিছু কিছু জায়গায় তার চোখের কিংবা মুখের রোমান্টিক অভিব্যক্তি অসাধারণ লেগেছে। প্রেগন্যান্ট চরিত্রে কাজী নওসাবা আহমেদ খারাপ করেনি। আলমগীর, আফজাল হোসাইন, হাসান ইমামদের মত অভিনেতাদের ক্যারেক্টার ব্যপ্তি বাড়ানো উচিত ছিল।
 
সময় এসেছে এখন নায়কের পাশাপাশি ভিলেনকেও স্মার্টলি প্রেজেন্ট করার। আমাদের পাশের দেশ ভারতের বলিউড কিংবা সাউথ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে কিছু ইয়ং ভিলেন আছে যাদেরকে দেখলে কোন হিরোর থেকে কম মনে হয়না। বিদ্যুৎ জামওয়াল, তাহির রাজ বাসিনদের মতই এক স্মার্ট ভিলেন পেলাম মনেহচ্ছে। ডেডলি লুক, ভয়ংকর চোখ, আর পারফেক্ট সাইকো এক্সপ্রেশনে আমি অভিভূত। তবে তার ডায়লগ ডেলিভারিতে কেমন যেন ওপার বাংলার ছোয়া পেলাম। এটা কি শুধুই আমার মনে হল কিনা কে জানে? যাইহোক, তাসকিন রহমানকে ঢাকাই সিনেমায় নিয়মিত দেখতে চাই।
 
থ্রিলার মুভিতে গান অনেক সময়ই মুভির ফ্লো কমিয়ে দেয়ার আশংকা তৈরী করে। তবে একথা বলতেই হবে ঢাকা এট্যাকের গান তিনটি দারুণ হয়েছে এবং প্লেসমেন্টটাও পারফেক্ট হয়েছে। দরকার ছিল। টিকাটুলির মোড় গানটার রি-ক্রিয়েশন জোশ লাগছে। গানটায় যে দুজন নেচেছে তার মধ্যে ছেলেটাকেই বেশি জোশ লাগছে। আর স্লো মিউজিকে অরিজিতের গলায় টুপ টাপ গানটা, সেইসাথে চমৎকার লোকেশন ও কোরিওগ্রাফি দারুণ লাগছে।
 
আমি নিজে যেহেতু একজন বাংলা সাবমেকার তাই মুভির ইংলিশ ও মালয়েশিয়ান ডায়লগের সময়ে করা ভুলে ভরা বাংলা সাবটাইটেল দেখতে বড্ড দৃষ্টিকটু লেগেছে। এখানে আরো যত্নশীল হতে হত।
 
সবমিলিয়ে, সাম্প্রতিক সময়ে আয়নাবাজি, অজ্ঞাতনামার পর আরো একটি ভাল সিনেমা দেখলাম। পুলিশি থ্রিলার সিনেমার যে নতুন দিনের সূচনা করে দিলো ঢাকা এট্যাক, এজন্য পরিচালক দীপন ভাই সহ পুরো ঢাকা এট্যাক টিমের ধন্যবাদ প্রাপ্য। পরবর্তী প্রজেক্টের জন্য শুভকামনা রইলো।
.
.

এই পোস্টটিতে ৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. জিসান ভাই, এই রিভিউটা পড়ে দেখেন! আই হোপ বুঝতে পারবেন!

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন